খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

শীতের সকালে মিষ্টি রোদে সবেমাত্র কাটতে শুরু করেছে কুয়াশা। চির কাক্সিক্ষত কমিশন প্রাপ্তির দিনটিতে এরই মাঝে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করলেন নৌবাহিনীর ৪২ জন নবীন কর্মকর্তা। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথা জানান দিলেন। তাদের চোখে-মুখে তেজোদীপ্ত আভায় তখন দেশরক্ষার দৃপ্ত শপথ। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজের দৃশ্য ছিল এমনই।

মনোজ্ঞ ও প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করলেন। জানিয়ে দিলেন- ‘তোমাদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করে।’ দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানালেন। নবীনদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক, এমন প্রত্যাশার কথাও জানালেন।

নবীন কর্মকর্তাদের নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান স্মরণ করিয়ে বললেন, ‘দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সমুদ্রের সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তোমাদেরকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে তোমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উন্নয়ন ও দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মনিয়োগ করবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

  • স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
  • বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
  • বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
  • নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩৪ জন মিডশিপম্যান এবং ৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার পদে কমিশন লাভ করেন। নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচের মিডশিপম্যান তৌহিদুর রহমান জয় সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান নাসিফ আলভী হক প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের অ্যাকটিং লেফটেন্যান্ট মো. হাসনাত উল্লাহ শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা ও প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ।’ তিনি একই সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সকল বীর শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগ মুক্তিও কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের গর্ব। এই বাহিনীর প্রতিটি অকুতোভয় সদস্য সমুদ্রসীমায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সামুদ্রিক সম্পদ ও সমুদ্র পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই বাহিনী আমাদের দেশের সুবিশাল উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রসীমার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের সামুদ্রিক এলাকার বিপুল পরিমাণ মৎস্য, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সুনীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে নৌবাহিনী বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও মানবপাচারসহ সমুদ্রে সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ দমনে নৌবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
বিগত জুলাই-আগস্ট মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। নৌবাহিনী রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় জেলাসমূহের পাশাপাশি দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সকল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি জনমনে স্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি একাধিক তেলবাহী জাহাজে ঘটে যাওয়া অগ্নিনির্বাপণে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এহেন সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নৌবাহিনীর মোতায়েনকৃত সদস্যরা দুর্যোগ কবলিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। একইভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা উত্তাল সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নৌবাহিনী তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে উপকূল ও গভীর সমুদ্রে সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।’

বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
বর্তমানে দেশের তিনটি বৃহত্তম শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এসব শিপইয়ার্ডসমূহ ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকমানের জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব শিপইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবাহিনীর রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিজস্ব মেধা, প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে নৌবাহিনী প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধনে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও দেশের সমুদ্র সম্পর্কিত শিক্ষার প্রসারে নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের গর্বিত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ যুদ্ধ জাহাজসহ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এই অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত হয়েছে এবং দেশের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই ভূমিকার জন্য আমি আমাদের প্রিয় নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম এর সদস্য দেশ ছাড়াও, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র নিরাপত্তা ও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক নেভাল সিম্পোজিয়ামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যা দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদেশি নৌবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে তোমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সেইসকল নাবিকদের নেতৃত্ব প্রদান করবে যারা তাদের পূর্বসূরীদের তুলনায় অধিকতর দক্ষ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ। তাই নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তোমাদের দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। মনে রাখবে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে যোগ্য নেতা হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই নেভাল একাডেমিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যত নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দানে যোগ্য ও সক্ষম নবীন কর্মকর্তা হিসেবে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত হবে। তোমাদের স্মরণে রাখতে হবে, তোমরাই দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাণ্ডারি হিসেবে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করবে। তাই দেশরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ তোমরা ৪২ জন সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী একাডেমির সীমান পেরিয়ে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। যে কঠোর প্রশিক্ষণ তোমরা শেষ করলে তা তোমাদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা অর্জনের সূচনামাত্র। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির এই প্রশিক্ষণ তোমাদেরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে প্রস্তুত করেছে। একাডেমিতে প্রদত্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তোমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমরা একেকজন দক্ষ নৌ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় তোমাদের থাকতে হবে সদা প্রস্তুত। আমি আশা করবো তোমাদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তোমরা দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানরা আজ দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়ে নৌবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় সাফল্যের অংশীদার আপনারাও। আমি আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারা দোয়া করবেন আপনাদের সুযোগ্য সন্তানদের প্রত্যেকেই যেন দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদিত করতে পারে। আমরা আশা করি, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আপনাদের সন্তানরা হবে এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট ) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর এক বার্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবগত করার জন্য

​সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং কানাডার হাইকমিশনার পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

​আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান, কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার ও সুসংহত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি