খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

জারিফ নিহাল/আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ,কালের আলো:

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৬ হাজার ৩১৪ দিন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও স্বশরীরে রাজনৈতিক অনুপস্থিতিরও অবসান। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় শক্ত হাতে প্রবাসে নির্বাসিত জীবনেই ধরে রেখেছেন দলের নেতৃত্ব। সামাল দিয়েছেন নানা চ্যালেঞ্জ। শৃঙ্খলা রক্ষায় কখনও কঠোর হয়েছেন। অভিভাবকত্বে আগলে রেখেছেন, এক সুতোয় গেঁথেছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে অবশেষে তিনি ফিরেছেন নিজের মাতৃভূমিতে। সিক্ত হয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে উচ্ছ্বসিত ছিল গোটা দেশ। তাকে একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নেতা-কর্মী-সমর্থক-অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরের সামনে এসে জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন। জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান। পরে নিচু হয়ে মাটি হাতে নেন। এক দলা মাটি পরম মমতায় নেড়েচেড়ে দেখেন। এ যেন অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। কোন শব্দ বা বাক্যে এই অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন। কোনভাবেই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না পুরো ঘটনা প্রবাহটি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ তিনি সামনে থাকা একটি ফুলবাগানের ভেতরে চলে যান। সেখানে ঘাস ও কিছু গাঁদা ফুলের গাছ ছিল। সেখানেই জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান এবং এক দলা মাটি হাতে নেন, সফরসঙ্গীদের হাতে তুলে দেন।

মেয়ের জামাইকে ফুলের মালায় বরণ শাশুড়ির, ফোনে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টাকে
এর আগে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রথমে ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। তিনি বিমানবন্দরে একটি সোফায় বসে ছিলেন। তারেক রহমান কুশল বিনিময় করতে এলে মেয়ের জামাইকে তিনি পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এরপর দুজন কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নানীকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে সোফায় বসে তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও নাতনি কিছুক্ষণ কথা বলেন।

তারেক রহমান দেশে নেমেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করেন। বিএনপি সূত্র বলছে, ফোনে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তাকে দেশে স্বাগত জানান। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ওঠেন তারেক রহমান। ওই বাসে করেই তিনি ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসে তার সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় জাইমা হাত নেড়ে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। ১৯৬ নম্বর বাড়িটির অবস্থান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার পাশে।

ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
দেশের মাটিতে পা রেখেই ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর ফেসবুক পোস্টে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের অর্থ শেয়ার করেন, সঙ্গে একটি ভিডিও। ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’

বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে, অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই জ্যেষ্ঠ সন্তান বিজয়ের মাসে লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে যান। বাসটির সামনে লেখা ছিল-‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই বাসের সামনে বসে তিনি নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। তাদের সালাম দেন। এসময় বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। উচ্ছ্বাস-আনন্দ আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দেড় যুগেরও বেশি সময় পর নেতাকে কাছ থেকে দেখার অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল ৩শ ফিট পর্যন্ত। যে কারণে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে তারেক রহমানের গাড়ি বহরের। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। পরে নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি আর সামনে এগোতে পারেনি।

বিমানবন্দর থেকে জনস্রোত পেরিয়ে ৩টা ৫০ মিনিটে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতারা ও যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মঞ্চে তার জন্য বরাদ্দ রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে রেখে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসেন।

‘আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে’
গত ক’দিন যাবত ৩০০ ফিটের জনসভার মঞ্চে অবস্থান নেওয়া লাখো লাখো মানুষ ও দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এরপর বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র চব্বিশের আন্দোলনের লড়াকু যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করলেন। যেকোন মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ দিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে শয্যাশায়ী বেগম খালেদা জিয়ার বিছানার পাশে মন পড়ে থাকার কথা জানালেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বললেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন— অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন-আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

গণসংবর্ধনা শেষ করে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতাল গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি বাস থেকে নেমে যান। এরপর সেখান থেকে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে অবস্থান নেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তারেক রহমানকে বহন করা গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার সময় কর্মী-সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় দলীয় পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর গুলশানের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘স্বাগতম তারেক রহমান’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

ঢাকায় এসেছে বাক্সবন্দি জেবু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে তার পোষা বিড়াল জেবুও দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালিক তারেক রহমানের সঙ্গে সেও ঢাকায় নেমে আসে। তবে তাকে একটি লাইভ এনিমেল লেখা প্লাস্টিকের বক্সের ভেতরে করে দেশে আনা হয়। দুপুরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় ফেসবুক পেজে বিড়ালটির বাক্সবন্দি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ছবির ওপরে একটি ক্যাপশন দিয়ে বলা হয়, জেবু দেশে ফিরেছে। ছবিতে দুজন ব্যক্তিকে জেবু যে বাক্সে রয়েছে সেটি বহন করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে লন্ডন থেকে উড়াল দেওয়ার আগে তারেক রহমানের বহুল প্রশংসিত পোষা বিড়াল জেবু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ফেসবুক পেজ চালু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের দত্তক নেওয়া লোমশ সাইবেরিয়ান বিড়ালটির নাম জেবু। জেবু নামেই তাকে এখন সকলে ডাকে। হালকা-হাস্যকর এবং ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখা এই পেজটি ইতোমধ্যেই অনলাইনে বিড়ালপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছে।

এই বছরের শুরুতে জেবু প্রথম জনসাধারণের কল্পনায় স্থান করে নেয়, যখন তারেক রহমানের মোবাইলের দিকে তীব্রভাবে তাকিয়ে থাকা বিড়ালের একটি ছবি ভাইরাল হয়। যা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আনন্দিত করে এবং বিশেষ করে তরুণ বাংলাদেশি এবং নিবেদিতপ্রাণ বিড়ালপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। জেবুর অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিড়ালটি আমার মেয়ের। কিন্তু এখন এটি সকলের বিড়ালে পরিণত হয়েছে। আমরা সকলেই এটিকে ভালোবাসি এবং আদর করি।’

সবার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা দলের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে দলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুদুর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট মহাসড়ক) অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক ও নজীরবিহীন জনসমাগমে ঢাকা মহানগরী যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অভ্যর্থনা জানাতে আসা দেশবাসীকে তারেক রহমান আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি