খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দেশের আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নবীন ক্যাডেটদের, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
দেশের আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নবীন ক্যাডেটদের, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

আকাশে তখন গর্বের গর্জন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের রঙে রাঙা আকাশ। ফ্লাইপাস্ট, এ্যারোবেটিক প্রদর্শনী ও প্যারা জাম্পিং এর মাধ্যমে বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন বিমান বাহিনীতে যুক্ত হওয়া এক নারীসহ ৪৫ নবীন ক্যাডেট। তাদের চোখে-মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। বুধবার (২১ মে) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান অবলোকন করলেন নবীন অফিসারদের নিরলস পরিশ্রম ও আর কঠোর পরিশ্রমের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের পর বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত এসব নবীন ক্যাডেটরা বিভোর আকাশ জয়ের স্বপ্নে। বাংলার আকাশসীমার আগামী দিনের রক্ষকদের লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন নৌবাহিনী প্রধান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদেরকে অধিকতর সুযোগ্য করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করে তিনি বললেন, ‘আজ যে শপথ তোমরা উচ্চারণ করলে তার প্রতিটি শব্দই যেন প্রতিফলিত হয় তোমাদের নিজ নিজ কর্মজীবনে। মনে রাখবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিমান বাহিনী ও দেশ যেন তোমাদের চিন্তা-চেতনায় সব সময় প্রাধান্য পায় সেই প্রচেষ্টা সব সময় জারি রাখতে হবে।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় বলেও মন্তব্য করেন। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দক্ষ ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে সমানুপাতিক অগ্রগতি আবশ্যক। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিটি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।’

  • কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
  • মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
  • বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত
  • সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী
  • সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ
  • অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মধ্যে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন।

অফিসার ক্যাডেট মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম ৮৬তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ ও জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়া অফিসার ক্যাডেট তাকি তাহমিদ নিলয় উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। ৮৬তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মাহাদী হাসান তালহা ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ পেয়েছেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম এ কে খন্দকার স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টে’র প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বিশেষ দিনটিতে মুক্তিযুদ্ধে অটল মনোবল সৃষ্টিকারী অকুতোভয় সকল বিমান অভিযান পরিচালনকারী কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, ‘তাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। আমি আরও স্মরণ করছি গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল বীর শহীদদের, আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত সকল ব্যক্তিবর্গের আশু রোগ মুক্তি কামনা করছি।’

মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে তোমাদের ওপরও আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব অর্পিত হলো। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কাছে জাতির প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তাই জাতির সেই প্রত্যাশা পূরণে তোমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আজ যে শপথ তোমরা উচ্চারণ করলে তার প্রতিটি শব্দই যেন প্রতিফলিত হয় তোমাদের নিজ নিজ কর্মজীবনে। মনে রাখবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিমান বাহিনী ও দেশ যেন তোমাদের চিন্তা-চেতনায় সব সময় প্রাধান্য পায় সেই প্রচেষ্টা সব সময় জারি রাখতে হবে। আমি নিশ্চিত তোমরা আজীবন সত্য ও সুন্দরের অনুসরণ করে নিজেদের সুযোগ্য নাগরিক ও বৈমানিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহান লক্ষ্যে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

‘আজকে এই প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রকৃত অর্থ প্রশিক্ষণ সমাপ্তি নয় বরং এটি তোমাদের বৃহত্তর কর্মজীবনের প্রবেশের প্রথম সোপান মাত্র’-নবীন কর্মকর্তাদের এমনটিই স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘মনে রেখো, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ, এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তোমরা প্রতিনিয়ত অনুশীলনের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখবে এটিই তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা।’

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত
ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অনেক প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে আজ বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমাদের আন্তরিকতা ও নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে বিমান বাহিনীর উন্নয়নে এই চলমান গতিধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা জানি বিমান বাহিনীর প্রতিটি সাজ সরঞ্জাম এবং যুদ্ধ উপকরণ অত্যন্ত মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল। তাই তোমাদেরকে দেশবাসীর কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত এসব মূল্যবান যুদ্ধ সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবে তোমরাই বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার হতে চলেছো। তাই নিজেদেরকে ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই তোমাদের একান্ত কর্তব্য।’

সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী, এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকেও করা হয়েছে আরও দক্ষ ও যুগোপযোগী। আপনারা জেনে খুশি হবেন বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নততর প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করার জন্য সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ বিমান ও সিমুলেটর। আমাদের সবার গর্বের বিষয় এই যে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্রশিক্ষণের গুণগতমানের সুনাম আজ আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিতি লাভ করেছে। বিমান বাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছে অনেক দেশি-বিদেশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীর বৈমানিকরা বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে সাফল্যজনকভাবে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এই একাডেমি থেকে এযাবত সফলতার সাথে ৩০ জন বিদেশি ফ্লাইট ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় হয়েছে।’

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট এবং তৎপরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ প্রিয় মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছে। আমি নিশ্চিত দেশবাসীর আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অতীতের মতোই বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুব শিগগিরই প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পর থেকেই অদ্যাবধি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যগণ দেশের যেকোন প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলেছে। আমরা জানি, যেকোন কাজেই ঐক্যতাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। তাই দেশমাতৃকার সার্বিক কল্যাণে আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মনমানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির মর্যাদা ও সুনাম রক্ষায় তোমরা সেনা ও নৌবাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে দেশের জন্য, আজকের দিনে এটিই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।’

অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়
‘অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে স্পিরিট অব জয়েন্টনেস এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়’ বলেও মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান এই সুস্পর্ক বজায় রেখে আগামী দিনের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তোমরা নিজেদেরকে অধিকতর সুযোগ্য করে গড়ে তুলবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা। মনে রাখবে, লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখাই তোমাদের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সময়ের পথ পরিক্রমায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ একটি সুশৃঙ্খল ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে সুপরিচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে অনন্য দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করতে পেরেছি।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ায় গুরুত্ব
উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আধুনিক বিমান বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো একটি সমন্বিত ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। এখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এই তিনটি শক্তি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে থাকে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দক্ষ ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে সমানুপাতিক অগ্রগতি আবশ্যক। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিটি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও নতুন ফাইটার স্কোয়াড্রন সংযোজন, গ্রাউন্ড বেইজড এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও উন্নত অপারেশনাল প্রস্তুতির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা সকলে একমত পোষণ করেছি। আধুনিক প্ল্যাটফর্ম বা প্রযুক্তি নয় বরং কৌশলগত চিন্তাধারা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি স্মার্ট, কেপেবল এন্ড রেডি এয়ার ফোর্স গড়ে তোলা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বর্তমান বিমান বাহিনী প্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী খুব শিগগির তাদের ‘কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিমান বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ দেশের আপামর জনগণের স্বার্থে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে। আমি নিশ্চিত দেশের ও জনগণের প্রয়োজনে বিমান বাহিনীর অবস্থান আগামী দিনগুলোতেও আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিমান বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রায় দেড় যুগ বিরতির পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি কী হবে তা জানানো হয়েছে।

সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হলে তার ফলাফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি প্রদান করা হতো।

এবারের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষার সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন রাখা হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ-এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র যথাযথভাবে পূরণ, ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে হল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা কক্ষে কোনো ধরনের কথাবার্তা, প্রশ্নপত্র বিনিময় বা অননুমোদিত উপায়ে সহায়তা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই পরীক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন 

৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বড় আকারের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট বৃদ্ধির একটি হতে যাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্য আমদানিতে চার মাসে প্রয়োজন ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। আবার ভর্তুকি দিতে লাগবে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজ করছে সরকার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ থেকে আগামী জুন সময়ের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন–সহযোগীদের কাছ থেকে এই ঋণ নিতে চায় সরকার। ঋণ পাওয়া যায় কি না, তা আলোচনা করে দেখতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা।

চিঠির সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে একটি অবস্থানপত্র। সেখানে জরুরি ঋণসহায়তার জন্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, এই ঋণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি নিশ্চিতে সহায়তা করবে।

দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখবে। তৃতীয়ত, দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ইত্যাদির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে তা ব্যয় করা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপের মুখে পড়েছে। এই ঋণসহায়তা জরুরি প্রয়োজন মেটানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দরকার।

বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১৪ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ চাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এবং বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল।

বাড়তি দরে আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দ্রুত কমতে থাকে। একটি পর্যায়ে তা ৪ হাজার ৮০০ কোটি (৪৮ বিলিয়ন) ডলার থেকে নেমে আসে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের নিচে।

অন্যদিকে ৮৬ টাকার ডলারের দাম ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবস্থাপনাকে।

এ দায় থেকে বাঁচতে তখনকার সরকার জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে দেয়। দফায় দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও সারের দাম। কিন্তু মজুরি মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বাড়েনি।

অর্থনীতির এই পরিস্থিতি বিপুলসংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামিয়ে দেয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত গবেষণায় জানায়, তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

মময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৭নং বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়েশা (৪৮) একই গ্রামের বাসিন্দা ও তারা মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত তৌহিদ (১৯) নিহতের আপন ভাতিজা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাওনা ১০ টাকা নিয়ে চাচি-ভাতিজার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। এ সময় তৌহিদ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়েশার বুকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালানোর সময় ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ জানায়, আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/এম/এএইচ