খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নবীন ক্যাডেটদের, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
দেশের আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নবীন ক্যাডেটদের, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

আকাশে তখন গর্বের গর্জন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের রঙে রাঙা আকাশ। ফ্লাইপাস্ট, এ্যারোবেটিক প্রদর্শনী ও প্যারা জাম্পিং এর মাধ্যমে বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন বিমান বাহিনীতে যুক্ত হওয়া এক নারীসহ ৪৫ নবীন ক্যাডেট। তাদের চোখে-মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। বুধবার (২১ মে) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান অবলোকন করলেন নবীন অফিসারদের নিরলস পরিশ্রম ও আর কঠোর পরিশ্রমের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের পর বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত এসব নবীন ক্যাডেটরা বিভোর আকাশ জয়ের স্বপ্নে। বাংলার আকাশসীমার আগামী দিনের রক্ষকদের লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন নৌবাহিনী প্রধান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদেরকে অধিকতর সুযোগ্য করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করে তিনি বললেন, ‘আজ যে শপথ তোমরা উচ্চারণ করলে তার প্রতিটি শব্দই যেন প্রতিফলিত হয় তোমাদের নিজ নিজ কর্মজীবনে। মনে রাখবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিমান বাহিনী ও দেশ যেন তোমাদের চিন্তা-চেতনায় সব সময় প্রাধান্য পায় সেই প্রচেষ্টা সব সময় জারি রাখতে হবে।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় বলেও মন্তব্য করেন। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দক্ষ ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে সমানুপাতিক অগ্রগতি আবশ্যক। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিটি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।’

  • কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
  • মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
  • বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত
  • সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী
  • সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ
  • অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মধ্যে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন।

অফিসার ক্যাডেট মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম ৮৬তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ ও জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়া অফিসার ক্যাডেট তাকি তাহমিদ নিলয় উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মো. মুতাসিম বিল্লাহ তানিম জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। ৮৬তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মাহাদী হাসান তালহা ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ পেয়েছেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম এ কে খন্দকার স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টে’র প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বিশেষ দিনটিতে মুক্তিযুদ্ধে অটল মনোবল সৃষ্টিকারী অকুতোভয় সকল বিমান অভিযান পরিচালনকারী কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, ‘তাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। আমি আরও স্মরণ করছি গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল বীর শহীদদের, আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত সকল ব্যক্তিবর্গের আশু রোগ মুক্তি কামনা করছি।’

মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে তোমাদের ওপরও আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব অর্পিত হলো। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আত্মনিয়োগ করে তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কাছে জাতির প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তাই জাতির সেই প্রত্যাশা পূরণে তোমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আজ যে শপথ তোমরা উচ্চারণ করলে তার প্রতিটি শব্দই যেন প্রতিফলিত হয় তোমাদের নিজ নিজ কর্মজীবনে। মনে রাখবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিমান বাহিনী ও দেশ যেন তোমাদের চিন্তা-চেতনায় সব সময় প্রাধান্য পায় সেই প্রচেষ্টা সব সময় জারি রাখতে হবে। আমি নিশ্চিত তোমরা আজীবন সত্য ও সুন্দরের অনুসরণ করে নিজেদের সুযোগ্য নাগরিক ও বৈমানিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহান লক্ষ্যে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

‘আজকে এই প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রকৃত অর্থ প্রশিক্ষণ সমাপ্তি নয় বরং এটি তোমাদের বৃহত্তর কর্মজীবনের প্রবেশের প্রথম সোপান মাত্র’-নবীন কর্মকর্তাদের এমনটিই স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘মনে রেখো, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ, এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তোমরা প্রতিনিয়ত অনুশীলনের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখবে এটিই তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা।’

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত
ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অনেক প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে আজ বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ সুসংগঠিত এবং এর কর্মপরিধিও অনেক বিস্তৃত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমাদের আন্তরিকতা ও নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে বিমান বাহিনীর উন্নয়নে এই চলমান গতিধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা জানি বিমান বাহিনীর প্রতিটি সাজ সরঞ্জাম এবং যুদ্ধ উপকরণ অত্যন্ত মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল। তাই তোমাদেরকে দেশবাসীর কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত এসব মূল্যবান যুদ্ধ সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবে তোমরাই বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার হতে চলেছো। তাই নিজেদেরকে ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই তোমাদের একান্ত কর্তব্য।’

সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মক্ষেত্র ও চাহিদার বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী, এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকেও করা হয়েছে আরও দক্ষ ও যুগোপযোগী। আপনারা জেনে খুশি হবেন বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নততর প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করার জন্য সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ বিমান ও সিমুলেটর। আমাদের সবার গর্বের বিষয় এই যে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্রশিক্ষণের গুণগতমানের সুনাম আজ আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিতি লাভ করেছে। বিমান বাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছে অনেক দেশি-বিদেশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীর বৈমানিকরা বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে সাফল্যজনকভাবে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এই একাডেমি থেকে এযাবত সফলতার সাথে ৩০ জন বিদেশি ফ্লাইট ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় হয়েছে।’

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট এবং তৎপরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ প্রিয় মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছে। আমি নিশ্চিত দেশবাসীর আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অতীতের মতোই বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুব শিগগিরই প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পর থেকেই অদ্যাবধি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যগণ দেশের যেকোন প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলেছে। আমরা জানি, যেকোন কাজেই ঐক্যতাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। তাই দেশমাতৃকার সার্বিক কল্যাণে আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মনমানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির মর্যাদা ও সুনাম রক্ষায় তোমরা সেনা ও নৌবাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে দেশের জন্য, আজকের দিনে এটিই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।’

অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়
‘অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে স্পিরিট অব জয়েন্টনেস এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়’ বলেও মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান এই সুস্পর্ক বজায় রেখে আগামী দিনের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তোমরা নিজেদেরকে অধিকতর সুযোগ্য করে গড়ে তুলবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা। মনে রাখবে, লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখাই তোমাদের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সময়ের পথ পরিক্রমায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ একটি সুশৃঙ্খল ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে সুপরিচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে অনন্য দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করতে পেরেছি।’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ায় গুরুত্ব
উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আধুনিক বিমান বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো একটি সমন্বিত ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। এখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এই তিনটি শক্তি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে থাকে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দক্ষ ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রেক্ষিতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা অর্জনে সমানুপাতিক অগ্রগতি আবশ্যক। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিটি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও নতুন ফাইটার স্কোয়াড্রন সংযোজন, গ্রাউন্ড বেইজড এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও উন্নত অপারেশনাল প্রস্তুতির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা সকলে একমত পোষণ করেছি। আধুনিক প্ল্যাটফর্ম বা প্রযুক্তি নয় বরং কৌশলগত চিন্তাধারা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি স্মার্ট, কেপেবল এন্ড রেডি এয়ার ফোর্স গড়ে তোলা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বর্তমান বিমান বাহিনী প্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী খুব শিগগির তাদের ‘কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিমান বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ দেশের আপামর জনগণের স্বার্থে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে। আমি নিশ্চিত দেশের ও জনগণের প্রয়োজনে বিমান বাহিনীর অবস্থান আগামী দিনগুলোতেও আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিমান বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চাঁদে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, জানুন কোথা থেকে দেখা যাবে

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য। এ সময় সংঘটিত হবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এতে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর মূল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

এ ছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু এলাকা থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় গ্রহণের আংশিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে গেলেও এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হবে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পৌঁছানোর কারণে চাঁদ তামাটে বা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। এ ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।

পুরো চন্দ্রগ্রহণের প্রক্রিয়া পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে চাঁদের লালচে হয়ে ওঠার দৃশ্য তুলনামূলকভাবে অল্প সময় স্থায়ী হবে।

চন্দ্রগ্রহণ দেখতে সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এমএসআইপি 

চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুর সাউথ চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই একাডেমিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল শিক্ষা চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বাংলাদেশে চীনা ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। চীনের পক্ষ থেকেও গুয়াংডং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুয়াংডং প্রদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে গুয়াংডং সরকারের বৃত্তি পেয়েছেন ২০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে বলে সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্যোগকবলিত নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। বাংলাদেশ পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি জানান, দুর্যোগের ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপাল সরকার এবং দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও শোকবার্তায় জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি