খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

শীতের সকালে মিষ্টি রোদে সবেমাত্র কাটতে শুরু করেছে কুয়াশা। চির কাক্সিক্ষত কমিশন প্রাপ্তির দিনটিতে এরই মাঝে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করলেন নৌবাহিনীর ৪২ জন নবীন কর্মকর্তা। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথা জানান দিলেন। তাদের চোখে-মুখে তেজোদীপ্ত আভায় তখন দেশরক্ষার দৃপ্ত শপথ। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজের দৃশ্য ছিল এমনই।

মনোজ্ঞ ও প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করলেন। জানিয়ে দিলেন- ‘তোমাদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করে।’ দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানালেন। নবীনদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক, এমন প্রত্যাশার কথাও জানালেন।

নবীন কর্মকর্তাদের নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান স্মরণ করিয়ে বললেন, ‘দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সমুদ্রের সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তোমাদেরকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে তোমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উন্নয়ন ও দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মনিয়োগ করবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

  • স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
  • বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
  • বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
  • নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩৪ জন মিডশিপম্যান এবং ৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার পদে কমিশন লাভ করেন। নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচের মিডশিপম্যান তৌহিদুর রহমান জয় সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান নাসিফ আলভী হক প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের অ্যাকটিং লেফটেন্যান্ট মো. হাসনাত উল্লাহ শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা ও প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ।’ তিনি একই সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সকল বীর শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগ মুক্তিও কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের গর্ব। এই বাহিনীর প্রতিটি অকুতোভয় সদস্য সমুদ্রসীমায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সামুদ্রিক সম্পদ ও সমুদ্র পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই বাহিনী আমাদের দেশের সুবিশাল উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রসীমার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের সামুদ্রিক এলাকার বিপুল পরিমাণ মৎস্য, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সুনীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে নৌবাহিনী বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও মানবপাচারসহ সমুদ্রে সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ দমনে নৌবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
বিগত জুলাই-আগস্ট মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। নৌবাহিনী রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় জেলাসমূহের পাশাপাশি দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সকল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি জনমনে স্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি একাধিক তেলবাহী জাহাজে ঘটে যাওয়া অগ্নিনির্বাপণে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এহেন সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নৌবাহিনীর মোতায়েনকৃত সদস্যরা দুর্যোগ কবলিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। একইভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা উত্তাল সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নৌবাহিনী তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে উপকূল ও গভীর সমুদ্রে সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।’

বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
বর্তমানে দেশের তিনটি বৃহত্তম শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এসব শিপইয়ার্ডসমূহ ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকমানের জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব শিপইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবাহিনীর রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিজস্ব মেধা, প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে নৌবাহিনী প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধনে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও দেশের সমুদ্র সম্পর্কিত শিক্ষার প্রসারে নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের গর্বিত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ যুদ্ধ জাহাজসহ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এই অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত হয়েছে এবং দেশের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই ভূমিকার জন্য আমি আমাদের প্রিয় নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম এর সদস্য দেশ ছাড়াও, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র নিরাপত্তা ও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক নেভাল সিম্পোজিয়ামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যা দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদেশি নৌবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে তোমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সেইসকল নাবিকদের নেতৃত্ব প্রদান করবে যারা তাদের পূর্বসূরীদের তুলনায় অধিকতর দক্ষ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ। তাই নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তোমাদের দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। মনে রাখবে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে যোগ্য নেতা হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই নেভাল একাডেমিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যত নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দানে যোগ্য ও সক্ষম নবীন কর্মকর্তা হিসেবে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত হবে। তোমাদের স্মরণে রাখতে হবে, তোমরাই দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাণ্ডারি হিসেবে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করবে। তাই দেশরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ তোমরা ৪২ জন সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী একাডেমির সীমান পেরিয়ে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। যে কঠোর প্রশিক্ষণ তোমরা শেষ করলে তা তোমাদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা অর্জনের সূচনামাত্র। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির এই প্রশিক্ষণ তোমাদেরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে প্রস্তুত করেছে। একাডেমিতে প্রদত্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তোমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমরা একেকজন দক্ষ নৌ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় তোমাদের থাকতে হবে সদা প্রস্তুত। আমি আশা করবো তোমাদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তোমরা দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানরা আজ দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়ে নৌবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় সাফল্যের অংশীদার আপনারাও। আমি আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারা দোয়া করবেন আপনাদের সুযোগ্য সন্তানদের প্রত্যেকেই যেন দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদিত করতে পারে। আমরা আশা করি, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আপনাদের সন্তানরা হবে এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার।’

কালের আলো/এমএএএমকে

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নদী বিধৌত চলাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, ২ দিনব্যাপী আয়োজিত সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ বলেন, মার্কেটে এই মুহূর্তে যত সারের প্রয়োজন আছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি গোডাউনে মজুত আছে। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি তৈরি হবে না। কৃষকরা যাতে সময়মতো ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের সাতটি জেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জন খামারিকে একটি করে বকনা বাছুর ও প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে প্রাণী খাদ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন সুফলভোগীর মাঝে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সমাপনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং সাত জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম সহ আরও অনেকে।

এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় গজারিয়ার ভবেরচরে-রসুলপুর খালে পোনামাছ অবমুক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশীদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

স্যোশাল মিডিয়ায় বানোয়াট তথ্য, ভুয়া ছবি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশের ইমেজ নষ্টের চেষ্টায় সফল হতে পারেনি চক্রবিশেষ। কিছুদিন ধরে আচ্ছা রকমে চলেছে এ চেষ্টা। এর অংশ হিসেবে দেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া ছবি এবং পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা দেওয়ার হেন চেষ্টা নেই, যা না করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা অশুভ স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এসব করে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি সম্ভব হলেও বড় রকমের ভেজাল তারা পাকাতে পারেনি।

এ অপচেষ্টারই ফলো আপ ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি। মূল উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। এসব অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার কূটনৈতিক এলাকাসহ দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের আতঙ্কিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই দেশবিরোধী এ অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।

চীন-রাশিয়াসহ ঢাকার কয়েকটি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ না করা হলেও দূতাবাসের তরফে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হলে সেখান থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন ইউনিটকে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে কাউন্টার টেররিজম বিষয়টি তদন্ত করছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার পুরো কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দূতাবাসগুলোতে বিভিন্ন ভুয়া ইমেইল থেকে হুমকি দিয়ে মেইল এসেছে। যেসব ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকির মেসেজগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা বয়ানের ই-মেইল পাঠিয়ে, একেক সময় একেক ছদ্মনাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। বার্তাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট চরমপন্থী বা রাজনৈতিকাদর্শের উল্লেখ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অপেশাদার চাঁদাবাজির প্রচেষ্টা।

ডিপ্লোমেটিক জোনে বরাবর সব সময়ই শতভাগ নিরাপত্তা থাকে। যেকোনো ইনসিডেন্ট ঘটলে বা মেসেজ পেলে, সেটা লিখিত বা মৌখিক যা-ই হোক, তৎপরতা বাড়ানো নিয়মিত গতানুগতিক কাজের অংশ। তারপরও আবশ্যকতার প্রশ্নে মেইল করে তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, সেই বিকাশ নম্বরের প্রায় ৩-৪ জনকে পুলিশ লাম জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কিছুই জানে না। মেইল করে যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, তারা নিরীহ লোক। তারপরও দুষ্টকর্মের আয়োজকরা আংশিক সফল। বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে কিছুটা ভীতি ও আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমে খবর হয়েছে। পুলিশকে ব্যস্ত করা গেছে। সরকারকে একটু হলেও বিব্রত করা গেছে। বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের ইমেজে একটু টোকা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটাও তাদের জন্য তৃপ্তির।

কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন (ভিয়েনা কনভেনশন) অনুযায়ী হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের হুমকি বা অপপ্রচার দেশের বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অনিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করা অসম্ভব নয়। দেশবিরোধী অপশক্তি বা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে চাওয়া গোষ্ঠী এর মাধ্যমে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত ও চাপে ফেলার চেষ্টা করে। সাইবার অপরাধী ও আন্তর্জাতিক স্ক্যামাররা অনেক সময় সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে এই ভুয়া হুমকি দেয়। এসব করে সংকীর্ণ গণ্ডিতে কতক লোক এতে লাভবানও হয়। কোনো দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট করে সাময়িক তৃপ্তি মেলে। দীর্ঘমেয়াদে বা সামগ্রিকভাবে লাভ হয় না, বরং এর ফলে দেশ এবং দেশের সকল নাগরিক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে ক্ষণস্থায়ী বা সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পক্ষ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা আগেও হয়েছে। এসব করে তারা সাময়িক সুবিধা নেয়। একটি দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট হলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ বা গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

নানা কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, লাভ হাসিলের আরো নানা পক্ষ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের পর্যটন, রপ্তানি বাজার বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। একটি দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে বা দুর্বল করে রাখলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক সময় কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। সাইবার অপরাধী, সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। বিতর্কিত কিছু অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শুধু ভিউ, লাইক বা সস্তা প্রচারের জন্য দেশের নেতিবাচক বা মিথ্যা খবর বানিয়ে প্রচার করে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী রোমাঞ্চকর বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করতে তাদের বিবেকে বাধে না। দেশের ইমেজ নষ্ট করার পেছনে কিছু মহলের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকলেও, চূড়ান্ত বিচারে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি বড় আত্মঘাতী এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। দেশের ইমেজ নষ্ট করার এ অশুভ খেলা রুখতেই হবে। এ খেলা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পর্যটন শিল্পের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশের ভাবমর্যাদা বা ইমেজ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই গুজব, উড়ো চিঠি, হুমকি ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গুজব ছড়ানোর সাথে সাথে সরকারের তরফে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। মূল ধারার গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। করতে হবে ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অর্জন, অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি। বিদেশে অবস্থিত দেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিদেশি সরকারের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দূতাবাসে এই স্ক্যাম বা ভুয়া মেইল পাঠানো হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করা জরুরি। জনগণের কাছে স্পষ্ট দেয়া আরো জরুরি। নইলে এ ধরনের চেষ্টা-অপচেষ্টা একটার পর একটা চলতেই থাকবে। আজ করবে গুজব রটিয়ে, কাল উড়ো চিঠি দিয়ে, আরেকদিন নিয়ে আসবে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয়াদি।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

ভারী বৃষ্টি নয়, বরফধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টি নয়, বরফধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

নেপালের ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পেছনে হিমবাহের বরফধসের ভূমিকা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা, একটি বরফধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার পর সেখানে বিপুল পানি জমে যায়। পরে সেই পানি হঠাৎ প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়াস্থ জানিয়েছেন, নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ ধারণা পাওয়া গেছে। তবে কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়া কিংবা বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তিব্বতের ভূখণ্ডে সকালে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ভূমিকম্পেরও কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বন্যার আকস্মিকতা দেখে এটিকে স্বাভাবিক বৃষ্টিজনিত বন্যা মনে হচ্ছে না। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগও জানিয়েছে, ওই এলাকায় মঙ্গলবার ও বুধবার উল্লেখযোগ্য ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে উজানে পানি আটকে গিয়ে হঠাৎ নেমে আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও নদীর প্রবাহ বরফধসে আটকে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভয়াবহ এই বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, ব্রিটিশ, মালয়েশীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান, মার্কিন, অস্ট্রেলীয় ও ডাচ নাগরিক রয়েছেন। তবে নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে এবারের বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি