খুঁজুন
                               
, ,
           

বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানালেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৪, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানালেন সেনাপ্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশন এলাকা পরিদর্শনে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ডিভিশন এলাকাগুলো ঘুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ছুটে গেছেন রাজশাহীতে। এদিন বিকেলে রাজশাহী সেনানিবাসে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছেন দেশের চলমান পরিস্থিতির। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। পুলিশ স্বাভাবিক কাজকর্ম যখন শুরু করবে, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। আমি বলবো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা
দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই জানিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘কোনো চাপ নেই। তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখছে। এটা বিশেষ একটা পরিস্থিতি। সবাই বুঝে। মাইনরিটি (সংখ্যালঘু) বিষয় নিয়ে কিছু কিছু কথাবার্তা হয়েছে। ২০টি জেলায় ৩২টির মতো জায়গায় মাইনরিটি নিয়ে একটা অরাজকতা হয়েছে, সেটা অবশ্যই একটাও কাম্য নয়। আমরা এই বিষয় দেখছি। যাঁরা অপরাধী, তাঁদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনব। রাষ্ট্র সংস্কার শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী।’

সবকিছু সুন্দরভাবে চললে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘সংখ্যালঘু যে ইস্যুটা আছে, আমরা ঘেঁটে দেখলাম যেভাবে বলা হচ্ছে একেবারেই ওরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ওরকম কিছু ঘটেনি। এটা অত্যন্ত ভালো দিক। এই যে একটা সুন্দর পরিবেশ সারা দেশে তৈরি হয়েছে, সেটা বজায় রাখতে হবে। আমরা সবাই মিলে কাজ করবো, দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবো। আমরা সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে যেতে চাই। এভাবে সবকিছু সুন্দরভাবে চললে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের সেনা হেফাজতে নেওয়ার প্রসঙ্গে
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের সেনা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অবশ্যই আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের প্রতি যদি কোনও অভিযোগ থাকে, মামলা হয়, তাহলে তারা শাস্তির আওতায় আসবেন। কিন্তু অবশ্যই আমরা চাইবো না, বিচারবহির্ভূত কোনও হামলা তাদের ওপরে হোক। তাদের জীবনের যে হুমকি আছে, সেটার জন্য আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। সে যেই দলেরই হোক।’

পুলিশ কিছুটা ট্রমার মধ্যে আছে
সেনাবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। পুলিশ স্বাভাবিক কাজকর্ম যখন শুরু করবে, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। আমি বলবো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে পুলিশ কিছুটা ট্রমার মধ্যে আছে। ট্রমাটা কাটিয়ে উঠলে তাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে পারবে। ইতোমধ্যে পুলিশ বিভিন্ন থানায় কাজ শুরু করেছে। আমরা পুলিশকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। তারা সম্পূর্ণভাবে যখন কাজকর্ম শুরু করে দেবে, তখন পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তখন আমরা সেনানিবাসে ফেরত যাবো। সেই পর্যন্ত আমরা থাকবো এবং কাজ করে যাবো।’

গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর বিষয়ে তদন্ত
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সেটা একটা ভুল–বোঝাবুঝি। পরিস্থিতি এখন একেবারেই শান্ত। তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তবে তারা যে অপরাধ করেছে, অবশ্যই তার তদন্ত হবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’

আগস্ট ঘিরে এই গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘প্রতিবিপ্লব’-এর কথা শোনা যাচ্ছে, এ ব্যাপারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে জানা নেই।’

এ সময় সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল খালেদ আল মামুন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনিসুর রহমান, জেলা প্রশাসক শামিম আহমেদ, পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিশ্বের বড় দাতাদের নজরে বাংলাদেশ, বাড়ছে অর্থায়ন

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বের বড় দাতাদের নজরে  বাংলাদেশ, বাড়ছে অর্থায়ন

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ আবারও দৃশ্যমানভাবে বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ, জাইকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএসএআইডির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই অর্থায়ন প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন অর্থের ব্যয় বেড়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন বাংলাদেশের জন্য এই বাড়তি প্রতিশ্রুতি অর্থনীতির সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদা—দুইয়ের প্রতিই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মনোযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবার অর্থায়নের বড় অংশ যাচ্ছে এমন সব খাতে, যেগুলো ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্ত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

  • ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা
  • আস্থার কেন্দ্রে বড় বাজার ও তরুণ জনগোষ্ঠী
  • জলবায়ু, অবকাঠামো, মানবসম্পদ ও সংস্কারে মিলছে নতুন অর্থায়নের সুযোগ

শুধু ঋণ নয়, বাড়ছে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব
বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের চরিত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময় বড় অবকাঠামো প্রকল্পই বৈদেশিক সহায়তার প্রধান ক্ষেত্র ছিল। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু অভিযোজন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা, নারী উদ্যোক্তা, এসএমই, সবুজ শিল্প ও রাজস্ব সংস্কার। অর্থাৎ নতুন অর্থায়নের লক্ষ্য শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরি নয়; অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জন্য এ পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি, জ্বালানি, যোগাযোগ ও বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর।

৩.৫ বিলিয়ন ডলারে বিশ্বব্যাংকের বড় বার্তা
চলতি বছরে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জলবায়ু অভিযোজন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এ অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থায়নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে জলবায়ু ঝুঁকির কারণে। বাংলাদেশের বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রতিবছর বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ফলে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও অভিযোজন কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির সুযোগ তৈরি করছে। একই অর্থায়ন কর্মসূচিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য যুক্ত হওয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়নও গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে যে দক্ষ ও সুস্থ কর্মশক্তি প্রয়োজন, এসব বিনিয়োগ সেই ভিত্তিই শক্ত করতে পারে।

অবকাঠামোর সঙ্গে এবার গুরুত্ব এসএমইতেও
এডিবির প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অবকাঠামো, জ্বালানি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনীতিতে এই তিনটি খাতের প্রভাব বহুমাত্রিক। অবকাঠামো উন্নত হলে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসার ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হলে শিল্প উৎপাদন বাড়তে পারে।
আর এসএমই খাতে অর্থায়ন বাড়লে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে এডিবির অর্থায়নকে শুধু প্রকল্পভিত্তিক সহায়তা হিসেবে দেখার বদলে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে সক্ষমতা তৈরির বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যায়।

জাইকার অর্থে শহর, বন্দর ও দক্ষ জনশক্তি
জাপানের জাইকা প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। মেট্রোরেল, বন্দর ও কারিগরি শিক্ষায় এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তিনটি ক্ষেত্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উন্নত নগর পরিবহন কর্মঘণ্টা ও চলাচলের ব্যয় কমাতে পারে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়ার সুযোগ থাকে। আর কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

আইএমএফের অর্থে সংস্কারের সুযোগ
বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ আইএমএফ। সংস্থাটি প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর সঙ্গে বাজেট সহায়তা ও রাজস্ব সংস্কারের বিষয়টি যুক্ত। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।

প্রায় ১০ দিনের সফরে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে নির্ধারিত শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। নতুন সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা এগোতে পারে। আইএমএফের এই সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি কারণে। রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাত ও সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সক্ষম করার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের বড় শক্তি জনসংখ্যা ও বাজার
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর আগ্রহের পেছনে বাংলাদেশের বিশাল বাজারও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ হওয়ায় এখানে ভোগ ও সেবার বড় বাজার রয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদ। এই জনশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে পারলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, সেবা ও উদ্যোক্তা খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা, স্টার্টআপ, নারী উদ্যোক্তা ও কারিগরি শিক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভূরাজনীতিও বাড়াচ্ছে অংশীদারিত্ব
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, যোগাযোগ, সমুদ্রবন্দর, সরবরাহব্যবস্থা ও আঞ্চলিক সংযোগের সম্ভাবনা বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের বিভিন্ন উদ্যোগে তাই অবকাঠামোর পাশাপাশি বাণিজ্য, সবুজ অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলোও সামনে আসছে।

অর্থায়নের আসল সাফল্য নির্ভর করবে ব্যবহারে
বাংলাদেশের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পরিধি একই সঙ্গে বাড়ছে এবং বৈচিত্র্যও আসছে। বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু ও মানবসম্পদ বিনিয়োগ, এডিবির অবকাঠামো ও এসএমই সহায়তা, জাইকার পরিবহন ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইএমএফের সংস্কার সহায়তা—সব মিলিয়ে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে সক্ষমতা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এই সুযোগকে স্থায়ী অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকৃত মূল্য শুধু কত বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেল, তার ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে সেই অর্থ কতটা উৎপাদনশীল সম্পদ, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ আয়ের উৎস তৈরি করতে পারল তার ওপর। বর্তমান প্রবাহ সেই সম্ভাবনার দরজাই নতুন করে খুলে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো—আন্তর্জাতিক আস্থার এই সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতায় রূপ দেওয়া।

এম/এএইচ

কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

১৯৫৪ সালে পবিত্র কাবা তাওয়াফের একটি দৃশ্য, ছবি : সংগৃহীত

মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কা। কাবাঘর ও মসজিদুল হারামকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহর শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, ইতিহাসের নানা বাঁকে রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক সহিংসতারও সাক্ষী। সর্বশেষ সেই দীর্ঘ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাত। সৌদি আরবের দাবি, হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন মক্কার দিকে এগোচ্ছিল। মঙ্গলবার মক্কার দক্ষিণে সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয় এবং পবিত্র নগরীর আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। ফলে নতুন এই ঘটনাটি একদিকে সৌদি নিরাপত্তাব্যবস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে মক্কাকে ঘিরে অতীতের সংঘাতের স্মৃতিও সামনে এনেছে।

  • ৬৮৩-এর অবরোধ থেকে ১৯৭৯-এর মসজিদুল হারাম দখল
  • ২০১৭-এর ক্ষেপণাস্ত্র দাবি পেরিয়ে এবার ড্রোনের অভিযোগ
  • হুতিদের ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির, অস্বীকার হুতিদের 

অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত কাবা
মক্কায় রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস বহু পুরোনো। দ্বিতীয় ফিতনার সময় ৬৮৩ সালে উমাইয়া বাহিনী মক্কা অবরোধ করে। সংঘাতের মধ্যে কাবাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ৬৯২ সালেও আল-হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের বাহিনী মক্কা অবরোধ করে এবং কাবাকে ঘিরে লড়াই হয়। সৌদিপিডিয়ার তথ্যেও ওই সময় কাবার ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় আড়াই শতাব্দী পর ৯২৯/৯৩০ সালে কারমাতিদের হামলা মক্কার ইতিহাসে আরও ভয়াবহ অধ্যায় তৈরি করে। আবু তাহিরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা হাজিদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং কাবা থেকে হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায়। পাথরটি দীর্ঘ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর মক্কায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মসজিদুল হারামে বন্দুকধারীদের দখল
আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ১৯৭৯ সালের মসজিদুল হারাম অবরোধ। ২০ নভেম্বর জুহাইমান আল-ওতাইবির নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের জিম্মি করে। তারা মোহাম্মদ আল-কাহতানিকে প্রতীক্ষিত মাহদি হিসেবে ঘোষণা করে সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াইয়ের পর সৌদি বাহিনী মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

হাজিদের মিছিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
১৯৮৭ সালে ইরানি হাজিদের রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মক্কায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সৌদি সরকারি হিসাবে নিহত হন ৪০২ জন—২৭৫ ইরানি, ৮৫ সৌদি এবং ৪২ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। আহত হন ৬৪৯ জন। তবে সংঘর্ষের কারণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সৌদি আর ইরানি বর্ণনায় তীব্র পার্থক্য ছিল।

বোমা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ছায়া
১৯৮৯ সালে মসজিদুল হারামের কাছে বোমা বিস্ফোরণে একজন হাজি নিহত ও ১৬ জন আহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ১৬ কুয়েতি নাগরিককে এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। অভিযোগে ইরানের সংশ্লিষ্টতার কথাও ওঠে, যা তেহরান অস্বীকার করে।

২০১৭ সালে আবার মক্কার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তোলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদির দাবি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কার কাছে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়। হুতিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অন্য লক্ষ্যবস্তুর কথা জানিয়েছিল।

পুরোনো ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
মক্কার ইতিহাসে সংঘাতের ধরন বদলেছে—কখনো সেনাবাহিনীর অবরোধ, কখনো সশস্ত্র দখল, কখনো বিক্ষোভ ও বোমা হামলা, আবার কখনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি। সর্বশেষ ড্রোনের অভিযোগ সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এবারের ঘটনাতেও মূল প্রশ্ন একই—পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা কতটা সংঘাতের বাইরে রাখা সম্ভব।

সৌদি আরব যেখানে মক্কার আকাশসীমাকে কঠোর নিরাপত্তা-সীমা হিসেবে দেখছে, হুতিরা সেখানে সৌদি অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে ঘটনাটির সামরিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: সৌদি পিডিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউপিআই, আরব নিউজ, উইকিজিরো

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি