খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

প্রবাসীদের প্রক্সি ভোটের ভাবনায় আলোড়ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ২:০১ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের প্রক্সি ভোটের ভাবনায় আলোড়ন

কালের আলো রিপোর্ট:

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে কর্মরত এক কোটি ৩৬ লাখের মতো প্রবাসী। দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বিদেশবিভুঁইয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এসব প্রবাসী বছরে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে এই বিপুলসংখ্যক ভোটার কখনও ভোট দিতে পারেননি। বরাবরই তাঁরা তাদের ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ভোট ক্ষমতা প্রয়োগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ছোট পরিসরে ‘প্রক্সি ভোটিং’ পদ্ধতি চালুর কথা ভাবছে তাঁরা। সময়ের মধ্যে সম্পাদনযোগ্য একটি পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি, অনলাইন পদ্ধতি এবং প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হলে প্রক্সি ভোট পদ্ধতিটি মোটামুটি পরিসরে চালু করা সম্ভব হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ’র কথায়ও পাওয়া গেছে এমন আভাস।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন- ‘পোস্টাল, অনলাইন ও প্রক্সি ভোট-এই তিনটি পদ্ধতির মধ্যে প্রক্সি ভোট নিয়ে এপ্রিলের শুরুতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সবার সম্মতি পেলে এবং সিস্টেম ডেভেলপ করা সম্ভব হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ছোট পরিসরে চালু করা হবে প্রক্সি ভোট।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ’র এমন বক্তব্যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ইসির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরাও। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট প্রয়োগের দীর্ঘদিনের আক্ষেপের অবসান ঘটতে চলেছে। তাঁরা বলছেন, ‘বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা সংসদে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে নিজের ভোট ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। কিন্তু আমরা কখনও এই সুযোগটি পাইনি। এবার অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। নি:সন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ভোটার হালনাগাদের ২০২৫ সালের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা গেছে, দেশে মোট ভোটার বেড়ে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নতুন ভোটার ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩১২ জন। ভোটার বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া প্রায় সোয়া কোটির বেশি কর্মসূত্রে প্রবাসী রয়েছেন। যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। আসনভিত্তিক এই সংখ্যা যে কোনো আসনের ভোটের ফল নির্ধারণে ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দিলে তাকে ভোটের অধিকারও দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ২৭ অনুচ্ছেদের (১) এর (গ) মোতাবেক বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ভোটার ডাকযোগ (পোস্টাল) ব্যালটে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন। কিন্তু অতীতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে নির্বাচন কমিশন।

  • সিস্টেম ডেভেলপ করা সম্ভব হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ছোট পরিসরে চালু করা হবে প্রক্সি ভোট
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
    নির্বাচন কমিশনার (ইসি)

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ প্রবাসী ভোটাধিকারের বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রক্সি ভোট, এটিই একমাত্র পদ্ধতি ন্যূনতম ইন্টারভেনশনের সময়ের মধ্যে করা সম্ভব। কমিটি যে রোডম্যাপ সাজেস্ট করেছে এবং কমিশন গতকাল (সোমবার) এপ্রুভড করেছে-তিনটি পদ্ধতি নিয়ে একটা ওয়ার্কশপ করা হবে এ প্রস্তাবনার ওপরে।’

ইসি আবুল ফজল বলেন, ‘প্রক্সি ভোট হচ্ছে, একজন প্রবাসী বাংলাদেশির পক্ষে দেশে অবস্থান করা একজন ভোটার তার হয়ে ভোটটা দিয়ে দেওয়া। ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া, ভোটারের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ ভোটিং সিস্টেম রাখা-এসব আমাদের বিবেচনার বিষয়।’

প্রক্সি ভোট পদ্ধতি চালুর জন্য প্রথমে ডেভেলপ করা হবে একটি অ্যাপ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রক্সি ভোট পদ্ধতি চালুর জন্য প্রথমে একটি অ্যাপ ডেভেলপ করা হবে। যদিও অ্যাপ তৈরির কাজ এখনো শুরু হয়নি। এ পদ্ধতিতে প্রবাসী যারা ভোটে দিতে চান, তারা প্রথমে একটি অ্যাপে ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করবেন। প্রি-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ভোটের আগ্রহ প্রকাশ করবেন। ওই রেজিস্ট্রেশনের সময় তার পক্ষে যিনি প্রক্সি ভোট দেবেন, ওই ব্যক্তির এনআইডি এবং বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, যিনি প্রক্সি ভোট দেবেন, তিনি নিজের ভোটও দিতে পারবেন। প্রক্সি মূলত ওয়ান কাইন্ড অব পাওয়ার অব অ্যাটর্নি। প্রবাসীরা বিদেশে বসে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং নিজের পক্ষে একজনকে (নিজ নির্বাচনী এলাকার) প্রক্সি ভোটার হিসেবে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রক্সি ভোটারের এনআইডি ও ফোন নম্বর দিতে হবে।

ইসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত কমিটি নিয়ে আবুল ফজল বলেন, ‘কমিটি প্রস্তাব করেছে-প্রথম দুটি পদ্ধতি সময়ের মধ্যে সম্পাদনযোগ্য পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি এবং অনলাইন পদ্ধতি। এই দুটিকে তারা প্রস্তাব করেছে। ট্রায়াল করে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য তা দেখতে বলেছে।’

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি কমিটি সুপারিশ করেছে আগামী নির্বাচনে যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়, তাই প্রবাসীদের চাওয়া পূরণ করতে আমাদের প্রক্সি ভোটিংয়ে যেতে হবে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায় প্রক্সি ভোটিং আছে। ভারতে কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য এটি চালু আছে।’ তার ভাষ্য হচ্ছে- ‘কমিটি যে রোডম্যাপ সাজেস্ট করেছে এবং সেটি কমিশন গতকাল (সোমবার) অ্যাপ্রুভ করেছে যে এই তিন ভোটিং সিস্টেম নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হবে। আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই কর্মশালা হবে। এর মধ্যে আমরা চূড়ান্ত করব। সেজন্য আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যারা এগুলো নিয়ে কাজ করে তাদের যুক্ত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এমআইএসটি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটির বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানদের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

কর্মশালার মাধ্যমে তিনটি সিস্টেম আর্কিটেকচার ডেভেলপ করা হবে বলে জানান ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটি ডেভেলপ হবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে। এরপরে আমরা স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। সেখানে যদি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন হয় তখন আমরা একটি সিস্টেম দাঁড় করাব। সেটার জন্য লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ককে মডিফাইড করতে হবে। বর্তমান যে আইন আছে সেই আইন পরিবর্তন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনালি আমরা একটা ট্রায়াল রানে যাব। আমাদের আশা, এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আমরা প্রক্সি ভোট মোটামুটি একটা পরিসরে আমরা আগামী নির্বাচনে চালু করতে পারব। আর বাকিগুলো ট্রায়াল ফেজে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারব বলে আমাদের ধারণা।’

প্রক্সি ভোটিং সিস্টেম ভালো উদ্যোগ, বলছেন প্রবাসীরা
সিলেটের কানাইঘাটের প্রবাসী দুলাল চৌধুরী। গত ১৫ বছর ধরে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশে থাকতে পারেন না। কিন্তু প্রবাসীদের ভোট প্রয়োগের সুযোগের অভাবে তিনিও ভোট না দেওয়ার আক্ষেপে পোড়েন। এবার প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রক্সি ভোটের সুযোগ পেলে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

কানাডা প্রবাসী আহমেদ সুলতান বলেন, প্রক্সি ভোটিং সিস্টেম ভালো উদ্যোগ। অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের দিকে নজর দিয়েছে। তবে এর মাধ্যমে প্রবাসীদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটতে হবে। আমি যাকে ভোট দিতে চাই তাকে যেন ভোটটা দিতে পারি, সেটা যেন নিশ্চিত করা হয়।’

আরেক কানাডা প্রবাসী নুরুজ্জামান মামুন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। বিগত সরকার আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ বঞ্চিত করেছে। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত আন্দোলনের ফসল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। প্রক্সি ভোটের এই উদ্যোগ নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

বিএমইটি’র তথ্য মোতাবেক প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা
জনশক্তি রপ্তানি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) জানায়, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শ্রমিক ভিসায় বাংলাদেশ ছেড়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ। এই সময়ে তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ইউএস ডলার। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবশেষ গত ১০ বছরে শ্রমিক ভিসায় প্রবাসে গেছেন ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ। সবশেষ পাঁচ বছরেই শ্রমিক ভিসায় বিদেশে গেছেন সাড়ে ৩৬ লাখ বাংলাদেশি। ২০২২ সালে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩। এর আগে ২০২১ সালেও ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ বাংলাদেশি শ্রমিক অভিবাসী হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে সৌদি আরবে গেছেন ২০ লাখ, আরব আমিরাতে ২ লাখ ১৫ হাজার, কুয়েতে ৬৬ হাজার, ওমানে ৪ লাখ ৩৫ হাজার, কাতারে ১ লাখ ২৫ হাজার, মালয়েশিয়ায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার, সিঙ্গাপুরে ১ লাখ ৯৩ হাজার, লেবাননে ৯ হাজার, জর্ডানে ৫৬ হাজার, লিবিয়ায় ৭৫০ জন, বাহরাইনে ১৫৮ জন, সুদানে ৬৫৫ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ হাজার, যুক্তরাজ্যে সাড়ে ৭ হাজার, ইতালিতে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ জন, জাপানে ১ হাজার ৫৭৯ জন, মিসরে ৭৫ জন, ব্রুনাইতে ৭ হাজার ১০১ জন, মরিশাসে ১৬ হাজার ৪৮৬ জন, ইরাকে ৯ হাজার ৪২৭ জন ও অন্যান্য শতাধিক দেশে মোট প্রায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছে। যাদের অনেকে ছুটিতে দেশে আসা-যাওয়া করলেও বেশির ভাগই প্রবাসে রয়েছেন।

বিএমইটি জানায়, শ্রমিক ভিসায় বিদেশে যাওয়া মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সৌদি আরবে (৩৫.৭৩%) রয়েছেন। এর পরই রয়েছে আরব আমিরাত (১৬.৩৯%) ও ওমানের (১১.৮২%) অবস্থান। মালয়েশিয়ায় রয়েছে মোট প্রবাসীর ৮.৮৪ শতাংশ। কুয়েতে ৪.৩৩ শতাংশ, কাতারে ৫.৫৯ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৫.৮৭ শতাংশ, বাহরাইনে ২.৬০ শতাংশ, লেবাননে ১.৭২ শতাংশ, জর্ডানে ১.৩৭ শতাংশ, লিবিয়ায় ০.৭৮ শতাংশ, সুদানে ০.০৮ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ০.৩৩ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ০.১১ শতাংশ, ইতালিতে ০.৫০ শতাংশ, জাপানে ০.০২ শতাংশ, মিসরে ০.১৫ শতাংশ, ব্রুনাইয়ে ০.৫০ শতাংশ, ইরাকে ০.৪৮ শতাংশ ও অন্যান্য দেশে ২.০২ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র ২০টি দেশেই অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমিক। এছাড়া ইউনেস্কোর তথ্য বলছে, প্রতি বছর গড়ে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অর্থাৎ তরুণ ভোটারদেরও একটি বড় অংশ প্রবাসে অবস্থান করছেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

রাজধানীর রমনা বটমূলে শেষ হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ ১৪৩৩-এর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষের আগে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বক্তব্যে বলেন, সমাজে দিন দিন বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রত্যাশা সকলের।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন বিশ্বজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে দেশের ভেতরেও, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশে অনেকেই নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক সহনশীলতার অবক্ষয় একটি সুস্থ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছর হোক ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তচিন্তার বিকাশের প্রতীক। যেখানে মানুষ নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে, মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হবে। শুভ নববর্ষ।

এর আগে সূর্যোদয়ের পরপর শুরু হয় বর্ষবরণের ছায়ানটের অনুষ্ঠান। এবারের বার্তা, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—সেখানেই বাঙালির জয়। ছায়ানটের ৫৯তম অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি লোকজনজীবনের সুর দিয়ে। সব মিলিয়ে বাঙালি সমাজকে বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে ‘আরও মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয়। সময় যত গড়িয়েছে, বেলা যত বেড়েছে ততই ভিড় বাড়তে দেখা গেছে অনুষ্ঠানস্থলে।

এদিন নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজনের কমতি ছিল না রমনার বটমূলে। বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করে ঐতিহ্যগতভাবে বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। নতুন বছরকে তাই বরণ করে নেওয়া হয় সুরের মূর্ছনায়।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এর পরপরই পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি। এরপর একের পর এক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইয়ের গান, লোকগানের পাশাপাশি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান পরিবেশন করা হয়।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবং প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের গান। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয় প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি ছিল সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান ছিল ১৪টি। পাঠ ছিল দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এদিকে ভোর থেকেই রমনায় বৈশাখী সাজে হাজির হন শিশু, নারী ও পুরুষ। সবারই প্রত্যাশা—বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে নতুনের আবহে শুরু হোক বছরটি। বিভেদ ভুলে সাম্য আর ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সবার।

জানা গেছে, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গেয়েছে ছায়ানট। এবার মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতার ধ্বংসযজ্ঞে মত্ত-বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। সে বছর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হলো রমনার এই বটমূল থেকেই।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে সুরের মূর্ছনা আর কথামালায়। কোভিডের দুই বছর এ আয়োজন হয় ভার্চু্যয়ালি। ২০০১ সালে ছায়ানটের বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। তাতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রতিবছর বর্ষবরণের এ আয়োজন চলছে।

বর্ষবরণের আয়োজন ঘিরে পুরো রমনা পার্ক এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। বসানো হয় ডিএমপি ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম। প্রবেশপথ ও বাহিরপথ আলাদা করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উৎসবের আমেজে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
উৎসবের আমেজে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখী শোভাযাত্রা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর ও বেগম রোকেয়া হল এলাকা ঘুরে আবার চারুকলা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়।

এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং নগরবাসী।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে অংশ নিতে সকাল থেকেই চারুকলা এলাকায় ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। অনেককে দেখা যায় সাদা-লাল রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে।

শোভাযাত্রার শুরুতে ছিল মহানগর পুলিশের ১০টি ঘোড়সওয়ার দল। তাদের পেছনে জাতীয় পতাকা বহন করে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর একটি দল অংশ নেয়।

এরপর মূল ব্যানারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষকবৃন্দ, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদ, কবিতা পরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রার আকর্ষণ হিসেবে ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ-মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এছাড়া প্রায় ৪০ জন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ পটচিত্রের স্ক্রল পেইন্টিং শোভাযাত্রায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এতে অংশ নেয় দেশের ১০টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও, যা আয়োজনটিকে বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজারো মানুষ চারুকলা এলাকায় সমবেত হন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল রঙিন মুখোশ, প্রতীকী মোটিফ, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপন এবং বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির অনুষঙ্গ।
এবারের শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা এবং সম্প্রীতির বার্তা বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চারুকলা এলাকা ও আশপাশের সড়কে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী শোভাযাত্রা বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বাংলা নববর্ষ ঘিরে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানী গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। এতে বলা হয়, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সোয়া ছয়টার দিকে যন্ত্রবাদনের মধ্য দিয়ে ছায়ানটের কার্যক্রম শুরু হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে। আরো রয়েছে লোকগান। আজকের আয়োজনে মোট ২২টি গান থাকছে।

এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান, একক কণ্ঠের গান ১৪টি। পাঠ থাকছে দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

নববর্ষ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তা নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি। সকালে রমনা বটমূলের অনুষ্ঠানস্থলে আগতদের আসতে হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি পার হয়ে।

বিশেষ করে রমনা এলাকায় বৈশাখী শোভাযাত্রা ও মূল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ড্রোন ও ওয়াচ টাওয়ারসহ একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মৎস্য ভবনসহ আশপাশের প্রতিটি মোড়েও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কালের আলো/এসআর/এএএন