খুঁজুন
                               
, ,
           

নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
নান্দনিক ও চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ, মাতৃভূমি রক্ষার দৃপ্ত শপথ নবীন সৈনিকদের

কালের আলো রিপোর্ট:

উচ্ছ্বাস-আনন্দের অবগাহন। দীর্ঘ ৯ মাসের কঠোর পরিশ্রম শেষে ঠিক যেন কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পূর্ণতা। সামরিক ছন্দে দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ। দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছেন নবীন সৈনিকরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মন জয় করে নেন দর্শনার্থীদের। শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান প্রত্যেকে। দৃঢ় অঙ্গীকার করলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য্য এবং ত্যাগে অর্জিত এই বিরল সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে পৃথক পৃথকভাবে নবীনদের নতুন করে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার উপদেশ দিলেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান এবং ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ।

নিজেদের প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র নতুন সেনাদের মস্তিষ্কে গেঁথে দিলেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। হৃদয় গহিনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দোলায় অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তাঁরা প্রত্যেকেই। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এসব ঘটনা প্রবাহের অবতারণা হয়েছে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ, আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজে। উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
বাদ্যের তালে তালে ঝর্ণার মতো চঞ্চল আর প্রকৃতির মতো নির্ভয় গতিতে এগিয়ে চলে নবীন সৈনিক দল। ৯ মাসের কঠোর আর কঠিন পরিশ্রম শেষে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে যুক্ত হলেন টাইগার নামে খ্যাত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এর নবীন সদস্যরা। নান্দনিক আর চৌকস প্যারেডের মধ্যে দিয়ে তাঁরা মুগ্ধ করেন সবাইকে। সম্মুখ সমরে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার শপথে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশনে এর মাধ্যমে যুক্ত হলেন আরও ২ হাজার ৭০০ নবীন সৈনিক নিয়োগ। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করার শপথ নিয়েছেন তাঁরা।

  • দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান সেনাবাহিনীর কিউএমজি’র
  • সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
  • সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
  • দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র

বুধবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার (ইবিআরসি)-তে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। দেশমাতৃকার সেবায় নবীন সৈনিকদের আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বহি:শত্রুর কোন হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। জীবন বিপন্ন করে হলেও এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোন আপোস না করার অঙ্গীকার আপনারা করেছেন।’ দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে এখনও সেনাবাহিনীকে শেষ আশ্রয়স্থল ও প্রধান উদ্ধারকারী উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা আজীবন এরকম শেষ ভরসা হয়েই থাকতে চাই।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য তিনি ৫ জন নবীন সৈনিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সাঁজোয়া কোরের সম্মান নবীন সৈনিকরা অটুট রাখবে বলে বিশ্বাস মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ’র
সাঁজোয়া কোর ‘কিং অব দি ব্যাটল’ নামে পরিচিত। এই সাজোয়া কোরের একজন সদস্য হওয়া নিশ্চয়ই পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। ঐতিহ্যবাহী এই কোরের মান মর্যাদা এবং সম্মান তোমরা সর্বদা অটুট রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এমনটিই বলেছেন ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বগুড়া সেনানিবাসস্থ আর্মার্ড কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এসিসিএন্ডএস) আর্মার্ড কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জিওসি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাজোয়া কোরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনবাাহিনীতে এই কোরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ বলেন, ‘তোমরা ৩৬ সপ্তাহ প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সৈনিকের মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছো। দ্বিতীয় এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তোমাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদেরকে ‘কিং অব দি ব্যাটল’ তথা সাঁজোয়া কোরের সৈনিক হিসেবে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছে। তোমরা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে যেসব প্রতিবন্ধকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছো। এজন্য তোমাদের সকলকে জানাই আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, ‘তোমাদের এই চৌকস সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ উন্নত প্রশিক্ষণের পরিচায়ক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজ এই বিশেষ দিনে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নি:স্বার্থভাবে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য তোমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছো। আমি আশা করি সেনাবাহিনীর ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বদা আমরা দেশের তরে’ এই মূলমন্ত্রে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তোমরা দেশমাতৃকার প্রতিরক্ষায় দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘আজ তোমরা জাতীয় পতাকা রক্ষার পবিত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছো, নতুনভাবে সংকল্পবদ্ধ হয়েছো। তোমরা একত্র হয়েছো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করার মহান ব্রতে। কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম দায়িত্ব পালনে নি:স্বার্থ, ত্যাগী ও কর্মজয়ী সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে তোলার যে প্রয়াস চালানো হয়েছে তার সঠিক প্রতিফলণ তোমাদের কর্মজীবনে ঘটাতে সক্ষম হবে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রশিক্ষণে শিক্ষা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, চারিত্রিক উন্নয়ন ও শারীরিক সক্ষমতা এই চারটি দর্শনের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তোমরা ৯ মাসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষা, ধর্মীয়, তথ্য প্রযুক্তি ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে রপ্ত হয়েছো। তোমরা ১৬৯ জন রিক্রুট সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পথে স্বস্ব ক্ষেত্রে দেশ সম্পর্কিত প্রাথমিক ও মৌলিক ধারণা, ট্যাঙ্ক চালনা, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশিক্ষণ এবং মৌলিক রণকৌশলগত ধারণা পেয়েছো। এজন্য তোমাদের প্রতি রইলো আমার অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি এসকল শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তোমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’

সেনাপ্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে : মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম
সকল নবীন সৈনিককে দেশমাতৃকার সেবায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম। তিনি দেশের যেকোন প্রয়োজনে নবীন সৈনিকদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ আর্মি সার্ভিস কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএসসিসিএন্ডএস) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরের রিক্রুট ব্যাচের সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একের পর এক সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সকল গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জনগণের আস্থার জায়গাটি দৃঢ় করেছে। দেশের জনগণের নিকট রয়েছে আমাদের অনেক দায়িত্ব। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আপামর জনগণের যেকোন প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো আজ থেকে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তোমরা তোমাদের কর্তব্য পালনে কখনও পিছপা হবে না। তোমাদের সকলকেই নিজ হতে শারীরিক, মানসিক ও সমর বিদ্যায় এমনভাবে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে যাতে বাংলার মাটি হয়ে উঠে এক দুর্জয় ঘাঁটি।’ সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজে সর্ব বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো.সাকিবুল ইসলাম, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট মো. সোলায়মান মৃধা ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ রিক্রুট হয়েছেন মো.শামীম হোসেন। পরে প্রধান অতিথি তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার আহ্বান ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও দেশের সেবায় আর্মি মেডিকেল কোরের অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য নবীন সৈনিকদের প্রতি আহবান। দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে উদ্ধুদ্ধ করেন সৈনিকদের। বুধবার (১৫ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অবস্থিত শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসস্থ আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএমসিসিএন্ডএস) আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ এবং দিকনির্দেশনামূলক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করেন। এর আগে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

আর্মি মেডিকেল কোর জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত উল্লেখ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় এবং যেকোন দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় এই কোরের সদস্যদের সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা আজ জাতীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নন্দিত। বর্তমানে মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সদস্যরা কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, দক্ষিণ সুদান এবং কুয়েতসহ মোট ৬টি দেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্মি মেডিকেল কোর ও আর্মি ডেন্টাল কোরের নির্ভীক সদস্যদের অসামান্য অবদানের কথা অনস্বীকার্য। এছাড়াও মানবিতার সেবায় এই কোরের ফিল্ড ইউনিটসমূহ বহিরাঙ্গন অনুশীলনকালীন সময় বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে চিকিৎসা সেবা এবং সম্প্রতি বিশেষ পরিস্থিতিতে আহত জনগণকে সিএমএইচসমূহে উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং বন্যা দুর্গতদের মাঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।’

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, ‘গত ৩৭ সপ্তাহব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ ও সামরিক অনুশাসনের মাধ্যমে তোমরা আজ সামরিক জীবনে পদার্পণ করেছে তা তোমাদের সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হয়ে থাকবে। আজ এখানে তোমরা ৮২তম রিক্রুট ব্যাচ ২০২৫ এ মোট ৫৬৫ জন তরুণ অসামরিক পরিমণ্ডল থেকে এসে একসঙ্গে সামরিক কুচকাওয়াজে পা মেলাতে শিখেছো তাঁর জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সমরে ও শান্তিতে রাখিবো সুস্থ-এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেনাবাহিনী তথা জাতিকে সেবা প্রদানের নিমিত্তে তোমাদের পেশাগত উৎকর্ষ ও নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগের মতান ব্রত নিয়ে নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’

আর্মি মেডিকেল এবং আর্মি ডেন্টাল কোর তথা সেনাবাহিনীতে এই নবীনদের অন্তর্ভূক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘আজ থেকে যেহেতু তোমরা মানবতার সেবায় আত্মত্যাগের জন্য শপথ গ্রহণ করলে এবং পরবর্তীতে আরও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মেডিকেল ইউনিটে যোগদান করবে এবং রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে সুতরাং আমি আশা করবো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সেবার মনোভাব নিয়ে তোমরা নিজেদের সর্বদা নিয়োজিত রাখবে। পরিশেষে আমি আশা করবো, সেনা সদস্য হওয়ার গৌরবে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠোর পরিশ্রম, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে নবীন সৈনিকরা তাদের দক্ষতা উত্তরোত্তর বাড়িয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে। আজকের এই শুভ দিনে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি যেন তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের তৌফিক দান করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি