খুঁজুন
                               
, ,
           

কেন গুজবের প্রধান টার্গেট সশস্ত্র বাহিনী?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
কেন গুজবের প্রধান টার্গেট সশস্ত্র বাহিনী?

কালের আলো রিপোর্ট:

গোধূলির আবছা আলোয় সেদিন উত্তরের আকাশ যেন এক মৃত্যুপুরী হয়ে নেমে এসেছিল। মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল এক বিভীষিকাময় ধ্বংসস্তূপে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন আর বাতাসে পোড়া গন্ধ-এসবই যেন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো গ্রাস করেছিল পুরো দেশকে। এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা শুধু কিছু প্রাণের বিনিময়ে শেষ হয়নি, বরং আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের কি শিক্ষা দিল, তা গভীর সংবেদনশীলতার সঙ্গে যেমন ভেবে দেখার প্রয়োজন। ঠিক তেমনি ঘটনার পরপরই কোনো পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবতীয় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কেন তাদেরকে নিয়ে অপতথ্যের তাণ্ডবের মাধ্যমে আমরা কেমন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছি এই বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়েই ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সংকটে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও একইভাবে বিবেকের দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম থেকেই এমন দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সেদিন থেকেই লাশ লুকানো নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এটি জনগণের মধ্যেও মারাত্মকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করে। দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীর প্রাণান্ত প্রয়াস যেখানে প্রশংসার দাবি রাখে সেখানে তাদেরকে টার্গেট করে নানাবিধ গুজব-অপপ্রচার ছড়িয়ে জনসাধারণের মধ্যে এক প্রকার আস্থাহীনতা তৈরির অপপ্রয়াস দৃশ্যমান হয়েছে।

অথচ উদ্ধার কার্যক্রম থেকে শুরু করে মৃতের সংখ্যা যাবতীয় বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গেই তাঁরা সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লাশের সঠিক সংখ্যা, তাদের পরিচয় এবং উদ্ধার কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ জনগণের সামনে দিবালোকের মতো পরিস্কার করে তুলেছে। এরপরও এ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো শুধু জনমনে অবিশ্বাস তৈরি করবে না একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে দুর্বলও করবে। এসব বিষয়ে প্রত্যেককে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রদান করতে হবে। কিন্তু আমরা সেই পথে না হেঁটে ‘চিলে কান নিয়েছে’ এই প্রবাদ বাস্তবায়নেই যেন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছি।

ভুল তথ্য আর যাচাই-বাছাই ছাড়া স্পর্শকাতর এই সময়ে এই ধরণের তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফারুকী বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজন বিখ্যাত অভিনেত্রী, অভিনেতা, পরিচালক গত তিন ঘণ্টায় তাদের প্রোফাইল থেকে একটা ভুল তথ্য পোস্ট করেছেন, যার হেডিং ছিল ‘মাইলস্টোনের ওপর বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যাদের পাওয়া যাচ্ছে না!’ তার মধ্যে একজনের পোস্ট ১৩০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। তিনি এটা ডিলিট করেছেন একটু আগে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ভুয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, মাইলস্টোনের প্রায় ৪৬ ছাত্র-ছাত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই রকম অবিশ্বাস্য কথা কি ভুল করে উনারা শেয়ার করলেন? নাকি এটা একটা সম্মিলিত উদ্যোগ? এ রকম ট্রমাটিক (আঘাতজনক) একটা বিষয় নিয়ে এমন দায়িত্বহীন পোস্ট সত্যিই দুঃখজনক।’ সতর্কবার্তা দিয়ে ফারুকী বলেন, ‘মাইলস্টোনের ক্লাসে কারা ছিল, কারা প্রাণ হারিয়েছে, কারা চিকিৎসাধীন-এই সবই তো রেকর্ডেড। সুতরাং দয়া করে ভুয়া হেডলাইন দেওয়া লেখা শেয়ার করে মানুষকে আরও ট্রমাটাইজড করবেন না। জাতি শিল্পীদের কাছে আরেকটু দায়িত্বশীলতা আশা করে।’

বুধবার (২৩ জুলাই) দিনমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা পর্যবেক্ষণের পর কথা হয় স্থানীয় দোকানি হাসান আহমেদ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিনে প্রচণ্ড রোদ এবং অনেকের কাজ থাকায় বিকালে মানুষের এমন চাপ দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।’ এ সময় দেখা যায়, অসংলগ্ন তথ্য উপস্থাপন করে ভুঁইফোড় গণমাধ্যমগুলোর কতিপয় প্রতিনিধি যার-তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। কেউ বলছেন ৩০ জন মারা গেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন কয়েকশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে অবস্থানরত একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানান, প্রশাসন বা সরকারের উচ্চপদস্থ কেউ থাকলে ঘটনাস্থলে এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করতো না। বিশেষ করে নামসর্বস্ব গণমাধ্যমগুলোর দৌরাত্ম্য কমতো। এ এইচ নোমান রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেক ইউটিউবার ও ফেসবুক লাইভ থেকে নিহতের সংখ্যা নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব তথ্য কেউ বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।’

গত দু’দিনে সশস্ত্র বাহিনীকে টার্গেট করে এসব ঘটনায় নানা আপত্তিকর স্লোগান ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে মর্জি-মাফিক। কাণ্ডজ্ঞানহীন এমন প্রবণতা দৃষ্টি এড়ায়নি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের এই প্রতীক এই বাহিনীটিকে ঘৃণ্য কায়দায় হেনস্থার অপপ্রয়াসও দৃশ্যমান হয়েছে। অথচ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘লাশ লুকানোর গুজব’ দেশবাসীকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্র্যাশ সাইটে এক ধরনের অশান্তি বিরাজ, এটা খুবই দুঃখজনক। অনেক গুজব চলছে, এই গুজবে কান দেবেন না। যখন আমাদের কাছে যে আপডেট আসছে, আহত-নিহতের, সেটা আমরা সাথে সাথে আইএসপিআরের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি। এখানে লুকানোর বা গোপন করার কোনো বিষয়ই নাই। কার কাছ থেকে লুকাব? আপনারা আমাদের দেশের মানুষ, আমরাও এই দেশের মানুষ। দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনাই। আমরা চেষ্টা করছি, এটাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে।’

একই রকম কথা বলেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে জঙ্গি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা গোপন করার কোনো ‘প্রয়োজন বা অভিপ্রায় সরকারের নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা ‘গোপন রাখা অসম্ভব’ বলেও মনে করেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাঠের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে এই ধারণা তিনি পোষণ করেন বলে জানিয়েছেন।

একই বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেছেন, ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছা বা প্রয়াস সেনাবাহিনীর নেই। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই না বুঝে এসব গুজবে বিশ্বাস করছেন। ঘটনার পরপরই কোনো পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দিয়েছে, যেমনটি সবসময় করে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছা বা প্রয়াস আমাদের নেই। আমি নিজে ও আইএসপিআর টিম সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতএব আইএসপিআরের পরিচালক হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, যে কোনো গণমাধ্যম চাইলেই এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে, সেনাবাহিনীসহ যে কাউকে ইন্টারভিউ করতে পারে বা সংশ্লিষ্ট যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হবে।’

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নে বিদ্যমান জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলোতে নথি সত্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ডাবল লেজিসলেশন’ বা বারবার সত্যায়নের প্রক্রিয়া কেন বেআইনি হবে না, একইসঙ্গে ‘হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন’(উদ্দেশ্য নথি সত্যায়নের জটিলতা দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি) অনুযায়ী কেন একটি অভিন্ন নীতিমালা জারি করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূরে আলম জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে জন্মসনদ, বিবাহ সনদ বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মতো নথিগুলো আইন অনুযায়ী নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল করার পরও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পুনরায় অথেন্টিকেশন বা সত্যায়ন করতে বাধ্য করে। এর ফলে একই নথি নিয়ে মানুষকে একাধিক দফতর ও মিশনে ঘুরতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসস্থান থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে। সেখানে যাতায়াত, আবাসন ব্যয় এবং কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার ফলে প্রবাসীরা চরম আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা পার হয়ে যায় এবং চাকরিতে যোগদান বিলম্বিত হয়।’

আদালতে জানানো হয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আগেই প্রজ্ঞাপন বা সার্কুলার জারি করা হলেও দূতাবাসগুলো তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। একেক দূতাবাসে একেক নিয়ম চালু থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।

শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে- বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে অভিন্ন নির্দেশনা না দিয়ে পাবলিক ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে পুনরায় লেজিসলেশন বা সত্যায়ন করার চলমান নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী একটি অভিন্ন নীতিমালা কেন জারি করা হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন প্রতিটি মিশনকে একই নিয়মের আওতায় আনতে নির্দেশনা দেবে না এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের এসআরওগুলোর ইমপ্লিমেন্টেশন বা বাস্তবায়ন কেন নিশ্চিত করা হবে না।

একইসঙ্গে দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইট, ম্যানুয়াল এবং পাবলিক নোটিশগুলো হালনাগাদ করে সঠিক তথ্য প্রচারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো নথি একবার অ্যাপোস্টিল করা হলে তা ওই কনভেনশনভুক্ত দেশগুলোতে পুনরায় সত্যায়ন ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপ নিলেও মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে বিদেশের মিশনগুলোতে এর সুফল মিলছে না- এমন অভিযোগে রিটটি করা হয়েছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৪ আগস্ট সশরীরে তাদের হাজির করতে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ ইস্যু করেছেন আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আরও জানান, এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে তদন্ত সংস্থা এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রয়োজনে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আবশ্যক। এজন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়েছিলাম।

শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং কারাবন্দি এই তিন সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

গত জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।

ওই সময়ে ঘটা হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় করা একাধিক মামলায় তাদের নাম আসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের ধারাবাহিকতায় এবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ