খুঁজুন
                               
, ,
           

ভবিষ্যত নেতৃত্বের পরিকল্পনায় উজ্জ্বল তরুণ অফিসাররা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ভবিষ্যত নেতৃত্বের পরিকল্পনায় উজ্জ্বল তরুণ অফিসাররা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

সাজ সাজ রব চারদিকে। সামরিক ছন্দে দৃষ্টিনন্দন প্যারেড। মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুনের অবগাহনে অন্যরকম এক আবহ। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছেন তরুণ অফিসাররা। দৃষ্টিনন্দন পোশাক থেকে শুরু করে দুর্দান্ত শারীরিক কসরত, কী ছিল না সেখানে? দৃষ্টি জুড়িয়ে যায় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে চৌকস প্যারেড অবলোকনে। দীর্ঘ ৩ বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৮৭ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ২১৩ জন অফিসার ক্যাডেট, ৫৯ বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ১৪ জন অফিসার ক্যাডেট ও ৪ জন ট্রেইনি অফিসার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

অবারিত আনন্দের স্রোতধারায়, ভাতৃত্বের সীসা ঢালা প্রাচীরের অবিচ্ছেদ্য এক বন্ধন। হৃদয় গহিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দোলায় অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণ অফিসারদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৮৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি ও ৫৯তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতায়, পেশাদারিত্বের গভীর নির্যাসে ও দূরদৃষ্টিতায় নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ এবং দিকনির্দেশনামূলক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করলেন তিনি।

সাহসিকতার সঙ্গে সকল পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন। নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমাল রক্ষায় নতুন ক্যাডেটদের সর্বদা নিজেকে উৎসর্গ করারও। বর্ণিল এই প্যারেডকে ঘিরে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করলেন সেনাপ্রধান। তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান। নবীন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে ফোর্সের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিএমএ’র কমান্ড্যান্ট ও সংশ্লিষ্টদের জানান আন্তরিক ধন্যবাদ।

অন্তরমথিত ভালোবাসায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বক্তব্যে পরিপাটিভাবেই ওঠে এসেছে- একটি দক্ষ, আধুনিক এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত এবং নিজ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য। নবীনদের গড়তে এদেশের খেটে-খাওয়া মানুষের অবদানকে স্মরণে রেখে আগামীতে কাজ করার তাগিদও দিলেন। যেকোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজেদের বিবেকের দ্বারস্থ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। উপদেশ দিলেন প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট থাকতে।

  • একটি দক্ষ, আধুনিক এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব
  • মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত
  • এদেশের খেটে-খাওয়া মানুষের অবদানকে স্মরণে রেখে আগামীতে কাজ করার তাগিদ
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজেদের বিবেকের দ্বারস্থ হওয়ার বার্তা
  • প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট থাকতে উপদেশ

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছলে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাইনুর রহমান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান তাকে অভ্যর্থনা জানান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ২০৭ জন পুরুষ ও ২৪ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার আব্দুল্লাহ আল আরাফাত ৮৭ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সেরা ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। প্রশিক্ষণ শেষ করা ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর তাদের বাবা-মা নবীন অফিসারদের র‍্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে বন্ধু প্রতিম দেশ শ্রীলংকান মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট, দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শাহাদতবরণকারী বীর সেনানীদের আত্মত্যাগ প্রেরণার উৎস
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধা জানান মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শাহাদতবরণকারী বীর সেনানীদের। তিনি বলেন, ‘তাদের মহান আত্মত্যাগ সব সময় আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমি তাদের রুহের মাগফিরাতও কামনা করি।’ মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ দক্ষ, আধুনিক এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে এই চার তারকা জেনারেল বলেন, ‘এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরই বর্তায়। এই লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। কালক্রমে এই একাডেমি সুনামের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে এবং আজকে এটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মিলিটারি একাডেমিতে পরিণত হয়েছে। এই একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের নেতৃত্বে শৃঙ্খলা, আনুগত্য, ন্যায়পরাণতা ও কর্তব্যের প্রতি উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।’

সামরিক চেতনার মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে যেকোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ
এ সময় তরুণ ক্যাডেট অফিসারদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত আনেন্দের। কারণ, বিএমএতে দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আজকে তোমরা সেনাবাহিনীতে কমিশন পেতে যাচ্ছো। এজন্য তোমাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন। তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা নেতৃত্বের সর্বোচ্চ গুণাবলী যেমন- সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম দ্বারা সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব তোমরা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবে। তোমাদেরকে যেকোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনার মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ সমুন্নত রাখতে ও যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তোমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট থাকবে।’

শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর প্রধান চালিকাশক্তি; সর্বদা নিজেদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান
প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, সুনিয়ন্ত্রিত জীবন পদ্ধতি ও রেজিমেন্টেড লাইফকে তোমরা মনেপ্রাণে গ্রহণ করে সর্বদা নিজেদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বজায় রাখবে। মনে রাখবে তোমাদের ওপর অর্পিত হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ এটিতে উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত। সেনাবাহিনী এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শৃঙ্খলা প্রধান চালিকাশক্তি। এখানে সকল বিষয় নির্ধারিত নিয়ম, প্রথা ও অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। যেকোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজেদের বিবেকের দ্বারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবে না, তোমাদের গড়ে তুলতে এই দেশের খেটে-খাওয়া মানুষের অনেক অবদান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখবে, সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তোমরা নতুন জীবনে পদার্পণ করছো। তোমাদের সেখানে দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। তোমরা অধীনস্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং তাদের ভালো-মন্দের প্রতি খেয়াল রাখবে। সর্বদা অধীনস্তদের সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলবে এবং তাদের সামনে নিজেকে উদাহরণস্বরূপ উপস্থাপন করবে। তোমাদের প্রশিক্ষণের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। তাহলেই তোমরা কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য। এ সময় সংঘটিত হবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এতে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর মূল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

এ ছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু এলাকা থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় গ্রহণের আংশিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে গেলেও এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হবে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পৌঁছানোর কারণে চাঁদ তামাটে বা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। এ ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।

পুরো চন্দ্রগ্রহণের প্রক্রিয়া পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে চাঁদের লালচে হয়ে ওঠার দৃশ্য তুলনামূলকভাবে অল্প সময় স্থায়ী হবে।

চন্দ্রগ্রহণ দেখতে সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এমএসআইপি 

চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুর সাউথ চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই একাডেমিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল শিক্ষা চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বাংলাদেশে চীনা ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। চীনের পক্ষ থেকেও গুয়াংডং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুয়াংডং প্রদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে গুয়াংডং সরকারের বৃত্তি পেয়েছেন ২০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে বলে সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্যোগকবলিত নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। বাংলাদেশ পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি জানান, দুর্যোগের ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপাল সরকার এবং দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও শোকবার্তায় জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি