খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর, ইতিহাসের সেই কালো দিন আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর,  ইতিহাসের সেই কালো দিন আজ

কালের আলো রিপোর্ট:

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ২৭ মিনিট। পিলখানায় সাবেক বিডিআর ও বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তরে ঘটে এক মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনা। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে পড়ে। সিপাহী মঈন নামে একজন বিডিআর সদস্য মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। রহস্যময় বিদ্রোহের নামে বিডিআরের সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর বীভৎস ঘটনার সৃষ্টি করে।

এ সময় তারা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় সেদিন যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা পৃথিবীর কোনো বাহিনীর ইতিহাসে পাওয়া যায় না। আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনার ১৬ বছর পূর্ণ হলো। ইতিহাসের সেই কালো দিন আজ। কিন্তু ১৬ বছরেও নারকীয় হত্যায় জড়িতদের বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রিয়জন হারা স্বজনরা। দীর্ঘ সময়েও হত্যাকারীদেরও বিচার নিশ্চিত হয়নি। ধুঁকছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটিও। তবে, পটপরিবর্তনের পর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠন হওয়ায় সত্য উন্মোচনে আশার আলো দেখছেন ‘শহিদদের’ স্বজনরা। কমিশনের তদন্ত শেষ হওয়ার পর সেটি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। ঢাকার পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।

এদিকে, সরকার প্রতিবছর ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এই তারিখকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ (সরকারি ছুটি ব্যতিত) হিসেবে পালনের নিমিত্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত পরিপত্রের ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই দিবসটি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

  • ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা
  • ৩৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন
  • হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র
  • শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড

পতিত আওয়ামী লীগ সরকার এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চালায়। ওই সময় এই ঘটনায় দায়ের করা হয় দুটি মামলা। এর মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় দন্ডবিধি আইনে করা হয় হত্যা মামলা। অপরটি হয় বিস্ফোরক আইনে। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাটি ১৫ বছর ধরে সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আটকে আছে। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৪ সালে ১৫২ বিডিআর জওয়ানকে মৃত্যুদন্ড দেয়। যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয় ১৬১ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জওয়ানকে মৃত্যুদন্ড দেয়। যাবজ্জীবন দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরও ২০০ জনকে। খালাস পান ৪৫ জন। পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলায় জামিনের পর কারাগার থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ১৭৮ জন কারামুক্ত হয়েছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম নতুন ভবনের সপ্তম তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, কমিশন পাঁচটি কর্মপরিধি ঠিক করেছে। এর মধ্যে আছে পিলখানায় সংঘটিত ঘটনার স্বরূপ উদ্‌ঘাটন। ঘটনাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটনকারী, সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী, ঘটনার আলামত ধ্বংসকারী, ইন্ধনদাতা এবং ঘটনা সংশ্লিষ্ট অপরাপর বিষয়সহ দেশি ও বিদেশি–সংশ্লিষ্ট অপরাধী ব্যক্তি/গোষ্ঠী/সংস্থা/প্রতিষ্ঠান/বিভাগ/সংগঠন ইত্যাদি চিহ্নিতকরণ। হত্যাকাণ্ডসহ সংঘটিত অপরাপর অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযুক্তগণের দায়/অপরাধ অক্ষুণ্ন রেখে সংশ্লিষ্ট মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমন প্রকৃত অপরাধীদের তদন্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তকরণ। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যে ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন লে. জেনারেল তিনজন, মেজর জেনারেল দুজন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পাঁচজন, কর্নেল চারজন, লে. কর্নেল চারজন, মেজর সাতজন, ক্যাপ্টেন দুজন, বিডিআর সদস্য সাতজন ও শহীদ পরিবারের সদস্য তিনজন।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিলো। এ হত্যাকান্ড অপারেশন ডালভাতের জন্য হয়নি। এটি একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এছাড়া এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা। ভারতের মদদে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল দেশের কিছু বিশ্বাসঘাতক, ছিল ভারতের চক্রান্ত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর জেনারেল (অব:) আবদুল মতিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

‘বিডিআর বিদ্রোহ’ নিয়ে সম্প্রতি আমার দেশ পত্রিকা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদক সৈয়দ আবদাল আহমদ তার প্রতিবেদনে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে কারণ, এর মাস্টারমাইন্ড কে ছিলেন ও হাসিনা কাদের সাহায্য নিয়েছেন তিনি তা তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’,  ঢাকায় আনা হয় প্রশিক্ষিত কিলার গ্রুপ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতীয় কিলার গ্রুপের একটি অংশকে খেলোয়াড় বেশে বিডিআরের একটি পিকআপে করে এবং আরেকটি অংশকে রোগী সাজিয়ে নম্বরবিহীন অ্যাম্বুলেন্সে করে পিলখানায় ঢোকানো হয়। রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে তারা পিলখানা ত্যাগও করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা ভারতীয় কিলার গ্রুপটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বিমানের দুবাইগামী ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়।

এজন্য ফ্লাইটটি দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে। আরও জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর লোকজন ও কিলার গ্রুপের সদস্যরা ফার্মগেটে অবস্থিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের হোটেল ইম্পেরিয়াল ব্যবহার করেছে। নাম-পরিচয় গোপন রেখে ইম্পেরিয়াল হোটেলে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন। পিলখানায় সংঘটিত ঘটনা ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ হিসেবে চালানো হলেও এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেনাপ্রধান হিসেবে বিডিআর হত্যা মোকাবেলা তথা সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ। হত্যাকাণ্ডের দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞে নিহত সাবেক বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের যারা নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়েছেন, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি কমিশন তদন্ত করছে এই নেপথ্যের খলনায়কদের যেন জাতির সামনে আনা হয়। আমরা ইতোমধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছি। তদন্তে যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করায় আনন্দিত স্বজনরা 

এ ঘটনায় নির্মমভাবে নিহত কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী মেহরিন ফেরদৌসী বলেন, আমাদের তিনটি চাওয়া ছিল। ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ ঘোষণা করা, দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা ও শহীদদের মর্যাদা। দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করায় আমরা আনন্দিত। তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কুশীলবদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। যারা দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে- তাদের ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনীর যেসব কর্মকর্তা নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্র করেছে- তাদের বিচারের আওতায় সর্বাত্মক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা শহিদ হয়েছেন তাদের সবার পরিবারই ২৫ ফেব্রুয়ারিকে বিশেষভাবে পালন করে। এজন্য সম্প্রতি আমরা ‘শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশন’ করেছি। আজ মঙ্গলবার সকালে আমরা বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে পুষ্পস্তাবক অর্পণ করে ‘শহীদদের’ শ্রদ্ধা জানাবো। এরপর রাওয়া ক্লাবে একটি শোকসভা করা হবে। পরে মিরপুর-২ নম্বরের একটি মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার স্বামী সবসময় আমার সঙ্গে থাকেন। আমি সবাইকে বলি আমাকে অর্ধেক মেহরিন অর্ধেক মুজিব হিসেবে দেখতে। এভাবেই বেঁচে থাকবো আমৃত্যু।

নিহত কর্নেল কুদরত এলাহীর ছেলে আইনজীবী সাকিব রহমান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনা আমাদের প্রাণের দাবি। যেহেতু সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কোনো বিচারিক ত্রুটি ছিল না, সেহেতু আমরা চাইব হত্যা মামলার আসামিদের যেন জামিন দেয়া না হয়। পাশাপাশি নেপথ্য নায়কদের আইনের আনা হয়।

কালের আলো/আরআই/এমকে

বাংলাদেশসহ ১৭ দেশে পুনরায় ফ্লাইট চালু করল এয়ার অ্যারাবিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশসহ ১৭ দেশে পুনরায় ফ্লাইট চালু করল এয়ার অ্যারাবিয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ভিত্তিক বিমান সংস্থা এয়ার অ্যারাবিয়া শনিবার ইউএই থেকে পুনরায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু করেছে।

এয়ার অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে শারজাহ, আবুধাবি এবং রাস আল খাইমাহ থেকে ১৭টি দেশের মোট ৪৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিঘ্নের পর সংস্থাটি ধাপে ধাপে আবার কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করছে। এয়ারলাইন্সটির অন্তর্ভুক্ত গন্তব্যগুলোর মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ রয়েছে বাংলাদেশও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যাত্রীদের বিষয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্বে যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তারা পুনরায় বুকিং করতে পারবেন, তবে কেবল তারাই এই সুবিধা পাবেন যারা আগে তারিখ পরিবর্তন বা অর্থ ফেরতের সুবিধা গ্রহণ করেননি। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিষয়টি সংস্থার পক্ষ থেকে সরাসরি জানানো হবে।

কালের আলো/এসএকে

ঢাকার একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল

আসন্ন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকেন্দ্র ‘ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ’ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে গত ১৫ মার্চ কেন্দ্রটি বাতিলের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপেক্ষিতেই বোর্ড কর্তৃপক্ষ আসন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা থেকে ইমপিরিয়াল কলেজের নাম বাদ দিয়েছে। এর ফলে এই কলেজের নির্ধারিত পরীক্ষার্থীদের বিকল্প কেন্দ্রে আসন বিন্যাস করা হবে।

ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ কেন্দ্রটি বাতিল হলেও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ঢাকা বোর্ড নতুন পাঁচটি পরীক্ষাকেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় শিক্ষা কার্যক্রমের সুবিধার্থে আরও চারটি কেন্দ্র পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

নতুন অনুমোদন পাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগরের মাতুয়াইল হাজী আবদুল লতিফ ভূইয়া কলেজ অন্যতম। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে টাঙ্গাইলের চাপড়ী বহুমুখী গণ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের থানেশ্বর স্কুল এন্ড কলেজ, শরীয়তপুরের শহীদ সিরাজ সিকদার ডিগ্রী কলেজ এবং মাদারীপুরের সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ।

শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট লাঘব করতে নরসিংদীর নারায়নপুর রাবেয়া কলেজ, কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজ, মাদারীপুরের চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয় এবং রাজবাড়ীর ডা. আবুল হোসেন কলেজ কেন্দ্র চারটি পুনরায় সচল করেছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার স্বার্থেই এই প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ কেন্দ্র বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের নতুন আসন বিন্যাস সম্পর্কে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করা হবে। পরীক্ষার্থীদের যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে বোর্ডের নিয়মিত নোটিশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বোর্ড কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নতুন কেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

কালের আলো/এসএকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম