খুঁজুন
                               
, ,
           

৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন যুগের সূচনা দেশের রাজনীতিতে

জারিফ নিহাল/আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ,কালের আলো:

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৬ হাজার ৩১৪ দিন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও স্বশরীরে রাজনৈতিক অনুপস্থিতিরও অবসান। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় শক্ত হাতে প্রবাসে নির্বাসিত জীবনেই ধরে রেখেছেন দলের নেতৃত্ব। সামাল দিয়েছেন নানা চ্যালেঞ্জ। শৃঙ্খলা রক্ষায় কখনও কঠোর হয়েছেন। অভিভাবকত্বে আগলে রেখেছেন, এক সুতোয় গেঁথেছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে অবশেষে তিনি ফিরেছেন নিজের মাতৃভূমিতে। সিক্ত হয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে উচ্ছ্বসিত ছিল গোটা দেশ। তাকে একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নেতা-কর্মী-সমর্থক-অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরের সামনে এসে জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন। জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান। পরে নিচু হয়ে মাটি হাতে নেন। এক দলা মাটি পরম মমতায় নেড়েচেড়ে দেখেন। এ যেন অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। কোন শব্দ বা বাক্যে এই অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন। কোনভাবেই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না পুরো ঘটনা প্রবাহটি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ তিনি সামনে থাকা একটি ফুলবাগানের ভেতরে চলে যান। সেখানে ঘাস ও কিছু গাঁদা ফুলের গাছ ছিল। সেখানেই জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে দাঁড়ান এবং এক দলা মাটি হাতে নেন, সফরসঙ্গীদের হাতে তুলে দেন।

মেয়ের জামাইকে ফুলের মালায় বরণ শাশুড়ির, ফোনে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টাকে
এর আগে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রথমে ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। তিনি বিমানবন্দরে একটি সোফায় বসে ছিলেন। তারেক রহমান কুশল বিনিময় করতে এলে মেয়ের জামাইকে তিনি পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এরপর দুজন কুশল বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নানীকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে সোফায় বসে তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও নাতনি কিছুক্ষণ কথা বলেন।

তারেক রহমান দেশে নেমেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করেন। বিএনপি সূত্র বলছে, ফোনে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তাকে দেশে স্বাগত জানান। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ওঠেন তারেক রহমান। ওই বাসে করেই তিনি ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসে তার সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় জাইমা হাত নেড়ে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। ১৯৬ নম্বর বাড়িটির অবস্থান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার পাশে।

ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
দেশের মাটিতে পা রেখেই ক্ষমতা ও সম্মানের বিষয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর ফেসবুক পোস্টে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের অর্থ শেয়ার করেন, সঙ্গে একটি ভিডিও। ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ্! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’

বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে, অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই জ্যেষ্ঠ সন্তান বিজয়ের মাসে লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ বাসে করেই গণসংবর্ধনাস্থলে যান। বাসটির সামনে লেখা ছিল-‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই বাসের সামনে বসে তিনি নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। তাদের সালাম দেন। এসময় বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। উচ্ছ্বাস-আনন্দ আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দেড় যুগেরও বেশি সময় পর নেতাকে কাছ থেকে দেখার অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল ৩শ ফিট পর্যন্ত। যে কারণে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে তারেক রহমানের গাড়ি বহরের। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। পরে নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি আর সামনে এগোতে পারেনি।

বিমানবন্দর থেকে জনস্রোত পেরিয়ে ৩টা ৫০ মিনিটে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতারা ও যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মঞ্চে তার জন্য বরাদ্দ রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে রেখে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসেন।

‘আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে’
গত ক’দিন যাবত ৩০০ ফিটের জনসভার মঞ্চে অবস্থান নেওয়া লাখো লাখো মানুষ ও দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এরপর বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র চব্বিশের আন্দোলনের লড়াকু যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করলেন। যেকোন মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ দিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে শয্যাশায়ী বেগম খালেদা জিয়ার বিছানার পাশে মন পড়ে থাকার কথা জানালেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বললেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন— অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন-আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

গণসংবর্ধনা শেষ করে সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতাল গেটের সামনে পৌঁছালে তিনি বাস থেকে নেমে যান। এরপর সেখান থেকে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে অবস্থান নেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তারেক রহমানকে বহন করা গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢোকার সময় কর্মী-সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় দলীয় পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর গুলশানের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘স্বাগতম তারেক রহমান’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

ঢাকায় এসেছে বাক্সবন্দি জেবু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে তার পোষা বিড়াল জেবুও দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালিক তারেক রহমানের সঙ্গে সেও ঢাকায় নেমে আসে। তবে তাকে একটি লাইভ এনিমেল লেখা প্লাস্টিকের বক্সের ভেতরে করে দেশে আনা হয়। দুপুরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় ফেসবুক পেজে বিড়ালটির বাক্সবন্দি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ছবির ওপরে একটি ক্যাপশন দিয়ে বলা হয়, জেবু দেশে ফিরেছে। ছবিতে দুজন ব্যক্তিকে জেবু যে বাক্সে রয়েছে সেটি বহন করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে লন্ডন থেকে উড়াল দেওয়ার আগে তারেক রহমানের বহুল প্রশংসিত পোষা বিড়াল জেবু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ফেসবুক পেজ চালু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের দত্তক নেওয়া লোমশ সাইবেরিয়ান বিড়ালটির নাম জেবু। জেবু নামেই তাকে এখন সকলে ডাকে। হালকা-হাস্যকর এবং ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখা এই পেজটি ইতোমধ্যেই অনলাইনে বিড়ালপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছে।

এই বছরের শুরুতে জেবু প্রথম জনসাধারণের কল্পনায় স্থান করে নেয়, যখন তারেক রহমানের মোবাইলের দিকে তীব্রভাবে তাকিয়ে থাকা বিড়ালের একটি ছবি ভাইরাল হয়। যা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আনন্দিত করে এবং বিশেষ করে তরুণ বাংলাদেশি এবং নিবেদিতপ্রাণ বিড়ালপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। জেবুর অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিড়ালটি আমার মেয়ের। কিন্তু এখন এটি সকলের বিড়ালে পরিণত হয়েছে। আমরা সকলেই এটিকে ভালোবাসি এবং আদর করি।’

সবার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা দলের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে দলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুদুর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট মহাসড়ক) অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক ও নজীরবিহীন জনসমাগমে ঢাকা মহানগরী যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অভ্যর্থনা জানাতে আসা দেশবাসীকে তারেক রহমান আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরইমধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত হবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার আভাস থাকলেও উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা কাটেনি। তাই সব সমুদ্রবন্দরে বহাল তিন নম্বর সংকেত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন