খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ভুল ও অপতথ্যের নেতিবাচক প্রভাব, মিথ্যা তথ্য সুপরিকল্পিতভাবে প্রতিরোধের বার্তা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
ভুল ও অপতথ্যের নেতিবাচক প্রভাব, মিথ্যা তথ্য সুপরিকল্পিতভাবে প্রতিরোধের বার্তা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর 

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো: 

সংবাদমাধ্যমসহ প্রচলিত মাধ্যমগুলোর বাইরে তথ্যের অবাধ প্রবাহের জায়গায় পরিণত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যে কারও তথ্য দেওয়ার সুযোগ থাকায় এবং এসব তথ্য যাচাইয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এটি ভুল ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র—প্রায় সব জায়গায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি ভুল ও অপতথ্যের কারণে জাতিগত ও ধর্মীয় দাঙ্গার মতো প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধ অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং একটি ভাইরাল ভিডিও বা বিকৃত তথ্য দিয়ে শুরু হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ। তিনি বলেছেন,  আজকের যুগে একটি পোস্ট বা ভাইরাল কনন্টেন্ট মিসাইলের চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারে।

বুধবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) জেনারেল মোস্তাফিজ মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি) ও এমআইএসটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সেমিনারের শিরোনাম ‘রেজিলিয়েন্স ইন দ্য ইনফরমেশন ডোমেইন: টুলস টু অ্যাড্রেস মিসইনফরমেশন অ্যান্ড ডিসইনফরমেশন অন সোশ্যাল মিডিয়া’।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুফি মোহাম্মদ মইন উদ্দিন, এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান।

মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ করতে হবে সুপরিকল্পিতভাবে

মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ করতে হবে সুপরিকল্পিতভাবে এমন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ বলেছেন, মিথ্যা তথ্য সত্যের তুলনায় ছয় গুণ দ্রুত ছড়ায়। কারণ, এগুলো ভয়ের মতো আবেগ জাগায়। তাই এর প্রতিরোধও হতে হবে সচেতন ও সুপরিকল্পিত। গত এক বছরে অনেক মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আবদুল হাফিজ। তিনি বলেন, যেমন জুলাইয়ের প্রতিবাদকারীরা ছিল মিলিট্যান্ট, ইসলামপন্থী ও হত্যাকারী। পুলিশ হত্যা করেনি, ফ্যাসিস্ট শাসকেরা হত্যা করেনি—এমন সব মিথ্যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।

সেমিনারের একজন বক্তার গবেষণার উদাহরণ দিয়ে আবদুল হাফিজ বলেন, মিথ্যা তথ্য সত্যের তুলনায় ছয় গুণ দ্রুত ছড়ায়। কারণ, এগুলো ভয়ের মতো আবেগ জাগায়। সত্য একঘেয়ে, মিথ্যা উত্তেজক। তাই অনেকে মিথ্যার প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই এর প্রতিরোধও হতে হবে সচেতন ও সুপরিকল্পিত।

প্রচারণা (প্রপাগান্ডা) প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে উল্লেখ করেন আবদুল হাফিজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরা প্রোপাগান্ডা ব্যুরো গঠন করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরপেক্ষতা ত্যাগে বাধ্য করেছিল। বর্তমান বিশ্বেও প্রোপাগান্ডা হারিয়ে যায়নি। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে, ভুয়া ভিডিও ছড়িয়েছে।

আবদুল হাফিজ বলেন, প্রচারণা, মিথ্যা-ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বহুমাত্রিকভাবে। সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে ফ্যাক্টচেক করছে। প্রতিরোধ গড়তে প্রযুক্তিগত দিকেও অগ্রসর হতে হবে। এআই, ব্লকচেইন, ওপেনসোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা। ডিজিটাল সিটিজেনশিপকে গণিত বা বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয় হিসেবে পড়াতে হবে। মিডিয়া লিটারেসি স্কুলপর্যায় থেকে শুরু করতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ডিপফেক ও বানোয়াট কনটেন্টের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য সুরক্ষিত করতে টেকসই কৌশল অনুসন্ধান করতে হবে। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত পদ্ধতি চিহ্নিত করে প্রয়োগ করতে হবে।

সেমিনারে বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রভাব বিশ্লেষণ করে তা মোকাবিলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন ও সচেতনতামূলক শিক্ষার মিশ্রণ অপরিহার্য। সমাজে অপতথ্য ও গুজবের প্রভাব মোকাবিলায় তাঁরা কৌশল, পদ্ধতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের ওপর জোর দেন। সক্রিয় ও বহুমাত্রিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামরিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে একটি কৌশলগত ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, এটি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

সেমিনারে সসস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এমআইএসটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সেমিনারে অংশ নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি