খুঁজুন
                               
, ,
           

নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

কালের আলো রিপোর্ট:

উচ্ছ্বাস-আনন্দের অবগাহন। দীর্ঘ ৯ মাসের কঠোর পরিশ্রম শেষে ঠিক যেন কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পূর্ণতা। সামরিক ছন্দে দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছেন নবীন সৈনিকরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মন জয় করে নেন দর্শনার্থীদের। শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান প্রত্যেকে। দৃঢ় অঙ্গীকার করলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য্য এবং ত্যাগে অর্জিত এই বিরল সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে পৃথক পৃথকভাবে নবীনদের নতুন করে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার উপদেশ দিলেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান এবং ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ।

নিজেদের প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র নতুন সেনাদের মস্তিষ্কে গেঁথে দিলেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। হৃদয় গহিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দোলায় অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তাঁরা প্রত্যেকেই। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এসব ঘটনা প্রবাহের অবতারণা হয়েছে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ, আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজে। উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
বাদ্যের তালে তালে ঝর্ণার মতো চঞ্চল আর প্রকৃতির মতো নির্ভয় গতিতে এগিয়ে চলে নবীন সৈনিক দল। ৯ মাসের কঠোর আর কঠিন পরিশ্রম শেষে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে যুক্ত হলেন টাইগার নামে খ্যাত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এর নবীন সদস্যরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মুগ্ধ করেন সবাইকে। সম্মুখ সমরে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার শপথে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশনে এর মাধ্যমে যুক্ত হলেন আরও ২ হাজার ৭০০ নবীন সৈনিক নিয়োগ। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ নিয়েছেন তাঁরা।

  • দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
  • সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
  • সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
  • দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র

বুধবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার (ইবিআরসি)-তে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বহি:শত্রুর কোন হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। জীবন বিপন্ন করে হলেও এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোন আপোস না করার অঙ্গীকার আপনারা করেছেন।’ দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে এখনও সেনাবাহিনীকে শেষ আশ্রয়স্থল ও প্রধান উদ্ধারকারী উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা আজীবন এরকম শেষ ভরসা হয়েই থাকতে চাই।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য তিনি ৫ জন নবীন সৈনিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
সাঁজোয়া কোর ‘কিং অব দি ব্যাটল’ নামে পরিচিত। এই সাজোয়া কোরের একজন সদস্য হওয়া নিশ্চয়ই পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। ঐতিহ্যবাহী এই কোরের মান মর্যাদা এবং সম্মান তোমরা সর্বদা অটুট রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এমনটিই বলেছেন ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বগুড়া সেনানিবাসস্থ আর্মার্ড কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এসিসিএন্ডএস) আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জিওসি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাজোয়া কোরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনবাাহিনীতে এই কোরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ বলেন, ‘তোমরা ৩৬ সপ্তাহ প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সৈনিকের মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছো। দ্বিতীয় এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তোমাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে ‘কিং অব দি ব্যাটল’ তথা সাঁজোয়া কোরের সৈনিক হিসেবে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছে। তোমরা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে যেসব প্রতিবন্ধকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছো। এজন্য তোমাদের সকলকে জানাই আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, ‘তোমাদের এই চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ উন্নত প্রশিক্ষণের পরিচায়ক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজ এই বিশেষ দিনে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নি:স্বার্থভাবে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য তোমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছো। আমি আশা করি সেনাবাহিনীর ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বদা আমরা দেশের তরে’ এই মূলমন্ত্রে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তোমরা দেশমাতৃকার প্রতিরক্ষায় দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘আজ তোমরা জাতীয় পতাকা রক্ষার পবিত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছো, নতুনভাবে সংকল্পবদ্ধ হয়েছো। তোমরা একত্র হয়েছো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করার মহান ব্রতে। কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম দায়িত্ব পালনে নি:স্বার্থ, ত্যাগী ও কর্মজয়ী সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার যে প্রয়াস চালানো হয়েছে তার সঠিক প্রতিফলণ তোমাদের কর্মজীবনে ঘটাতে সক্ষম হবে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রশিক্ষণে শিক্ষা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, চারিত্রিক উন্নয়ন ও শারীরিক সক্ষমতা এই চারটি দর্শনের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তোমরা ৯ মাসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষা, ধর্মীয়, তথ্য প্রযুক্তি ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে রপ্ত হয়েছো। তোমরা ১৬৯ জন রিক্রুট সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পথে স্বস্ব ক্ষেত্রে দেশ সম্পর্কিত প্রাথমিক ও মৌলিক ধারণা, ট্যাঙ্ক চালনা, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশিক্ষণ এবং মৌলিক রণকৌশলগত ধারণা পেয়েছো। এজন্য তোমাদের প্রতি রইলো আমার অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি এসকল শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তোমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’

সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
সকল নবীন সৈনিককে দেশমাতৃকার সেবায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম। তিনি দেশের যেকোন প্রয়োজনে নবীন সৈনিকদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ আর্মি সার্ভিস কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএসসিসিএন্ডএস) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরের রিক্রুট ব্যাচের সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একের পর এক সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সকল গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে। দেশের জনগণের নিকট রয়েছে আমাদের অনেক দায়িত্ব। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আপামর জনগণের যেকোন প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো আজ থেকে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমরা তোমাদের কর্তব্য পালনে কখনও পিছপা হবে না। তোমাদের সকলকেই নিজ হতে শারীরিক, মানসিক ও সমর বিদ্যায় এমনভাবে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে যাতে বাংলার মাটি হয়ে উঠে এক দুর্জয় ঘাঁটি।’ সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজে সর্ব বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো.সাকিবুল ইসলাম, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো. সোলায়মান মৃধা ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট হয়েছেন মো.শামীম হোসেন। পরে প্রধান অতিথি তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও দেশের সেবায় আর্মি মেডিকেল কোরের অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য নবীন সৈনিকদের প্রতি আহবান। দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে উদ্ধুদ্ধ করেন সৈনিকদের। বুধবার (১৫ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অবস্থিত শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসস্থ আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএমসিসিএন্ডএস) আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ এবং দিকনির্দেশনামূলক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করেন। এর আগে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

আর্মি মেডিকেল কোর জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত উল্লেখ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় এবং যেকোন দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় এই কোরের সদস্যদের সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা আজ জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত। বর্তমানে মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সদস্যরা কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, দক্ষিণ সুদান এবং কুয়েতসহ মোট ৬টি দেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্মি মেডিকেল কোর ও আর্মি ডেন্টাল কোরের নির্ভীক সদস্যদের অসামান্য অবদানের কথা অনস্বীকার্য। এছাড়াও মানবিতার সেবায় এই কোরের ফিল্ড ইউনিটসমূহ বহিরাঙ্গন অনুশীলনকালীন সময় বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে চিকিৎসা সেবা এবং সম্প্রতি বিশেষ পরিস্থিতিতে আহত জনগণকে সিএমএইচসমূহে উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং বন্যা দুর্গতদের মাঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘গত ৩৭ সপ্তাহব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ ও সামরিক অনুশাসনের মাধ্যমে তোমরা আজ সামরিক জীবনে পদার্পণ করেছে তা তোমাদের সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হয়ে থাকবে। আজ এখানে তোমরা ৮২তম রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এ মোট ৫৬৫ জন তরুণ অসামরিক পরিমণ্ডল থেকে এসে একসঙ্গে সামরিক কুচকাওয়াজে পা মেলাতে শিখেছো তাঁর জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সমরে ও শান্তিতে রাখিবো সুস্থ-এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেনাবাহিনী তথা জাতিকে সেবা প্রদানের নিমিত্তে তোমাদের পেশাগত উৎকর্ষ ও নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগের মতান ব্রত নিয়ে নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’

আর্মি মেডিকেল এবং আর্মি ডেন্টাল কোর তথা সেনাবাহিনীতে এই নবীনদের অন্তর্ভূক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘আজ থেকে যেহেতু তোমরা মানবতার সেবায় আত্মত্যাগের জন্য শপথ গ্রহণ করলে এবং পরবর্তীতে আরও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মেডিকেল ইউনিটে যোগদান করবে এবং রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে সুতরাং আমি আশা করবো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সেবার মনোভাব নিয়ে তোমরা নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত রাখবে। পরিশেষে আমি আশা করবো, সেনা সদস্য হওয়ার গৌরবে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠোর পরিশ্রম, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে নবীন সৈনিকরা তাদের দক্ষতা উত্তরোত্তর বাড়িয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে। আজকের এই শুভ দিনে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি যেন তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের তৌফিক দান করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি