খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

ঢাকার আকাশ প্রতিরক্ষায় ‘অত্যাবশ্যক’ বিমানঘাঁটি, দুর্ঘটনার তদন্ত সহায়তায় আসতে পারে চীন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
ঢাকার আকাশ প্রতিরক্ষায় ‘অত্যাবশ্যক’ বিমানঘাঁটি, দুর্ঘটনার তদন্ত সহায়তায় আসতে পারে চীন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দেশে গত এক দশকে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। এর কোনোটিতে পাইলট আহত বা নিহত হয়েছেন। কোনোটি বিধ্বস্ত হয়েছে জনবসতি থেকে দূরে। তবে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের মতো প্রাণঘাতী যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার নজির অতীতে নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। দগ্ধ ও আহত ৩৪ জন এখনো জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে, ১১ জন সিএমএইচে ও ১ জন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির শহর ঢাকায় যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ পরিচালনা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। রাজনীতিকরাও নানান কথা বলছেন।

এই আলোচনার মধ্যেই বিমান বাহিনী সদর দপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা থেকে জঙ্গি বিমান প্রশিক্ষণ ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই। রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকায় জঙ্গি বিমানঘাঁটি রাখা অত্যাবশ্যক। বিশ্বের বহু দেশের রাজধানীতেও এমন ঘাঁটি রয়েছে। সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা ক্যাম্পাসে (পুরাতন পিএসসি ভবনে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিমান পরিচালনা পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমডোর শহীদুল ইসলাম এই সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘রাজধানীর স্ট্র্যাটিজিক এবং অপারেশনাল নেসিসিটির সুবাদে এই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা তথা রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য রাজধানীতে জঙ্গি বিমানের ঘাঁটি থাকা অত্যাবশ্যক।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাইলস্টোনে সাম্প্রতিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করতে ও তদন্তকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। শুরু থেকেই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্তকাজে সহায়তার জন্য চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দলের ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে বলেও মনে করছে বিমান বাহিনী সদর দপ্তর। সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ‘সম্মানিত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দুর্ঘটনার পরের দিন এক মিডিয়া ব্রিফিংকালে অনেক প্রশ্ন এবং সংশয়ের উত্তর দিয়েছেন। পরবর্তীতে, বিমান বাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

  • অপারেশনাল এবং স্ট্র্যাটিজিক নেসিসিটির জন্য পৃথিবীর যে কোনো দেশের রাজধানীতে বিমানঘাঁটি অত্যাবশ্যক
    এয়ার কমডোর শহীদুল ইসলাম
    পরিচালক
    বিমান পরিচালনা পরিদপ্তর
    বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

ঢাকার মতো জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন কতটা নিরাপদ এবং যৌক্তিক এসব নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। মাইলস্টোনের প্রাণহানির পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নানা কার্যক্রমের বিষয়ে অবহিত করতে সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সেখানেও তারা একই রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তাঁরা যৌক্তিতা তুলে ধরেই প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন।

‘অপারেশনাল এবং স্ট্র্যাটিজিক নেসিসিটির জন্য পৃথিবীর যে কোনো দেশের রাজধানীতে বিমানঘাঁটি অত্যাবশ্যক’
এক প্রশ্নের জবাবে বিমানবাহিনীর বিমান পরিচালনা পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমডোর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘যুদ্ধবিমান পরিচালনা, উড্ডয়ন এবং ল্যান্ড করার জন্য সুপরিসর রানওয়ে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, মেনটেইনেন্স এবং লজিস্টিকস ফ্যাসিলিটিজ, ফুয়েল স্টোরেজ, রেডার ফ্যাসিলিটিজ এর সবগুলাই দরকার হয়। বিমান ঘাঁটিগুলো যেখানেই থাকুক, ফ্যাসিলিটিগুলো থাকতে হয়। কিন্তু অপারেশনাল এবং স্ট্র্যাটিজিক নেসিসিটির জন্য পৃথিবীর যে কোনো দেশের রাজধানীতে বিমানঘাঁটি অত্যাবশ্যক।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গি বিমানের স্কোয়াড্রনগুলোর প্রয়োজনীয় ট্রেনিং সারা বছরব্যাপী চলমান থাকে। ওই অপারেশনাল বিমানগুলোতেই আমরা ট্রেনিং করে থাকি।’ প্রশিক্ষণ বিমানগুলোতে দুইজন পাইলট থাকেন এবং ‘সিঙ্গেল সিটার’ যুদ্ধ বিমানুগলোর ‘ক্যাপাসিটি এবং ক্যাপাবিলিটি সহই’ যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলেও জানান এই কর্মকর্তা। মাইলস্টোনে বিধ্বস্ত হওয়া জঙ্গি বিমানটির বৈমানিক পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের সঙ্গে আকাশে থাকা অবস্থায় যোগাযোগ ছিল কি-না জানতে চাইলে এয়ার কমডোর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন বিমান উড্ডয়ন করি তখন আবশ্যিকভাবে বিমানের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, রেডার স্কোয়াড্রন এবং অন্যান্য কন্ট্রোলিং এজেন্সির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে। এক্ষেত্রেও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের সঙ্গে একইভাবে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ বিদ্যমান ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ও যখন ল্যান্ড করার জন্য আসছিল, আমাদের সাথে পরিপূর্ণভাবে সংযোগ ছিল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে।’

শেষ মুহুর্তে পাইলট তৌকিরের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কী কথা হয়েছিল, সে বিষয়েও সাংবাদিকরা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় বিমানবাহিনীর বিমান পরিচালনা পরিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি উচ্চ পদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তার সর্বশেষ অ্যাকশন কী ছিল এবং কোনো ধরনের জটিলতা ছিল কি না বা কোনো গোলযোগের সম্মুখীন হয়েছিল কি-না, এ বিষয়গুলো তদন্ত পরিষদে বিস্তারিত আসবে। আমরা তদন্ত চলাকালে কোনোরূপ আলাদা পর্যালোচনা বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকব।’ পাইলট শেষ মুহূর্তে কোনো ধরনের জটিলতায় পড়েছিলেন কি-না, তিনি কোনো সাহায্য চেয়েছিলেন কি-না, এসব বিষয়ে তদন্ত চলাকালে কোনো মন্তব্য করতে আপত্তি প্রকাশ করেন এয়ার কমডোর শহীদুল।

বিমান বাহিনীর নানাবিধ মানবিক কার্যক্রম, তদন্ত সহায়তায় আসতে পারে চীনের প্রতিনিধি দল
বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটি উচ্চতা হারায় বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরের এত কাছে মাইলস্টোন ক্যাম্পাস এবং ভবনের উচ্চতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ প্রশ্নের জবাব দেন বিমান বাহিনী জরুরি সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এয়ার কমডোর মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন এখন অনেক কিছু অনুমান নির্ভর আসছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলমান। প্রত্যেকটা বিষয় তদন্ত প্রক্রিয়ায় চলে আসবে। আমাদের একটাই কথা, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন আসুক। মাইলস্টোনের বিষয়টিও তদন্তে আসবে, জাতীয় পর্যায়েও একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রত্যেকটা বিষয় আমাদের তদন্তে নিয়ে আসব। কোনো একটা বিষয় আমরা বাদ দেব না।’

বিমান বাহিনী সোমবার মাইলস্টোনে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করেছে জানিয়ে এয়ার কমডোর মিজানুর বলেন, ‘সেখানে একজন মনোবিজ্ঞানী একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তারা নিয়মিত সেখানে কাজ করবেন।’ বিধ্বস্ত এফটি-৭ বিজিওয়ান বিমানটি চীনের তৈরি। সে কারণে তদন্তে সহায়তার জন্য চীনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিমান বাহিনী জরুরি সমন্বয় কেন্দ্রের এই প্রধান। তাঁর ভাষ্য হচ্ছে- ‘তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী উদ্ধারকার্যে অংশগ্রহণ করে এবং একই দিনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে সম্মানিত বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসকল কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনের জন্য গত ২১ জুলাই ‘জরুরি সহায়তা কেন্দ্র’ গঠন করা হয়।’

বিমান বাহিনীর কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরে জানানো হয়, জরুরি সহায়তা কেন্দ্র থেকে আহতদের চিকিৎসা, আহতদের অবস্থান, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, নিহতদের পরিচয় যাচাই ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, নিহতদের দাফন ও সৎকার কার্যক্রম সমন্বয়, হাসপাতালে রক্তদাতা প্রেরণ এবং সংগ্রহে সহায়তা এবং যেকোনো জরুরি তথ্য, পরামর্শ ইত্যাদি সহায়তার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনার পরের দিন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং সিএমএইচ -এ দুটি সমন্বয় সেল গঠন করে যা সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছে। ২২ জুলাই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান বার্ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পরিদর্শন করেছেন।

  • তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে
    এয়ার কমডোর মো. মিজানুর রহমান
    প্রধান সমন্বয়ক
    বিমান বাহিনী জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র
    বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

২৩ জুলাই বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের ফ্যালকন হলে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল আলম ও উপাধ্যক্ষসহ ৮ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমন্বয় সভায় দুর্ঘটনা পরবর্তী বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে পুনরায় নিশ্চয়তা দেয়া হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যে ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সেটা দূর করা সম্ভব হয়।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পরিবারের পাশে থেকে সহমর্মিতা জানাতে বিমান বাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে আহতদের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সামরিক কায়দায় সম্মান প্রদর্শন এবং বিশেষ দোয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রথমে মানবিকতা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী ও শিক্ষিকা মাশুকা বেগমের সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি সামরিক কায়দায় সম্মান জানানো হয়। একই ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত নিহত ১৭ জনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সম্মান প্রদান করা হয়। বিমান বাহিনী প্রধান সস্ত্রীক দুর্ঘটনা ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। নিহত শিক্ষার্থীদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। গত ২৫ জুলাই সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় শাহাদাত বরণকারী সকল নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিমান বাহিনীর সকল ঘাঁটি ও ইউনিটের মসজিদসমূহে এবং একই দিনে বাদ আসর সকল ঘাঁটি ও ইউনিটের অফিসারস মেসে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সংহতি ও সহানুভূতির আন্তরিক নিদর্শন হিসেবে গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত সকল শাহীন স্কুল, বিএএফ হাজী আশরাফ আলী স্কুল, শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম ও ব্লো স্কাই স্কুলে শাহাদাতবরণকারী সকলের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও গত ২৬ জুলাই ঢাকা বিএএফ শাহীন কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত দুটি প্রতিনিধিদল উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে শোকবার্তা পৌঁছে দেন। মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সকল নিহত এবং আহতদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানসহ বিমান বাহিনী সর্বদা তাদের পাশে থাকবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
‘সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন’

গত দুই মাসে সরকারের বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের গত ৬০ দিনের সাফল্যের সাতটি দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে গত দুই মাসে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের মাঝে থাকছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছেন না।

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, দেশ সেবা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে নিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো’ বলে মন্তব্য করেছেন-জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার বয়স ৮০ বছর হয়ে গেছে এখন আর এগুলো করার সময় নেই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম। আমি এই দলের (বিএনপি) অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তা-ও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। আমি এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। আমার নজর ছিল এলাকা থেকে জনগণ যাতে ভোট দেয়, আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর লোকজন আশা করেছিল আমি যেন একটা প্ল্যাগ নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে দুই দুইটা প্ল্যাগ নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তার সঙ্গে আমি জীবনে কথা বলেছি দুই দিন। এ ছাড়া কোনো দিন টেলিফোন হয়নি, দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অভিহিত করেছেন। এ জন্য আমি তার কাছে ও আমার দল বিএনপির কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন