খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা কাটাচ্ছে বিজিবি, ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা দু’উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা কাটাচ্ছে বিজিবি, ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা দু’উপদেষ্টার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বাদ পেতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে আহত অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় তাঁরা ও তাদের পরিবার। কারও বুকে, পেটে বা পায়ে গুলি লেগেছে। কারও নিভে গেছে চোখের আলো। তাদের বেশিরভাগই পাননি সহায়তা। টানাটানির সংসারে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার সামর্থ্য নেই। তাদের বেদনাতুর কাহিনী জেনেই শুরু থেকেই আন্দোলনে আহত অনেককেই নিজেদের উদ্যোগে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি হাসপাতালে পরিপূর্ণ চিকিৎসা পেয়ে অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু নতুন জীবনে আবার ঘনীভূত হয়েছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। এই কষ্টের মেঘ কাটাতেই আহতদের দীর্ঘস্থায়ী পুনর্বাসনে এগিয়ে এসেছে বিজিবি। তাদের উদ্যোগে প্রদান করা হচ্ছে মানবিক সহায়তা।

রবিবার (০৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে বর্ডার গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতাকে দীর্ঘস্থায়ী পুনর্বাসনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় আহত ৪ জনকে আর্থিক সহায়তা ও ৩ জনকে জীবিকা উপকরণ তুলে দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিজ্ ফরিদা আখতার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও চিন্তক ফরহাদ মজাহার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজনে সরকারের দু’উপদেষ্টাসহ বক্তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিজিবির ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ‘সবার ওপরে দেশ’- এই মন্ত্রে উজ্জীবিত বিজিবির প্রতিটি সদস্য ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে সদা প্রস্তুত এবং দেশের জন্য যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’ বলে জানিয়েছেন।

আহত ও পুনর্বাসিতদের বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ আমান। গত ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঢামেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে বর্ডার গার্ড হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখনও ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না। বিজিবি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ফলে হাঁটতে পারছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ সেবা পেয়েছি। সঠিক সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে তাঁরা আমাদের সুস্থ করে তুলেছে। তাঁরা আমাদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করেছে। আমরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞ।’

চটপটে যুবক হিসেবেই সবাই জানতো মাদারীপুরের নূরে আলমকে। ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তাঁর বুকে দু’টি গুলি লাগে। মর্মান্তিকভাবে আহত হলে ঢামেকে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বিজিবি তাকে হাসপাতালটিতে নিয়ে আসে। আবেগতাড়িত নূরে আলম বলছিলেন, ‘সংসারের খরচ জোগাতেই আমাকে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু বিজিবি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা উন্নতমানের চিকিৎসা পেয়েছি। তাঁরা আর্থিকভাবেও আমাদের সহযোগিতা করছেন। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য আনন্দের।’

দেশ গঠনমূলক বিভিন্ন কাজে বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা বক্তাদের
জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পুনর্বাসন সহায়তায় পিলখানায় বিজিবির আয়োজনে আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গ। ফ্যাসিবাদে জড়িতরা কীভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালালো তা জানতে চান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনেই বাংলাদেশ বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে ভারত।’ তবে চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এটি নিছক প্রোপাগাণ্ডা নয় ভারতের সামরিক প্রস্তুতির অংশ। ভারতের আস্ফালনের উপযুক্ত উত্তর দিতে অবিলম্বে আমাদের প্রতিটি নাগরিকের সামরিক প্রশিক্ষণ দরকার।’ তিনি এ সময় র‌্যাব বিলুপ্তিরও দাবি জানান। অতি দ্রুত বিজিবিকে ফাস্ট লাইন অব ডিফেন্স ফোর্স আকারে গড়ে তুলতে হবে। তাঁরা সৈনিক, তারাই আমাদের রক্ষা করবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই বিপ্লব ও বিজয় পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনমূলক বিভিন্ন কাজে বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সীমান্তে বিজিবি পিঠ দেখাবে না, বুক দেখাবে
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিজিবিকে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম কমিয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সীমান্তে উত্তেজনা অনুযায়ী বিজিবিকে সেই রকমই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, প্রস্তুতিও সেই রকমই। কোনো সময় বিজিবি পিঠ দেখাবে না, বুক দেখাবে। বিজিবিকে বলা হয়েছে সীমান্তের কোনো ধরনের উত্তেজনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো উসকানি আসলে প্রতিহত করতে হবে।

পঞ্চগড় সীমান্তে হত্যা ও সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা বিজিবিকে নির্দেশনা দিয়েছি যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখার জন্য। বিজিবি সীমান্তে সব সময় প্রস্তুত থাকবে। তবে সীমান্তে ওই অর্থে সে ধরনের কোনো বড় উত্তেজনা নেই। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের বলবো উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সবসময় প্রস্তুত। সীমান্তবর্তী নাগরিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। বিজিবিকে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে এই উপদেষ্টা আরও বলেন, বিজিবি অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তে নিরাপত্তায় কাজ করবে। তবে অভ্যন্তরীণ কাজ কমিয়ে সীমান্তে মনোযোগ দিতে বলেছি।

ভারত যদি সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ায় তাহলে বিজিবির উদ্দেশ্যে আপনাদের নির্দেশনা কি থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত একটা, ভারতের জনগণ অন্য বিষয়। ভারতের জনগণের উত্তেজনায় প্রতিকার করবে গণমাধ্যম, জনগণ আপনারা, আমরা। ওই রকমই নির্দেশনা রয়েছে, ওই রকমই নির্দেশা দেওয়া হয়েছে, প্রস্তুতিও সেই রকমই।

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জুলাই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সারাদেশে বিজিবি অত্যন্ত সহনশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয় পরবর্তী সময়ে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যেকোনো সময়ের চেয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, থানাসমূহকে কার্যকর, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, কল-কারখানা সচল রাখাসহ পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ দমনে বিজিবি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্র-জনতার বিজয় অর্জনকে সুসংহত করতে বিজিবি সীমান্তে জোরদার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের প্রায় অর্ধশত বিতর্কিত ব্যক্তিকে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে আটক করে আইনের হাতে সোপর্দ করেছে বিজিবি। নতুন প্রেক্ষাপটে বিজিবি দেশের সীমান্ত রক্ষায় জোরদার ভূমিকা পালন করে গত ৩ মাসে সীমান্তে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চোরাকারবারিদের আটক ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

উত্তাল সময়ে বিজিবির ইতিবাচক ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিস ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসের উত্তাল সময়ে বিজিবির ইতিবাচক ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ছাত্র-জনতার বিজয় পরবর্তী সময়ে বিজিবির ভূমিকার অত্যন্ত প্রশংসা করে বলেন, গত দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে ভারতে ইলিশ পাচার রোধে বিজিবি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইলিশ যেন ভারতে যেতে না পারে বিজিবিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি এক নতুন বাংলাদেশের ঠিকানা পেয়েছে
অনুষ্ঠান শুরুতেই বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী তার স্বাগত বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবে আত্মোৎসর্গকারী বীর যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং তাঁদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি এক নতুন বাংলাদেশের ঠিকানা পেয়েছে। সেই অভিষ্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজিবিও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই বিজিবি স্ব-উদ্যোগে বর্ডার গার্ড হাসপাতালে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন আহত ছাত্র-জনতাকে বিভিন্ন মেয়াদে বর্ডার গার্ড হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।’

সহযোদ্ধা হিসেবে আহত ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়াবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘বিজিবি সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ১০৭ জন ছাত্র-জনতাকে পুনর্বাসন করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৭ জন যোদ্ধাকে সহযোগিতা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদান ছাড়াও ইতোপূর্বে বিজিবির উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনে ৫ লক্ষ টাকা, জয়পুরহাটের শহীদ নজিবুল সরকার বিশাল এর পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা এবং রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে ‘সবার উপরে দেশ’ এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বিজিবির প্রতিটি সদস্য ‘সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে কাজ করবে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়লেন পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়লেন পরীমনি

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর (ফলোয়ার) মালিক হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই তারকার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরীমনির অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের অনুসারী রয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে প্রায় ১০ লাখ অনুসারীর ব্যবধানে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছেন পরীমনি।

এর আগে কয়েক দফা দুই তারকার অনুসারীর সংখ্যা কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। একসময় সাকিব এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধানে তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

অনুসারীর সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও দুই তারকার ফেসবুক কার্যক্রমে রয়েছে ভিন্নতা। সাকিব আল হাসানের অফিসিয়াল পেজ থেকে মাত্র ছয়টি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন ও ফরচুন বরিশালের অফিসিয়াল পেজও তাঁর অনুসরণ তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, পরীমনির ফেসবুক পেজ থেকে সাতটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হলেও সেগুলোর তথ্য প্রাইভেসি সেটিংয়ের কারণে প্রকাশ্যে দেখা যায় না।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনায় থেকেছেন পরীমনি। বর্তমানে তিনি নতুন কয়েকটি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এবার দেশের নতুন শীর্ষস্থান দখল করলেন পরীমনি।

কালের আলো/এসএ

সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের সান্তোস অধ্যায় দীর্ঘ হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সেটি নবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম। ক্লাবের ভেতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষই এর প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকেই সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে নেইমারকে ঘিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর আচরণ ও মনোভাবের কারণে প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কয়েকজন খেলোয়াড় নেইমারের ‘আত্মকেন্দ্রিক’ আচরণে অসন্তুষ্ট বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেইমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মে মাসে অনুশীলনের সময় সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্কের ঘটনা দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করে।

কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের অভিযানের সময়ও সমালোচনার মুখে পড়েন নেইমার। ভেনেজুয়েলায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তাঁকে সাও পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা যায়। বিষয়টি সমর্থক ও গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জবাব দেন তিনি। এরপর শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে গোল করে তাস বিলির ভঙ্গিতে উদযাপন করে সেই বিতর্ক আরও উসকে দেন।

গ্লোবোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেশাদার ফুটবলের চাপ ও ক্লাবের দৈনন্দিন রুটিনে নেইমার ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে তিনি এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ব্রাজিলের কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসকে মৌখিকভাবে আক্রমণ করেছেন নেইমার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাঁর দাবি, প্রকাশিত খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কালের আলো/এসএ

 

মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পরিদর্শনের সময় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রউফ তাঁকে স্বাগত জানান।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জাতীয় মানচিত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদ, আন্তর্জাতিক সীমানা জরিপ, ভূস্থানিক তথ্য সংগ্রহ, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল এলিভেশন মডেল প্রস্তুত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এসময় তিনি বলেন, নির্ভুল ও হালনাগাদ মানচিত্র উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভূস্থানিক তথ্যের সমন্বয় ও নিয়মিত হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি প্রশিক্ষণে জরিপ ও ভূস্থানিক জ্ঞানের ব্যবহার বৃদ্ধি, দেশীয় ডিজিটাল ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সম্ভাবনা যাচাই এবং ভূকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে পরবর্তী পর্যায়ে সিলেট ও কুমিল্লায় কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। নির্ভুল মানচিত্র ও আধুনিক ভূস্থানিক তথ্য সেই পরিকল্পনার পথ নির্দেশক।’

এসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ