খুঁজুন
                               
, ,
           

জনআস্থা ফেরাতেই মনোযোগ আইজিপির, একাত্ম করতে চান জনগণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
জনআস্থা ফেরাতেই মনোযোগ আইজিপির, একাত্ম করতে চান জনগণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

পতিত সরকারের নির্দেশ মানতে গিয়ে গণশত্রুতে পরিণত হয় পুলিশ। জনরোষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে বাহিনীটি। ক্ষোভের বলি হয়ে প্রাণ যায় অনেক পুলিশ সদস্যের। জুলাই বিপ্লবের অভিঘাতে তছনছ হয়ে যায় পুরো পুলিশী ব্যবস্থা। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শাসনভার কাঁধে তুলে নেওয়ার পর দু’দফা পরিবর্তন এসেছে পুলিশের শীর্ষ আইজিপি পদটিতে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজ বাহিনীটিকে ঢেলে সাজানোর কাজে হাত দেন বাহারুল আলম। পুলিশের অভিজ্ঞ এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আতঙ্ক-ভীতি কাটিয়ে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাহিনীটির সদস্যদের মনোবল ফেরানো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয়তা ভেঙে সক্রিয় করা, সব রকমের ‘অনিশ্চয়তা’ দূরে ঠেলে আধুনিক জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশকে রূপ দিতে জনআস্থা ফেরানোর নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পরিবর্তন হতে যাচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম। পুলিশ সংস্কার কমিশন সপ্তাহখানেক আগে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটিকে স্বরূপে ফেরাতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিপর্যস্ত এক অবস্থা থেকে দৃশ্যমান উন্নতি সাধনের সব প্রচেষ্টাই অব্যাহত রেখেছেন আইজিপি বাহারুল আলম। মনিটরিং ও তদন্তে মান বাড়াতে ঊর্ধ্বতন এবং অভিজ্ঞ, যারা বিপুল অভিজ্ঞতা নিয়ে অবসরে গেছেন তাদেরকে নিয়ে মনিটরিং টিম করেছেন। সারাদেশে বিভাগ অনুযায়ী আলাদা মেন্টরিং ও মনিটরিং কমিটি গঠন করেছেন। এখনও পুরোপুরি সব গুছিয়ে ওঠতে না পারলেও আইনশৃঙ্খলার রক্ষক হিসেবে পুলিশকে জনগণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হতে উজ্জীবিত করছেন প্রতিনিয়ত।

নবীন কর্মকর্তাদেরও সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি মনে করেন, পুলিশ জনগণের আস্থাভাজন হলে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) ওরিয়েন্টেশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে আত্মবিশ্বাস ও উদ্যমী হয়ে পুলিশকে ‘জনগণের প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতেই তাঁর দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকার বিষয়টিও।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ‘পুলিশকে পুলিশের মতো’ গড়ে তোলা হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতিটি রাজনৈতিক সরকার দলীয় স্বার্থে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। দলের প্রয়োজনে পুলিশকে নিজেদের লাঠিয়াল হিসেবে রূপান্তরিত করেছে। অথচ পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশে আইনের শাসন জারি রাখতে হলে পুলিশকে অবশ্যই নীতি-নৈতিকতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। এ জন্য পুলিশকে রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত হতে হবে, যাতে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে না পারে। জনগণ বাধ্য হয়েই পুলিশের কাছে যান, কিন্তু যে সাহায্যের আশায় পুলিশের কাছে যান, পুলিশ যদি সেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তখন পুলিশের প্রতি মানুষের আর আস্থা থাকে না। গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করেছে, তাতে দিনে দিনে পুলিশের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়েছে।

পুলিশি কার্যক্রমে গতি ফেরাতে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থার সংকটকে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাঁরা বলছেন, ১৫ বছর ধরে পুলিশকে দলীয় পেটোয়া বাহিনীর মতো ব্যবহার করেছে শেখ হাসিনা সরকার। সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও মানুষের মনে পুলিশ সম্পর্কে এখনো নেতিবাচক ধারণা রয়ে গেছে। অনেকে এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করছেন। কারও কারও মধ্যে পুলিশের বৈধ নির্দেশনা না মানার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পুলিশকে এক প্রকার জিম্মি করে কোথাও কোথাও নিরপরাধকে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের পুলিশ নিয়ে প্রত্যাশা বোঝার জন্য সংস্কার কমিশনের ‘কেমন পুলিশ চাই’ জনমত জরিপের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাবে- মতামত প্রদানকারীরা সবচেয়ে বেশি দেখতে চেয়েছেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, আইনের প্রতি অনুগত বা নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ। পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চেয়েছেন ৮৯.৫ শতাংশ উত্তরদাতা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি বন্ধ চেয়েছেন ৭৭.৯ শতাংশ উত্তরদাতা। ৭৮.৯ শতাংশ উত্তরদাতা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে অপরাধী পুলিশের জবাবদিহি এবং শাস্তি চেয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশে জনআস্থা ফেরানোর সব চেষ্টাই করা হচ্ছে। বিতর্কিত ও পতিত আওয়ামী লীগের হয়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের সরানো হয়েছে, মামলায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিভিন্ন ইউনিটে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। বিটপুলিশিং চাঙ্গা ও জনগণের দোরগোড়ায় দৌড়াচ্ছে পুলিশ। জনগণের অভিযোগ, সমস্যা শুনতে চেষ্টা করছে পুলিশ। এরই মধ্যে ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে।

আইজিপি বাহারুল আলম সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে এতগুলো মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কেন এশিয়ার ইতিহাসেও এমন নজির নেই। এমন একটা ঘটনা ও পরিবর্তনের পরও আমাদের সক্ষমতায় কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটেছে। সব জায়গায় সঠিক লোকটা দিয়ে আমরা শেষ করতে পারিনি। আমাদের পুনর্গঠনের কাজটা চলমান। বদলি হচ্ছে। তদন্ত করতে পারে সেরকম সক্ষম লোকদের বাছাই করে এ কাজে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া, সারাদেশে বিভাগ অনুযায়ী আলাদা মেন্টরিং ও মনিটরিং কমিটি করেছি।

পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম একাধিকবার বলেছেন, তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পুলিশের মনোবল ফেরানো। পুলিশ যাতে জনগণের কাছে যায়, জনগণের সমস্যা বা অভিযোগ শোনে, সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। পুলিশ সব সময় জনগণের বন্ধু। সমাজটাকে ভালো রাখতে পুলিশের বিকল্প নেই। তাই সবাইকে দোষারোপ করে অপরাধীর কাতারে নেওয়া ঠিক নয়। যারা অপরাধ করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশে যারা নিরপরাধ, তাদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পুলিশ দেশের ও জনগণের জন্য অপরিহার্য। এই বাহিনী ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব। পুলিশকে জনগণের রক্ষক হতে যা যা করা দরকার, সব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

পুলিশ সদর দপ্তরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) ওরিয়েন্টেশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি নবীন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা ভবিষ্যৎ পুলিশ নেতৃত্ব। আপনাদের ওপর পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা নির্ভর করে। তাই আপনাদেরকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলার রক্ষক হিসেবে পুলিশকে জনগণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ পুলিশিং একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আপনাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনাদেরকে সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার এবং নতুন নতুন আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সর্বশেষ প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট থাকতে হবে।’ পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ৮৪ জন কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন পুরুষ এবং ছয় জন নারী।

কালের আলো/এমএএএমকে

একরামুল হত্যা মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
একরামুল হত্যা মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহকে কাস্টডিতে নেয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইএসপিআরের পরিচালক লে. কর্নেল সামিউদ দৌলা চৌধুরী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত ২৬ জুলাই কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ মোট ১১ জনের নাম রয়েছে।

জানা গেছে, শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার নামও ছিল।

গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ
৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের ‘বিতর্কিত’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাঁকে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে; সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান,

চাপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন,

কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি আংশিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব হিসেবে ফাতিমা তাসনিম জুমা নির্বাচিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সভায় সব সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ শরিক ওসমান হাদিকে আজীবনের জন্য সংগঠনের মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রকিবুল ইসলাম (রাফসান রাকিব), সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শোয়াইব বিন আহসান সিয়াম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রায়হান আহমেদ, অর্থ সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ ওমায়ের, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে নাঈম ইবনে জহির এবং সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাবিবুল্লাহ মিসবাহ দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যোগ্য ও সিনিয়র সদস্যদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জি এ সাবিরকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাসুদুর রহমান আদনান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন– আসাদুজ্জামান আসাদ, হিশাম ইব্রাহিম, শান্ত আক্তার ও শাফিন শাররাজ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত নেতৃত্ব সংগঠনটিকে একটি আদর্শিক, গণমুখী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর দোয়া, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেছেন।

পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি