খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রবাসীদের প্রক্সি ভোটের ভাবনায় আলোড়ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ২:০১ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের প্রক্সি ভোটের ভাবনায় আলোড়ন

কালের আলো রিপোর্ট:

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে কর্মরত এক কোটি ৩৬ লাখের মতো প্রবাসী। দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বিদেশবিভুঁইয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এসব প্রবাসী বছরে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে এই বিপুলসংখ্যক ভোটার কখনও ভোট দিতে পারেননি। বরাবরই তাঁরা তাদের ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ভোট ক্ষমতা প্রয়োগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ছোট পরিসরে ‘প্রক্সি ভোটিং’ পদ্ধতি চালুর কথা ভাবছে তাঁরা। সময়ের মধ্যে সম্পাদনযোগ্য একটি পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি, অনলাইন পদ্ধতি এবং প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হলে প্রক্সি ভোট পদ্ধতিটি মোটামুটি পরিসরে চালু করা সম্ভব হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ’র কথায়ও পাওয়া গেছে এমন আভাস।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন- ‘পোস্টাল, অনলাইন ও প্রক্সি ভোট-এই তিনটি পদ্ধতির মধ্যে প্রক্সি ভোট নিয়ে এপ্রিলের শুরুতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সবার সম্মতি পেলে এবং সিস্টেম ডেভেলপ করা সম্ভব হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ছোট পরিসরে চালু করা হবে প্রক্সি ভোট।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ’র এমন বক্তব্যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ইসির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরাও। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট প্রয়োগের দীর্ঘদিনের আক্ষেপের অবসান ঘটতে চলেছে। তাঁরা বলছেন, ‘বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা সংসদে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে নিজের ভোট ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। কিন্তু আমরা কখনও এই সুযোগটি পাইনি। এবার অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। নি:সন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ভোটার হালনাগাদের ২০২৫ সালের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা গেছে, দেশে মোট ভোটার বেড়ে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নতুন ভোটার ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩১২ জন। ভোটার বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া প্রায় সোয়া কোটির বেশি কর্মসূত্রে প্রবাসী রয়েছেন। যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। আসনভিত্তিক এই সংখ্যা যে কোনো আসনের ভোটের ফল নির্ধারণে ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দিলে তাকে ভোটের অধিকারও দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ২৭ অনুচ্ছেদের (১) এর (গ) মোতাবেক বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ভোটার ডাকযোগ (পোস্টাল) ব্যালটে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন। কিন্তু অতীতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে নির্বাচন কমিশন।

  • সিস্টেম ডেভেলপ করা সম্ভব হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ছোট পরিসরে চালু করা হবে প্রক্সি ভোট
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
    নির্বাচন কমিশনার (ইসি)

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ প্রবাসী ভোটাধিকারের বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রক্সি ভোট, এটিই একমাত্র পদ্ধতি ন্যূনতম ইন্টারভেনশনের সময়ের মধ্যে করা সম্ভব। কমিটি যে রোডম্যাপ সাজেস্ট করেছে এবং কমিশন গতকাল (সোমবার) এপ্রুভড করেছে-তিনটি পদ্ধতি নিয়ে একটা ওয়ার্কশপ করা হবে এ প্রস্তাবনার ওপরে।’

ইসি আবুল ফজল বলেন, ‘প্রক্সি ভোট হচ্ছে, একজন প্রবাসী বাংলাদেশির পক্ষে দেশে অবস্থান করা একজন ভোটার তার হয়ে ভোটটা দিয়ে দেওয়া। ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া, ভোটারের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ ভোটিং সিস্টেম রাখা-এসব আমাদের বিবেচনার বিষয়।’

প্রক্সি ভোট পদ্ধতি চালুর জন্য প্রথমে ডেভেলপ করা হবে একটি অ্যাপ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রক্সি ভোট পদ্ধতি চালুর জন্য প্রথমে একটি অ্যাপ ডেভেলপ করা হবে। যদিও অ্যাপ তৈরির কাজ এখনো শুরু হয়নি। এ পদ্ধতিতে প্রবাসী যারা ভোটে দিতে চান, তারা প্রথমে একটি অ্যাপে ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করবেন। প্রি-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ভোটের আগ্রহ প্রকাশ করবেন। ওই রেজিস্ট্রেশনের সময় তার পক্ষে যিনি প্রক্সি ভোট দেবেন, ওই ব্যক্তির এনআইডি এবং বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, যিনি প্রক্সি ভোট দেবেন, তিনি নিজের ভোটও দিতে পারবেন। প্রক্সি মূলত ওয়ান কাইন্ড অব পাওয়ার অব অ্যাটর্নি। প্রবাসীরা বিদেশে বসে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং নিজের পক্ষে একজনকে (নিজ নির্বাচনী এলাকার) প্রক্সি ভোটার হিসেবে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রক্সি ভোটারের এনআইডি ও ফোন নম্বর দিতে হবে।

ইসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত কমিটি নিয়ে আবুল ফজল বলেন, ‘কমিটি প্রস্তাব করেছে-প্রথম দুটি পদ্ধতি সময়ের মধ্যে সম্পাদনযোগ্য পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি এবং অনলাইন পদ্ধতি। এই দুটিকে তারা প্রস্তাব করেছে। ট্রায়াল করে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য তা দেখতে বলেছে।’

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি কমিটি সুপারিশ করেছে আগামী নির্বাচনে যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়, তাই প্রবাসীদের চাওয়া পূরণ করতে আমাদের প্রক্সি ভোটিংয়ে যেতে হবে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায় প্রক্সি ভোটিং আছে। ভারতে কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য এটি চালু আছে।’ তার ভাষ্য হচ্ছে- ‘কমিটি যে রোডম্যাপ সাজেস্ট করেছে এবং সেটি কমিশন গতকাল (সোমবার) অ্যাপ্রুভ করেছে যে এই তিন ভোটিং সিস্টেম নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হবে। আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই কর্মশালা হবে। এর মধ্যে আমরা চূড়ান্ত করব। সেজন্য আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যারা এগুলো নিয়ে কাজ করে তাদের যুক্ত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এমআইএসটি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটির বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানদের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

কর্মশালার মাধ্যমে তিনটি সিস্টেম আর্কিটেকচার ডেভেলপ করা হবে বলে জানান ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটি ডেভেলপ হবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে। এরপরে আমরা স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। সেখানে যদি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন হয় তখন আমরা একটি সিস্টেম দাঁড় করাব। সেটার জন্য লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ককে মডিফাইড করতে হবে। বর্তমান যে আইন আছে সেই আইন পরিবর্তন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনালি আমরা একটা ট্রায়াল রানে যাব। আমাদের আশা, এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আমরা প্রক্সি ভোট মোটামুটি একটা পরিসরে আমরা আগামী নির্বাচনে চালু করতে পারব। আর বাকিগুলো ট্রায়াল ফেজে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারব বলে আমাদের ধারণা।’

প্রক্সি ভোটিং সিস্টেম ভালো উদ্যোগ, বলছেন প্রবাসীরা
সিলেটের কানাইঘাটের প্রবাসী দুলাল চৌধুরী। গত ১৫ বছর ধরে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশে থাকতে পারেন না। কিন্তু প্রবাসীদের ভোট প্রয়োগের সুযোগের অভাবে তিনিও ভোট না দেওয়ার আক্ষেপে পোড়েন। এবার প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রক্সি ভোটের সুযোগ পেলে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

কানাডা প্রবাসী আহমেদ সুলতান বলেন, প্রক্সি ভোটিং সিস্টেম ভালো উদ্যোগ। অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের দিকে নজর দিয়েছে। তবে এর মাধ্যমে প্রবাসীদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটতে হবে। আমি যাকে ভোট দিতে চাই তাকে যেন ভোটটা দিতে পারি, সেটা যেন নিশ্চিত করা হয়।’

আরেক কানাডা প্রবাসী নুরুজ্জামান মামুন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। বিগত সরকার আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ বঞ্চিত করেছে। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত আন্দোলনের ফসল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। প্রক্সি ভোটের এই উদ্যোগ নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

বিএমইটি’র তথ্য মোতাবেক প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা
জনশক্তি রপ্তানি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) জানায়, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শ্রমিক ভিসায় বাংলাদেশ ছেড়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ। এই সময়ে তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ইউএস ডলার। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবশেষ গত ১০ বছরে শ্রমিক ভিসায় প্রবাসে গেছেন ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ। সবশেষ পাঁচ বছরেই শ্রমিক ভিসায় বিদেশে গেছেন সাড়ে ৩৬ লাখ বাংলাদেশি। ২০২২ সালে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩। এর আগে ২০২১ সালেও ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ বাংলাদেশি শ্রমিক অভিবাসী হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে সৌদি আরবে গেছেন ২০ লাখ, আরব আমিরাতে ২ লাখ ১৫ হাজার, কুয়েতে ৬৬ হাজার, ওমানে ৪ লাখ ৩৫ হাজার, কাতারে ১ লাখ ২৫ হাজার, মালয়েশিয়ায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার, সিঙ্গাপুরে ১ লাখ ৯৩ হাজার, লেবাননে ৯ হাজার, জর্ডানে ৫৬ হাজার, লিবিয়ায় ৭৫০ জন, বাহরাইনে ১৫৮ জন, সুদানে ৬৫৫ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ হাজার, যুক্তরাজ্যে সাড়ে ৭ হাজার, ইতালিতে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ জন, জাপানে ১ হাজার ৫৭৯ জন, মিসরে ৭৫ জন, ব্রুনাইতে ৭ হাজার ১০১ জন, মরিশাসে ১৬ হাজার ৪৮৬ জন, ইরাকে ৯ হাজার ৪২৭ জন ও অন্যান্য শতাধিক দেশে মোট প্রায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছে। যাদের অনেকে ছুটিতে দেশে আসা-যাওয়া করলেও বেশির ভাগই প্রবাসে রয়েছেন।

বিএমইটি জানায়, শ্রমিক ভিসায় বিদেশে যাওয়া মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সৌদি আরবে (৩৫.৭৩%) রয়েছেন। এর পরই রয়েছে আরব আমিরাত (১৬.৩৯%) ও ওমানের (১১.৮২%) অবস্থান। মালয়েশিয়ায় রয়েছে মোট প্রবাসীর ৮.৮৪ শতাংশ। কুয়েতে ৪.৩৩ শতাংশ, কাতারে ৫.৫৯ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৫.৮৭ শতাংশ, বাহরাইনে ২.৬০ শতাংশ, লেবাননে ১.৭২ শতাংশ, জর্ডানে ১.৩৭ শতাংশ, লিবিয়ায় ০.৭৮ শতাংশ, সুদানে ০.০৮ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ০.৩৩ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ০.১১ শতাংশ, ইতালিতে ০.৫০ শতাংশ, জাপানে ০.০২ শতাংশ, মিসরে ০.১৫ শতাংশ, ব্রুনাইয়ে ০.৫০ শতাংশ, ইরাকে ০.৪৮ শতাংশ ও অন্যান্য দেশে ২.০২ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র ২০টি দেশেই অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমিক। এছাড়া ইউনেস্কোর তথ্য বলছে, প্রতি বছর গড়ে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অর্থাৎ তরুণ ভোটারদেরও একটি বড় অংশ প্রবাসে অবস্থান করছেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ছাড়া তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১৪০০ এর বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে আসছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পানির উচ্চতা বেশি বেড়ে গেলে ভাটির দিকে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আশেপাশের বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু নেপালেই নয়, তিব্বতেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ একটি হ্রদে আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ থাকতে পারে। এতে করে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলার সহায়তা বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য ও দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল মেডিসিন, খাবার, শ্যাম্পু, মেহেদি, চা পাতা ও জিরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীন সিন্দুরখান বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত পিলার ১৯৪৬-এম থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গান্ধীছড়া চা-বাগান এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় এনিমেল মেডিসিন, খাবার ও শ্যাম্পুসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

অন্য একটি অভিযানে নির্দিষ্ট একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য পায় বিজিবি। এর ভিত্তিতে বিজিবির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অবস্থান নেয়।

এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তল্লাশি করে মাছের খাবারের বস্তার মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চা পাতা, কাবেরী মেহেদি ও জিরা পাওয়া যায়। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্য ও যানবাহন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব এতদিন অনেকটা এককভাবেই পালন করে এসেছে পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এই ভূমিকায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা-সংলাপ চালিয়ে যেতে আর আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

তবে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন. “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান থেকে সূত্রপাত হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পেরিয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন এবং ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দু’টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, আবার সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তবে ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দেশটির অর্থনীতির ওপর সীমাহীন চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এমন পরিস্থিতিতেই তেহরান সফর করলেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারের প্রধামন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলরহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছে দেশটির শীর্ষ আলোচক এবং ক্ষমতসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং সে বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আল-থানির এ আহ্বানের উত্তরে ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।

আল-থানি এবং ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রনালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়— তাহলে ইরানের হরমুজ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা শুরু করতে হবে।

আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ