খুঁজুন
                               
, ,
           

পুনরায় পুলিশের মনোবল ভাঙতেই নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:১০ অপরাহ্ণ
পুনরায় পুলিশের মনোবল ভাঙতেই নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সবচেয়ে বেশি ‘নাজুক’ পরিস্থিতির মুখে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশ। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। সরকারের পতনের পর দেশের ৬৩৯টি থানার মধ্যে ৪৫০টির সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতি হয়। অস্ত্র লুট ও খোয়া যায় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের একাধিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হন। গত ১৮ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া উইং প্রথমবারের মতো নিহতদের তালিকা প্রকাশ করে। সেদিন বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ২১ জন কনস্টেবল, একজন নায়েক, সাতজন এএসআই, একজন এটিএসআই, ১১ জন এসআই ও তিনজন পরিদর্শক রয়েছেন। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশের দু’মাস পরেও জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে নিহত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।

  • নিহত ৪৪ পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে অপকৌশল ভেস্তে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার
  • সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পুলিশ
  • ১৫ বছরের দুর্নাম ঘুচিয়ে জনআস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগোচ্ছেন আইজিপি

এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে নিহত ৪৪ জনের তালিকা পুনরায় প্রকাশ করা হয়। এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে কিছু নিউজ আউটলেট এবং কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া গণঅভ্যুত্থানে নিহত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে মিথ্যা এবং ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।’ এ তালিকার বাইরেও পুলিশ নিহতের কোনো ঘটনার কথা কেউ দাবি করলে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রমাণ সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে ওই বার্তায়।

আমরা নিজেরা অন্যায় করবো না; অন্যকেও অন্যায় করার সুযোগ দিবো না
মো.ময়নুল ইসলাম
আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ

জানা যায়, পুলিশ যখন ভেঙে পড়া মনোবল ফেরাতে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে ঠিক তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদারছে পুলিশের নিহতের সংখ্যা নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে একটি চক্র। মূলত যারা ক্ষমতায় থেকে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে তাঁরাই পুলিশে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপকৌশল গ্রহণ করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার নিহতদের নাম, পদের নাম, মৃত্যুর তারিখ, সংযুক্ত ইউনিটের নাম এবং ঘটনাস্থল উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশ করায় তাদের সব অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে। পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্ব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরির মধ্য দিয়েই নিজেরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। পুলিশে চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ গত ১৫ বছরের দুর্নাম ঘুচিয়ে জনআস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েই সামনে এগোচ্ছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো.ময়নুল ইসলাম। তিনি এই পদটিতে আসীনের পর থেকেই পুলিশকে কাজে ফেরাতে নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

সেই সময় নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সদস্যকে নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিলে ক্রমশ স্বাভাবিক হতে থাকে পরিস্থিতি। ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন সফলভাবে বৈঠক শেষ করার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী পুলিশ সদস্যরা। নতুন আইজিপি শুরুর দিকেই সরল স্বীকারোক্তিতে বলেছিলেন, ‘আমাদের কতিপয় উচ্চাভিলাসী, অপেশাদার কর্মকর্তার কারণে এবং কর্মকৌশল প্রণয়নে বলপ্রয়োগের স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ না করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা ও নেতৃত্বের ব্যর্থতায় আমাদের অনেক সহকর্মী আহত, নিহত এবং নিগৃহীত হয়েছেন।’ তিনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তুলতে টিম ওয়ার্কে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশ প্রধান ময়নুল ইসলাম নিজ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করতে নিয়মিতই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন। বাহিনীটির উর্ধ্বতন থেকে শুরু কওে অধস্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তিনি শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ লাইনসের ড্রিল শেডে পঞ্চগড় জেলা পুলিশের অফিসার ও ফোর্সের সাথে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ সময় আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম এনডিসি পুলিশি কার্যক্রম আরও বেগবান করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন আমাদের জন্য দেশ গড়ার এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি; নতুন সমাজ বিনির্মাণের সুযোগ পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশ পুলিশকেও গড়ে তুলতে চাই। আমরা নিজেরা অন্যায় করবো না; অন্যকেও অন্যায় করার সুযোগ দিবো না।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘জনগণের সাথে পেশাদার আচরণ করতে হবে। তাদের প্রত্যাশিত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’ আইজিপি ফোর্সের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, কল্যাণের পাশাপাশি ফোর্সের শৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পুলিশ
জনরোষ, বাহিনীর অধস্তনদের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, নিরাপত্তার অভাব ও মনোবল হারিয়ে গত ৫ আগস্টের পর প্রায় ৭২ ঘণ্টা মাঠ থেকে লাপাত্তা ছিল পুলিশ। বাহিনীটির শীর্ষ কর্তারাও দিয়েছিলেন গা-ঢাকা। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পুলিশে নতুন আইজিপি, র‌্যাব ডিজি ও ডিএমপি কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। জনরোষে দিশেহারা বাহিনীটির আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নৌবাহিনী পুলিশের পাশে এসে দাঁড়ায়।

ওই সময়ে অরাজকতা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় শক্ত অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেনাপ্রধান। গত ৮ আগস্ট তিনি নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনকে সঙ্গে নিয়ে আইজিপি, র‌্যাব ডিজি ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দেশের সব থানার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় পুরোদমে দেশের প্রতিটি থানায় পুলিশী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতিরি উন্নতি হচ্ছে এবং সর্বত্র শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। পুলিশের এই সংকটময় অবস্থার মধ্যেই ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন থানায় হামলা চালিয়ে লুট করে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে চালানো এ অভিযানের মাধ্যমে পুলিশের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেও পুলিশকে আরও বেশি কার্যকর করা হচ্ছে। সড়কে সড়কে দায়িত্ব পালন করছে ট্রাফিক পুলিশ। নিয়মিত জরিমানাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মোদ্দা কথা, দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে এখন দৃশ্যমান রয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, পুলিশসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সংস্কারের জন্য সরকার ১১ সেপ্টেম্বর ছয়টি কমিশন গঠন করে। ইতোমধ্যে তাঁরা কাজ শুরু করেছে। ডিসেম্বরে তারা প্রতিবেদন জমা দেবে। পরে এসব প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় পর্যালোচনার পর উন্মুক্ত করা হবে। পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক সচিব সফর রাজ হোসেনকে।

বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিহত ৪৪ পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার
গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিহত ৪৪ পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রকাশিত তালিকায় নিহতদের নাম, পদের নাম, মৃত্যুর তারিখ, সংযুক্ত ইউনিটের নাম এবং ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ওই তালিকা প্রকাশ করে এক বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব অফিসার বা কনস্টেবল প্রতিবাদ বা সহিংসতার ঘটনায় আহত বা নিহত হন, পুলিশ বিভাগ ‘অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে; তাদের তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ এ তালিকার বাইরেও পুলিশ নিহতের কোনো ঘটনার কথা কেউ দাবি করলে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রমাণ সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে ওই বার্তায়। মূলত এই তালিকা প্রকাশের ফলে অপপ্রচারকারীদের গুজব আর হালে পানি পাচ্ছে না। সরকারের সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সবাই।

তালিকা থেকে দেখা গেছে, নিহত ৪৪ মধ্যে তিনজন পরিদর্শক, ১১ জন এসআই, ৭ জন এএসআই, একজন এটিএসআই, একজন নায়েক ও ২১ জন কনস্টেবল রয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিএমপির ১৪ জন, এনায়েতপুর থানার ১৫ জন, সোনাইমুড়ী থানার ২ জন, তিতাস থানার ২ জন, কচুয়া থানার একজন, বানিয়াচং থানার একজন, ঢাকা এসবির একজন, নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের একজন, ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের একজন, কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের একজন, কসবা থানার একজন, খুলনা মহানগর পুলিশের একজন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের একজন এবং ঢাকা জেলার ২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। সবচেয়ে বেশি, ২৪ জন পুলিশ মারা গেছেন ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছাড়ার দিন। তার আগের দিন ৪ অগাস্ট মারা গেছেন ১৪ জন। বাকিরা নিহত হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। নিহত তিন পুলিশ পরিদর্শক হচ্ছেন- মো. আব্দুর রাজ্জাক, রাশেদুল ইসলাম ও মো. মাসুদ পারভেজ ভূইয়া।

নিহত ১১ জন এসআই হচ্ছেন- সুজন চন্দ্র দে, খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, রেজাউল করিম, মো. মামুনুর রশিদ সরকার, বাছির উদ্দিন, রইস উদ্দিন খান, তহছেনুজ্জামান, প্রণবেশ কুমার বিশ্বাস, মো. নাজমুল হোসাইন, আনিসুর রহমান মোল্লা ও সন্তোষ চৌধুরী। নিহত ৭জন এএসআই হচ্ছেন সঞ্জয় কুমার দাস, ফিরোজ হোসেন, সোহেল রানা, রাজু আহমেদ, ওবায়দুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মো. মোক্তাদির। নিহত এটিএসআই হলেন আলী হোসেন চৌধুরী। নিহত নায়েকের নাম মো. গিয়াস উদ্দিন।

নিহত ২১ পুলিশ কনস্টেবলের তালিকায় রয়েছেন- মো. আব্দুল মজিদ, রেজাউল করিম, মাহফুজুর রহমান, শাহিদুল আলম, মো. আবু হাসনাত রনি, মীর মোনতাজ আলী, সুমন কুমার ঘরামী, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. আব্দুস সালেক, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. রবিউল আলীম শাহ, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. আরিফুল আযম, মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. শাহিন উদ্দিন, মো. এরশাদ আলী, মাইনুদ্দিন লিটন, মো. সুজন মিয়া, মো. খলিলুর রহমান ও মো. হানিফ আলী।

কালের আলো/এমএসএকে/এমএএএমকে

বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

বাড়ি নির্মাণের জন্য চারদিকে পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ১৫ শতক জমি। সেখানে বাড়ির কাজ শুরুর আগপর্যন্ত জমিটি পতিত পড়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই জমিতেই তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ। মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করে মাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এখন তাঁর ক্ষেতের চার শতাধিক গাছে ঝুলছে ছোট-বড় এক হাজারের বেশি তরমুজ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ফল বিক্রি করে লাখ টাকার বেশি আয় করার আশা করছেন এই কৃষক।

পাকা প্রাচীরের ভেতর তরমুজের বাগান
কামারগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১৫ শতক জমির চারপাশে পাকা প্রাচীর। সেই প্রাচীরের ভেতরেই মাচা তৈরি করে সারি সারি তরমুজগাছ লাগানো হয়েছে। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের অসংখ্য তরমুজ। কোথাও ছোট ফল, কোথাও আবার বড় আকারের তরমুজে নুয়ে পড়েছে লতাগুলো।

ইউনাইটেড কোম্পানির ‘মধুমালা’ ও ‘ব্ল্যাকবেবি’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে সেখানে। ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ চাষ করা হয়। সীমিত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগ এখন স্থানীয়দের কাছে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শেই শুরু
কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটির চারপাশে পাকা প্রাচীর তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে বাড়ির কাজ শুরু করার আগে জমিটি বেশ কিছুদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথা ছিল। এ সময় মাঠ পরিদর্শনে এসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাঁকে জমিটি ফেলে না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আব্দুস শহীদ। এরপর উন্নত জাতের তরমুজের চারা রোপণ করে মাচা তৈরি এবং মালচিং পেপার পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। তাঁর এই উদ্যোগ এখন ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আব্দুস শহীদ বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণের আগে জমিটা যেন পতিত পড়ে না থাকে, সেই চিন্তা থেকেই তরমুজ চাষ শুরু করি। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অল্প জায়গায় মাচা তৈরি করে তরমুজ লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন গাছে গাছে প্রচুর তরমুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি তরমুজ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। ফলন ভালো থাকলে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতে পারে।’

অসময়ে চাষ করেও ভালো ফলনের আশা
আব্দুস শহীদ জানান, অসময়ে তরমুজ চাষ করেও গাছে ভালো ফলন এসেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেন তিনি। নিজের উদ্যোগে অল্প জায়গায় এত বেশি তরমুজ উৎপাদন করতে পেরে আশাবাদী এই কৃষক।

তাঁর প্রত্যাশা, বাজারে তরমুজের ভালো দাম পেলে এই চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হবে। সেই অর্থ ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আরও বিনিয়োগ এবং নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বিক্রির আয় এখনো প্রত্যাশার পর্যায়ে রয়েছে। ফলের চূড়ান্ত উৎপাদন, বাজারদর এবং বিক্রির খরচের ওপর নির্ভর করবে প্রকৃত লাভের পরিমাণ।

আব্দুস শহীদের সাফল্যে উৎসাহিত অন্য কৃষকেরা
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আব্দুস শহীদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে। তাঁদের মতে, কৃষিকাজে আগ্রহ, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অল্প জমিতেও ভালো ফলন সম্ভব। প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে আব্দুস শহীদ সেই সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে কঠিন কাজও সহজ করা যায়, আব্দুস শহীদের ক্ষেত তার প্রমাণ। অল্প জায়গায় তিনি যেভাবে তরমুজ চাষ করেছেন এবং ফলন পেয়েছেন, তা আমাদের উৎসাহিত করেছে। তাঁর কাছ থেকে এ জাতের তরমুজ চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরাও এভাবে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’ তাঁরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেলে এলাকার আরও কৃষক নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। বাড়ির আশপাশের অব্যবহৃত জমি, পতিত জায়গা কিংবা সীমিত কৃষিজমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃষকের আয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ছে আগ্রহ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, ‘কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারলে মনে আনন্দ আসে। মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আব্দুস শহীদকে জমি পতিত না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত। তারপরও অসময়ে তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তাঁর ক্ষেত দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকে এ জাতের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে ভবিষ্যতে এ ধরনের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’ বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, কৃষকদের কল্যাণে কাজ করাই কৃষি বিভাগের দায়িত্ব। কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষক নতুন নতুন ফসল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন।

আব্দুস শহীদ তাঁদেরই একজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকটি উপজেলার পশ্চিম জয়পুর ব্লকের কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। অসময়ে তরমুজ চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ক্ষেত পরিদর্শন করে ভালো লেগেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকেরা যেন জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অল্প জমিতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত
আব্দুস শহীদের তরমুজক্ষেত দেখিয়ে দিয়েছে, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য সব সময় বড় জমি কিংবা বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষপদ্ধতি, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং পরিশ্রমের সমন্বয়ে অব্যবহৃত জমিও আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। এখন ফল বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন আব্দুস শহীদ। গাছে গাছে বেড়ে ওঠা তরমুজগুলো বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে পূরণ হতে পারে তাঁর আর্থিক প্রত্যাশা। পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও যদি নতুন ফসল চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার অনুপ্রেরণা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

বিসিএস পরীক্ষায় একই ক্যাডারে বারবার একই প্রার্থীর সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে সরকারি পদের অপচয় ও নিয়োগ জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ করে আসন্ন ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল তৈরির সময় ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

কী এই ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা
বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘রিপিট ক্যাডার’ বলতে সাধারণত এমন প্রার্থীদের বোঝানো হয়, যাঁরা আগের কোনো বিসিএসে একটি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর পরবর্তী বিসিএসেও একই ক্যাডারে আবার সুপারিশ পান। ফলে নতুন করে সুপারিশ পাওয়া পদে তাঁদের যোগদানের প্রয়োজন হয় না বা তাঁরা সেখানে যোগ দেন না। এতে সংশ্লিষ্ট পদটি খালি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর প্রভাব পড়ে অন্য চাকরিপ্রার্থীদের ওপর। মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা যোগ্য প্রার্থীরা ওই পদে নিয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন। আবার সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ নতুন পদে যোগ না দিলে প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব নির্ধারণ করাও জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ সমস্যা বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

৪৪তম বিসিএসে প্রায় ৪০০ রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা
৪৩তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা থাকলেও ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পিএসসির তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ হাজার ৭১০ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন আগে থেকেই সরকারি কোনো ক্যাডারে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পদে যোগদান না করার কারণে শূন্য পদ পূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ ঘটনার পর রিপিট ক্যাডারের কারণে খালি থাকা পদগুলোতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়।

৪৫তম বিসিএসে যোগদানের হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত
রিপিট ক্যাডার সমস্যা সমাধানে পিএসসি এবার শুধু সুপারিশের সংখ্যা নয়, বাস্তবে কতজন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে চায়। ইতিমধ্যে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ১ নভেম্বর যোগদানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগদান শেষ হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে—কতজন নতুন পদে যোগ দিয়েছেন এবং কতটি পদ খালি রয়েছে। পিএসসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বরের পর যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রার্থী একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়ার কারণে পদ খালি থাকলে সেখানে পরবর্তী মেধাক্রমের যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা
রিপিট ক্যাডার সমস্যার কারণে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রিপিট ক্যাডারের কারণে সাধারণ প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সঠিক হিসাব পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হলে শূন্য পদের সমস্যা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, প্রকৃত শূন্য পদের হিসাবের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালিত হলে মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা প্রার্থীরাও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। এতে একই পদে বারবার সুপারিশের কারণে নিয়োগের সুযোগ আটকে থাকার সমস্যা কমতে পারে।

বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবও রয়েছে
৪৪তম বিসিএসে রিপিট ক্যাডার নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর পিএসসি নিয়োগবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত বা সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সময় কমিশনের কাছে যদি তথ্য থাকে যে কোনো প্রার্থী একই ক্যাডার পদ বা সমপদে পুনরায় মনোনীত হচ্ছেন এবং তিনি সেখানে যোগ দিতে অনিচ্ছুক, তাহলে তাঁকে আবার সুপারিশ না করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পদগুলোতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের নির্বাচন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর রিপিট ক্যাডার সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের ফলাফলে তা বিবেচনায় নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

৫০তম বিসিএসের ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে
পিএসসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের কারণে খালি থাকা পদগুলো শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি প্রকৃত শূন্য পদের বিপরীতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের সুপারিশ করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, প্রার্থীদের যোগদানের প্রকৃত তথ্য এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ৫০তম বিসিএসের ফলাফল ঘোষণার সময় বিষয়টি কীভাবে কার্যকর করা হয়, সেটিই এখন চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

কালের আলো/এসএআর/এসএ

কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন ও আধুনিকায়ন করা উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ ছিল না।

মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে সরকারের বিভিন্ন অতিথির নাম থাকলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি অনুষ্ঠানে তিনি কোন পরিচয়ে উপস্থিত থাকবেন, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নাম যদি আমন্ত্রণপত্রে না থাকে, তাহলে তিনি সেখানে কী হিসেবে যাবেন? তাঁকে কি দর্শক সারিতে বসতে হবে? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণপত্রে যথাযথভাবে নাম ও পরিচয় উল্লেখ না থাকাই অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির কারণ।

এর আগে সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতারা আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাঁদের থাকা উচিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, যাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সব রাজনৈতিক পক্ষের দায়িত্ব।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। তিনি আরও বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি