খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

কালের আলো রিপোর্ট:

উচ্ছ্বাস-আনন্দের অবগাহন। দীর্ঘ ৯ মাসের কঠোর পরিশ্রম শেষে ঠিক যেন কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পূর্ণতা। সামরিক ছন্দে দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছেন নবীন সৈনিকরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মন জয় করে নেন দর্শনার্থীদের। শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান প্রত্যেকে। দৃঢ় অঙ্গীকার করলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য্য এবং ত্যাগে অর্জিত এই বিরল সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে পৃথক পৃথকভাবে নবীনদের নতুন করে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার উপদেশ দিলেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান এবং ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ।

নিজেদের প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র নতুন সেনাদের মস্তিষ্কে গেঁথে দিলেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। হৃদয় গহিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দোলায় অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তাঁরা প্রত্যেকেই। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এসব ঘটনা প্রবাহের অবতারণা হয়েছে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ, আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজে। উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
বাদ্যের তালে তালে ঝর্ণার মতো চঞ্চল আর প্রকৃতির মতো নির্ভয় গতিতে এগিয়ে চলে নবীন সৈনিক দল। ৯ মাসের কঠোর আর কঠিন পরিশ্রম শেষে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে যুক্ত হলেন টাইগার নামে খ্যাত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এর নবীন সদস্যরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মুগ্ধ করেন সবাইকে। সম্মুখ সমরে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার শপথে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশনে এর মাধ্যমে যুক্ত হলেন আরও ২ হাজার ৭০০ নবীন সৈনিক নিয়োগ। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ নিয়েছেন তাঁরা।

  • দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
  • সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
  • সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
  • দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র

বুধবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার (ইবিআরসি)-তে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বহি:শত্রুর কোন হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। জীবন বিপন্ন করে হলেও এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোন আপোস না করার অঙ্গীকার আপনারা করেছেন।’ দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে এখনও সেনাবাহিনীকে শেষ আশ্রয়স্থল ও প্রধান উদ্ধারকারী উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা আজীবন এরকম শেষ ভরসা হয়েই থাকতে চাই।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য তিনি ৫ জন নবীন সৈনিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
সাঁজোয়া কোর ‘কিং অব দি ব্যাটল’ নামে পরিচিত। এই সাজোয়া কোরের একজন সদস্য হওয়া নিশ্চয়ই পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। ঐতিহ্যবাহী এই কোরের মান মর্যাদা এবং সম্মান তোমরা সর্বদা অটুট রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এমনটিই বলেছেন ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বগুড়া সেনানিবাসস্থ আর্মার্ড কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এসিসিএন্ডএস) আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জিওসি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাজোয়া কোরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনবাাহিনীতে এই কোরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ বলেন, ‘তোমরা ৩৬ সপ্তাহ প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সৈনিকের মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছো। দ্বিতীয় এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তোমাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে ‘কিং অব দি ব্যাটল’ তথা সাঁজোয়া কোরের সৈনিক হিসেবে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছে। তোমরা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে যেসব প্রতিবন্ধকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছো। এজন্য তোমাদের সকলকে জানাই আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, ‘তোমাদের এই চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ উন্নত প্রশিক্ষণের পরিচায়ক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজ এই বিশেষ দিনে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নি:স্বার্থভাবে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য তোমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছো। আমি আশা করি সেনাবাহিনীর ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বদা আমরা দেশের তরে’ এই মূলমন্ত্রে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তোমরা দেশমাতৃকার প্রতিরক্ষায় দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘আজ তোমরা জাতীয় পতাকা রক্ষার পবিত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছো, নতুনভাবে সংকল্পবদ্ধ হয়েছো। তোমরা একত্র হয়েছো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করার মহান ব্রতে। কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম দায়িত্ব পালনে নি:স্বার্থ, ত্যাগী ও কর্মজয়ী সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার যে প্রয়াস চালানো হয়েছে তার সঠিক প্রতিফলণ তোমাদের কর্মজীবনে ঘটাতে সক্ষম হবে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রশিক্ষণে শিক্ষা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, চারিত্রিক উন্নয়ন ও শারীরিক সক্ষমতা এই চারটি দর্শনের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তোমরা ৯ মাসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষা, ধর্মীয়, তথ্য প্রযুক্তি ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে রপ্ত হয়েছো। তোমরা ১৬৯ জন রিক্রুট সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পথে স্বস্ব ক্ষেত্রে দেশ সম্পর্কিত প্রাথমিক ও মৌলিক ধারণা, ট্যাঙ্ক চালনা, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশিক্ষণ এবং মৌলিক রণকৌশলগত ধারণা পেয়েছো। এজন্য তোমাদের প্রতি রইলো আমার অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি এসকল শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তোমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’

সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
সকল নবীন সৈনিককে দেশমাতৃকার সেবায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম। তিনি দেশের যেকোন প্রয়োজনে নবীন সৈনিকদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ আর্মি সার্ভিস কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএসসিসিএন্ডএস) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরের রিক্রুট ব্যাচের সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একের পর এক সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সকল গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে। দেশের জনগণের নিকট রয়েছে আমাদের অনেক দায়িত্ব। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আপামর জনগণের যেকোন প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো আজ থেকে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমরা তোমাদের কর্তব্য পালনে কখনও পিছপা হবে না। তোমাদের সকলকেই নিজ হতে শারীরিক, মানসিক ও সমর বিদ্যায় এমনভাবে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে যাতে বাংলার মাটি হয়ে উঠে এক দুর্জয় ঘাঁটি।’ সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজে সর্ব বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো.সাকিবুল ইসলাম, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো. সোলায়মান মৃধা ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট হয়েছেন মো.শামীম হোসেন। পরে প্রধান অতিথি তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও দেশের সেবায় আর্মি মেডিকেল কোরের অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য নবীন সৈনিকদের প্রতি আহবান। দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে উদ্ধুদ্ধ করেন সৈনিকদের। বুধবার (১৫ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অবস্থিত শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসস্থ আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএমসিসিএন্ডএস) আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ এবং দিকনির্দেশনামূলক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করেন। এর আগে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

আর্মি মেডিকেল কোর জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত উল্লেখ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় এবং যেকোন দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় এই কোরের সদস্যদের সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা আজ জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত। বর্তমানে মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সদস্যরা কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, দক্ষিণ সুদান এবং কুয়েতসহ মোট ৬টি দেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্মি মেডিকেল কোর ও আর্মি ডেন্টাল কোরের নির্ভীক সদস্যদের অসামান্য অবদানের কথা অনস্বীকার্য। এছাড়াও মানবিতার সেবায় এই কোরের ফিল্ড ইউনিটসমূহ বহিরাঙ্গন অনুশীলনকালীন সময় বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে চিকিৎসা সেবা এবং সম্প্রতি বিশেষ পরিস্থিতিতে আহত জনগণকে সিএমএইচসমূহে উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং বন্যা দুর্গতদের মাঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘গত ৩৭ সপ্তাহব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ ও সামরিক অনুশাসনের মাধ্যমে তোমরা আজ সামরিক জীবনে পদার্পণ করেছে তা তোমাদের সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হয়ে থাকবে। আজ এখানে তোমরা ৮২তম রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এ মোট ৫৬৫ জন তরুণ অসামরিক পরিমণ্ডল থেকে এসে একসঙ্গে সামরিক কুচকাওয়াজে পা মেলাতে শিখেছো তাঁর জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সমরে ও শান্তিতে রাখিবো সুস্থ-এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেনাবাহিনী তথা জাতিকে সেবা প্রদানের নিমিত্তে তোমাদের পেশাগত উৎকর্ষ ও নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগের মতান ব্রত নিয়ে নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’

আর্মি মেডিকেল এবং আর্মি ডেন্টাল কোর তথা সেনাবাহিনীতে এই নবীনদের অন্তর্ভূক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘আজ থেকে যেহেতু তোমরা মানবতার সেবায় আত্মত্যাগের জন্য শপথ গ্রহণ করলে এবং পরবর্তীতে আরও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মেডিকেল ইউনিটে যোগদান করবে এবং রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে সুতরাং আমি আশা করবো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সেবার মনোভাব নিয়ে তোমরা নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত রাখবে। পরিশেষে আমি আশা করবো, সেনা সদস্য হওয়ার গৌরবে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠোর পরিশ্রম, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে নবীন সৈনিকরা তাদের দক্ষতা উত্তরোত্তর বাড়িয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে। আজকের এই শুভ দিনে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি যেন তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের তৌফিক দান করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি