খুঁজুন
                               
, ,
           

৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

জারিফ নিহাল/আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ,কালের আলো:

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৬ হাজার ৩১৪ দিন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও স্বশরীরে রাজনৈতিক অনুপস্থিতিরও অবসান। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় শক্ত হাতে প্রবাসে নির্বাসিত জীবনেই ধরে রেখেছেন দলের নেতৃত্ব। সামাল দিয়েছেন নানা চ্যালেঞ্জ। শৃঙ্খলা রক্ষায় কখনও কঠোর হয়েছেন। অভিভাবকত্বে আগলে রেখেছেন, এক সুতোয় গেঁথেছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে অবশেষে তিনি ফিরেছেন নিজের মাতৃভূমিতে। সিক্ত হয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে উচ্ছ্বসিত ছিল গোটা দেশ। তাকে একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নেতা-কর্মী-সমর্থক-অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরের সামনে এসে জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন। জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান। পরে নিচু হয়ে মাটি হাতে নেন। এক দলা মাটি পরম মমতায় নেড়েচেড়ে দেখেন। এ যেন অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। কোন শব্দ বা বাক্যে এই অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন। কোনভাবেই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না পুরো ঘটনা প্রবাহটি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ তিনি সামনে থাকা একটি ফুলবাগানের ভেতরে চলে যান। সেখানে ঘাস ও কিছু গাঁদা ফুলের গাছ ছিল। সেখানেই জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান এবং এক দলা মাটি হাতে নেন, সফরসঙ্গীদের হাতে তুলে দেন।

মেয়ের জামাইকে ফুলের মালায় বরণ শাশুড়ির, ফোনে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টাকে
এর আগে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রথমে ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। তিনি বিমানবন্দরে একটি সোফায় বসে ছিলেন। তারেক রহমান কুশল বিনিময় করতে এলে মেয়ের জামাইকে তিনি পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এরপর দুজন কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নানীকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে সোফায় বসে তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও নাতনি কিছুক্ষণ কথা বলেন।

তারেক রহমান দেশে নেমেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করেন। বিএনপি সূত্র বলছে, ফোনে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তাকে দেশে স্বাগত জানান। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ওঠেন তারেক রহমান। ওই বাসে করেই তিনি ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসে তার সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় জাইমা হাত নেড়ে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। ১৯৬ নম্বর বাড়িটির অবস্থান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার পাশে।

ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
দেশের মাটিতে পা রেখেই ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর ফেসবুক পোস্টে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের অর্থ শেয়ার করেন, সঙ্গে একটি ভিডিও। ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’

বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে, অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই জ্যেষ্ঠ সন্তান বিজয়ের মাসে লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে যান। বাসটির সামনে লেখা ছিল-‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই বাসের সামনে বসে তিনি নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। তাদের সালাম দেন। এসময় বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। উচ্ছ্বাস-আনন্দ আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দেড় যুগেরও বেশি সময় পর নেতাকে কাছ থেকে দেখার অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল ৩শ ফিট পর্যন্ত। যে কারণে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে তারেক রহমানের গাড়ি বহরের। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। পরে নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি আর সামনে এগোতে পারেনি।

বিমানবন্দর থেকে জনস্রোত পেরিয়ে ৩টা ৫০ মিনিটে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতারা ও যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মঞ্চে তার জন্য বরাদ্দ রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে রেখে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসেন।

‘আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে’
গত ক’দিন যাবত ৩০০ ফিটের জনসভার মঞ্চে অবস্থান নেওয়া লাখো লাখো মানুষ ও দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এরপর বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র চব্বিশের আন্দোলনের লড়াকু যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করলেন। যেকোন মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ দিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে শয্যাশায়ী বেগম খালেদা জিয়ার বিছানার পাশে মন পড়ে থাকার কথা জানালেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বললেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন— অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন-আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

গণসংবর্ধনা শেষ করে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতাল গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি বাস থেকে নেমে যান। এরপর সেখান থেকে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে অবস্থান নেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তারেক রহমানকে বহন করা গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার সময় কর্মী-সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় দলীয় পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর গুলশানের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘স্বাগতম তারেক রহমান’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

ঢাকায় এসেছে বাক্সবন্দি জেবু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে তার পোষা বিড়াল জেবুও দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালিক তারেক রহমানের সঙ্গে সেও ঢাকায় নেমে আসে। তবে তাকে একটি লাইভ এনিমেল লেখা প্লাস্টিকের বক্সের ভেতরে করে দেশে আনা হয়। দুপুরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় ফেসবুক পেজে বিড়ালটির বাক্সবন্দি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ছবির ওপরে একটি ক্যাপশন দিয়ে বলা হয়, জেবু দেশে ফিরেছে। ছবিতে দুজন ব্যক্তিকে জেবু যে বাক্সে রয়েছে সেটি বহন করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে লন্ডন থেকে উড়াল দেওয়ার আগে তারেক রহমানের বহুল প্রশংসিত পোষা বিড়াল জেবু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ফেসবুক পেজ চালু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের দত্তক নেওয়া লোমশ সাইবেরিয়ান বিড়ালটির নাম জেবু। জেবু নামেই তাকে এখন সকলে ডাকে। হালকা-হাস্যকর এবং ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখা এই পেজটি ইতোমধ্যেই অনলাইনে বিড়ালপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছে।

এই বছরের শুরুতে জেবু প্রথম জনসাধারণের কল্পনায় স্থান করে নেয়, যখন তারেক রহমানের মোবাইলের দিকে তীব্রভাবে তাকিয়ে থাকা বিড়ালের একটি ছবি ভাইরাল হয়। যা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আনন্দিত করে এবং বিশেষ করে তরুণ বাংলাদেশি এবং নিবেদিতপ্রাণ বিড়ালপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। জেবুর অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিড়ালটি আমার মেয়ের। কিন্তু এখন এটি সকলের বিড়ালে পরিণত হয়েছে। আমরা সকলেই এটিকে ভালোবাসি এবং আদর করি।’

সবার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা দলের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে দলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুদুর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট মহাসড়ক) অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক ও নজীরবিহীন জনসমাগমে ঢাকা মহানগরী যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অভ্যর্থনা জানাতে আসা দেশবাসীকে তারেক রহমান আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়লেন পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়লেন পরীমনি

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর (ফলোয়ার) মালিক হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই তারকার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের অনুসারীর সংখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরীমনির অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের অনুসারী রয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে প্রায় ১০ লাখ অনুসারীর ব্যবধানে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছেন পরীমনি।

এর আগে কয়েক দফা দুই তারকার অনুসারীর সংখ্যা কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। একসময় সাকিব এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধানে তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

অনুসারীর সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও দুই তারকার ফেসবুক কার্যক্রমে রয়েছে ভিন্নতা। সাকিব আল হাসানের অফিসিয়াল পেজ থেকে মাত্র ছয়টি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন ও ফরচুন বরিশালের অফিসিয়াল পেজও তাঁর অনুসরণ তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, পরীমনির ফেসবুক পেজ থেকে সাতটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হলেও সেগুলোর তথ্য প্রাইভেসি সেটিংয়ের কারণে প্রকাশ্যে দেখা যায় না।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনায় থেকেছেন পরীমনি। বর্তমানে তিনি নতুন কয়েকটি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এবার দেশের নতুন শীর্ষস্থান দখল করলেন পরীমনি।

কালের আলো/এসএ

সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের সান্তোস অধ্যায় দীর্ঘ হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সেটি নবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম। ক্লাবের ভেতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষই এর প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকেই সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে নেইমারকে ঘিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর আচরণ ও মনোভাবের কারণে প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কয়েকজন খেলোয়াড় নেইমারের ‘আত্মকেন্দ্রিক’ আচরণে অসন্তুষ্ট বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেইমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মে মাসে অনুশীলনের সময় সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্কের ঘটনা দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করে।

কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের অভিযানের সময়ও সমালোচনার মুখে পড়েন নেইমার। ভেনেজুয়েলায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তাঁকে সাও পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা যায়। বিষয়টি সমর্থক ও গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জবাব দেন তিনি। এরপর শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে গোল করে তাস বিলির ভঙ্গিতে উদযাপন করে সেই বিতর্ক আরও উসকে দেন।

গ্লোবোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেশাদার ফুটবলের চাপ ও ক্লাবের দৈনন্দিন রুটিনে নেইমার ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে তিনি এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ব্রাজিলের কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসকে মৌখিকভাবে আক্রমণ করেছেন নেইমার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাঁর দাবি, প্রকাশিত খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কালের আলো/এসএ

 

মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পরিদর্শনের সময় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রউফ তাঁকে স্বাগত জানান।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জাতীয় মানচিত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদ, আন্তর্জাতিক সীমানা জরিপ, ভূস্থানিক তথ্য সংগ্রহ, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল এলিভেশন মডেল প্রস্তুত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এসময় তিনি বলেন, নির্ভুল ও হালনাগাদ মানচিত্র উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভূস্থানিক তথ্যের সমন্বয় ও নিয়মিত হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি প্রশিক্ষণে জরিপ ও ভূস্থানিক জ্ঞানের ব্যবহার বৃদ্ধি, দেশীয় ডিজিটাল ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সম্ভাবনা যাচাই এবং ভূকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে পরবর্তী পর্যায়ে সিলেট ও কুমিল্লায় কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। নির্ভুল মানচিত্র ও আধুনিক ভূস্থানিক তথ্য সেই পরিকল্পনার পথ নির্দেশক।’

এসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ