খুঁজুন
                               
, ,
           

বিতর্ক থাকলেও পর্বতসম চ্যালেঞ্জ নিয়েই ছুটছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
বিতর্ক থাকলেও পর্বতসম চ্যালেঞ্জ নিয়েই ছুটছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে কঠিন এক সময় পার করছে দেশ। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রীতিমতো টালমাটাল। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে শহর বা গ্রামগঞ্জে এ নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা বারবার জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি কিংবা নগরজুড়ে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আলোচনায় এসেছে, সেগুলো ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব ঘটনায় নিজেদের দায় এড়াতে পারে না বলছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। তবে এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা কৌশলের প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি ওঠেছে। কোথাও কোথাও পালিত হয়েছে কর্মসূচি ও মশাল মিছিল।

উচ্চপদস্থ অভিজ্ঞ সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা তাকে ঘিরে কঠোর সব সমালোচনা হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। পাল্টা জবাবের বেলাতেও থেকেছেন বিনয়া বনত ও সতর্ক। বয়সকে হার মানিয়ে ক্ষমতাবান ভাবমূর্তিকে দূরে ঠেলে নির্লোভ, আদর্শ আর সাহসের আলোয় একটি টিম স্পিরিট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নতি সাধনে মেধা ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন। শুধু কী তাই? জনরোষের শিকার হয়ে ভঙ্গুর ও নির্লিপ্ত পুলিশ বাহিনীকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে থানায় সেবামুখী করার মতো কঠিন এক চ্যালেঞ্জ পার করেছেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় শতাধিক তল্লাশিচৌকি বা চেকপোস্ট বসিয়েছেন। বাড়িয়েছেন পুলিশের টহল কার্যক্রমও। অপরাধ প্রবণ এলাকায় টহল জোরদার নিশ্চিত করেছেন। এসব চেকপোস্ট ও টহল দলের রাতের কার্যক্রম কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত দায়িত্ব প্রদান করেছেন। রমজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিজের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন। একেবারেই মনোবল হারানো বাংলাদেশ পুলিশকে স্বগৌরবে ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত প্রয়াসে মনোনিবেশ করেছেন। এসব কাজগুলো এলাম, দেখলাম, জয় করলাম এর মতো সহজ না হলেও ধৈর্য্য, অসীম সাহসিকতা আর পেশাদারিত্বের সঙ্গেই তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে।

জানা যায়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আন্দোলনের নামে আনসার সদস্যদের নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বড় ধরনের অনেক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সজাগ-সতর্ক থেকেছেন-থাকছেন প্রতিনিয়ত। তবুও বিতর্ক তাঁর পিছু না ছাড়লেও অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর একটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেননি সমালোচকরাও। এ থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান তাঁর নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ়। দেশের মানুষের প্রতি ও নিজের দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ থেকেই থেকেই সাহস ও সত্যের ওপর ভর করেই চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হতে তাঁর আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত, এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্বভাবতই দেশের জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার দায়িত্ব অর্পিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঁধে। এই পদে দায়িত্ব পালন করা যে কারও জন্য অনেক বেশি চাপের ও চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে যেকোন দেশে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নাজুক আইনশৃঙ্খলা থেকে উত্তরণ ঘটানো সহজ নয় মোটেও। আর এই কঠিন কাজটিই একদিন-প্রতিদিন করে চলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ব্যক্তিজীবনে একজন সরল মানুষ হিসেবেই তিনি পরিচিত। পরিস্থিতির উন্নয়নে নানা পদক্ষেপের ঘোষণাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছেন। প্রথা ভেঙে রাত আড়াইটার দিকেও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের কোন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যাননি। উল্টো প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। এক সময় তিনিও সাংবাদিক ছিলেন বলেই কীনা গণমাধ্যমকর্মীদের কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এখনও অবধি কোন বেফাঁস মন্তব্য করে সরকারকে বিপাকে ফেলেননি। ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে দেশের বর্তমান সময়ের একমাত্র উদ্বেগ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাজের প্রতি আন্তরিকতার একটি বড় প্রমাণ মেলেছে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আকস্মিক থানা ভিজিট। থানাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে কীনা এটি পর্যবেক্ষণেই কোন আওয়াজ না দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর মিরপুর, দারুসসালাম, আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনের পর তিনি সোমবার (১০ মার্চ) একইভাবে রাজধানীর তেজগাঁও, ধানমন্ডি, শাহবাগ ও নিউমার্কেট থানা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা থানাগুলোর অভ্যর্থনা কক্ষ, হাজতখানাসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা ঘুরে দেখেছেন। পথেই তিনি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত কয়েকটি চেকপোস্ট ও তল্লাশিচৌকি পরিদর্শন করছেন। দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলছেন। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দায়িত্বে অবহেলায় এক এসআই ও কনস্টেবলকে বরখাস্ত করেছেন। এছাড়া তিনি যৌথবাহিনীর কয়েকটি টহল দলের কার্যক্রমও মনিটরিং করছেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও তৎপর, সজাগ ও সতর্ক করতেই তিনি সময়োপযোগী এই উদ্যোগ করেছেন। তাঁর এই কর্মতৎপরতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মূলধারার গণমাধ্যমেও প্রশংসিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মনে করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখান। এই সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন এ সময়েও সজাগ ও সতর্ক থাকে।’ এই উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ‘যারা সংঘবদ্ধভাবে মব পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি করছে, যারা ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি বিভিন্ন অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কার্যক্রম রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পর্বতসম চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রতিনিয়ত কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনেক চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে হয়েছে, হচ্ছে। বিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে সবকিছু তিনি গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তাঁর কাজ করার মানসিকতা ও সততা রয়েছে। পদত্যাগের দাবি তুলে তাকে বিব্রত না করে সমর্থন ও স্বত:স্ফূর্ত সহযোগিতার মাধ্যমেই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কাজ করছেন। সবাই এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছলে পরিস্থিতি অবশ্যই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি