খুঁজুন
                               
, ,
           

বিমান বাহিনী প্রধানের পরিদর্শনে আশার সঞ্চার, রানওয়ে সুবিস্তৃত করে দেড় বছরের মধ্যেই সচল সম্ভব বগুড়া বিমানবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
বিমান বাহিনী প্রধানের পরিদর্শনে আশার সঞ্চার, রানওয়ে সুবিস্তৃত করে দেড় বছরের মধ্যেই সচল সম্ভব বগুড়া বিমানবন্দর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

অধীর অপেক্ষা ছিল। একটু দেরিতে হলেও সেই প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে প্রায় প্রায় দুই যুগ পর সম্ভাবনাময় বগুড়া অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিগত পতিত সরকারের রাজনৈতিক অনাগ্রহের কারণেই আলোর মুখ দেখেনি লাল ফিতার গিট্টুতে আটকে থাকা এই বিমানবন্দরটি। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের জনপ্রত্যাশা উপেক্ষিত থেকেছে বছরের পর বছর। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর চারটি ধাপে বিমানবন্দরকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা।

বিমানবন্দরটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে বগুড়ায় ছুটে গেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। কুয়াশার চাদর সরিয়ে ঝলমলে রুদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়ায় রবিবার (১২ জানুয়ারি) যখন বিমান বাহিনী প্রধান বগুড়ার মাটিতে পা রাখেন ঠিক তখন থেকেই নতুন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে উত্তরবঙ্গের মানুষ। এদিনের সূর্য যেন বগুড়াবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আলোকিত এক ভবিষ্যতের। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ এদিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়ায় অবস্থিত শর্ট ফিল্ড টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং (STOL Port) রানওয়ে পরিদর্শন করেন। তিনি বগুড়া রানওয়েকে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রকৌশলগত কাজ, ৬ হাজার ফুট সুবিস্তৃত রানওয়ে ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে খসড়া পরিকল্পনা অনুমোদন হলেই এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই পুরোদমে বিমানবন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তবে এজন্য তিনি বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনিও নিজেও অনেকবার শুনেছেন এই বিমানবন্দরের দাবির কথা। সেই কথাই স্মরণে এনে নতুন স্বপ্নের আশাবাদে তিনি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর যাবত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে চাকরি করছি। আমি জানি আপনাদের এই দাবি দীর্ঘদিনের। এতোদিন আপনারা ধৈর্য্য ধরেছেন। এখন আরেকটু ধৈর্য্য ধরেন। সামনে ভালো সংবাদ আপনারা পাবেন।’

  • বিমান বাহিনী প্রধানের জবানীতে বগুড়ার এয়াফিল্ডের ইতিহাস
  • বগুড়া রানওয়ের বর্তমান অবস্থা খুবই দুর্বল
  • বগুড়া রানওয়ে হচ্ছে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’

স্থানীয় জনসাধারণের ভাষ্য হচ্ছে- এতোদিন রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, জমি অধিগ্রহণসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখিয়ে বগুড়ার অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটি চালু করা হয়নি। অথচ বগুড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও পর্যটক আকর্ষণ করতে বিমানবন্দরটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এজন্য বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে ৬ হাজার ফিট বিস্তৃত রানওয়ে ও বিনিয়োগ। এবার নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সমীক্ষাও শেষ হয়েছে। বগুড়ায় এয়ারফিল্ডকে বিমানবন্দরে উন্নতি করা সম্ভব হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বিকাশ ঘটবে পর্যটনেরও।

বিমান বাহিনী প্রধানের জবানীতে বগুড়ার এয়াফিল্ডের ইতিহাস
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সব সময় কথা বলেন সোজা-সাপ্টা। ইতিহাসের বিস্মৃতির আখ্যান থেকে তিনি বলেন, ‘বগুড়া রানওয়েটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকবার প্রস্তাব দিয়েছি কিন্তু তখনকার সরকারের এটি প্রায়োরিটিতে ছিল না। এই এয়ারফিল্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে স্বাধীনতার পর যখন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ফরমেশন হলো তখন থেকে আমাদের এখানে অবস্থান রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা যখন এগুলোকে বিভিন্নভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলাম এবং অভ্যন্তরীণ রুটে যখন আমাদের নিজস্ব দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল ছিল, ঢাকা থেকে বগুড়ায় যেভাবে আসতে হতো তখন এই জায়গাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল যাতে এয়ার কানেকটিভিটি থাকে। পরবর্তীতে এখানে শর্ট ফিল্ড টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং (STOL Port) নির্মাণ করা হয়েছিল, বেশ কিছুদিন আমাদের ক্ষুদ্র বিমান স্বল্প দৈর্ঘ্য রানওয়েতে অপারেট করতে পারতো। পরবর্তীতে যমুনা সেতু নির্মাণের পর এটি বিমান বাহিনী নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছে। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে আমাদের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর যতো ঘাঁটি রয়েছে সেগুলো আমরা যৌথ ব্যবহার করি। যৌথ ব্যবহার করতে কোন সমস্যা নেই। যেহেতু আমাদের দেশ ছোট, রিসোর্সেস কম এভাবে ব্যবহার করাটাই সাশ্রয় হবে। অন্যান্য অনেক এয়ারফিল্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং অব্যবহারযোগ্য হয়ে গেছে। এটির দৈর্ঘ্য ছোট হতে পারে। কিন্তু এটি এখনও আল্লাহর রহমতে সম্পূর্ণ সচল একটি বিমান বন্দর এবং রানওয়ে হিসেবে আছে।’

বগুড়া রানওয়ের বর্তমান অবস্থা খুবই দুর্বল
এই রানওয়ের অবস্থা বর্তমানে খুবই দুর্বল বলে জানান বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই রানওয়ের শক্তিও কমে গেছে। এটির শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে এবং সার্ফেসকে স্ট্রং করতে হবে। যদি এটি আমরা ডমেস্টিক পারপাসে ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারি। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও প্রাইভেট এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে চাইলে রানওয়ে বৃদ্ধি করতে হবে। এখন আমরা এটিকে আবার প্রায়োরিটি দিচ্ছি। বেবিচক চেয়ারম্যান উপস্থাপন করবেন। শুরুতেই আমরা রানওয়ের অপারেশনাল সার্ফেস কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করবো। যাতে করে আমাদের ইমিডিয়েট কোন ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং হতে হলে বা কোন কারণে কোন বিমান এখানে ল্যান্ড করাতে হলে এখানে করতে পারবো। সেটা হচ্ছে কম প্যাসেঞ্জার ও কম তেল নিয়ে। ফুল অপারেশন করতে হলে রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে হবে মিনিমাম দেড় থেকে দুই হাজার ফিট। সেজন্য রানওয়ের পূর্ব দিকের রাস্তার দিকে সম্ভব না। শুধুমাত্র পশ্চিম দিকে যেতে পারি। সেখানে একটি গ্রাম রয়েছে। সেখানে খুবই কম মানুষ থাকে। তাদেরকে আমরা পুনর্বাসন করে রানওয়ে এক্সটেনশন করতে হবে। রানওয়ের সঙ্গে এজ, স্ট্রেন্থেনিং ও লাইটিংসহ অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। সবকিছুর জন্য আমাদের সম্মিলিত একটি বোর্ড করা হবে। বেবিচক এটাকে লিড দিবে। আমরা এই বোর্ডের মাধ্যমে এক্সাট আমাদের রিকুয়ারমেন্ট বের করবো। তাঁরা ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। পরবর্তীতে আমরা এটি আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে উপস্থাপন করবো। আমরা যদি ফান্ডিং পাই তাহলে অবশ্যই কাজ শুরু হবে। আর যদি না হয় তাহলে আমরা অপেক্ষা করবো, ধৈর্য্য ধরবো। পরবর্তীতে যখন নির্বাচিত সরকার আসবে তাদের দিকনির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবো।’

বগুড়া রানওয়েকে স্ট্র্যাটেজিক হাব হিসেবে মনে করেন বিমান বাহিনী প্রধান
অনেকে লালমনিরহাট ও সৈয়দপুরকে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে মনে করলেও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বগুড়া রানওয়েকে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে হয়তো এখানে দুর্যোগ হচ্ছে না। এক সময় এই এলাকা বন্যাকবলিত ছিল। ভবিষ্যতেও যে আবার এমনটি হবে না সেটা আমরা জানি না। সুতরাং এটি রিলিফ অপারেটিং সেন্টার হতে পারে। আমরা ভূমিকম্পের কথা শোনছি। কখন কোথায় দুর্যোগ হয় আমরা সেটি জানি না। এরকম কোন দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হলে আমরা এখান থেকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবো। আমরা বিমান বাহিনী থেকে মাঝারি থেকে বড় আকারের পরিবহন বিমান এখানে নিয়ে আসতে পারবো। ত্রাণ তৎপরতাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এটি হচ্ছে সেন্টার অব দি নর্থ বেঙ্গল।’

‘বগুড়া বিমানবন্দর CASEVAC এবং MEDEVAC মিশনের জন্য অপরিহার্য, যার মাধ্যমে এই এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও জানান বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই রানওয়ের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ জাতীয় নিরাপত্তা এবং জরুরী উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। সময়মতো পুনঃকার্পেটিং করা সম্ভব হলে রানওয়ের ভবিষ্যত অবস্থার অবনতি রোধ করবে যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত অর্থ সাশ্রয় হবে। এই রানওয়ে ভিভিআইপি ফ্লাইটগুলোর জন্য একটি বিকল্প এবং জরুরি অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উদ্ভত যেকোন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা পালন করে।’

বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বেবিচক চারধাপে একটি পরিকল্পনা করেছেন। বর্তমান যেখানে আছে সেখান থেকে সেকেন্ড ধাপ করলে মোটামুটি ছোট বিমান আসতে পারবে। সেজন্য প্রয়োজন ৬ হাজার ফিট রানওয়ে। কিন্তু এটিকে যদি আমরা বড় বিমান (সেভেন থ্রি সেভেন লেভেল বা এরচেয়েও বড়) আনতে যাই তাহলে ৮ হাজার ফিট ও বড় বিমান আনতে গেলে ১০ হাজার ফিট রানওয়ে লাগবে। ৬ হাজার ফিট রানওয়ে করতে হলে ফান্ডিং ও সরকারের অনুমোদন পেলে ইনশাআল্লাহ এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। রানওয়ে সম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রানওয়ের উপরিভাগকে সরিয়ে আবার নতুন করে করতে হবে। এটি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক। সর্বোচ্চ মনোযোগ দিলেও এক বছর প্লাস সময় লাগবে। এটি আমাদের পরিকল্পনা। আমরা এটিকে সরকারের সামনে উপস্থাপন করবো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি