খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে প্রত্যয়ী নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে প্রত্যয়ী নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

রোববার (২৩ জুন) ২০২৪; প্রতিদিনের সঙ্গে এ দিনটির আপাতদৃষ্টিতে কোনো তফাত নেই। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটিই চির-নূতনেরে স্বাগত জানানোর। এক নতুন আমেজ, নতুন শক্তি আর নতুন পথচলার গৌরবান্বিত একদিন। এদিনের সূর্যের কিরণেই দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খুঁজে পেয়েছে আশাজাগানিয়া নতুন আলো। অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় এই দিনের আলো মনে-প্রাণে জাগিয়েছে আশা, দেখিয়েছে নতুন স্বপ্ন। উচ্ছ্বাস আর আনন্দের বাতাবরণ। ধন্যি ধন্যি চারপাশ। দেশপ্রেমী এই বাহিনীটির ১৮তম সেনাপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বর্ণাঢ্য সামরিক রীতিতে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন এই অভিভাবককে।

  • মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়
  • নবনির্মাণের রূপকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃজ্ঞতা
  • সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র

বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ’র কাছ থেকে রোববার (২৩ জুন) নেতৃত্বভার গ্রহণ করার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত এই সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। পরে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান’কে দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করছেন। বিদেশে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা প্রশংসিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, এছাড়া জাতীয় দুর্যোগসহ বিভিন্ন ক্রান্তিকালে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাবে। সাক্ষাৎকালে নতুন সেনাবাহিনী প্রধান দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

নব আনন্দে নব প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরে সেনা সদর দপ্তরের হেলমেট ভবনে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নব আনন্দে নব প্রত্যয়ে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তিনি নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে কামনা করেছেন সবার সহযোগিতা। তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়ায় নবনির্মাণের অনন্য রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • নব আনন্দে নব প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
  • কোন রকম উসকানিতে পা না দেবে না সেনাবাহিনী
  • শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রয়াস

দেশপ্রেমিকের দৃপ্ত উচ্চারণে নিজ বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে হয়েছেন প্রত্যয়ী। বাঙালিত্ব, আদর্শবাদিতা, পেশাদার, সজ্জন, সুশৃঙ্খল, সৃজনশীল, বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণ, পরিশীলিত মনন ও ভিন্ন আঙ্গিকের অবিস্মরণীয় শক্তিময়তার আপন শৌর্যে মহীয়ান করেছেন নিজেকে। কোন রকম উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা জানিয়েছেন।

একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করে যাবে জানিয়ে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনী ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে তাঁর দায়িত্ব পালন করে, যদি সরকার আমাদের দায়িত্ব দেয় আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো। দুর্যোগ মোকাবিলায় যখন সরকার আমাদের নিয়োগ দিবে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই সমস্ত দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করবো। দেশ গঠনে আমাদের নিয়োগ দিলে আমরা সেটাও করবো।’

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা একটি ইস্যু থেকেই যায়, সেনাবাহিনীকে সব সময় সুশৃঙ্খল রাখতে রাখতে আমি কাজ করে যাবো। সেনাবাহিনীর কিছু কিছু ইনফরমেশন আছে যেগুলো সংবেদনশীল সেইসব দিক বিবেচনা করে আপনারা সব সময় রিপোর্ট করেছেন। এজন্য আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমি আশা করবো পরবর্তী সময়েও আপনারা দায়িত্বের সঙ্গে রিপোর্টিং করবেন। আমি কথা দিচ্ছি অতীতেও কখনও হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না; যেসব ইনফরমেশন আমরা আপনাদের দিবো সেগুলো হবে বস্তুনিষ্ঠ।’

মিয়ানমার ইস্যুতে কোন উসকানিতে পা দেবে না সেনাবাহিনী, এমনটি জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কোন ধরণের প্রভোকেশন আমরা করি না। মিয়ামারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়া দেয়ার ইজ নো আদার ইস্যু। আমরা চাই তাঁরা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাক। তাছাড়া তাদের প্রতি কোন রকমের বিদ্বেষ সমস্যা আমি দেখি না। উই আর এনগেজড উইথ দেম। ডিফেন্স ডিপ্লোমেসি বলে একটা কথা আছে। যখন দুই ফোর্সেস একে অপরের সঙ্গে কমিউনিকেট করে সেই ফোর্সের পক্ষে হঠাৎ করে যুদ্ধ শুরু করা ভেরি ডিফিকাল্ট, এটি হয় না। এজন্য ডিফেন্স ডিপ্লোমেসি ইজ ভেরি ইম্পোর্টেন্ট। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের শ্বশুর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানও একসময় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৭-২০০০ মেয়াদে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে রেখেছেন প্রশংসনীয় ভূমিকা। তাঁর সময়ে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয়।

সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। দেশের মানুষের অন্যতম আস্থার একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান। ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজের সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রও যেন গেঁথে দিয়েছেন নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মন-মননে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ওয়াকার-উজ-জামানকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

১৯৮৫ সালে সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ১৩তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিবের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন নবম পদাতিক ডিভিশনকে। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, একটি পদাতিক ব্রিগেড এবং পদাতিক ডিভিশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষকের অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। তিনি ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ৮ জুন পর্যন্ত ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর উপ-অধিনায়ক ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহ দমনে নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১১ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বছরেরও বেশি সময় ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৪ সালের ২ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন বছর অতি গুরুত্বপূর্ণ নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে টানা তিন বছর ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের বিজয় দিবস প্যারেড এর প্যারেড কমান্ডার এর দায়িত্ব পালন করেন। এই বিরল কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সেনাগৌরব পদক’ (এসজিপি) এ ভূষিত হন।

স্টাফ হিসেবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত একটি ব্রিগেড, স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস (এসআইএন্ডটি) এবং সেনাসদরে বিভিন্ন পদবী ও নিয়োগে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে জেসিও এনসিও একাডেমি (জেএনএ), স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস সাপোর্ট এন্ড ট্রেনিং (বিপসট) এ অত্যন্ত সুনামের সাথে সকল পদবীর দেশী-বিদেশী সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

চলতি বছরের শুরুতেই সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে নিয়োগ পান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে ৩ বছর ১ মাস সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ ও যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মাস্টার্স অব ডিফেন্স স্টাডিজ’ এবং যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে ‘মাস্টার্স অব আর্টস’- ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রী অর্জন করেন।

অ্যাঙ্গোলা ও লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সিনিয়র অপারেশন অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা। সেনাবাহিনীতে তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ‘অসামান্য সেবা পদক’ (ওএসপি) এ ভূষিত হন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে দেশে ও বিদেশে একাধিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন। উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এবং সারাহনাজ কমলিকা জামান দুই কন্যা সন্তান সামিহা রাইসা জামান ও শাইরা ইবনাত জামান এর গর্বিত জনক-জননী। ওয়াকার-উজ-জামান একজন সজ্জন, ক্রীড়ামোদি ও প্রাণবন্ত অফিসার হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত।

কালের আলো/এমএএএমকে

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ

নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অত্যাচারী শাসক’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিপীড়ন ও আগ্রাসন চালানোর কারণে একদিন মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুকে একটি কঠোর ও উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।

বুধবার ইস্তাম্বুলের কামলিকা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, নেতানিয়াহু নামক এই স্বৈরশাসক বিশ্বের মুসলমানদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করবে।’

পৃথকভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় এরদোয়ান ঈদুল আযহাকে একটি ‘আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি আশা করেন এই উৎসবটি তুরস্ক, তুর্কি জাতি, ইসলামী বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুরস্কে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে।

গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যে সমস্ত ভাই-বোনেরা দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি আমার ও আমার দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি এবং তাদের প্রত্যেককে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ এবং গাজা সংঘাত নিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। গাজায় নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিভিন্ন সময়ে ‘গাজার কসাই’, ‘ফেরাউন’ ও ‘আধুনিক হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও প্রথম থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ