খুঁজুন
                               
, ,
           

পিআর দাবিতে অনড় ইসলামি দলগুলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
পিআর দাবিতে অনড় ইসলামি দলগুলো

কালের আলো রিপোর্ট:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী আর মাত্র মাস কয়েক। আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ভোটগ্রহণের ঘোষণা আগেই দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচন কমিশনও একই সময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সব ছাপিয়ে রাজনীতিতে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি। শুরু থেকেই দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই পদ্ধতির বিরোধীতা করলেও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

একই দাবিতে অনড় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দল। এটিসহ পাঁচ দফা দাবিতে তারা রাজধানী থেকে শুরু করে সারা দেশে কর্মসূচি পালন করছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) পিআর পদ্ধতিতে (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) আগামী জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীতে গণমিছিল করে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী দল। গণমিছিলে নেতারা বলেন, ‘পিআর নিয়ে জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআরের পক্ষে। আর জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানাও জনগণ মেনে নেবে না।’ তবে একই দিনে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত জেলা বিএনপির সদ্য প্রয়াত সদস্য সচিব আনিছুর রহমানের শোকসভা ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি চালু করার মতো কোনো পরিবেশ নেই এবং বিএনপি সেটিতে বিশ্বাসী নয়। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা এক শ্রেণির গোষ্ঠী নির্বাচনের সময় প্রলম্বিত করার উদ্দেশে এই দাবি তুলছেন।’

  • এখন জনগণ পিআর পদ্ধতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে
    মিয়া গোলাম পরওয়ার
    সেক্রেটারি জেনারেল
    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

জানা যায়, শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে গণমিছিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তার আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাদের মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। একই দাবিতে বিকাল সাড়ে ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে গণমিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

জুমার পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের আমির মামুনুল হক। তিনি দাবি আদায়ে আগামী ১২ অক্টোবর সারা দেশের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই দাবিতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে গণমিছির বের করে খেলাফত মজলিস। এতে নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

এখন জনগণ পিআর পদ্ধতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার
সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন জনগণ পিআর পদ্ধতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই পদ্ধতি সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করার অধিকার আছে। কিন্তু দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের ঘোষিত কর্মসূচি সম্পর্কে, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অধিকার কারও নেই।’

  • ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন জরুরি
    মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম
    আমির
    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

এদিন জুমার নামাজের পর ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে গণমিছিলের আগে এক সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। পাঁচ দফা দাবি আদায়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ)’ নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদেরও দায়ী করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো বিশেষ দলের প্রতি দুর্বল হয়ে, কারও চাপে মাথা নত করে প্রশাসনে কোনো দলের পছন্দের লোককে বেছে বেছে পদায়ন করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। ওসি, ডিসি, ইউএনও, আমলা, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকের ভূমিকা এখনো জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগে ছোট-বড় সব দল যেন সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেসব সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি গণভোটের মধ্যে পিআর প্রস্তাবও যুক্ত রাখার দাবি জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ যদি পিআর পদ্ধতির পক্ষে মতামত দেয়, সব দলকে সেটা মানতে হবে। জনগণ বিপক্ষে মত দিলে জামায়াত পিআরের দাবি থেকে সরে আসবে।

  • দেশে পিআর পদ্ধতি চালু করার মতো কোনো পরিবেশ নেই
    ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
    সদস্য, স্থায়ী কমিটি
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

জাতীয় ঐক্য তৈরির স্বার্থে জামায়াত ‘বেশ কিছু’ সংস্কার প্রস্তাবে ছাড় দিয়েছে দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন পূরণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে যেন ঐক্যের প্রচেষ্টায় বিঘ্ন না ঘটে।’

‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগের মতো ১৪ দলীয় জোটভুক্ত সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল, যাঁর দলকে গত বছর অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর জামায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘অনেকে দ্রুত নির্বাচন চান, কিন্তু সংস্কারে সহযোগিতা করেন না। জনগণের দাবিকে তাঁরা তোয়াক্কা করেন না। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, কোথায় কী নাড়াচাড়া হচ্ছে, এর খবর আমাদের কাছেও আছে। যারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে এবং আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলকে রক্ষা করার কথা ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলে, তারা ভারতের দালাল। এই দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আরেকটি বিপ্লব করতে জামায়াত প্রস্তুত আছে।’

১৫ নভেম্বরের মধ্যে গণভোট এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্দরমহল বা রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে যদি নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যারা চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত, বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে।’ ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এ সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে বেলা আড়াইটার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে স্লোগান ছিল ‘এই মুহূর্তে দরকার, পিআর আর সংস্কার’, ‘অবিলম্বে গণভোট, দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘জামায়াতের ৫ দফা মানতে হবে, মেনে নাও’, ‘পিআর ছাড়া নির্বাচন, মানি না, মানব না’, ‘এই মুহূর্তে দরকার, পিআর, বিচার, সংস্কার’ ইত্যাদি।

ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন জরুরি: চরমোনাই পীর
বর্তমানে দেশে ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি বাস্তবায়ন জরুরি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর এ কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক নির্বাচনী পদ্ধতিতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অন্যায় প্রভাব বিস্তার পায়।

জনগণের ভোটের অনুপাতে দলগুলো মধ্যে আসন বণ্টনকেই গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত পদ্ধতি বলে মন্তব্য করেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, এতে ভোটের মূল্য সংরক্ষিত থাকবে। ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সমাবেশে সৈয়দ রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, প্রতিনিধিত্বশীল, শান্তিপূর্ণ ও শ্রমিকবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই। সেই পথের একমাত্র সমাধান হলো পিআরভিত্তিক নির্বাচন। শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কখনোই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না বলে মন্তব্য করেন সমাবেশের বিশেষ অতিথি ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, যেখানে মানুষ ও কুকুর খাদ্যের জন্য লড়াই করবে না, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব থাকবে না।’ ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/জেএন/এমকে

জীবন সায়াহ্নে আড্ডায় খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
জীবন সায়াহ্নে আড্ডায় খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ

বয়স বাড়ে, কর্মজীবন থেমে যায়, কমে আসে ব্যস্ততা। যে মানুষটি একসময় পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের নানা কাজে ছুটে বেড়িয়েছেন, জীবনের এক পর্যায়ে তাকেই খুঁজতে হয় কথা বলার একজন মানুষ, একটু আড্ডা কিংবা পুরোনো দিনের গল্প শোনার কোনো আপন ঠিকানা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সেই ঠিকানাই নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন একদল প্রবীণ। নাম দিয়েছেন ‘বেলা শেষের যাত্রী’।

সন্ধ্যা নামলেই উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চৈতন্য বাজারের একটি ছোট্ট টিনের ঘরে জড়ো হন তারা। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলে গল্প। কখনো মুড়িমাখা, কখনো চানাচুর-ঝাল। কেউ পত্রিকা পড়েন, কেউ প্রথম যৌবনের স্মৃতি মনে করে গান ধরেন। আবার কেউ নাটকের সংলাপ শুনিয়ে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। চাকরিজীবনের স্মৃতি, জীবনের পাওয়া-না পাওয়া কিংবা ফেলে আসা মানুষের গল্পও ফিরে আসে সেই আড্ডায়।

‘এসো বন্ধুরা, জীবনের পড়ন্ত বিকালে ফেলে আসা অতীত জীবনের গল্প করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালে পাঁচজন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে।

বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল ও তাঁর কয়েকজন সমবয়সী বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হয় এ পথচলা। কর্মজীবন শেষে তিনি উপলব্ধি করেন, অবসরের সঙ্গে শুধু অফিসের ব্যস্ততাই শেষ হয় না; অনেক সময় কমে যায় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও।

সেই শূন্যতা থেকেই নিজেদের বয়সী মানুষদের নিয়ে একটি মিলনস্থল তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর একে একে যুক্ত হন শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, চিকিৎসক, কৃষি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।

সংগঠনের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্যের বয়সও ষাটোর্ধ্ব। অধিকাংশ সদস্যের বয়স ৬৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। এরই মধ্যে পাঁচজন সদস্য মারা গেছেন। তাদের অনুপস্থিতিও এখন আড্ডার গল্পের অংশ হয়ে আছে।

বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে একাকিত্ব ও অবহেলার অনুভূতি দূরে সরে যায়। বেঁচে থাকার জন্য নতুন উদ্যম পাওয়া যায়। মনে হয়, ‘আছি তো আমরাও।’ আনন্দ ও মানসিক শক্তি পাওয়া যায়, ভালো লাগা তৈরি হয়।

এই আড্ডার গভীরতা হয়তো এখানেই। এখানে কেউ কারও কাছে বয়স লুকান না। বরং বয়সের সঙ্গে জমে থাকা স্মৃতিগুলোই পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ব্যস্ত জীবনে যে কথাগুলো বলা হয়নি, যে গল্পগুলো শোনার মানুষ পাওয়া যায়নি, সেগুলোই সন্ধ্যার পর জায়গা করে নেয় ছোট্ট ঘরটিতে।

কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সংগঠক কঙ্কন সরকার বলেন, প্রবীণ মানেই অবহেলার মানুষ নন। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা সমাজের বড় সম্পদ। কর্মজীবন শেষ হলেও একজন মানুষের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। এই বয়সে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কথা বলার জায়গা, আপনজনের সঙ্গ এবং নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ।

তিনি বলেন, ‘বেলা শেষের যাত্রী’ সেই জায়গাটিই তৈরি করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়লে প্রবীণদের একাকিত্ব কমবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ পাবে।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার বাতিঘর। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নতুন প্রজন্মকে অনেক কিছু শেখাতে পারে। ‘বেলা শেষের যাত্রী’র মতো উদ্যোগ তাদের একাকিত্ব দূর করার পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধনও শক্তিশালী করছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।

পাঁচজনকে নিয়ে শুরু হওয়া ছোট্ট উদ্যোগটি এখন ৪০ জনের বেশি প্রবীণের মিলনস্থল। তাদের চাওয়া খুব বেশি নয়—দিনের শেষে কয়েকটি পরিচিত মুখ, কিছু গল্প, একটু হাসি আর মন খুলে কথা বলার সুযোগ।

জীবনের বেলা হয়তো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। কিন্তু তাদের আড্ডায় এখনো সন্ধ্যা নামে গল্প, গান আর হাসি নিয়ে। ‘বেলা শেষের যাত্রী’ তাই শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; বয়সের শেষ প্রান্তেও মানুষ যে সঙ্গ, ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়, এটি তারই এক জীবন্ত গল্প।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাউফলে নদীভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
বাউফলে নদীভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ধুলিয়া, নাজিরপুর, কারখানা ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের একের পর এক এলাকা বিলীন হওয়ার পথে। বর্ষা ও জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ।

কাছিপাড়া ইউনিয়নে কারখানা নদীর ভাঙনে যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব এখন মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট। এছাড়া হিসাজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয় দুটির দূরত্ব যথাক্রমে ৭০ থেকে ৮০ ফুট।

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে যেভাবে নদীভাঙন বাড়ছে, তাতে বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা গত এক মাসেই নদীতে বিলীন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোমান বলেন, নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যালয় রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সে।

কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন কিছুটা ঠেকানো হলেও প্রায় এক মাস আগে আবার ৫০ ফুট জায়গা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি মসজিদ ও বাজারও হুমকির মুখে পড়বে। বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার মতো আশপাশে কোনো জায়গা নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ধুলিয়া ইউনিয়নের আয়তনও ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ধুলিয়া লঞ্চঘাট, স্থানীয় লঞ্চঘাট বাজার, হাজারো একর ফসলি জমি ও শত শত বসতবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সাইক্লোন শেল্টারসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও সেতু নির্মাণের দাবিতে ধুলিয়ায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধনও হয়েছে। ইউএনও সালেহ আহমেদ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা, নিমদী, কচুয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতভিটা, আবাদি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক ও বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী পয়েন্টসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে সম্প্রতি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ইউএনও সালেহ আহমেদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

নদীভাঙনে যোগাযোগব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একের পর এক বসতঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ, বছরের পর বছর জিও ব্যাগ ফেলা ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে এসব এলাকা বাউফলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বার্জের মাধ্যমে বালুর বস্তা ফেলা হবে। এতে বস্তাগুলো পরিকল্পিতভাবে একটির ওপর আরেকটি বসানো সম্ভব হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থায়ী হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢেউয়ের প্রেমে যেন অন্যরকম এক পারশা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
ঢেউয়ের প্রেমে যেন অন্যরকম এক পারশা

সংগীত ও অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তরুণ শিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী। কাজের ব্যস্ততার বাইরে এবার মালদ্বীপের নীল সমুদ্র আর স্বচ্ছ জলের পুলে দেখা মিলেছে তার একেবারে ভিন্ন আবহের।

মালদ্বীপ ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন পারশা। কখনো সমুদ্রের নীল জলের মাঝে, কখনো সাগরের ঢেউয়ের পাশে, আবার কখনো সুইমিংপুলে—বিভিন্ন মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন এই তরুণ গায়িকা ও অভিনেত্রী।

ঢেউয়ের প্রেমে মুগ্ধ পারশা

প্রকাশিত ছবিগুলোর একটিতে পানিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে মৃদু হাসিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় পারশাকে। অন্য একটি ছবিতে কালো সাঁতারের পোশাকে সানগ্লাস পরা অবস্থায় সুইমিংপুলে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি।

সমুদ্রের নীল জল, আকাশ আর পারশার সাবলীল উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে তৈরি হয়েছে ছুটির দিনের এক নির্মল আবহ। একটি ছবির ক্যাপশনে পারশা লিখেছেন, ‘ঢেউয়ের প্রেমে মুগ্ধ!’

নতুন লুকেই নজর কাড়লেন

মালদ্বীপের অবকাশযাপনের এসব ছবিতে পারশার পোশাক, চুলের স্টাইল ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি আলাদা করে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পানিতে তোলা ছবিগুলো প্রকাশের পর তার নতুন লুক নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে অনুরাগীদের মধ্যে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যঘরেও ভক্তদের প্রশংসা চোখে পড়ছে। কেউ তার লুকের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মালদ্বীপের সৌন্দর্যের সঙ্গে পারশার উপস্থিতির সমন্বয়কে দারুণ বলে মন্তব্য করেছেন।

গান থেকে অভিনয়—বহুমুখী পারশা

শুধু গানের জগতেই নয়, অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন পারশা মাহজাবীন। সংগীত ও অভিনয়—দুই অঙ্গনেই কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন তিনি।

আর এবার কাজের খবরের বাইরে মালদ্বীপের নীল জলরাশির মাঝে তার এই ভিন্নধর্মী উপস্থিতি ভক্তদের সামনে তুলে ধরল পারশার অন্য এক অবকাশযাপনের মুহূর্ত। ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো নিয়ে চলছে আলোচনা।

কালের আলো/জেএন