খুঁজুন
                               
, ,
           

শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে প্রত্যয়ী নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে প্রত্যয়ী নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

রোববার (২৩ জুন) ২০২৪; প্রতিদিনের সঙ্গে এ দিনটির আপাতদৃষ্টিতে কোনো তফাত নেই। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটিই চির-নূতনেরে স্বাগত জানানোর। এক নতুন আমেজ, নতুন শক্তি আর নতুন পথচলার গৌরবান্বিত একদিন। এদিনের সূর্যের কিরণেই দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খুঁজে পেয়েছে আশাজাগানিয়া নতুন আলো। অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় এই দিনের আলো মনে-প্রাণে জাগিয়েছে আশা, দেখিয়েছে নতুন স্বপ্ন। উচ্ছ্বাস আর আনন্দের বাতাবরণ। ধন্যি ধন্যি চারপাশ। দেশপ্রেমী এই বাহিনীটির ১৮তম সেনাপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বর্ণাঢ্য সামরিক রীতিতে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন এই অভিভাবককে।

  • মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়
  • নবনির্মাণের রূপকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃজ্ঞতা
  • সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র

বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ’র কাছ থেকে রোববার (২৩ জুন) নেতৃত্বভার গ্রহণ করার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত এই সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘জেনারেল র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। পরে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান’কে দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করছেন। বিদেশে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা প্রশংসিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, এছাড়া জাতীয় দুর্যোগসহ বিভিন্ন ক্রান্তিকালে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাবে। সাক্ষাৎকালে নতুন সেনাবাহিনী প্রধান দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

নব আনন্দে নব প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরে সেনা সদর দপ্তরের হেলমেট ভবনে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নব আনন্দে নব প্রত্যয়ে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তিনি নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে কামনা করেছেন সবার সহযোগিতা। তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়ায় নবনির্মাণের অনন্য রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • নব আনন্দে নব প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
  • কোন রকম উসকানিতে পা না দেবে না সেনাবাহিনী
  • শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রয়াস

দেশপ্রেমিকের দৃপ্ত উচ্চারণে নিজ বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে হয়েছেন প্রত্যয়ী। বাঙালিত্ব, আদর্শবাদিতা, পেশাদার, সজ্জন, সুশৃঙ্খল, সৃজনশীল, বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণ, পরিশীলিত মনন ও ভিন্ন আঙ্গিকের অবিস্মরণীয় শক্তিময়তার আপন শৌর্যে মহীয়ান করেছেন নিজেকে। কোন রকম উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা জানিয়েছেন।

একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করে যাবে জানিয়ে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনী ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে তাঁর দায়িত্ব পালন করে, যদি সরকার আমাদের দায়িত্ব দেয় আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো। দুর্যোগ মোকাবিলায় যখন সরকার আমাদের নিয়োগ দিবে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই সমস্ত দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করবো। দেশ গঠনে আমাদের নিয়োগ দিলে আমরা সেটাও করবো।’

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা একটি ইস্যু থেকেই যায়, সেনাবাহিনীকে সব সময় সুশৃঙ্খল রাখতে রাখতে আমি কাজ করে যাবো। সেনাবাহিনীর কিছু কিছু ইনফরমেশন আছে যেগুলো সংবেদনশীল সেইসব দিক বিবেচনা করে আপনারা সব সময় রিপোর্ট করেছেন। এজন্য আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমি আশা করবো পরবর্তী সময়েও আপনারা দায়িত্বের সঙ্গে রিপোর্টিং করবেন। আমি কথা দিচ্ছি অতীতেও কখনও হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না; যেসব ইনফরমেশন আমরা আপনাদের দিবো সেগুলো হবে বস্তুনিষ্ঠ।’

মিয়ানমার ইস্যুতে কোন উসকানিতে পা দেবে না সেনাবাহিনী, এমনটি জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কোন ধরণের প্রভোকেশন আমরা করি না। মিয়ামারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়া দেয়ার ইজ নো আদার ইস্যু। আমরা চাই তাঁরা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাক। তাছাড়া তাদের প্রতি কোন রকমের বিদ্বেষ সমস্যা আমি দেখি না। উই আর এনগেজড উইথ দেম। ডিফেন্স ডিপ্লোমেসি বলে একটা কথা আছে। যখন দুই ফোর্সেস একে অপরের সঙ্গে কমিউনিকেট করে সেই ফোর্সের পক্ষে হঠাৎ করে যুদ্ধ শুরু করা ভেরি ডিফিকাল্ট, এটি হয় না। এজন্য ডিফেন্স ডিপ্লোমেসি ইজ ভেরি ইম্পোর্টেন্ট। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের শ্বশুর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানও একসময় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৭-২০০০ মেয়াদে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে রেখেছেন প্রশংসনীয় ভূমিকা। তাঁর সময়ে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয়।

সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। দেশের মানুষের অন্যতম আস্থার একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান। ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজের সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রও যেন গেঁথে দিয়েছেন নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মন-মননে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ওয়াকার-উজ-জামানকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

১৯৮৫ সালে সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ১৩তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিবের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন নবম পদাতিক ডিভিশনকে। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, একটি পদাতিক ব্রিগেড এবং পদাতিক ডিভিশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষকের অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। তিনি ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ৮ জুন পর্যন্ত ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর উপ-অধিনায়ক ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহ দমনে নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১১ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বছরেরও বেশি সময় ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৪ সালের ২ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন বছর অতি গুরুত্বপূর্ণ নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে টানা তিন বছর ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের বিজয় দিবস প্যারেড এর প্যারেড কমান্ডার এর দায়িত্ব পালন করেন। এই বিরল কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সেনাগৌরব পদক’ (এসজিপি) এ ভূষিত হন।

স্টাফ হিসেবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত একটি ব্রিগেড, স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস (এসআইএন্ডটি) এবং সেনাসদরে বিভিন্ন পদবী ও নিয়োগে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে জেসিও এনসিও একাডেমি (জেএনএ), স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস সাপোর্ট এন্ড ট্রেনিং (বিপসট) এ অত্যন্ত সুনামের সাথে সকল পদবীর দেশী-বিদেশী সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

চলতি বছরের শুরুতেই সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে নিয়োগ পান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে ৩ বছর ১ মাস সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ ও যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মাস্টার্স অব ডিফেন্স স্টাডিজ’ এবং যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে ‘মাস্টার্স অব আর্টস’- ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রী অর্জন করেন।

অ্যাঙ্গোলা ও লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সিনিয়র অপারেশন অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা। সেনাবাহিনীতে তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ‘অসামান্য সেবা পদক’ (ওএসপি) এ ভূষিত হন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে দেশে ও বিদেশে একাধিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন। উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এবং সারাহনাজ কমলিকা জামান দুই কন্যা সন্তান সামিহা রাইসা জামান ও শাইরা ইবনাত জামান এর গর্বিত জনক-জননী। ওয়াকার-উজ-জামান একজন সজ্জন, ক্রীড়ামোদি ও প্রাণবন্ত অফিসার হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত।

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি হলো তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মাধ্যমে জাতির সামনে যে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে মিলিয়ে একই ভাষায় কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আপন, ঢাকা’র উদ্যোগে মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটু আগে দেখলাম ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছেন। শুনে মনে হয়েছে, পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই একই ভাষায় জনগণের কাছে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় এবং সেই নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। বাংলাদেশের মানুষও তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এ ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁকে এবং তাঁর দলকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা।

মাহাত্মা ভেগাই হালদারও অনুরূপ মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা প্রচার করে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে এবং বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান এখানে হবে না।

তিনি বলেন, যারা একক ধর্ম, একক সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতির নিয়ম, মানবতা ও সভ্যতার বিরোধী।  বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপন, ঢাকার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

ঘরের মাঠে নেপাল জাতীয় নারী কাবাডি দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা দারুণভাবেই শুরু করল বাংলাদেশ। শুক্রবার(১৭ জুলাই) ঢাকার জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ তে লিড নিল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই জয়ের ম্যাচে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালিদের ওপর আগ্রাসী মেজাজ নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কৌশলী আক্রমণ ও রক্ষণভাগে অটুট থেকে প্রথমার্ধেই ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন স্বাগতিক মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও আর পেরে উঠেনি। শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক।

ম্যাচটি বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন তিনি। এরপর ভিআইপি বক্সের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিচে নেমে এসে সাধারণ দর্শকের মতোই দাঁড়িয়ে পুরো খেলা উপভোগ করেন।

ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন তিনি। খেলা শেষে তিনি নিজেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে ডাকেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দলের সাফল্যের অংশীদার হয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। জাইমা রহমানের এমন আন্তরিকতা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

এর আগে সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গর্ব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এই সিরিজ দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) আমেনা বেগম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠের জয় এবং গ্যালারির বাড়তি উৎসাহ সব মিলিয়ে কাবাডি স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের এই জয়যাত্রা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারবে বলেই প্রত্যাশা দর্শকদের।

কালের আলো/এসএকে