খুঁজুন
                               
, ,
           

দায়িত্বশীলতায় উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
দায়িত্বশীলতায় উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফল গণঅভ্যুত্থানের পর এতে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের চাওয়া মেনে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর তখন ধ্বংসপ্রায় অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা একরকম ভেঙে পড়ে। এরপর শান্তিতে নোবেল জয়ী ড.ইউনূসের নেতৃত্বে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের উপদেষ্টাদের হাত ধরেই রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন বুনে দেশের সাধারণ মানুষ।

সরকারপ্রধানের মতো কয়েকজন বাদে অন্য সব উপদেষ্টারাই নিজেদের ৮ মাস সময় পূর্ণ করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনেও দায়িত্বশীলতা, মেধা, যোগ্যতা ও বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এতে করে তাদের প্রতিও সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স বিচার বিবেচনা করতে ৮ মাস সময় যথেষ্ট না হলেও তারপরও এই সময়ে তারা কী করেছে না করেছে তার দিকে নজর রয়েছে সবার। দৃষ্টি রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থারও। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রতিনিয়ত তারা লড়াই করেছেন। তারা অসফল হওয়া মানেই শত মানুষের রক্ত ও ত্যাগে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে, যা কারও কাম্য হতে পারে না। তাই দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এই সরকারকে সফল করতে প্রতিটি উপদেষ্টা নিজেদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপদেষ্টার কর্মতৎপরতা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়েও প্রতিবেদন থাকবে কালের আলো.কম এ।

ড.আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল কর্মগুণেই আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর আন্তরিকতায় দ্রুততম সময়ে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। আর বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় তৈরির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রস্তুতের কাজও প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

রাউন্ড দ্য ক্লক সক্রিয় সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক এই উপদেষ্টা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা ৭ হাজার ১৮৪টি মামলা আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন। এই সময়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমনে দায়েরকৃত প্রায় সকল ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সন্ত্রাস দমন আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের অভিভাবকত্বে সাফল্যের সঙ্গেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। স্বৈরশাসকের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েও তিনি ছিলেন ‘চির উন্নত মম শির’। দুটি মন্ত্রণালয় পরিচালনায়ও তার পারফরম্যান্স নজরকাড়া। সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা দেশব্যাপী তারুণ্যের উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। নিজের দুটি মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ করেছেন। সরকারকে ব্যর্থ করতে সব অপতৎপরতা রুখে দিতে তিনি সজাগ-সতর্ক রয়েছেন। ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় সব ষড়যন্ত্রের ব্যুহ ভেদ করেছেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বায়ুদূষণ রোধে জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় আদালত ও মাঠে সমানতালে লড়াই চালিয়েছেন দেশের স্বনামে খ্যাত পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই মনোনিবেশ করেছেন দীর্ঘ সময়ের জঞ্জাল সাফে। তিনি বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও পানি দূষণ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বায়ুদূষণের চূড়ায় থাকার দীর্ঘদিনের দুর্নাম ঘুচিয়ে রাজধানীকে নির্মল করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি ২০০২ সালে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা শুরু করেন। নতুন বাংলাদেশ গঠনে পরিবেশ রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। দেশের কাঁচাবাজারসহ খোলাবাজারে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। পলিথিন উৎপাদন বন্ধ, কাঁচাবাজার, সুপারশপেও পলিথিন নিষিদ্ধের বিষয়ে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় অ্যাকশনে যায় তার মন্ত্রণালয়। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব চটের বা পাটের ব্যাগকে প্রমোট করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে আশার মালা গেঁথেছেন দেশের মানুষ।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
দেশের জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার দায়িত্ব অর্পিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঁধে। এই পদে দায়িত্ব পালন করা যে কারও জন্য অনেক বেশি চাপের ও চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে যেকোন দেশে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নাজুক আইনশৃঙ্খলা থেকে উত্তরণ ঘটানো সহজ নয় মোটেও। আর এই কঠিন কাজটিই একদিন-প্রতিদিন করে চলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ব্যক্তিজীবনে একজন সরল মানুষ হিসেবেই তিনি পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আকস্মিক থানা ভিজিট কার্যক্রম ও লাল গালিচার মাধ্যমে তৈলমর্দন নীতির কড়া সমালোচনা করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তিনি থানাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে কীনা এটি পর্যবেক্ষণেই কোন আওয়াজ না দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিচ্ছেন।সরকারের প্রভাবশালী আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুলও সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রার টকশোতে তার কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে আইনশৃঙ্খলায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেকটাই কমে এসেছে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও মব সন্ত্রাসের মতো ঘটনা। এছাড়া এই বছর রমজান ও ঈদের ছুটিতেও জনমনে ছিল স্বস্তি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উল্লেখ করার মতো অপরাধমূলক কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য সময় রোজা ও ঈদকে ঘিরে কমবেশি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মৌসুমি অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু এবার তেমনটি ঘটেনি। পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মতো নির্বিঘ্নে ঈদ যাত্রার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ পাকা জহুরির মতোই সম্পাদন করে চমক দেখিয়েছেন এই উপদেষ্টা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে না থেকে প্রতিনিয়ত ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অন্যান্য বন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন। এসবের মাধ্যমে মিলেছে আশাতীত সাফল্য। প্রথম দিকে সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশকে কাজে ফিরিয়ে আনতে বহুমাত্রিক ও কঠিন চ্যালেঞ্জে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছেন যেকোন মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালনেই তিনি পারঙ্গম। দিন-রাত একাকার করে কাজ করা অন্তর্বর্তী সরকারের পরিশ্রমী এই উপদেষ্টা এবার মনোযোগ দিয়েছেন নৌপথের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ানো চাঁদাবাজি বন্ধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে। তাঁর উদ্যোগে এরই মধ্যে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি বিলোনিয়া ও রামগড় স্থলবন্দরের বাণিজ্য সম্ভাবনা যাচাই করতে কমিটি করে দিয়েছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল রেখে পথচলা এই উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে জনআস্থা পূরণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

কালের আলো/আরআই/এমএএএম

চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে এসব কেন্দ্রে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রসূতিদের প্রাথমিক সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে।

আটটি কেন্দ্রে নেই চিকিৎসক, ছয়টি পদ শূন্য

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া এফডব্লিউবি পদে আটটি পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন কর্মী দিয়ে আটটি ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবের পাশাপাশি ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে প্রসূতি মায়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক প্রসূতি নারীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতেন। দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ভবনগুলো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরাজীর্ণ ভবন

গত শনিবার উপজেলার একতারপুর গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের মূল ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের গেট তালাবদ্ধ দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির মূল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পানির মোটর ও মূল ভবনের ফ্যানও চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির রং করে বাইরের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ভেতরের অবস্থা ও সেবার অনুপস্থিতি স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষ সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মানুষকেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে। আব্দুস সামাদ শেখ জানান, আগে এই কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্য কর্মীরাও থাকতেন। সেখান থেকে ওষুধও দেওয়া হতো। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

১৩–১৪ মাইল দূরে হাসপাতাল, দুর্ভোগে প্রসূতিরা

শুভরাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় তাঁদের ১৩ থেকে ১৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। প্রসূতি নারী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এত দূরের পথ যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। এ কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে পল্লিচিকিৎসকদের কাছে যেতে হয় তাঁদের।

সিদ্দিপাশা গ্রামের একলাস উদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকা থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২২ থেকে ২৩ মাইল। নদী পার হয়ে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে। যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ওষুধ ও জনবলসংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং জনবলও প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজীব বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা চালুর অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা

অভয়নগরের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সেবা বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাছাকাছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু, চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালু হবে এবং গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি