খুঁজুন
                               
, ,
           

বিমান বাহিনী প্রধানের পরিদর্শনে আশার সঞ্চার, রানওয়ে সুবিস্তৃত করে দেড় বছরের মধ্যেই সচল সম্ভব বগুড়া বিমানবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
বিমান বাহিনী প্রধানের পরিদর্শনে আশার সঞ্চার, রানওয়ে সুবিস্তৃত করে দেড় বছরের মধ্যেই সচল সম্ভব বগুড়া বিমানবন্দর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

অধীর অপেক্ষা ছিল। একটু দেরিতে হলেও সেই প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে প্রায় প্রায় দুই যুগ পর সম্ভাবনাময় বগুড়া অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিগত পতিত সরকারের রাজনৈতিক অনাগ্রহের কারণেই আলোর মুখ দেখেনি লাল ফিতার গিট্টুতে আটকে থাকা এই বিমানবন্দরটি। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের জনপ্রত্যাশা উপেক্ষিত থেকেছে বছরের পর বছর। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর চারটি ধাপে বিমানবন্দরকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা।

বিমানবন্দরটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে বগুড়ায় ছুটে গেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। কুয়াশার চাদর সরিয়ে ঝলমলে রুদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়ায় রবিবার (১২ জানুয়ারি) যখন বিমান বাহিনী প্রধান বগুড়ার মাটিতে পা রাখেন ঠিক তখন থেকেই নতুন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে উত্তরবঙ্গের মানুষ। এদিনের সূর্য যেন বগুড়াবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আলোকিত এক ভবিষ্যতের। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ এদিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়ায় অবস্থিত শর্ট ফিল্ড টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং (STOL Port) রানওয়ে পরিদর্শন করেন। তিনি বগুড়া রানওয়েকে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রকৌশলগত কাজ, ৬ হাজার ফুট সুবিস্তৃত রানওয়ে ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে খসড়া পরিকল্পনা অনুমোদন হলেই এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই পুরোদমে বিমানবন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তবে এজন্য তিনি বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনিও নিজেও অনেকবার শুনেছেন এই বিমানবন্দরের দাবির কথা। সেই কথাই স্মরণে এনে নতুন স্বপ্নের আশাবাদে তিনি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর যাবত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে চাকরি করছি। আমি জানি আপনাদের এই দাবি দীর্ঘদিনের। এতোদিন আপনারা ধৈর্য্য ধরেছেন। এখন আরেকটু ধৈর্য্য ধরেন। সামনে ভালো সংবাদ আপনারা পাবেন।’

  • বিমান বাহিনী প্রধানের জবানীতে বগুড়ার এয়াফিল্ডের ইতিহাস
  • বগুড়া রানওয়ের বর্তমান অবস্থা খুবই দুর্বল
  • বগুড়া রানওয়ে হচ্ছে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’

স্থানীয় জনসাধারণের ভাষ্য হচ্ছে- এতোদিন রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, জমি অধিগ্রহণসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখিয়ে বগুড়ার অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটি চালু করা হয়নি। অথচ বগুড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও পর্যটক আকর্ষণ করতে বিমানবন্দরটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এজন্য বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে ৬ হাজার ফিট বিস্তৃত রানওয়ে ও বিনিয়োগ। এবার নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সমীক্ষাও শেষ হয়েছে। বগুড়ায় এয়ারফিল্ডকে বিমানবন্দরে উন্নতি করা সম্ভব হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বিকাশ ঘটবে পর্যটনেরও।

বিমান বাহিনী প্রধানের জবানীতে বগুড়ার এয়াফিল্ডের ইতিহাস
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সব সময় কথা বলেন সোজা-সাপ্টা। ইতিহাসের বিস্মৃতির আখ্যান থেকে তিনি বলেন, ‘বগুড়া রানওয়েটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকবার প্রস্তাব দিয়েছি কিন্তু তখনকার সরকারের এটি প্রায়োরিটিতে ছিল না। এই এয়ারফিল্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে স্বাধীনতার পর যখন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ফরমেশন হলো তখন থেকে আমাদের এখানে অবস্থান রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা যখন এগুলোকে বিভিন্নভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলাম এবং অভ্যন্তরীণ রুটে যখন আমাদের নিজস্ব দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল ছিল, ঢাকা থেকে বগুড়ায় যেভাবে আসতে হতো তখন এই জায়গাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল যাতে এয়ার কানেকটিভিটি থাকে। পরবর্তীতে এখানে শর্ট ফিল্ড টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং (STOL Port) নির্মাণ করা হয়েছিল, বেশ কিছুদিন আমাদের ক্ষুদ্র বিমান স্বল্প দৈর্ঘ্য রানওয়েতে অপারেট করতে পারতো। পরবর্তীতে যমুনা সেতু নির্মাণের পর এটি বিমান বাহিনী নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছে। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে আমাদের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর যতো ঘাঁটি রয়েছে সেগুলো আমরা যৌথ ব্যবহার করি। যৌথ ব্যবহার করতে কোন সমস্যা নেই। যেহেতু আমাদের দেশ ছোট, রিসোর্সেস কম এভাবে ব্যবহার করাটাই সাশ্রয় হবে। অন্যান্য অনেক এয়ারফিল্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং অব্যবহারযোগ্য হয়ে গেছে। এটির দৈর্ঘ্য ছোট হতে পারে। কিন্তু এটি এখনও আল্লাহর রহমতে সম্পূর্ণ সচল একটি বিমান বন্দর এবং রানওয়ে হিসেবে আছে।’

বগুড়া রানওয়ের বর্তমান অবস্থা খুবই দুর্বল
এই রানওয়ের অবস্থা বর্তমানে খুবই দুর্বল বলে জানান বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই রানওয়ের শক্তিও কমে গেছে। এটির শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে এবং সার্ফেসকে স্ট্রং করতে হবে। যদি এটি আমরা ডমেস্টিক পারপাসে ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারি। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও প্রাইভেট এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে চাইলে রানওয়ে বৃদ্ধি করতে হবে। এখন আমরা এটিকে আবার প্রায়োরিটি দিচ্ছি। বেবিচক চেয়ারম্যান উপস্থাপন করবেন। শুরুতেই আমরা রানওয়ের অপারেশনাল সার্ফেস কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করবো। যাতে করে আমাদের ইমিডিয়েট কোন ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং হতে হলে বা কোন কারণে কোন বিমান এখানে ল্যান্ড করাতে হলে এখানে করতে পারবো। সেটা হচ্ছে কম প্যাসেঞ্জার ও কম তেল নিয়ে। ফুল অপারেশন করতে হলে রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে হবে মিনিমাম দেড় থেকে দুই হাজার ফিট। সেজন্য রানওয়ের পূর্ব দিকের রাস্তার দিকে সম্ভব না। শুধুমাত্র পশ্চিম দিকে যেতে পারি। সেখানে একটি গ্রাম রয়েছে। সেখানে খুবই কম মানুষ থাকে। তাদেরকে আমরা পুনর্বাসন করে রানওয়ে এক্সটেনশন করতে হবে। রানওয়ের সঙ্গে এজ, স্ট্রেন্থেনিং ও লাইটিংসহ অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। সবকিছুর জন্য আমাদের সম্মিলিত একটি বোর্ড করা হবে। বেবিচক এটাকে লিড দিবে। আমরা এই বোর্ডের মাধ্যমে এক্সাট আমাদের রিকুয়ারমেন্ট বের করবো। তাঁরা ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। পরবর্তীতে আমরা এটি আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে উপস্থাপন করবো। আমরা যদি ফান্ডিং পাই তাহলে অবশ্যই কাজ শুরু হবে। আর যদি না হয় তাহলে আমরা অপেক্ষা করবো, ধৈর্য্য ধরবো। পরবর্তীতে যখন নির্বাচিত সরকার আসবে তাদের দিকনির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবো।’

বগুড়া রানওয়েকে স্ট্র্যাটেজিক হাব হিসেবে মনে করেন বিমান বাহিনী প্রধান
অনেকে লালমনিরহাট ও সৈয়দপুরকে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে মনে করলেও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বগুড়া রানওয়েকে ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে হয়তো এখানে দুর্যোগ হচ্ছে না। এক সময় এই এলাকা বন্যাকবলিত ছিল। ভবিষ্যতেও যে আবার এমনটি হবে না সেটা আমরা জানি না। সুতরাং এটি রিলিফ অপারেটিং সেন্টার হতে পারে। আমরা ভূমিকম্পের কথা শোনছি। কখন কোথায় দুর্যোগ হয় আমরা সেটি জানি না। এরকম কোন দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হলে আমরা এখান থেকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবো। আমরা বিমান বাহিনী থেকে মাঝারি থেকে বড় আকারের পরিবহন বিমান এখানে নিয়ে আসতে পারবো। ত্রাণ তৎপরতাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এটি হচ্ছে সেন্টার অব দি নর্থ বেঙ্গল।’

‘বগুড়া বিমানবন্দর CASEVAC এবং MEDEVAC মিশনের জন্য অপরিহার্য, যার মাধ্যমে এই এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও জানান বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই রানওয়ের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ জাতীয় নিরাপত্তা এবং জরুরী উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। সময়মতো পুনঃকার্পেটিং করা সম্ভব হলে রানওয়ের ভবিষ্যত অবস্থার অবনতি রোধ করবে যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত অর্থ সাশ্রয় হবে। এই রানওয়ে ভিভিআইপি ফ্লাইটগুলোর জন্য একটি বিকল্প এবং জরুরি অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উদ্ভত যেকোন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা পালন করে।’

বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বেবিচক চারধাপে একটি পরিকল্পনা করেছেন। বর্তমান যেখানে আছে সেখান থেকে সেকেন্ড ধাপ করলে মোটামুটি ছোট বিমান আসতে পারবে। সেজন্য প্রয়োজন ৬ হাজার ফিট রানওয়ে। কিন্তু এটিকে যদি আমরা বড় বিমান (সেভেন থ্রি সেভেন লেভেল বা এরচেয়েও বড়) আনতে যাই তাহলে ৮ হাজার ফিট ও বড় বিমান আনতে গেলে ১০ হাজার ফিট রানওয়ে লাগবে। ৬ হাজার ফিট রানওয়ে করতে হলে ফান্ডিং ও সরকারের অনুমোদন পেলে ইনশাআল্লাহ এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। রানওয়ে সম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রানওয়ের উপরিভাগকে সরিয়ে আবার নতুন করে করতে হবে। এটি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক। সর্বোচ্চ মনোযোগ দিলেও এক বছর প্লাস সময় লাগবে। এটি আমাদের পরিকল্পনা। আমরা এটিকে সরকারের সামনে উপস্থাপন করবো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে এবং প্রয়োজনে টেন্ডারও বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা শুধু জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধিদলই নয়, একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

পাবনা(বেড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমুখ।

তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এই উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এই নোটিশের আওতায় আছেন, তা অফিসের ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে।

তবে কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

টিকিটের দাম ৩৭ হাজার টাকা, গাইবেন অভিনেতা অপূর্ব

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ
টিকিটের দাম ৩৭ হাজার টাকা, গাইবেন অভিনেতা অপূর্ব

রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবেই সবাই চেনেন জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে। তিনি এবার নতুন পরিচয়ে আসছেন। ক্যামেরার সামনে নয়, এবার স্টেজে ভিন্নভাবে দর্শকদের সামনে আসছেন। গায়ক হিসেবে আগামী ৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন তিনি। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ‘অপূর্ব লাইভ মিউজিক্যাল নাইট’।

কনসার্ট ঘোষণার পর দর্শকদের সাড়া পেয়ে আবেগাপ্লুত অপূর্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সত্যি বলতে, ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এত অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য সাড়া পাব, কখনো কল্পনাও করিনি। এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের কারণেই এই যাত্রা আমার জন্য আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে।’

অপূর্ব পোস্টারটি ভক্তদের সঙ্গে ফেসবুকে ভাগাভাগি করেছেন

অপূর্বর ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা পোস্টার থেকে জানা যায়, ৮ আগস্ট দুই ঘণ্টার এই আয়োজন শুরু হবে রাত ৮টায়। কনসার্টে গান পরিবেশন করবেন অপূর্ব। অনুষ্ঠানের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ ডলার ও ৩০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৩০০ টাকা এবং ৩৭ হাজার টাকা। আয়োজকদের ভাষ্য, আসনসংখ্যা সীমিত।

পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি হবে ‘ওয়ান নাইট টু রিমেম্বার’—অর্থাৎ স্মরণীয় একটি সংগীত সন্ধ্যা। নাটকের জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে এবার ভিন্ন এক পরিচয়ে, গায়ক হিসেবে মঞ্চে দেখতে মুখিয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দর্শকেরা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি