খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নবীন ক্যাডেটদের, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
দেশের আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নবীন ক্যাডেটদের, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

আকাশে তখন গর্বের গর্জন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের রঙে রাঙা আকাশ। ফ্লাইপাস্ট, এ্যারোবেটিক প্রদর্শনী ও প্যারা জাম্পিং এর মাধ্যমে বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন বিমান বাহিনীতে যুক্ত হওয়া এক নারীসহ ৪৫ নবীন ক্যাডেট। তাদের চোখে-মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। বুধবার (২১ মে) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান অবলোকন করলেন নবীন অফিসারদের নিরলস পরিশ্রম ও আর কঠোর পরিশ্রমের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের পর বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত এসব নবীন ক্যাডেটরা বিভোর আকাশ জয়ের স্বপ্নে। বাংলার আকাশসীমার আগামী দিনের রক্ষকদের লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন নৌবাহিনী প্রধান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদেরকে অধিকতর সুযোগ্য করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করে তিনি বললেন, ‘আজ যে শপথ তোমরা উচ্চারণ করলে তার প্রতিটি শব্দই যেন প্রতিফলিত হয় তোমাদের নিজ নিজ কর্মজীবনে। মনে রাখবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিমান বাহিনী ও দেশ যেন তোমাদের চিন্তা-চেতনায় সব সময় প্রাধান্য পায় সেই প্রচেষ্টা সব সময় জারি রাখতে হবে।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় বলেও মন্তব্য করেন। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দক্ষ ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে সমানুপাতিক অগ্রগতি আবশ্যক। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিটি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।’

  • কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
  • মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
  • বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত
  • সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী
  • সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ
  • অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মধ্যে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন।

অফিসার ক্যাডেট মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম ৮৬তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ ও জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়া অফিসার ক্যাডেট তাকি তাহমিদ নিলয় উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। ৮৬তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মাহাদী হাসান তালহা ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ পেয়েছেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম এ কে খন্দকার স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টে’র প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বিশেষ দিনটিতে মুক্তিযুদ্ধে অটল মনোবল সৃষ্টিকারী অকুতোভয় সকল বিমান অভিযান পরিচালনকারী কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, ‘তাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। আমি আরও স্মরণ করছি গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল বীর শহীদদের, আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত সকল ব্যক্তিবর্গের আশু রোগ মুক্তি কামনা করছি।’

মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে তোমাদের ওপরও আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব অর্পিত হলো। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কাছে জাতির প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তাই জাতির সেই প্রত্যাশা পূরণে তোমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আজ যে শপথ তোমরা উচ্চারণ করলে তার প্রতিটি শব্দই যেন প্রতিফলিত হয় তোমাদের নিজ নিজ কর্মজীবনে। মনে রাখবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিমান বাহিনী ও দেশ যেন তোমাদের চিন্তা-চেতনায় সব সময় প্রাধান্য পায় সেই প্রচেষ্টা সব সময় জারি রাখতে হবে। আমি নিশ্চিত তোমরা আজীবন সত্য ও সুন্দরের অনুসরণ করে নিজেদের সুযোগ্য নাগরিক ও বৈমানিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহান লক্ষ্যে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

‘আজকে এই প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রকৃত অর্থ প্রশিক্ষণ সমাপ্তি নয় বরং এটি তোমাদের বৃহত্তর কর্মজীবনের প্রবেশের প্রথম সোপান মাত্র’-নবীন কর্মকর্তাদের এমনটিই স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘মনে রেখো, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ, এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তোমরা প্রতিনিয়ত অনুশীলনের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখবে এটিই তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা।’

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত
ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অনেক প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে আজ বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমাদের আন্তরিকতা ও নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে বিমান বাহিনীর উন্নয়নে এই চলমান গতিধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা জানি বিমান বাহিনীর প্রতিটি সাজ সরঞ্জাম এবং যুদ্ধ উপকরণ অত্যন্ত মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল। তাই তোমাদেরকে দেশবাসীর কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত এসব মূল্যবান যুদ্ধ সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবে তোমরাই বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার হতে চলেছো। তাই নিজেদেরকে ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই তোমাদের একান্ত কর্তব্য।’

সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী, এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকেও করা হয়েছে আরও দক্ষ ও যুগোপযোগী। আপনারা জেনে খুশি হবেন বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নততর প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করার জন্য সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ বিমান ও সিমুলেটর। আমাদের সবার গর্বের বিষয় এই যে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্রশিক্ষণের গুণগতমানের সুনাম আজ আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিতি লাভ করেছে। বিমান বাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছে অনেক দেশি-বিদেশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীর বৈমানিকরা বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে সাফল্যজনকভাবে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এই একাডেমি থেকে এযাবত সফলতার সাথে ৩০ জন বিদেশি ফ্লাইট ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় হয়েছে।’

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট এবং তৎপরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ প্রিয় মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছে। আমি নিশ্চিত দেশবাসীর আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অতীতের মতোই বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুব শিগগিরই প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পর থেকেই অদ্যাবধি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যগণ দেশের যেকোন প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলেছে। আমরা জানি, যেকোন কাজেই ঐক্যতাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। তাই দেশমাতৃকার সার্বিক কল্যাণে আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মনমানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির মর্যাদা ও সুনাম রক্ষায় তোমরা সেনা ও নৌবাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে দেশের জন্য, আজকের দিনে এটিই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।’

অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়
‘অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে স্পিরিট অব জয়েন্টনেস এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়’ বলেও মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান এই সুস্পর্ক বজায় রেখে আগামী দিনের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তোমরা নিজেদেরকে অধিকতর সুযোগ্য করে গড়ে তুলবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা। মনে রাখবে, লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখাই তোমাদের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সময়ের পথ পরিক্রমায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ একটি সুশৃঙ্খল ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে সুপরিচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে অনন্য দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করতে পেরেছি।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ায় গুরুত্ব
উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আধুনিক বিমান বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো একটি সমন্বিত ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। এখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এই তিনটি শক্তি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে থাকে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দক্ষ ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে সমানুপাতিক অগ্রগতি আবশ্যক। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিটি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও নতুন ফাইটার স্কোয়াড্রন সংযোজন, গ্রাউন্ড বেইজড এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও উন্নত অপারেশনাল প্রস্তুতির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা সকলে একমত পোষণ করেছি। আধুনিক প্ল্যাটফর্ম বা প্রযুক্তি নয় বরং কৌশলগত চিন্তাধারা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি স্মার্ট, কেপেবল এন্ড রেডি এয়ার ফোর্স গড়ে তোলা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বর্তমান বিমান বাহিনী প্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী খুব শিগগির তাদের ‘কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিমান বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ দেশের আপামর জনগণের স্বার্থে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে। আমি নিশ্চিত দেশের ও জনগণের প্রয়োজনে বিমান বাহিনীর অবস্থান আগামী দিনগুলোতেও আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিমান বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি