খুঁজুন
                               
, ,
           

দায়িত্বশীলতায় উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
দায়িত্বশীলতায় উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফল গণঅভ্যুত্থানের পর এতে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের চাওয়া মেনে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর তখন ধ্বংসপ্রায় অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা একরকম ভেঙে পড়ে। এরপর শান্তিতে নোবেল জয়ী ড.ইউনূসের নেতৃত্বে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের উপদেষ্টাদের হাত ধরেই রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন বুনে দেশের সাধারণ মানুষ।

সরকারপ্রধানের মতো কয়েকজন বাদে অন্য সব উপদেষ্টারাই নিজেদের ৮ মাস সময় পূর্ণ করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনেও দায়িত্বশীলতা, মেধা, যোগ্যতা ও বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এতে করে তাদের প্রতিও সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স বিচার বিবেচনা করতে ৮ মাস সময় যথেষ্ট না হলেও তারপরও এই সময়ে তারা কী করেছে না করেছে তার দিকে নজর রয়েছে সবার। দৃষ্টি রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থারও। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রতিনিয়ত তারা লড়াই করেছেন। তারা অসফল হওয়া মানেই শত মানুষের রক্ত ও ত্যাগে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে, যা কারও কাম্য হতে পারে না। তাই দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এই সরকারকে সফল করতে প্রতিটি উপদেষ্টা নিজেদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপদেষ্টার কর্মতৎপরতা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়েও প্রতিবেদন থাকবে কালের আলো.কম এ।

ড.আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল কর্মগুণেই আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর আন্তরিকতায় দ্রুততম সময়ে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। আর বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় তৈরির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রস্তুতের কাজও প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

রাউন্ড দ্য ক্লক সক্রিয় সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক এই উপদেষ্টা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা ৭ হাজার ১৮৪টি মামলা আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন। এই সময়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমনে দায়েরকৃত প্রায় সকল ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সন্ত্রাস দমন আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের অভিভাবকত্বে সাফল্যের সঙ্গেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। স্বৈরশাসকের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েও তিনি ছিলেন ‘চির উন্নত মম শির’। দুটি মন্ত্রণালয় পরিচালনায়ও তার পারফরম্যান্স নজরকাড়া। সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা দেশব্যাপী তারুণ্যের উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। নিজের দুটি মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ করেছেন। সরকারকে ব্যর্থ করতে সব অপতৎপরতা রুখে দিতে তিনি সজাগ-সতর্ক রয়েছেন। ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় সব ষড়যন্ত্রের ব্যুহ ভেদ করেছেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বায়ুদূষণ রোধে জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় আদালত ও মাঠে সমানতালে লড়াই চালিয়েছেন দেশের স্বনামে খ্যাত পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই মনোনিবেশ করেছেন দীর্ঘ সময়ের জঞ্জাল সাফে। তিনি বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও পানি দূষণ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বায়ুদূষণের চূড়ায় থাকার দীর্ঘদিনের দুর্নাম ঘুচিয়ে রাজধানীকে নির্মল করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি ২০০২ সালে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা শুরু করেন। নতুন বাংলাদেশ গঠনে পরিবেশ রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। দেশের কাঁচাবাজারসহ খোলাবাজারে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। পলিথিন উৎপাদন বন্ধ, কাঁচাবাজার, সুপারশপেও পলিথিন নিষিদ্ধের বিষয়ে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় অ্যাকশনে যায় তার মন্ত্রণালয়। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব চটের বা পাটের ব্যাগকে প্রমোট করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে আশার মালা গেঁথেছেন দেশের মানুষ।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
দেশের জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার দায়িত্ব অর্পিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঁধে। এই পদে দায়িত্ব পালন করা যে কারও জন্য অনেক বেশি চাপের ও চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে যেকোন দেশে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নাজুক আইনশৃঙ্খলা থেকে উত্তরণ ঘটানো সহজ নয় মোটেও। আর এই কঠিন কাজটিই একদিন-প্রতিদিন করে চলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ব্যক্তিজীবনে একজন সরল মানুষ হিসেবেই তিনি পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আকস্মিক থানা ভিজিট কার্যক্রম ও লাল গালিচার মাধ্যমে তৈলমর্দন নীতির কড়া সমালোচনা করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তিনি থানাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে কীনা এটি পর্যবেক্ষণেই কোন আওয়াজ না দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিচ্ছেন।সরকারের প্রভাবশালী আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুলও সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রার টকশোতে তার কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে আইনশৃঙ্খলায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেকটাই কমে এসেছে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও মব সন্ত্রাসের মতো ঘটনা। এছাড়া এই বছর রমজান ও ঈদের ছুটিতেও জনমনে ছিল স্বস্তি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উল্লেখ করার মতো অপরাধমূলক কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য সময় রোজা ও ঈদকে ঘিরে কমবেশি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মৌসুমি অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু এবার তেমনটি ঘটেনি। পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মতো নির্বিঘ্নে ঈদ যাত্রার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ পাকা জহুরির মতোই সম্পাদন করে চমক দেখিয়েছেন এই উপদেষ্টা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে না থেকে প্রতিনিয়ত ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অন্যান্য বন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন। এসবের মাধ্যমে মিলেছে আশাতীত সাফল্য। প্রথম দিকে সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশকে কাজে ফিরিয়ে আনতে বহুমাত্রিক ও কঠিন চ্যালেঞ্জে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছেন যেকোন মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালনেই তিনি পারঙ্গম। দিন-রাত একাকার করে কাজ করা অন্তর্বর্তী সরকারের পরিশ্রমী এই উপদেষ্টা এবার মনোযোগ দিয়েছেন নৌপথের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ানো চাঁদাবাজি বন্ধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে। তাঁর উদ্যোগে এরই মধ্যে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি বিলোনিয়া ও রামগড় স্থলবন্দরের বাণিজ্য সম্ভাবনা যাচাই করতে কমিটি করে দিয়েছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল রেখে পথচলা এই উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে জনআস্থা পূরণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

কালের আলো/আরআই/এমএএএম

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নদী বিধৌত চলাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, ২ দিনব্যাপী আয়োজিত সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ বলেন, মার্কেটে এই মুহূর্তে যত সারের প্রয়োজন আছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি গোডাউনে মজুত আছে। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি তৈরি হবে না। কৃষকরা যাতে সময়মতো ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের সাতটি জেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জন খামারিকে একটি করে বকনা বাছুর ও প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে প্রাণী খাদ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন সুফলভোগীর মাঝে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সমাপনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং সাত জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম সহ আরও অনেকে।

এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় গজারিয়ার ভবেরচরে-রসুলপুর খালে পোনামাছ অবমুক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশীদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

স্যোশাল মিডিয়ায় বানোয়াট তথ্য, ভুয়া ছবি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশের ইমেজ নষ্টের চেষ্টায় সফল হতে পারেনি চক্রবিশেষ। কিছুদিন ধরে আচ্ছা রকমে চলেছে এ চেষ্টা। এর অংশ হিসেবে দেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া ছবি এবং পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা দেওয়ার হেন চেষ্টা নেই, যা না করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা অশুভ স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এসব করে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি সম্ভব হলেও বড় রকমের ভেজাল তারা পাকাতে পারেনি।

এ অপচেষ্টারই ফলো আপ ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি। মূল উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। এসব অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার কূটনৈতিক এলাকাসহ দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের আতঙ্কিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই দেশবিরোধী এ অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।

চীন-রাশিয়াসহ ঢাকার কয়েকটি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ না করা হলেও দূতাবাসের তরফে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হলে সেখান থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন ইউনিটকে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে কাউন্টার টেররিজম বিষয়টি তদন্ত করছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার পুরো কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দূতাবাসগুলোতে বিভিন্ন ভুয়া ইমেইল থেকে হুমকি দিয়ে মেইল এসেছে। যেসব ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকির মেসেজগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা বয়ানের ই-মেইল পাঠিয়ে, একেক সময় একেক ছদ্মনাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। বার্তাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট চরমপন্থী বা রাজনৈতিকাদর্শের উল্লেখ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অপেশাদার চাঁদাবাজির প্রচেষ্টা।

ডিপ্লোমেটিক জোনে বরাবর সব সময়ই শতভাগ নিরাপত্তা থাকে। যেকোনো ইনসিডেন্ট ঘটলে বা মেসেজ পেলে, সেটা লিখিত বা মৌখিক যা-ই হোক, তৎপরতা বাড়ানো নিয়মিত গতানুগতিক কাজের অংশ। তারপরও আবশ্যকতার প্রশ্নে মেইল করে তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, সেই বিকাশ নম্বরের প্রায় ৩-৪ জনকে পুলিশ লাম জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কিছুই জানে না। মেইল করে যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, তারা নিরীহ লোক। তারপরও দুষ্টকর্মের আয়োজকরা আংশিক সফল। বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে কিছুটা ভীতি ও আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমে খবর হয়েছে। পুলিশকে ব্যস্ত করা গেছে। সরকারকে একটু হলেও বিব্রত করা গেছে। বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের ইমেজে একটু টোকা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটাও তাদের জন্য তৃপ্তির।

কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন (ভিয়েনা কনভেনশন) অনুযায়ী হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের হুমকি বা অপপ্রচার দেশের বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অনিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করা অসম্ভব নয়। দেশবিরোধী অপশক্তি বা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে চাওয়া গোষ্ঠী এর মাধ্যমে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত ও চাপে ফেলার চেষ্টা করে। সাইবার অপরাধী ও আন্তর্জাতিক স্ক্যামাররা অনেক সময় সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে এই ভুয়া হুমকি দেয়। এসব করে সংকীর্ণ গণ্ডিতে কতক লোক এতে লাভবানও হয়। কোনো দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট করে সাময়িক তৃপ্তি মেলে। দীর্ঘমেয়াদে বা সামগ্রিকভাবে লাভ হয় না, বরং এর ফলে দেশ এবং দেশের সকল নাগরিক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে ক্ষণস্থায়ী বা সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পক্ষ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা আগেও হয়েছে। এসব করে তারা সাময়িক সুবিধা নেয়। একটি দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট হলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ বা গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

নানা কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, লাভ হাসিলের আরো নানা পক্ষ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের পর্যটন, রপ্তানি বাজার বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। একটি দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে বা দুর্বল করে রাখলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক সময় কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। সাইবার অপরাধী, সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। বিতর্কিত কিছু অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শুধু ভিউ, লাইক বা সস্তা প্রচারের জন্য দেশের নেতিবাচক বা মিথ্যা খবর বানিয়ে প্রচার করে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী রোমাঞ্চকর বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করতে তাদের বিবেকে বাধে না। দেশের ইমেজ নষ্ট করার পেছনে কিছু মহলের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকলেও, চূড়ান্ত বিচারে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি বড় আত্মঘাতী এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। দেশের ইমেজ নষ্ট করার এ অশুভ খেলা রুখতেই হবে। এ খেলা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পর্যটন শিল্পের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশের ভাবমর্যাদা বা ইমেজ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই গুজব, উড়ো চিঠি, হুমকি ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গুজব ছড়ানোর সাথে সাথে সরকারের তরফে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। মূল ধারার গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। করতে হবে ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অর্জন, অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি। বিদেশে অবস্থিত দেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিদেশি সরকারের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দূতাবাসে এই স্ক্যাম বা ভুয়া মেইল পাঠানো হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করা জরুরি। জনগণের কাছে স্পষ্ট দেয়া আরো জরুরি। নইলে এ ধরনের চেষ্টা-অপচেষ্টা একটার পর একটা চলতেই থাকবে। আজ করবে গুজব রটিয়ে, কাল উড়ো চিঠি দিয়ে, আরেকদিন নিয়ে আসবে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয়াদি।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

ভারী বৃষ্টি নয়, বরফধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টি নয়, বরফধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

নেপালের ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পেছনে হিমবাহের বরফধসের ভূমিকা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা, একটি বরফধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার পর সেখানে বিপুল পানি জমে যায়। পরে সেই পানি হঠাৎ প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়াস্থ জানিয়েছেন, নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ ধারণা পাওয়া গেছে। তবে কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়া কিংবা বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তিব্বতের ভূখণ্ডে সকালে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ভূমিকম্পেরও কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বন্যার আকস্মিকতা দেখে এটিকে স্বাভাবিক বৃষ্টিজনিত বন্যা মনে হচ্ছে না। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগও জানিয়েছে, ওই এলাকায় মঙ্গলবার ও বুধবার উল্লেখযোগ্য ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে উজানে পানি আটকে গিয়ে হঠাৎ নেমে আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও নদীর প্রবাহ বরফধসে আটকে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভয়াবহ এই বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, ব্রিটিশ, মালয়েশীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান, মার্কিন, অস্ট্রেলীয় ও ডাচ নাগরিক রয়েছেন। তবে নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে এবারের বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি