খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৪২ নবীন কর্মকর্তা, দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে আত্মনিয়োগের বার্তা নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

শীতের সকালে মিষ্টি রোদে সবেমাত্র কাটতে শুরু করেছে কুয়াশা। চির কাক্সিক্ষত কমিশন প্রাপ্তির দিনটিতে এরই মাঝে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করলেন নৌবাহিনীর ৪২ জন নবীন কর্মকর্তা। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথা জানান দিলেন। তাদের চোখে-মুখে তেজোদীপ্ত আভায় তখন দেশরক্ষার দৃপ্ত শপথ। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজের দৃশ্য ছিল এমনই।

মনোজ্ঞ ও প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করলেন। জানিয়ে দিলেন- ‘তোমাদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করে।’ দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানালেন। নবীনদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক, এমন প্রত্যাশার কথাও জানালেন।

নবীন কর্মকর্তাদের নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান স্মরণ করিয়ে বললেন, ‘দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সমুদ্রের সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তোমাদেরকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের সেবায় ভবিষ্যত কাণ্ডারি হিসেবে তোমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উন্নয়ন ও দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মনিয়োগ করবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

  • স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
  • বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
  • বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
  • নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩৪ জন মিডশিপম্যান এবং ৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার পদে কমিশন লাভ করেন। নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। মিডশিপম্যান ২০২২-এ ব্যাচের মিডশিপম্যান তৌহিদুর রহমান জয় সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান নাসিফ আলভী হক প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৪-বি ব্যাচের অ্যাকটিং লেফটেন্যান্ট মো. হাসনাত উল্লাহ শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসী নৌ-কমান্ডোদের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা ও প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ।’ তিনি একই সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সকল বীর শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগ মুক্তিও কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের গর্ব। এই বাহিনীর প্রতিটি অকুতোভয় সদস্য সমুদ্রসীমায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সামুদ্রিক সম্পদ ও সমুদ্র পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই বাহিনী আমাদের দেশের সুবিশাল উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রসীমার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের সামুদ্রিক এলাকার বিপুল পরিমাণ মৎস্য, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সুনীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে নৌবাহিনী বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও মানবপাচারসহ সমুদ্রে সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ দমনে নৌবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
বিগত জুলাই-আগস্ট মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। নৌবাহিনী রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় জেলাসমূহের পাশাপাশি দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সকল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি জনমনে স্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি একাধিক তেলবাহী জাহাজে ঘটে যাওয়া অগ্নিনির্বাপণে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এহেন সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নৌবাহিনীর মোতায়েনকৃত সদস্যরা দুর্যোগ কবলিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। একইভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা উত্তাল সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নৌবাহিনী তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে উপকূল ও গভীর সমুদ্রে সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।’

বাংলাদেশ এখন শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে
বর্তমানে দেশের তিনটি বৃহত্তম শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এসব শিপইয়ার্ডসমূহ ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকমানের জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব শিপইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স নেশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবাহিনীর রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় উচ্চমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিজস্ব মেধা, প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে নৌবাহিনী প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধনে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও দেশের সমুদ্র সম্পর্কিত শিক্ষার প্রসারে নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। আপনাদের আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের গর্বিত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ যুদ্ধ জাহাজসহ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এই অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত হয়েছে এবং দেশের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই ভূমিকার জন্য আমি আমাদের প্রিয় নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম এর সদস্য দেশ ছাড়াও, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র নিরাপত্তা ও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক নেভাল সিম্পোজিয়ামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যা দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদেশি নৌবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে তোমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সেইসকল নাবিকদের নেতৃত্ব প্রদান করবে যারা তাদের পূর্বসূরীদের তুলনায় অধিকতর দক্ষ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ। তাই নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তোমাদের দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। মনে রাখবে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে যোগ্য নেতা হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই নেভাল একাডেমিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যত নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দানে যোগ্য ও সক্ষম নবীন কর্মকর্তা হিসেবে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত হবে। তোমাদের স্মরণে রাখতে হবে, তোমরাই দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাণ্ডারি হিসেবে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করবে। তাই দেশরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ তোমরা ৪২ জন সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী একাডেমির সীমান পেরিয়ে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। যে কঠোর প্রশিক্ষণ তোমরা শেষ করলে তা তোমাদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা অর্জনের সূচনামাত্র। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির এই প্রশিক্ষণ তোমাদেরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে প্রস্তুত করেছে। একাডেমিতে প্রদত্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তোমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমরা একেকজন দক্ষ নৌ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মহান আদর্শে বলীয়ান হয়ে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় তোমাদের থাকতে হবে সদা প্রস্তুত। আমি আশা করবো তোমাদের শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্ব হবে দৃষ্টান্তমূলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তোমরা দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানরা আজ দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়ে নৌবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় সাফল্যের অংশীদার আপনারাও। আমি আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারা দোয়া করবেন আপনাদের সুযোগ্য সন্তানদের প্রত্যেকেই যেন দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদিত করতে পারে। আমরা আশা করি, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আপনাদের সন্তানরা হবে এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন