খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

কালের আলো রিপোর্ট:

উচ্ছ্বাস-আনন্দের অবগাহন। দীর্ঘ ৯ মাসের কঠোর পরিশ্রম শেষে ঠিক যেন কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পূর্ণতা। সামরিক ছন্দে দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছেন নবীন সৈনিকরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মন জয় করে নেন দর্শনার্থীদের। শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান প্রত্যেকে। দৃঢ় অঙ্গীকার করলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য্য এবং ত্যাগে অর্জিত এই বিরল সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে পৃথক পৃথকভাবে নবীনদের নতুন করে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার উপদেশ দিলেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান এবং ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ।

নিজেদের প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র নতুন সেনাদের মস্তিষ্কে গেঁথে দিলেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। হৃদয় গহিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দোলায় অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তাঁরা প্রত্যেকেই। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এসব ঘটনা প্রবাহের অবতারণা হয়েছে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ, আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজে। উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
বাদ্যের তালে তালে ঝর্ণার মতো চঞ্চল আর প্রকৃতির মতো নির্ভয় গতিতে এগিয়ে চলে নবীন সৈনিক দল। ৯ মাসের কঠোর আর কঠিন পরিশ্রম শেষে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে যুক্ত হলেন টাইগার নামে খ্যাত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এর নবীন সদস্যরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মুগ্ধ করেন সবাইকে। সম্মুখ সমরে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার শপথে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশনে এর মাধ্যমে যুক্ত হলেন আরও ২ হাজার ৭০০ নবীন সৈনিক নিয়োগ। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ নিয়েছেন তাঁরা।

  • দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
  • সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
  • সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
  • দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র

বুধবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার (ইবিআরসি)-তে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বহি:শত্রুর কোন হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। জীবন বিপন্ন করে হলেও এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোন আপোস না করার অঙ্গীকার আপনারা করেছেন।’ দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে এখনও সেনাবাহিনীকে শেষ আশ্রয়স্থল ও প্রধান উদ্ধারকারী উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা আজীবন এরকম শেষ ভরসা হয়েই থাকতে চাই।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য তিনি ৫ জন নবীন সৈনিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
সাঁজোয়া কোর ‘কিং অব দি ব্যাটল’ নামে পরিচিত। এই সাজোয়া কোরের একজন সদস্য হওয়া নিশ্চয়ই পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। ঐতিহ্যবাহী এই কোরের মান মর্যাদা এবং সম্মান তোমরা সর্বদা অটুট রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এমনটিই বলেছেন ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বগুড়া সেনানিবাসস্থ আর্মার্ড কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এসিসিএন্ডএস) আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জিওসি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাজোয়া কোরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনবাাহিনীতে এই কোরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ বলেন, ‘তোমরা ৩৬ সপ্তাহ প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সৈনিকের মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছো। দ্বিতীয় এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তোমাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে ‘কিং অব দি ব্যাটল’ তথা সাঁজোয়া কোরের সৈনিক হিসেবে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছে। তোমরা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে যেসব প্রতিবন্ধকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছো। এজন্য তোমাদের সকলকে জানাই আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, ‘তোমাদের এই চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ উন্নত প্রশিক্ষণের পরিচায়ক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজ এই বিশেষ দিনে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নি:স্বার্থভাবে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য তোমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছো। আমি আশা করি সেনাবাহিনীর ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বদা আমরা দেশের তরে’ এই মূলমন্ত্রে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তোমরা দেশমাতৃকার প্রতিরক্ষায় দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘আজ তোমরা জাতীয় পতাকা রক্ষার পবিত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছো, নতুনভাবে সংকল্পবদ্ধ হয়েছো। তোমরা একত্র হয়েছো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করার মহান ব্রতে। কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম দায়িত্ব পালনে নি:স্বার্থ, ত্যাগী ও কর্মজয়ী সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার যে প্রয়াস চালানো হয়েছে তার সঠিক প্রতিফলণ তোমাদের কর্মজীবনে ঘটাতে সক্ষম হবে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রশিক্ষণে শিক্ষা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, চারিত্রিক উন্নয়ন ও শারীরিক সক্ষমতা এই চারটি দর্শনের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তোমরা ৯ মাসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষা, ধর্মীয়, তথ্য প্রযুক্তি ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে রপ্ত হয়েছো। তোমরা ১৬৯ জন রিক্রুট সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পথে স্বস্ব ক্ষেত্রে দেশ সম্পর্কিত প্রাথমিক ও মৌলিক ধারণা, ট্যাঙ্ক চালনা, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশিক্ষণ এবং মৌলিক রণকৌশলগত ধারণা পেয়েছো। এজন্য তোমাদের প্রতি রইলো আমার অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি এসকল শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তোমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’

সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
সকল নবীন সৈনিককে দেশমাতৃকার সেবায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম। তিনি দেশের যেকোন প্রয়োজনে নবীন সৈনিকদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ আর্মি সার্ভিস কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএসসিসিএন্ডএস) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরের রিক্রুট ব্যাচের সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একের পর এক সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সকল গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে। দেশের জনগণের নিকট রয়েছে আমাদের অনেক দায়িত্ব। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আপামর জনগণের যেকোন প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো আজ থেকে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমরা তোমাদের কর্তব্য পালনে কখনও পিছপা হবে না। তোমাদের সকলকেই নিজ হতে শারীরিক, মানসিক ও সমর বিদ্যায় এমনভাবে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে যাতে বাংলার মাটি হয়ে উঠে এক দুর্জয় ঘাঁটি।’ সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজে সর্ব বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো.সাকিবুল ইসলাম, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো. সোলায়মান মৃধা ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট হয়েছেন মো.শামীম হোসেন। পরে প্রধান অতিথি তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও দেশের সেবায় আর্মি মেডিকেল কোরের অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য নবীন সৈনিকদের প্রতি আহবান। দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে উদ্ধুদ্ধ করেন সৈনিকদের। বুধবার (১৫ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অবস্থিত শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসস্থ আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএমসিসিএন্ডএস) আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ এবং দিকনির্দেশনামূলক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করেন। এর আগে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

আর্মি মেডিকেল কোর জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত উল্লেখ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় এবং যেকোন দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় এই কোরের সদস্যদের সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা আজ জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত। বর্তমানে মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সদস্যরা কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, দক্ষিণ সুদান এবং কুয়েতসহ মোট ৬টি দেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্মি মেডিকেল কোর ও আর্মি ডেন্টাল কোরের নির্ভীক সদস্যদের অসামান্য অবদানের কথা অনস্বীকার্য। এছাড়াও মানবিতার সেবায় এই কোরের ফিল্ড ইউনিটসমূহ বহিরাঙ্গন অনুশীলনকালীন সময় বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে চিকিৎসা সেবা এবং সম্প্রতি বিশেষ পরিস্থিতিতে আহত জনগণকে সিএমএইচসমূহে উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং বন্যা দুর্গতদের মাঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘গত ৩৭ সপ্তাহব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ ও সামরিক অনুশাসনের মাধ্যমে তোমরা আজ সামরিক জীবনে পদার্পণ করেছে তা তোমাদের সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হয়ে থাকবে। আজ এখানে তোমরা ৮২তম রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এ মোট ৫৬৫ জন তরুণ অসামরিক পরিমণ্ডল থেকে এসে একসঙ্গে সামরিক কুচকাওয়াজে পা মেলাতে শিখেছো তাঁর জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সমরে ও শান্তিতে রাখিবো সুস্থ-এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেনাবাহিনী তথা জাতিকে সেবা প্রদানের নিমিত্তে তোমাদের পেশাগত উৎকর্ষ ও নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগের মতান ব্রত নিয়ে নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’

আর্মি মেডিকেল এবং আর্মি ডেন্টাল কোর তথা সেনাবাহিনীতে এই নবীনদের অন্তর্ভূক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘আজ থেকে যেহেতু তোমরা মানবতার সেবায় আত্মত্যাগের জন্য শপথ গ্রহণ করলে এবং পরবর্তীতে আরও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মেডিকেল ইউনিটে যোগদান করবে এবং রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে সুতরাং আমি আশা করবো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সেবার মনোভাব নিয়ে তোমরা নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত রাখবে। পরিশেষে আমি আশা করবো, সেনা সদস্য হওয়ার গৌরবে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠোর পরিশ্রম, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে নবীন সৈনিকরা তাদের দক্ষতা উত্তরোত্তর বাড়িয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে। আজকের এই শুভ দিনে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি যেন তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের তৌফিক দান করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি