খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার গণমুখী কর্মযজ্ঞে প্রশংসায় মেতেছে নেটিজেনরা, উজ্জ্বল হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:০২ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার গণমুখী কর্মযজ্ঞে প্রশংসায় মেতেছে নেটিজেনরা, উজ্জ্বল হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর বল প্রয়োগের চিন্তা বা ধ্যানধারণা থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ ক্রমশ গণমুখী হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে পুলিশ সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করার প্রাণান্তকর প্রয়াস নিয়েছে। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মাত্র মাস কয়েক আগেও নানা ইস্যুতে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব ছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু নিজের গণমুখী চরিত্রের মাধ্যমে সমালোচকদের তিনি জবাব দিচ্ছেন একদিন-প্রতিদিন। জয় করে নিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়।

কোন রকম হাঁকডাক না মেরে, পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তা আইজিপি বা ডিএমপি কমিশনারকে সঙ্গে না নিয়ে রাজধানীর থানায় থানায় ছুটে চলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা। ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন করছেন প্রতিটি থানা। থানার সেবাপ্রত্যাশীদের দুয়ারে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কে কী কাজে এসেছেন সেটি জানতে চাচ্ছেন। নিজের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সেটি করতেও কুণ্ঠবোধ করছেন না। পাশাপাশি চলার পথেই কোন ভুক্তভোগীর অনুরোধে গাড়ি থামিয়ে সরাসরি কথা বলছেন তিনি। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সরাসরি বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিচ্ছেন। এসবে কোন রকম ভনিতা বা আদিখ্যেতা নেই যেন!

একেবারেই সরল-সহজ ও স্বাভাবিক মন-মননের অধিকারী এই উপদেষ্টার সঙ্গে সাধারণ মানুষ কথা বলতে পারছেন স্বাভাবিকভাবেই, ‘ওয়ান টু ওয়ান।’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিহাসে যা একেবারেই বিরল! অতীতে কোন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জনবান্ধব এমন চরিত্রে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র মিডিয়া মার্চ করতেই লোক দেখানো থানা উদ্বোধনের পরপরই দাম্ভিকতা আর অহমিকায় সাইরেন বাজিয়ে থানা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার বহু নজির অতীতে দেখেছে এদেশের মানুষ। কিন্তু এসব প্রথা ভেঙে নিপাট ভদ্র ব্যক্তিত্ব স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিজের কর্মের মাধ্যমেই দেখিয়ে দিলেন সাধারণ মানুষকে হৃদয়ঙ্গম করতে বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নেই কথার তুবড়ি ছুটানোরও। শুধু দরকার হিমালয়সম একটি হৃদয় আর পরিচ্ছন্ন মন। দৃঢ় মনোবল, নিরলস পরিশ্রম, অধ্যাবসায় ও একাগ্রতা থাকলেই কাঙ্ক্ষিত বন্দরে নোঙর করা সম্ভব।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো চ্যালেঞ্জিং একটি দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পুলিশকে শুধু কাগজে কলমে নয়, জনসেবা ও কাজের মাধ্যমে বাস্তবিকভাবেই জনবান্ধব প্রমাণ করতে চেয়েছেন। আর এই উদ্যোগ সফলের জন্য আগে তিনি নিজে জনবান্ধব ভাবমূর্তির একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এরপর সর্বাগ্রে পুলিশ সদস্যদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছেন। তাদেরকে উজ্জীবিত হয়ে ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করছেন প্রতিনিয়ত-প্রতিক্ষণ। তিনি বিশ্বাস করেন, এমনটি সম্ভব হলেই পুলিশের হারানো গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার শনিবারের (১৯ এপ্রিল) রুটিনে চোখ রাখলেই বাস্তবিক কিছু উদাহরণ মিলবে। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন থানার কার্যক্রম পরিদর্শনের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এদিন রাজধানীর বিমানবন্দর, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ ও উত্তরা পূর্ব থানায় গিয়েছিলেন। এর মধ্যে রাজধানীর তুরাগ থানা পরিদর্শনকালে তিনি থানাটিতে আসা সেবাপ্রার্থীদের খোঁজ খবর নিতে এগিয়ে যান। এ সময় এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, উপদেষ্টা থানায় উপস্থিত হয়ে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির কাছে জানতে চান, ‘আপনার বিরুদ্ধে কে মামলা করেছে? উত্তরে ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি বলেন, আমার স্ত্রী। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার কাছে জানতে চান, আপনি কয়টি বিয়ে করেছেন? তখন ওই ব্যক্তি বলেন চারটি। এই উত্তর শুনে উপদেষ্টাসহ অনেকেই বলেন, ‘মাশাআল্লাহ।’ ব্যস, উপস্থিত সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে যায়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওই প্রবীণ ব্যক্তির কাছে আরো জানতে চান, তিনি (স্ত্রী) কিসের মামলা করেছেন? বৃদ্ধ লোকটি বলেন, নারী নির্যাতনের মামলা। পাশে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা তখন বলেন, এই বয়সে আবার বিয়ে করেছেন কেন? ওই বৃদ্ধ ব্যক্তি জানান, তার প্রথম দুই স্ত্রী মারা যান। এরপর যে নারীকে বিয়ে করেন, তার সঙ্গে ডিভোর্স হয়। পরে আবার বিয়ে করেন। এখন যিনি মামলা করেছেন, তিনি আগের সেই স্ত্রী এবং তার করা মামলা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।

স্ত্রীর মামলা খেয়ে থানায় এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মুখোমুখি সেই বৃদ্ধের আলাপচারিতার ভিডিও শেয়ার করে বুলবুল আহমেদ নামে একজন লিখেছেন- ‘এমন মানুষ অনেক দরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে যত দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি।’ এমডি সোহেল রানার মন্তব্য-এরকম মন্ত্রীই বাংলাদেশে দরকার। মহিউদ্দিন নামে একজন লিখেছেন-সত্যিই অত্যন্ত ভালো মানুষ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। জহিরুল ইসলাম নামে একজন লিখেন এমন-‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম দেখলাম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থানায় থানায় ঘুরে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের খোঁজ খবর নেয়। এজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।’

এই থানা পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো আমরা পুলিশ সদস্যদের সেহরি ও ইফতারের টাকার ব্যবস্থা করেছি। ওনাদের প্রীতিভোজ, টিএডিএ’র ব্যবস্থা করছি। টিএডিএ’র টাকা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনতে হয়। তাঁরা যেন দ্রুত এটি পায় আমরা সেই চেষ্টা করছি।’ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো পুলিশ সদস্যদের থাকা ও খাওয়ার অবস্থা নিজ চোখে দেখার। তাদের থাকা-খাওয়ার মানোন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই মোতাবেক কাজ করে চলেছি।’

রাজধানীর বিমানবন্দর থানা পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরা পশ্চিম থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পুলিশের বিভিন্ন সমস্যা অবলোকন করেন এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।’ তিনি স্বীকার করেন, ‘১৮ কোটি মানুষের দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সহজ কাজ নয়।’

তিনি পুলিশের অধস্তন (নিচের স্তরের) ফোর্সের জন্য থাকা-খাওয়ার মানোন্নয়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুখবর দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ‘পুলিশের নিচের স্তরের সদস্যদের থাকার পরিবেশ খুবই নাজুক।’ বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে তিনি বলেন, ‘থাকার ব্যবস্থার মান খুব খারাপ। কীভাবে এটা উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন থানা ঘুরে দেখা হচ্ছে, যাতে বাস্তব চিত্র অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। পুলিশ সদস্যদের খাবার ব্যবস্থাও ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের খাবারের গুণমান ও পুষ্টিমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ জেলায় রাখা যায়। এতে তারা পরিবারকে সময় দিতে পারবেন এবং মানসিক স্বস্তিও পাবেন। ছুটি কম থাকায় এটি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় থানা থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থানার সেবাপ্রত্যাশীদের কাছে ছুটে যান। এ সময় এক বৃদ্ধা মা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে তাঁর গ্রেপ্তারকৃত সন্তানের বিষয়ে আকুতি জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি দেখবে। সে নির্দোষ হলে তাকে ছেড়ে দিবে। কিন্তু দোষী হলে তাকে ছাড়া হবে না।’ এরপর উপদেষ্টা গাড়িতে উঠে গেলে আবারও সেখানে ছুটে যান ওই বৃদ্ধা নারী। উপদেষ্টা গাড়ির গ্লাস নামিয়ে পুনরায় ধৈর্য্যরে সঙ্গে তাঁর কথা শোনেন। উপদেষ্টা পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নেটিজেনরা। শহীদুল্লাহ নামের একজন লিখেছেন-‘এমন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাই মানুষ চায়।’ আব্দুর রকিব নামের একজনের মন্তব্য- ‘ভাবতে অবাক লাগে নির্বাচনের পর এমন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আমরা আর পাবো না।’ এমডি রিয়াদ হোসেন লিখেছেন- ‘আসলেই উনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।’ রিয়াদ উদ্দিন নামের আরেকজনের ভাষ্য-‘সমালোচনার সাথে সাথে নিজেকে বদলে নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম কোন লোক দেখলাম।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট ) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর এক বার্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবগত করার জন্য

​সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং কানাডার হাইকমিশনার পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

​আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান, কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার ও সুসংহত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি