খুঁজুন
                               
, ,
           

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মিরাজের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মিরাজের

ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং ক্রিকেটারদের এ বিষয়ে কোনো আপত্তি ছিল না।

শ্রীলঙ্কায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিরাজ বলেন, সবাই বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং ভারতে গিয়ে খেলতে ক্রিকেটারদের কোনো সমস্যা ছিল না। তার ভাষায়, প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন মিরাজ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর ভারতের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ দল এবং ঘরের মাঠে ভালো ক্রিকেট উপহার দিতে চায়।

এছাড়া আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের আরও উন্নতির ওপর জোর দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিশ্বকাপে ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দল।

বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তিনি নতুন কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তার বিশ্বাস।

কালের আলো/এসএ

ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০১

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০১

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৫৩টি মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৫ জন, লালবাগে ২৩, ওয়ারীতে ৭২, মতিঝিলে ৭৫, তেজগাঁওয়ে ৫৩, মিরপুরে ১২৭, গুলশানে ৪২, উত্তরা বিভাগে ৭০ এবং গোয়েন্দা বিভাগে চারজন রয়েছেন।

অভিযানকালে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, ৩২ হাজার ১৬১টি ইয়াবা, ২০ কেজি ৭১১ গ্রাম গাঁজা, দুই গ্রাম হেরোইন, ১৭টি মোবাইল ফোন, একটি প্রাইভেটকার ও একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে উদ্ধার করা আলামত ও মাদকদ্রব্যের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শর্করা নিয়ন্ত্রণে খাবারে রাখুন যেসব পুষ্টি উপাদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
শর্করা নিয়ন্ত্রণে খাবারে রাখুন যেসব পুষ্টি উপাদান

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরে গ্লুকোজের ব্যবহার, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ম্যাগনেসিয়াম রাখা উপকারী হতে পারে। ডিম, মাছ, মুরগি ও পনিরের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে খেলে খাবারের পর গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমাতে পারে।

এ ছাড়া দ্রবণীয় ফাইবার হজম ও গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করে। বেরি, কিউই, অ্যাভোকাডো, পালং শাক ও লাউয়ের মতো খাবার থেকে ফাইবার পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত মাছ ও আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি রক্তে শর্করা কমায় না। তবে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্লুকোজ বিপাকের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়ামেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শাকসবজি, বাদাম, বীজ ও মাছ ম্যাগনেসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। তবে শুধু রক্তে শর্করা বেশি থাকার কারণে নিজে থেকে ম্যাগনেসিয়াম বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, আয়রনের ঘাটতি থাকলে HbA1c পরীক্ষার ফল কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থার তুলনায় বেশি দেখা যেতে পারে। তবে HbA1c কমানোর উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত আয়রনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি ‘জাদুকরী’ পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রয়োজনীয় খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস থাকলে খাদ্যাভ্যাস বা সাপ্লিমেন্টে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কালের আলো/এমএসআইপি

ছয় মাসেই ঝাঁকুনি, মন্ত্রীদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় মাসেই ঝাঁকুনি, মন্ত্রীদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা

৬ মাস হয়েছে সরকারের বয়স। কিন্তু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে এই ছয় মাস যেন অন্য অনেক সরকারের কয়েক বছরের সমান। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বার্তা দিয়েছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের থাকতে হবে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, আর নির্ধারিত সময় শেষে দিতে হবে তার বাস্তবায়নের হিসাব।

ছয় মাসের সেই প্রথম সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে তাই নিছক সম্প্রসারণ বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বরং এর মধ্য দিয়ে সরকারের ভেতরে একটি স্পষ্ট বার্তা গেছে—পদ পাওয়া শেষ কথা নয়, কাজের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুজন। একই সঙ্গে দপ্তর পুনর্বিন্যাস হয়েছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের তাৎপর্য এখানেই যে, এটি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় প্রথম বড় রদবদল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল প্রথম ধাপ, নাকি সামনে আরও বিস্তৃত মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাসের পথ খুলে গেল?

১৮০ দিনই ছিল প্রথম পরীক্ষা
মন্ত্রিসভার এই পরিবর্তনের তাৎপর্য বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে সরকারের প্রথম কয়েক সপ্তাহের দিকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তখনই ১৮০ দিনের কর্মসূচির কথা বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে সংসদেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলো প্রথম ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং পুরো পাঁচ বছরের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ ছয় মাসের মূল্যায়নের ধারণাটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; সরকার গঠনের শুরুতেই এর কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এ কারণেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে ১৮০ দিন কার্যত একটি ‘পারফরম্যান্স ডেডলাইন’ হয়ে উঠেছিল।

রাজনীতিতে মন্ত্রী হওয়ার পর সাধারণত একটি অলিখিত নিরাপত্তাবলয় তৈরি হয়। নতুন সরকার হলে সেই নিরাপত্তা আরও বেশি থাকে। প্রথম দিকে কাজের চেয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও দলীয় সমীকরণ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু তারেক রহমানের সরকারের ক্ষেত্রে অন্তত এখন পর্যন্ত যে চিত্রটি দেখা যাচ্ছে, সেখানে সেই প্রচলিত ধারণায় কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত আছে। মন্ত্রণালয়ের কাজ কতটা এগোল, অগ্রাধিকার কর্মসূচির কতটা বাস্তবায়িত হলো এবং কোথায় গতি কম—এসব প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রদবদল কি সতর্কবার্তা?
ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনকে দুইভাবে দেখা যায়। প্রথমত, এটি সরকারের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের অংশ। নতুন মন্ত্রীদের অনেকেই শূন্য হওয়া বা পুনর্বিন্যাস হওয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে; দীর্ঘদিন খালি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও আছে। বিশেষ করে একজন পূর্ণ মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে উপদেষ্টা করা এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টি দেখিয়ে দেয়—প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদ ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের জায়গাটি সক্রিয় রয়েছে। এখানেই মন্ত্রীদের মধ্যে তৈরি হতে পারে এক ধরনের নতুন চাপ। কারণ ছয় মাস পার হওয়ার পর এখন আর শুধু ‘কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’ সেটি যথেষ্ট নয়; বরং প্রশ্ন হতে পারে—কী ফল পাওয়া গেছে? এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোগ নেওয়া প্রশাসনের কাজ। কিন্তু উদ্যোগের ফল তৈরি করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব।

সামনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা?
এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই যে ১৮০ দিনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আরও মন্ত্রী বাদ পড়বেন বা দপ্তর বদল হবে। তাই ভবিষ্যৎ রদবদলকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সরকারের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা এবং ইতোমধ্যে হওয়া রদবদল মিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নের প্রশ্নটি সরকার পরিচালনার কাঠামোর ভেতরেই জায়গা করে নিয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক মাসে কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিশেষ নজরে থাকতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে জনগণের দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত ফলাফল দেখানোর প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল—বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন—সেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির হিসাব রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এটি শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় আরও রদবদল ঘটাবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান প্রবণতা বলছে, মন্ত্রীরা এখন শুধু পাঁচ বছরের মেয়াদ মাথায় রেখে কাজ করছেন না; তাঁদের সামনে ছোট ছোট সময়সীমাও তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের সরকার, কিন্তু হিসাব হতে পারে ছয় মাস পরপর।

মন্ত্রিসভার বাইরে একই বার্তা
তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে আরও একটি সাম্প্রতিক ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ—ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন। গত ২০ আগস্ট রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে। এর আগে তিনি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। রিজভীর এই উত্থানকে দলের নেতারা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ধারাবাহিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বিস্তৃত।

কারণ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টনেও প্রচলিত প্রত্যাশা বা অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বাইরে নেতৃত্বের নিজস্ব মূল্যায়ন যে গুরুত্বপূর্ণ, রিজভীর নিয়োগে তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখানে সরকার ও দলের মধ্যে একটি মিল দেখা যায়। মন্ত্রিসভায়—কাজের ফলাফল। দলে—দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভূমিকা, আনুগত্য ও সাংগঠনিক সক্ষমতা। দুই ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত।

‘পদ’ নয়, ‘পারফরম্যান্স’ কি নতুন মাপকাঠি?
এই জায়গাটিই সম্ভবত বর্তমান পরিবর্তনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পাঠ। একজন মন্ত্রী একবার দায়িত্ব পেলেই পাঁচ বছর সেই দায়িত্বে থাকবেন—এমন ধারণা দুর্বল হচ্ছে। একইভাবে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও একবার পাওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নয়। বরং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে এখন চারটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে—পারফরম্যান্স, আনুগত্য, রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রচলিত মন্ত্রিসভা রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ তখন মন্ত্রী হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে না—‘কতদিন পদে থাকবেন?’ বরং প্রশ্ন হবে—‘কত দ্রুত ফল দেখাতে পারবেন?’

এই দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক দিকও আছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়তে পারে, আমলাতন্ত্রের ওপর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়ের হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এর ঝুঁকিও আছে। অতিরিক্ত স্বল্পমেয়াদি ফলাফলের চাপ তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জটিল প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে যেতে পারে। আবার মন্ত্রীদের মধ্যে সব সময় পদ হারানোর আশঙ্কা থাকলে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে দ্রুত দৃশ্যমান ফল দেখানোর দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। সুতরাং ‘পারফরম্যান্স কালচার’ সফল হবে কি না, তা শুধু রদবদলের সংখ্যায় নয়; মূল্যায়নের মাপকাঠি কতটা স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত এবং ফলাফলভিত্তিক—তার ওপরও নির্ভর করবে।

ছয় মাসে বার্তা, সামনে বড় পরীক্ষা
মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদল তাই শুধু কয়েকজন নতুন মুখের আগমন নয়। এর ভেতরে সরকারের পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিতও রয়েছে। প্রথম ১৮০ দিন ছিল সরকারের জন্য পরীক্ষার প্রথম পর্ব। সামনে ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং তারপর পাঁচ বছরের বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনা। অর্থাৎ এখন মন্ত্রীদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি যদি সত্যিই হয়—‘কাজ করুন, ফল দেখান’—তাহলে আগামী কয়েক মাসে মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করতে পারে কার দায়িত্ব আরও শক্ত হবে, কার দপ্তর বদলাবে আর কার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নতুনভাবে নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে দলের ভেতরেও যদি দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের মূল্যায়নই প্রধান হয়ে ওঠে, তাহলে তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে—পদকে স্থায়ী অধিকার নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে দেখা।

সেক্ষেত্রে মন্ত্রীরা শুধু গতির চাপে তটস্থ নন; তাঁরা এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কাজের হিসাবও দিতে হবে। আর ছয় মাসের প্রথম রদবদল যদি সেই ব্যবস্থার সূচনা হয়ে থাকে, তাহলে সামনে আরও বড় ‘পারফরম্যান্স রিভিউ’ যে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসবে—সেটি উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

কালের আলো/এম/এএইচ