খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সাফল্যের মহাকাশ ছোঁয়া বীরকন্যাদের স্মরণীয় দিন, হৃদয়ের উষ্ণতায় আনন্দ নন্দিত অভিবাদন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ণ
সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সাফল্যের মহাকাশ ছোঁয়া বীরকন্যাদের স্মরণীয় দিন, হৃদয়ের উষ্ণতায় আনন্দ নন্দিত অভিবাদন

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

মাসখানেক আগেই নেপালে বিজয় কেতন উড়িয়েছে বীরকন্যারা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে তাঁরা। ঐতিহাসিক, অবিস্মরণীয় বিজয় বলে চলেছে ফুটবলে নারীদের শক্তি ও সম্ভাবনার কথা। ফুটবল আকাশে এতোদিন যে শ্রেষ্ঠত্ব ছিল আকাশের চাঁদ- সাবিনা, রুপনা, ঋতুপর্ণা আর মনিকা চাকমারা সেই মহাকাশই ছুঁয়ে দিচ্ছেন বারবার। বিশ্ব পরিমণ্ডলে উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। বাধার প্রাচীর দুমড়েমুচড়ে এগিয়ে চলা, অসম্ভবকে সম্ভবে রূপান্তরিত করা হিমাদ্রির শিখরে ওঠে বাংলার ফুটবলের পুনর্জাগরণের গল্প বলা নারী ফুটবলারদের এবার হৃদয়ের উষ্ণতায় অভিবাদন জানিয়েছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

সমুদ্র নগরী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় সেনাবাহিনী পরিচালিত বে-ওয়াচ হোটেল গ্রাউন্ডে শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) রাতে আয়োজিত এই সংবর্ধনায় দেশের জন্য গৌরবময় অধ্যায় তৈরি করা বাংলার বাঘিনীদের অনন্য এক মর্যাদায় করা হয়েছে মহিয়ান। হিমালয়ের কোলে বাংলাদেশের ফুটবলের আশার ফুল ফুটানো সাবিনা-মারিয়া মান্দারা সংবর্ধনার পাশাপাশি এদিন পেয়েছেন এক কোটি টাকা অর্থ পুরস্কার। সাফ সাম্রাজ্য নিজেদের করে নেওয়া নারী ফুটবলারদের প্রত্যেকেই পুরস্কার পেয়েছেন ৪ লাখ করে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিতে ঋতুপর্ণা চাকমা এবং সেরা গোলকিপার রূপনা চাকমাকে অতিরিক্ত এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। দলের কোচ ও কর্মকর্তাদের দেওয়া হয় অর্ধলাখ টাকা করে পুরস্কার। এছাড়া তাদেরকে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) এমন ভালোবাসায় আপ্লুত সাফজয়ী কন্যারা। দেশের জন্য বিদেশের মাটি থেকে টানা দু’বার ট্রফি এনে দেওয়া, সাফল্যের নতুন পাণ্ডুলিপিতে প্রত্যাশার রেণু উড়ানোর শনিবারের (০৭ ডিসেম্বর) মাহেন্দ্রক্ষণে স্বশরীরে এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান ও বিওএ সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ও সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান ও হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতা বাংলাদেশের বীরকন্যাদের দক্ষতা প্রদর্শনের নির্মাল্যে আর অভাবনীয় সফল কৃতিত্বের ধারবাহিক নৈপুণ্যে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বাংলার নরম মৃত্তিকার শক্ত খেলোয়াড়দের অনন্য সফলতায় অনবদ্য স্বপ্নের হাতছানিতে তিনি মনে করেন ‘নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা দেশের গর্বের ধন। একাধিকবার সাফ জয়ের মাধ্যমে নারী ফুটবল দল এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। উৎসবের আমেজে সংবর্ধনার এমন আয়োজন নারী ফুটবলারদের প্রেরণা যোগাবে।’

২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়েই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও সেই দশরথ স্টেডিয়ামেই মনিকা ও ঋতুপর্ণার দুই গোলে নেপালের মেয়েদের হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট বঙ্গললনাদের মাথায়। বাংলাদেশ ধরে রাখলো দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের শিরোপা। হিমালয় কন্যা নেপালের পাদদেশে কঠিন ভূমিতে সদর্প বিচরণে বাংলার বাঘিনীদের দুঃসাহসিক অভিযানে অনন্য জয়মাল্যে গর্বিত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত ১৬ নভেম্বর এক কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সাফজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সশস্ত্র বাহিনী ও বিওএ’র যৌথ আয়োজন মাতিয়ে দিয়েছে বাঘিনীদেরও
পার্বত্য অঞ্চলের নারী ফুটবলারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করতে ও বীরকন্যাদের নতুন এক মর্যাদায় অভিষিক্ত করতে কক্সবাজারের ইনানী বিচে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিওএ’র যৌথ উদ্যোগে তাদের সংবর্ধিত করা হলেও এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বিওএ’র যৌথ আয়োজনে পর্বতের চূড়ায় উঠা সাবিনা, মারিয়া আর ঋতুপর্ণা চাকমাদের শিরোপা উপহারে হৃদয়ের মর্মমূল থেকে গভীর ভালোবাসায় সিক্ত করা হয়েছে। জমকালো এমন আয়োজন মাতিয়ে দিয়েছে ওদেরও। ২০২৪ সালের এই সাফল্য নি:সন্দেহে খেলার মাঠে বাংলার নারী যোদ্ধাদের এগিয়ে চলার যাত্রাপথের মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হবে।

আগামীতেও নারী ফুটবলাররা দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে বড় অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে
আগামীতেও নারী ফুটবলাররা দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে বড় অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ায় নয় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে নারী ফুটবলাররা। সেই সঙ্গে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নারী ফুটবল দলের এই সাফল্য সার্বিকভাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রেরণার সঞ্চার করবে।’

দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও নারী ফুটবল দল গঠন করা হয়েছে। এরইমধ্যে সেনাবাহিনীর নারী ফুটবল দল বেশ সফলতাও অর্জন করেছে। তাঁরা ২০২৩ সালে লীগ খেলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। আমরা নারীদেরকে আরও স্পন্সর করবো ও তাদের দেখভাল করলে তাঁরা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন সম্মান এনে দিতে পারবেন। নারী ফুটবল দলের কোচরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমি তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

এ সময় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনার আনন্দঘন এই আয়োজন অনুপ্রেরণা যোগাবে। শুধু সাফ নয়, এএফসি কাপ জেতারও স্বপ্ন দেখছে নারী ফুটবলাররা।’ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষে দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা ঘিরে নারী ফুটবলারদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও অংশ গ্রহণ করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩০ মে) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পাশাপাশি সরকার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আসা-যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে তারা নিজেদের অপমানিত বোধ করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। পরে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে। এরপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের একটি ভবনে অবৈধ বিস্কুট কারখানা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টাফ নার্সদের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।

একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে টাইমস অফ বাংলাদেশ স্টাফ রির্পোটার কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন আহত, বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

তিনি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছকে বাঁধা নয় মোটেও। সবার উর্ধ্বে দায়িত্ব ও মানবিকতাকে স্থান দিয়ে মন্ত্রীত্বের পুরাতন সব রীতি ভেঙে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সব সময় নিজ নির্বাচনী এলাকার ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে মানুষের কাছাকাছি তিনি। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের এই সংসদ সদস্য এলাকার সাধারণ মানুষের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজের কাঁধেই তিনি লাশ বহন করেছেন। দাফন কাজে নিজের সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি কবরে শায়িত করতে নেমে গেছেন। প্রকৃত মনুষ্যত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দু’মাস। এ সময়ে নিজ কাঁধে খাটিয়া বহন করে দুটি মরদেহ দাফন কাজে অংশ নিয়ে অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রথমটি উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ২৭ মার্চ। অন্যটি গত ২৯ মে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায়। প্রটোকলের চিরায়ত প্রথা ভেঙেছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায় মরহুম আব্দুল হামিদের জানাজায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার সময় তিনি নিজ কাঁধে খাটিয়া তুলে নেন এবং অন্যদের সঙ্গে মরদেহ বহন করেন। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে নিজেই কবরে নেমে পড়েন। মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মৃতের স্বজনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিকতা ও উদারতা অপার বিস্ময়ে উপভোগ করলেন। মুহুর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়লো সোশ্যাল হ্যাণ্ডেলে। নেটিজেনরা সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অনন্য মানবিকবোধ নিয়ে মেতে উঠলেন প্রশংসায়। কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই তার এই প্রতিমন্ত্রীও অতি সাধারণ। যোগ্য ব্যক্তিই ক্যাবিনেটে স্থান পেয়েছে।’

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে সবাই অভিভূত। অতীতে কোন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে দেখেনি মানুষ। জনতার নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি তার এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নান্দাইলবাসীর কাছে এক বিমুগ্ধ বিস্ময়।

স্থানীয়রা বলছেন, এখনও অনেক রাজনীতিকের ভেতরে দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আছে। মনুষ্যত্ববোধ যে টিকে আছে তার বড় এক উদাহরণ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই মানবিকবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

কালের আলো/এমএএএমকে