খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

কেন গুজবের প্রধান টার্গেট সশস্ত্র বাহিনী?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
কেন গুজবের প্রধান টার্গেট সশস্ত্র বাহিনী?

কালের আলো রিপোর্ট:

গোধূলির আবছা আলোয় সেদিন উত্তরের আকাশ যেন এক মৃত্যুপুরী হয়ে নেমে এসেছিল। মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল এক বিভীষিকাময় ধ্বংসস্তূপে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন আর বাতাসে পোড়া গন্ধ-এসবই যেন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো গ্রাস করেছিল পুরো দেশকে। এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা শুধু কিছু প্রাণের বিনিময়ে শেষ হয়নি, বরং আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের কি শিক্ষা দিল, তা গভীর সংবেদনশীলতার সঙ্গে যেমন ভেবে দেখার প্রয়োজন। ঠিক তেমনি ঘটনার পরপরই কোনো পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবতীয় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কেন তাদেরকে নিয়ে অপতথ্যের তাণ্ডবের মাধ্যমে আমরা কেমন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছি এই বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়েই ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সংকটে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও একইভাবে বিবেকের দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম থেকেই এমন দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সেদিন থেকেই লাশ লুকানো নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এটি জনগণের মধ্যেও মারাত্মকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করে। দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীর প্রাণান্ত প্রয়াস যেখানে প্রশংসার দাবি রাখে সেখানে তাদেরকে টার্গেট করে নানাবিধ গুজব-অপপ্রচার ছড়িয়ে জনসাধারণের মধ্যে এক প্রকার আস্থাহীনতা তৈরির অপপ্রয়াস দৃশ্যমান হয়েছে।

অথচ উদ্ধার কার্যক্রম থেকে শুরু করে মৃতের সংখ্যা যাবতীয় বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গেই তাঁরা সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লাশের সঠিক সংখ্যা, তাদের পরিচয় এবং উদ্ধার কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ জনগণের সামনে দিবালোকের মতো পরিস্কার করে তুলেছে। এরপরও এ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো শুধু জনমনে অবিশ্বাস তৈরি করবে না একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে দুর্বলও করবে। এসব বিষয়ে প্রত্যেককে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রদান করতে হবে। কিন্তু আমরা সেই পথে না হেঁটে ‘চিলে কান নিয়েছে’ এই প্রবাদ বাস্তবায়নেই যেন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছি।

ভুল তথ্য আর যাচাই-বাছাই ছাড়া স্পর্শকাতর এই সময়ে এই ধরণের তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফারুকী বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজন বিখ্যাত অভিনেত্রী, অভিনেতা, পরিচালক গত তিন ঘণ্টায় তাদের প্রোফাইল থেকে একটা ভুল তথ্য পোস্ট করেছেন, যার হেডিং ছিল ‘মাইলস্টোনের ওপর বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যাদের পাওয়া যাচ্ছে না!’ তার মধ্যে একজনের পোস্ট ১৩০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। তিনি এটা ডিলিট করেছেন একটু আগে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ভুয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, মাইলস্টোনের প্রায় ৪৬ ছাত্র-ছাত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই রকম অবিশ্বাস্য কথা কি ভুল করে উনারা শেয়ার করলেন? নাকি এটা একটা সম্মিলিত উদ্যোগ? এ রকম ট্রমাটিক (আঘাতজনক) একটা বিষয় নিয়ে এমন দায়িত্বহীন পোস্ট সত্যিই দুঃখজনক।’ সতর্কবার্তা দিয়ে ফারুকী বলেন, ‘মাইলস্টোনের ক্লাসে কারা ছিল, কারা প্রাণ হারিয়েছে, কারা চিকিৎসাধীন-এই সবই তো রেকর্ডেড। সুতরাং দয়া করে ভুয়া হেডলাইন দেওয়া লেখা শেয়ার করে মানুষকে আরও ট্রমাটাইজড করবেন না। জাতি শিল্পীদের কাছে আরেকটু দায়িত্বশীলতা আশা করে।’

বুধবার (২৩ জুলাই) দিনমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা পর্যবেক্ষণের পর কথা হয় স্থানীয় দোকানি হাসান আহমেদ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিনে প্রচণ্ড রোদ এবং অনেকের কাজ থাকায় বিকালে মানুষের এমন চাপ দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।’ এ সময় দেখা যায়, অসংলগ্ন তথ্য উপস্থাপন করে ভুঁইফোড় গণমাধ্যমগুলোর কতিপয় প্রতিনিধি যার-তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। কেউ বলছেন ৩০ জন মারা গেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন কয়েকশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে অবস্থানরত একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানান, প্রশাসন বা সরকারের উচ্চপদস্থ কেউ থাকলে ঘটনাস্থলে এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করতো না। বিশেষ করে নামসর্বস্ব গণমাধ্যমগুলোর দৌরাত্ম্য কমতো। এ এইচ নোমান রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেক ইউটিউবার ও ফেসবুক লাইভ থেকে নিহতের সংখ্যা নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব তথ্য কেউ বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।’

গত দু’দিনে সশস্ত্র বাহিনীকে টার্গেট করে এসব ঘটনায় নানা আপত্তিকর স্লোগান ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে মর্জি-মাফিক। কাণ্ডজ্ঞানহীন এমন প্রবণতা দৃষ্টি এড়ায়নি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের এই প্রতীক এই বাহিনীটিকে ঘৃণ্য কায়দায় হেনস্থার অপপ্রয়াসও দৃশ্যমান হয়েছে। অথচ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘লাশ লুকানোর গুজব’ দেশবাসীকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্র্যাশ সাইটে এক ধরনের অশান্তি বিরাজ, এটা খুবই দুঃখজনক। অনেক গুজব চলছে, এই গুজবে কান দেবেন না। যখন আমাদের কাছে যে আপডেট আসছে, আহত-নিহতের, সেটা আমরা সাথে সাথে আইএসপিআরের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি। এখানে লুকানোর বা গোপন করার কোনো বিষয়ই নাই। কার কাছ থেকে লুকাব? আপনারা আমাদের দেশের মানুষ, আমরাও এই দেশের মানুষ। দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনাই। আমরা চেষ্টা করছি, এটাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে।’

একই রকম কথা বলেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে জঙ্গি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা গোপন করার কোনো ‘প্রয়োজন বা অভিপ্রায় সরকারের নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা ‘গোপন রাখা অসম্ভব’ বলেও মনে করেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাঠের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে এই ধারণা তিনি পোষণ করেন বলে জানিয়েছেন।

একই বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেছেন, ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছা বা প্রয়াস সেনাবাহিনীর নেই। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই না বুঝে এসব গুজবে বিশ্বাস করছেন। ঘটনার পরপরই কোনো পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দিয়েছে, যেমনটি সবসময় করে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছা বা প্রয়াস আমাদের নেই। আমি নিজে ও আইএসপিআর টিম সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতএব আইএসপিআরের পরিচালক হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, যে কোনো গণমাধ্যম চাইলেই এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে, সেনাবাহিনীসহ যে কাউকে ইন্টারভিউ করতে পারে বা সংশ্লিষ্ট যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হবে।’

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়।

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন তারেক রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন‌্যতম আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৪ এ‌প্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণের সামনে দাঁ‌ড়িয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক এ‌সে‌ছেন বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখ‌তে। এ ছাড়া, শোভাযাত্রা দেখ‌তে এ‌সে‌ছেন ভারত, ইউরোপ, মধ‌্যপ্রাচ‌্য ও দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এ‌শিয়া মিশনের কয়েকজন কূটনীতিক‌। তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় প্রশাসন।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেনকে শোভাযাত্রা বেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে। দুই রাষ্ট্রদূতই তাদের মোবাইল ফোনে শোভাযাযাত্রার ছ‌বি তোলাসহ সেল‌ফি‌ তুল‌ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) বিদেশি কূটনীতিকদের দেখভালের দা‌য়িত্বে ছিলেন। তি‌নি বলেন, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান দেখতে বি‌ভিন্ন দেশের কূটনী‌তিকরা এসেছেন। দুইজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আরও অ‌নেক মিশনের কূটনী‌তিকরা এসেছে; তা‌রা সস্ত্রীক এসেছেন।

আজ সকাল ৯টার পর ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা শুরু করে।

২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে মঙ্গল শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। এবার এ শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বঙ্গব্দ ১৪৩৩ কে বরণ করে নেওয়ার মধ‌্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

রাজধানীর রমনা বটমূলে শেষ হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ ১৪৩৩-এর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষের আগে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বক্তব্যে বলেন, সমাজে দিন দিন বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রত্যাশা সকলের।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন বিশ্বজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে দেশের ভেতরেও, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশে অনেকেই নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক সহনশীলতার অবক্ষয় একটি সুস্থ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছর হোক ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তচিন্তার বিকাশের প্রতীক। যেখানে মানুষ নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে, মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হবে। শুভ নববর্ষ।

এর আগে সূর্যোদয়ের পরপর শুরু হয় বর্ষবরণের ছায়ানটের অনুষ্ঠান। এবারের বার্তা, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—সেখানেই বাঙালির জয়। ছায়ানটের ৫৯তম অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি লোকজনজীবনের সুর দিয়ে। সব মিলিয়ে বাঙালি সমাজকে বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে ‘আরও মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয়। সময় যত গড়িয়েছে, বেলা যত বেড়েছে ততই ভিড় বাড়তে দেখা গেছে অনুষ্ঠানস্থলে।

এদিন নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজনের কমতি ছিল না রমনার বটমূলে। বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করে ঐতিহ্যগতভাবে বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। নতুন বছরকে তাই বরণ করে নেওয়া হয় সুরের মূর্ছনায়।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এর পরপরই পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি। এরপর একের পর এক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইয়ের গান, লোকগানের পাশাপাশি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান পরিবেশন করা হয়।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবং প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের গান। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয় প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি ছিল সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান ছিল ১৪টি। পাঠ ছিল দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এদিকে ভোর থেকেই রমনায় বৈশাখী সাজে হাজির হন শিশু, নারী ও পুরুষ। সবারই প্রত্যাশা—বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে নতুনের আবহে শুরু হোক বছরটি। বিভেদ ভুলে সাম্য আর ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সবার।

জানা গেছে, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গেয়েছে ছায়ানট। এবার মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতার ধ্বংসযজ্ঞে মত্ত-বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। সে বছর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হলো রমনার এই বটমূল থেকেই।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে সুরের মূর্ছনা আর কথামালায়। কোভিডের দুই বছর এ আয়োজন হয় ভার্চু্যয়ালি। ২০০১ সালে ছায়ানটের বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। তাতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রতিবছর বর্ষবরণের এ আয়োজন চলছে।

বর্ষবরণের আয়োজন ঘিরে পুরো রমনা পার্ক এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। বসানো হয় ডিএমপি ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম। প্রবেশপথ ও বাহিরপথ আলাদা করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন