খুঁজুন
                               
, ,
           

উঁচু দিগন্তে ডানা মেলার স্বপ্ন শাহ আমানত বিমানবন্দরের, যাত্রীসেবায় উন্নতিতে বন্ধ পদে পদে হয়রানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
উঁচু দিগন্তে ডানা মেলার স্বপ্ন শাহ আমানত বিমানবন্দরের, যাত্রীসেবায় উন্নতিতে বন্ধ পদে পদে হয়রানি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো, চট্টগ্রাম ঘুরে এসে :

বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ যাত্রী পরিবহন করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কিন্তু বছরের পর বছর চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নানান হয়রানির কারণে এই বিমানবন্দর দিয়ে ভ্রমণ যাত্রীদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্ন। বিশেষ করে যারা প্রথমবার এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন কিংবা যারা অভিবাসী শ্রমিক-তাদের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিমানবন্দরের যাত্রা অভিজ্ঞতা ছিল তিক্ত ও দুর্দশাপূর্ণ। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পট-পরিবর্তনের পর খোলনলচে পাল্টে বদলে যেতে শুরু করেছে বিমানবন্দরটি। বিমানবন্দরটি অরক্ষিত রেখে সেই সময় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) চলে যাওয়ার পর উন্নত বিশ্বের আদলে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতোই এই বিমানবন্দরটিরও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে চলেছিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক)। এরপর শাহ আমানতের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে অনুরোধ জানায়। এভসেকের পাশাপাশি কাজ শুরু করেন বিমান বাহিনীর ২০০ সদস্যের বিশেষ টাস্কফোর্স। এয়ার সাইড ও ল্যান্ড সাইড দু’দিকেই সমানতালে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

  • ৫ আগস্টের পট-পরিবর্তনের পর খোলনলচে পাল্টে বদলে যেতে শুরু করেছে বিমানবন্দরটি
  • এভসেকের পাশাপাশি কাজ শুরু করেন বিমান বাহিনীর ২০০ সদস্যের বিশেষ টাস্কফোর্স
  • এয়ার সাইড ও ল্যান্ড সাইড দু’দিকেই সমানতালে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
  • বোর্ডিং পাস, ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে নানাবিধ হয়রানির ঘটনা এখন আর নেই
  • মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মিলছে লাগেজ
  • বিমানবন্দরে বহু বছর অচল থাকা ফ্রি টেলিফোন বুথও করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সচল

এরপর থেকেই উঁচু দিগন্তে ডানা মেলার স্বপ্নে বিভোর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বাড়ানো হয়েছে যাত্রী সেবার পরিধি। যাত্রীদের হয়রানি ঠেকানোর পাশাপাশি চুরি বা লাগেজ কাটার ঘটনাকে শুন্যে নামিয়ে আনতে গ্রহণ করা হয় কঠোর পদক্ষেপ। শুধু তাই নয়, এভসেক ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে গত ৫ আগস্টের আগে-পরে এক ঘণ্টার জন্যও বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ হয়নি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বোর্ডিং পাস, ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে পদে পদে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হওয়ার চিরায়ত ঘটনাও এখন আর নেই। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেশন ও বিমানবন্দরের গ্রাউন্ডস হ্যান্ডলিং সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের বিশ্বস্ত মাধ্যমের এতোদিনের অপবাদেরও যেন যবনিকাপাত ঘটেছে। এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিনিয়তই বাড়ছে যাত্রীদের চাপ। তিনটি ফেইজে বাস্তবায়িত হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান। রানওয়ে সম্প্রসারণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় বিদেশি বড় বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট অপারেশনের আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিমানবন্দরটিকে বিশ্বমানের ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে তিনটি পর্যায়ে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর
পরিচালক, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

দেশের প্রায় ২১ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিশ্বমানের ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে তিনটি পর্যায়ে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিমান বন্দরের বর্তমান পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর। তিনি কালের আলোকে বলেন, ‘শাহ আমানতের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের লাইটিংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। টার্মিনাল সুবিধা বাড়াতে বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন করা হচ্ছে, চলমান রয়েছে টার্নিং প্যাড সম্প্রসারণ কাজ। প্যাসেঞ্জার ও কার্গো সিকিউরিটি ব্যবস্থাও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ কাজ চলছে। জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে যাত্রী সম্প্রসারণ ও কার্গো সক্ষমতা বাড়বে। গড়ে তোলা হবে একটি প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে।’

রানওয়ে সক্ষমতা বাড়ানো হলে বড় বড় কার্গো বিমান ওঠানামা করতে পারবে
রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান
চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান কালের আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের কাছেই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটির রানওয়ে সক্ষমতা বাড়ানো হলে বড় বড় কার্গো বিমান এখানে যেকোনো সময়ে কার্গো নিয়ে ওঠানামা করতে পারবে। এতে গোটা বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়বে।’

বিমান বাহিনী, এভসেক, এপিবিএন বা আনসার যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। আমরা সব বিষয়ে সজাগ রয়েছি।
এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া
চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ

১৫ মিনিটে মিলছে লাগেজ, নেই টানা পার্টির তৎপরতা
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৮টি আন্তর্জাতিক এবং ৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামা করে। বছরে মাত্র ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহনের মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল শাহ আমানত বিমানবন্দর। এখন যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখের বেশিতে। ২০৩০ সাল নাগাদ যা হবে ৩০ লাখ, ২০৪০ সালে ৫০ লাখ এবং ২০৭০ সালে দাঁড়াবে ১ কোটির বেশিতে। ২০০০ সালে জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক রূপ পাওয়া শাহ আমানত বিমানবন্দরের সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ বছর। ৪ বছর আগেই সক্ষমতা হারিয়ে আসা এই বিমানবন্দর ২০২৩ সালেই ১৬ লাখ ১০ হাজার ৪২৮ জন যাত্রী বহন করে রেকর্ড গড়ে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪২৮ জন এবং আন্তর্জাতিক রুটের ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪ জন। যেখানে ২০২২ সালে বিমানবন্দরটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ জন যাত্রী বহন করেছিল। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী ৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৫৪ জন এবং আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪ জন।

নানাদিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের গুরুত্ব বাড়ছে। বিশ্বের সব বন্দরের ব্যাকআপ হিসাবে অত্যাধুনিক এবং বিশ্বমানের বিমান বন্দর থাকার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বঞ্চিত ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের কাছেই শাহ আমানত বিমানবন্দরের অবস্থান হলেও সুযোগ-সুবিধা সেখানে বিশ্বমানের ছিল না। অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে দিন-রাত একাকার করে কাজ করে চলেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একেকজন যাত্রীর লাগেজ প্রাপ্তির সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মিলছে লাগেজ। বিমানবন্দরে বহু বছর অচল থাকা ফ্রি টেলিফোন বুথও করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সচল।

বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্সের সহযোগিতায় প্রান্তিক ভবন ও কার পার্কিং এ যাত্রী হয়রানি রোধ করা অনেকটাই সম্ভব হয়েছে। কোন রকম টানা পার্টির তৎপরতা নেই। সালাম দিয়ে ট্রলিম্যানদের ও আনসার সদস্যদের চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়েছে। উন্নত বিশ্বের বিমানবন্দরগুলোর মতোই এখানে যাত্রীদের সহায়তার জন্য বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। শাহ আমানতে সেবায় সন্তুষ্ট প্রবাসীরাও। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে কাজ করেন ফটিকছড়ির বাসিন্দা সোলেমান। সম্প্রতি দেশে ফেরা এই প্রবাসী কালের আলোকে বলেন, ‘শাহ আমানতে এবারের যাত্রীসেবায় আমরা মুগ্ধ। কয়েক মিনিটে লাগেজ পাওয়া, ফ্রি ফোন করা এসব পরিবর্তন আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। তাছাড়া এবার সালাম দিয়ে টাকা আদায় করার দৃশ্যও আমাদের নজরে আসেনি। এমন বিমানবন্দরই আমাদের কাছে প্রত্যাশিত।’

চট্টগ্রাম পপুলার ট্রাভেলর্স অ্যান্ড ট্যুরের মালিক সৈয়দ মো. ইকবাল হোসাইন জানান, ‘অতীতে দুয়েকটি ফ্লাইট নামার পর লাগেজ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো। লাগেজের জন্য মানুষকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়টিও নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যেই লাগেজ সমস্যার সমাধান হয়েছে। আন্তরিক এই সেবায় প্রবাসীরা উপকৃত হচ্ছেন।’

বিমানবন্দরের ভেতরে-বাহিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতায় এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক) বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বার, টারমিনাল ড্রাইবওয়েতে, এপ্রোন এরিয়াতে প্রবেশের গেইট (৪ নম্বর গেইট), এপ্রোন এলাকা, রানওয়ে ৫ ও ২৩, যাত্রী কারপার্কিং এই পয়েন্টগুলোতে তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ২০০ সদস্যকে অস্থায়ী ভিত্তিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিমান বাহিনীর বিশেষ টাস্কফোর্স ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শাখার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির নেতৃত্বে প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর বিমানবন্দরের প্রতিটি তল্লাশী চৌকি ও জনমানবশূন্য পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা টহল নিশ্চিত করা হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এপ্রোন এরিয়ায় প্রবেশের ৪ নম্বর গেইট, রাডার স্টেশন, ভিওআর, ট্রান্সমিটিং স্টেশন, পাওয়ার হাউস, জিপি-লোকারাইজার স্টেশন- এসব পয়েন্টে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রীসেবা প্রদানে বিমানবাহিনীর সদস্যরা প্রান্তিক ভবনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে আনসার সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করলে বিমান বাহিনী টাস্কফোর্স দক্ষতার সঙ্গে বিমানবন্দরটিকে সুরক্ষিত করে। সেই থেকে দিন-রাত টাস্কফোর্স সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবর্তনের নতুন স্বপ্নে অদম্য পথচলা
সব মিলিয়ে আগের সব সমীকরণ পেছনে ফেলে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও এভসেক’র সম্মিলিত প্রয়াসে এই বিমানবন্দরটির সামগ্রিক কার্যক্রমে বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ঝলমলে এমন অধ্যায়ে ছাত্র-নাগরিকের রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশে নিজেদের সামর্থ্যরে পুরোটা উজার করে সব সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে পরিবর্তনের নতুন স্বপ্নে হাঁটছে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিমানবন্দরটি।

এসব বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া কালের আলোকে বলেন, ‘একটি দেশের বিমানবন্দর হলো একটি দেশের দর্পণ। বিমানবন্দরে নামার পর যেন সবাই বুঝতে পারে আমি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল দেশে প্রবেশ করেছি। এ জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। বিমান বাহিনী, এভসেক, এপিবিএন বা আনসার যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। আমরা সব বিষয়ে সজাগ রয়েছি। আমাদের মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়লেন পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়লেন পরীমনি

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর (ফলোয়ার) মালিক হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই তারকার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরীমনির অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের অনুসারী রয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে প্রায় ১০ লাখ অনুসারীর ব্যবধানে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছেন পরীমনি।

এর আগে কয়েক দফা দুই তারকার অনুসারীর সংখ্যা কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। একসময় সাকিব এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধানে তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

অনুসারীর সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও দুই তারকার ফেসবুক কার্যক্রমে রয়েছে ভিন্নতা। সাকিব আল হাসানের অফিসিয়াল পেজ থেকে মাত্র ছয়টি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন ও ফরচুন বরিশালের অফিসিয়াল পেজও তাঁর অনুসরণ তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, পরীমনির ফেসবুক পেজ থেকে সাতটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হলেও সেগুলোর তথ্য প্রাইভেসি সেটিংয়ের কারণে প্রকাশ্যে দেখা যায় না।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনায় থেকেছেন পরীমনি। বর্তমানে তিনি নতুন কয়েকটি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এবার দেশের নতুন শীর্ষস্থান দখল করলেন পরীমনি।

কালের আলো/এসএ

সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের সান্তোস অধ্যায় দীর্ঘ হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সেটি নবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম। ক্লাবের ভেতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষই এর প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকেই সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে নেইমারকে ঘিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর আচরণ ও মনোভাবের কারণে প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কয়েকজন খেলোয়াড় নেইমারের ‘আত্মকেন্দ্রিক’ আচরণে অসন্তুষ্ট বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেইমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মে মাসে অনুশীলনের সময় সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্কের ঘটনা দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করে।

কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের অভিযানের সময়ও সমালোচনার মুখে পড়েন নেইমার। ভেনেজুয়েলায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তাঁকে সাও পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা যায়। বিষয়টি সমর্থক ও গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জবাব দেন তিনি। এরপর শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে গোল করে তাস বিলির ভঙ্গিতে উদযাপন করে সেই বিতর্ক আরও উসকে দেন।

গ্লোবোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেশাদার ফুটবলের চাপ ও ক্লাবের দৈনন্দিন রুটিনে নেইমার ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে তিনি এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ব্রাজিলের কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসকে মৌখিকভাবে আক্রমণ করেছেন নেইমার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাঁর দাবি, প্রকাশিত খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কালের আলো/এসএ

 

মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পরিদর্শনের সময় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রউফ তাঁকে স্বাগত জানান।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জাতীয় মানচিত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদ, আন্তর্জাতিক সীমানা জরিপ, ভূস্থানিক তথ্য সংগ্রহ, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল এলিভেশন মডেল প্রস্তুত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এসময় তিনি বলেন, নির্ভুল ও হালনাগাদ মানচিত্র উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভূস্থানিক তথ্যের সমন্বয় ও নিয়মিত হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি প্রশিক্ষণে জরিপ ও ভূস্থানিক জ্ঞানের ব্যবহার বৃদ্ধি, দেশীয় ডিজিটাল ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সম্ভাবনা যাচাই এবং ভূকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে পরবর্তী পর্যায়ে সিলেট ও কুমিল্লায় কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। নির্ভুল মানচিত্র ও আধুনিক ভূস্থানিক তথ্য সেই পরিকল্পনার পথ নির্দেশক।’

এসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ