ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন সেনাপ্রধান
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, এটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। সরকারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে চলতি বছর ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর মার্চের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। যদিও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর আগেও রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। বুধবার (২২ মে) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় (অফিসার্স অ্যাড্রেস) তিনি সেই বার্তা আরও খোলাসা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে নির্বাচনের একটি স্পষ্ট সময়সীমা মিলেছে। তবে এই সম্পর্কিত কোন তথ্য জানায়নি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এদিন রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি।
সূত্র জানায়, সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত অফিসার্স অ্যাড্রেস বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। গত বছরের ৩ আগস্ট এমন এক সভাতেই ছাত্র-জনতার বুকে গুলি না চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আর এতেই আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনীর কোন রকম সহায়তা না পাওয়ায় পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। সাহসী এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হন সেনাপ্রধান। সফল হয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, এবারের অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিরলস ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। সেনা কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও আনুগত্য বজায় রাখারও আহ্বান জানান। অন্তর্বর্তী সরকারকে সব রকমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন।
জানা যায়, ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঢাকার বাইরের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, অফিসার্স অ্যাড্রেসে প্রথমে সেনাপ্রধান বক্তব্য রাখেন। এরপর বিভিন্ন ইউনিট থেকে যেসব কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সেনাপ্রধান।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে মানবিক করিডোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে। এটি হতে হবে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। করিডোরের ব্যাপারে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়ও এখানে যুক্ত।
সেনাপ্রধান বলেন, আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু মহল তাঁকে ও বাহিনীকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর– এমন কোনো কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনও যুক্ত হবে না। কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না। এই বাস্তবতায় সব পর্যায়ের সেনাসদস্যকে নিরপেক্ষ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। আগামীতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। সহযোগিতা করে যাব। সামনে ঈদ। মানুষ যেন নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে হবে।’
এর আগে চলতি বছরের ২৪ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সেনা প্রাঙ্গণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অফিসার্স অ্যাড্রেস করেন। ওইদিন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যাশিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে মত দেন। যাতে করে তারা তাদের মূল দায়িত্বে মনোনিবেশ করতে পারেন।
কালের আলো/আরআই/এমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array