খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও নিরাপত্তা সদস্যের সংঘাতের ঘটনার নেপথ্যে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও নিরাপত্তা সদস্যের সংঘাতের ঘটনার নেপথ্যে

ইয়াছিন আরাফাত, কালের আলো:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবার মান যখন দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ঠিক সেই সময়েই অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্টের পট-পরিবর্তনের পর খোলনলচে পাল্টে বদলে যাওয়া দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরটিতে গত বুধবার (০৮ জানুয়ারি) নরওয়ে প্রবাসী সাঈদ উদ্দিনের সঙ্গে নিরাপত্তা সদস্যের সংঘাতের ঘটনায় তোলপাড় তৈরি হয়েছে। মূলত বিমানবন্দরটিতে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা সদস্যকে আগমনী ক্যানোপি ২ এর সামনে শারীরিকভাবে সাঈদ ও তাঁর পরিবারের অপর এক সদস্যের আঘাতের ঘটনা থেকেই সংঘাত বেঁধে যায়। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

ইতোমধ্যেই ঘটনার তদন্তে মন্ত্রণালয় থেকে একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা শনিবার (১১ জানুয়ারি) তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তাঁরা ফেনীর সোনাগাজি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাঈদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটি আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এদিকে, শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরটি থেকে ব্যাংককগামী হঠাৎ অসুস্থ একজন যাত্রীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে মানবিক এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নির্দেশে এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) এর সহযোগিতায় যাত্রীর নির্ধারিত ফ্লাইটে বোর্ডিং সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ওই যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

বেবিচক চেয়ারম্যান পরিদর্শনকালে বিমানবন্দরে বিদ্যমান যাত্রীসেবা আরও বেগবান করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বিমানবন্দর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বিমানবন্দরের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য যাত্রী স্বজনদেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

শাহজালালে কী ঘটেছিল সেদিন?
গত বুধবার (০৮ জানুয়ারি) বিমানবন্দরে যাত্রী ও নিরাপত্তা সদস্যের সংঘাতের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওইদিন রাত সোয়া ৮টা ২৩ মিনিটের দিকে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমান বাহিনীর এক নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে নরওয়ে প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে প্রথমে তাঁরাই ওই নিরাপত্তা কর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন। মূলত ওই পরিবারটির মেজাজ হারানোর ঘটনা থেকেই সেদিন অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে পুরো ঘটনার আদ্যোপান্ত। ঘটনার রাতে পাঁচ জন আগমনী যাত্রীর একটি দল বিমানবন্দরের কার্যক্রম শেষ করে ক্যানোপি ২ এলাকা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে একজন ট্রলিসহ ক্যানোপি ২ এর গেট এর ঠিক সম্মুখভাগে অবস্থান করছিলেন। এটি গেইটটিতে সকল আগমনী যাত্রীর জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ওই সময় আগমনী যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় কর্তব্যরত একজন নিরাপত্তাকর্মী বিনীতভাবে নরওয়ে প্রবাসী সাঈদ উদ্দিনের বাবা গিয়াস উদ্দিনকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তাঁর কথা কানে তুলেননি।

কিছুক্ষণ পর পুনরায় ওই নিরাপত্তা কর্মী তাকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তিনি অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য-অশ্রাব্য ভাষায় নিরাপত্তা কর্মীকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় ওই স্থানে নিয়োজিত আরও একজন নিরাপত্তা কর্মী তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে একই ফ্লাইটের যাত্রী, তাঁর পুত্র সাঈদ যিনি পেছনে অবস্থান করছিলেন তিনি বিমান বাহিনীর ওই নিরাপত্তা কর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন। তাঁরা সেই নিরাপত্তাকর্মীকে কিলঘুষি মারা শুরু করলে তাদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি হয় এবং ওই নিরাপত্তা কর্মী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে নিয়োজিত আনসার এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি এর সদস্যরা এগিয়ে এলে নিরাপত্তা কর্মীদেরকে ওই যাত্রীদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত যাত্রীকে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিমানবন্দরের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা সাপেক্ষে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া বলেছেন, ‘সম্প্রতি এক প্রবাসীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এখানে কর্তব্যরত সদস্যদের সঙ্গে নরওয়ের ওই পরিবার যে আচরণ করেছেন সেটিও দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে আসার পর আমাদের কতিপয় প্রবাসী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না, তারা হরহামেশাই নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন। আমাদের নিরাপত্তা সদস্যরা সেগুলো অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে মোকাবিলা করেন। মনে রাখতে হবে এখানে নিয়মশৃঙ্খলা রয়েছে। কেউ এই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখেন। তাদের জন্যই আমাদের সব কিছু। কিন্তু বিমানবন্দরে নামার পর সেগুলো ভুলে ইচ্ছেমতো আচরণ করলে তো সবাই কষ্ট পাবে। আমাদেরও দুর্নাম হবে। আমরা চাই না বিমানবন্দরের সুনাম নষ্ট হোক।’

বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সেখানে যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার ও অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৫৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক রুটে বছরে প্রায় ৯৫ লাখ এবং অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ২৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। আগে বিমানবন্দরটিতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। এখন বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সেখানে যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তন এসেছে। লাগেজ কাটা ও চুরি নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর শোনা যায় না। প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রীর কাছে ১৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি নিশ্চিত হয়েছে। লাগেজ বহনের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে নতুন সংযোজনের পর ট্রলির সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৬০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যানোপি থেকে বের হয়ে বহুতল পার্কিং ও রাস্তার পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মাসখানেক আগে ওই ওয়েটিং লাউঞ্জের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের মাল্টিলেভেল কার পার্কিং এলাকার দ্বিতীয় তলায় এই প্রশস্ত ওয়েটিং লাউঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন এই লাউঞ্জে যাত্রীদের অপেক্ষা করার কক্ষ, বেবি কেয়ার কক্ষ, নারী-পুরুষ উভয়ের আলাদা ইবাদতখানা এবং ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের জন্য প্রবাসী লাউঞ্জ এবং নতুন-পুরোনো সব যাত্রীর সহযোগিতার জন্য আগমন ও বহির্গমন এলাকায় তাদের তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে নতুন করে হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বহির্গমন এলাকার গেটের সামনে দেখা যায় রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের প্রবাসী লাউঞ্জসহ ভেতরের এসব সুবিধা নিতে সচেতন করছেন নিরাপত্তাকর্মীসহ স্বেচ্ছাসেবকরা।

সর্বোচ্চ সেবা দিতে কাজ করছেন জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের যাত্রীসেবার জন্য আমরা একটি টিম ওয়ার্ক পরিচালনা করছি। সবার প্রতি আহ্বান থাকবে বিমানবন্দরে এসে সেখানকার নিয়মশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রাখার। যারা এখানে কাজ করেন তাদেরও সম্মানের সঙ্গে দেখতে হবে। আমাদের লোকজন প্রবাসীসহ সব যাত্রীদের যেহেতু সম্মান করে তাদের কাজের প্রতিও সম্মান দেখানো উচিত। মনে রাখতে হবে এটি আমাদের দেশ। বিমানবন্দরও আমাদের দেশের অংশ। তাই এটির মর্যাদা যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধরে রাখতে হবে তেমনি যাত্রীদেরও সেই বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে। সবার সহযোগিতায় আমরা যাত্রীসেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে বদ্ধপরিকর।’

কালের আলো/ওয়াইএ/এমকে

একরামুল হত্যা মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
একরামুল হত্যা মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহকে কাস্টডিতে নেয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইএসপিআরের পরিচালক লে. কর্নেল সামিউদ দৌলা চৌধুরী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত ২৬ জুলাই কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ মোট ১১ জনের নাম রয়েছে।

জানা গেছে, শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার নামও ছিল।

গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ
৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের ‘বিতর্কিত’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাঁকে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে; সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান,

চাপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন,

কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি আংশিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব হিসেবে ফাতিমা তাসনিম জুমা নির্বাচিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সভায় সব সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ শরিক ওসমান হাদিকে আজীবনের জন্য সংগঠনের মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রকিবুল ইসলাম (রাফসান রাকিব), সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শোয়াইব বিন আহসান সিয়াম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রায়হান আহমেদ, অর্থ সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ ওমায়ের, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে নাঈম ইবনে জহির এবং সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাবিবুল্লাহ মিসবাহ দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যোগ্য ও সিনিয়র সদস্যদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জি এ সাবিরকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাসুদুর রহমান আদনান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন– আসাদুজ্জামান আসাদ, হিশাম ইব্রাহিম, শান্ত আক্তার ও শাফিন শাররাজ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত নেতৃত্ব সংগঠনটিকে একটি আদর্শিক, গণমুখী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর দোয়া, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেছেন।

পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি