খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

শীতের সকালে মিষ্টি রোদে সবেমাত্র কাটতে শুরু করেছে কুয়াশা। চির কাক্সিক্ষত কমিশন প্রাপ্তির দিনটিতে এরই মাঝে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করলেন নৌবাহিনীর ৪২ জন নবীন কর্মকর্তা। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথা জানান দিলেন। তাদের চোখে-মুখে তেজোদীপ্ত আভায় তখন দেশরক্ষার দৃপ্ত শপথ। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজের দৃশ্য ছিল এমনই।

মনোজ্ঞ ও প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করলেন। জানিয়ে দিলেন- ‘তোমাদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করে।’ দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানালেন। নবীনদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক, এমন প্রত্যাশার কথাও জানালেন।

নবীন কর্মকর্তাদের নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান স্মরণ করিয়ে বললেন, ‘দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সমুদ্রের সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তোমাদেরকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে তোমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উন্নয়ন ও দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মনিয়োগ করবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

  • স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
  • বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
  • বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
  • নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩৪ জন মিডশিপম্যান এবং ৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার পদে কমিশন লাভ করেন। নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচের মিডশিপম্যান তৌহিদুর রহমান জয় সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান নাসিফ আলভী হক প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের অ্যাকটিং লেফটেন্যান্ট মো. হাসনাত উল্লাহ শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা ও প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ।’ তিনি একই সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সকল বীর শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগ মুক্তিও কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের গর্ব। এই বাহিনীর প্রতিটি অকুতোভয় সদস্য সমুদ্রসীমায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সামুদ্রিক সম্পদ ও সমুদ্র পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই বাহিনী আমাদের দেশের সুবিশাল উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রসীমার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের সামুদ্রিক এলাকার বিপুল পরিমাণ মৎস্য, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সুনীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে নৌবাহিনী বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও মানবপাচারসহ সমুদ্রে সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ দমনে নৌবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
বিগত জুলাই-আগস্ট মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। নৌবাহিনী রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় জেলাসমূহের পাশাপাশি দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সকল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি জনমনে স্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি একাধিক তেলবাহী জাহাজে ঘটে যাওয়া অগ্নিনির্বাপণে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এহেন সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নৌবাহিনীর মোতায়েনকৃত সদস্যরা দুর্যোগ কবলিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। একইভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা উত্তাল সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নৌবাহিনী তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে উপকূল ও গভীর সমুদ্রে সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।’

বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
বর্তমানে দেশের তিনটি বৃহত্তম শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এসব শিপইয়ার্ডসমূহ ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকমানের জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব শিপইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবাহিনীর রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিজস্ব মেধা, প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে নৌবাহিনী প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধনে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও দেশের সমুদ্র সম্পর্কিত শিক্ষার প্রসারে নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের গর্বিত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ যুদ্ধ জাহাজসহ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এই অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত হয়েছে এবং দেশের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই ভূমিকার জন্য আমি আমাদের প্রিয় নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম এর সদস্য দেশ ছাড়াও, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র নিরাপত্তা ও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক নেভাল সিম্পোজিয়ামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যা দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদেশি নৌবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে তোমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সেইসকল নাবিকদের নেতৃত্ব প্রদান করবে যারা তাদের পূর্বসূরীদের তুলনায় অধিকতর দক্ষ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ। তাই নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তোমাদের দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। মনে রাখবে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে যোগ্য নেতা হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই নেভাল একাডেমিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যত নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দানে যোগ্য ও সক্ষম নবীন কর্মকর্তা হিসেবে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত হবে। তোমাদের স্মরণে রাখতে হবে, তোমরাই দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাণ্ডারি হিসেবে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করবে। তাই দেশরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ তোমরা ৪২ জন সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী একাডেমির সীমান পেরিয়ে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। যে কঠোর প্রশিক্ষণ তোমরা শেষ করলে তা তোমাদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা অর্জনের সূচনামাত্র। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির এই প্রশিক্ষণ তোমাদেরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে প্রস্তুত করেছে। একাডেমিতে প্রদত্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তোমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমরা একেকজন দক্ষ নৌ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় তোমাদের থাকতে হবে সদা প্রস্তুত। আমি আশা করবো তোমাদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তোমরা দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানরা আজ দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়ে নৌবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় সাফল্যের অংশীদার আপনারাও। আমি আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারা দোয়া করবেন আপনাদের সুযোগ্য সন্তানদের প্রত্যেকেই যেন দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদিত করতে পারে। আমরা আশা করি, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আপনাদের সন্তানরা হবে এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার।’

কালের আলো/এমএএএমকে

একরামুল হত্যা মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
একরামুল হত্যা মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহকে কাস্টডিতে নেয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইএসপিআরের পরিচালক লে. কর্নেল সামিউদ দৌলা চৌধুরী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত ২৬ জুলাই কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ মোট ১১ জনের নাম রয়েছে।

জানা গেছে, শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার নামও ছিল।

গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ
৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের ‘বিতর্কিত’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাঁকে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে; সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান,

চাপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন,

কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি আংশিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব হিসেবে ফাতিমা তাসনিম জুমা নির্বাচিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সভায় সব সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ শরিক ওসমান হাদিকে আজীবনের জন্য সংগঠনের মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রকিবুল ইসলাম (রাফসান রাকিব), সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শোয়াইব বিন আহসান সিয়াম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রায়হান আহমেদ, অর্থ সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ ওমায়ের, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে নাঈম ইবনে জহির এবং সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাবিবুল্লাহ মিসবাহ দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যোগ্য ও সিনিয়র সদস্যদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জি এ সাবিরকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাসুদুর রহমান আদনান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন– আসাদুজ্জামান আসাদ, হিশাম ইব্রাহিম, শান্ত আক্তার ও শাফিন শাররাজ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত নেতৃত্ব সংগঠনটিকে একটি আদর্শিক, গণমুখী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর দোয়া, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেছেন।

পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি