খুঁজুন
                               
, ,
           

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন সেনাপ্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, এটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। সরকারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে চলতি বছর ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর মার্চের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। যদিও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর আগেও রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। বুধবার (২২ মে) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় (অফিসার্স অ্যাড্রেস) তিনি সেই বার্তা আরও খোলাসা করেছেন। আগামী  ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে নির্বাচনের একটি স্পষ্ট সময়সীমা মিলেছে। তবে এই সম্পর্কিত কোন তথ্য জানায়নি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এদিন রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি।

সূত্র জানায়, সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত অফিসার্স অ্যাড্রেস বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। গত বছরের ৩ আগস্ট এমন এক সভাতেই ছাত্র-জনতার বুকে গুলি না চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আর এতেই আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনীর কোন রকম সহায়তা না পাওয়ায় পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। সাহসী এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হন সেনাপ্রধান। সফল হয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, এবারের অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিরলস ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। সেনা কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও আনুগত্য বজায় রাখারও আহ্বান জানান। অন্তর্বর্তী সরকারকে সব রকমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন।

জানা যায়, ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঢাকার বাইরের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, অফিসার্স অ্যাড্রেসে প্রথমে সেনাপ্রধান বক্তব্য রাখেন। এরপর বিভিন্ন ইউনিট থেকে যেসব কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সেনাপ্রধান।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে মানবিক করিডোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে। এটি হতে হবে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। করিডোরের ব্যাপারে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়ও এখানে যুক্ত।

সেনাপ্রধান বলেন, আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু মহল তাঁকে ও বাহিনীকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর– এমন কোনো কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনও যুক্ত হবে না। কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না। এই বাস্তবতায় সব পর্যায়ের সেনাসদস্যকে নিরপেক্ষ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। আগামীতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। সহযোগিতা করে যাব। সামনে ঈদ। মানুষ যেন নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে হবে।’

এর আগে চলতি বছরের ২৪ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সেনা প্রাঙ্গণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অফিসার্স অ্যাড্রেস করেন। ওইদিন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যাশিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে মত দেন। যাতে করে তারা তাদের মূল দায়িত্বে মনোনিবেশ করতে পারেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ছাড়া তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১৪০০ এর বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে আসছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পানির উচ্চতা বেশি বেড়ে গেলে ভাটির দিকে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আশেপাশের বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু নেপালেই নয়, তিব্বতেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ একটি হ্রদে আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ থাকতে পারে। এতে করে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলার সহায়তা বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য ও দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল মেডিসিন, খাবার, শ্যাম্পু, মেহেদি, চা পাতা ও জিরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীন সিন্দুরখান বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত পিলার ১৯৪৬-এম থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গান্ধীছড়া চা-বাগান এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় এনিমেল মেডিসিন, খাবার ও শ্যাম্পুসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

অন্য একটি অভিযানে নির্দিষ্ট একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য পায় বিজিবি। এর ভিত্তিতে বিজিবির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অবস্থান নেয়।

এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তল্লাশি করে মাছের খাবারের বস্তার মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চা পাতা, কাবেরী মেহেদি ও জিরা পাওয়া যায়। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্য ও যানবাহন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব এতদিন অনেকটা এককভাবেই পালন করে এসেছে পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এই ভূমিকায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা-সংলাপ চালিয়ে যেতে আর আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

তবে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন. “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান থেকে সূত্রপাত হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পেরিয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন এবং ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দু’টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, আবার সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তবে ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দেশটির অর্থনীতির ওপর সীমাহীন চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এমন পরিস্থিতিতেই তেহরান সফর করলেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারের প্রধামন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলরহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছে দেশটির শীর্ষ আলোচক এবং ক্ষমতসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং সে বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আল-থানির এ আহ্বানের উত্তরে ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।

আল-থানি এবং ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রনালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়— তাহলে ইরানের হরমুজ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা শুরু করতে হবে।

আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ