খুঁজুন
                               
, ,
           

আবেগে তারেক রহমানের চোখে জল স্পর্শ করেছে সবাইকে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
আবেগে তারেক রহমানের চোখে জল স্পর্শ করেছে সবাইকে

কালের আলো রিপোর্ট:

২০০৬ থেকে ২০২৫। মাঝখানে কেটে গেছে ১৯ বছর। দীর্ঘ সময়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবনে ঘটে গেছে অনেক কিছুই। ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে অসহনীয় নির্যাতন, জামিনে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য চলে যাওয়া, সেখান থেকে ভার্চ্যুয়ালি দল পরিচালনা, দলের ঐক্য-বন্ধন টিকিয়ে রাখা, ফ্যাসিস্ট রেজিমে একের পর এক মিথ্যা মামলা, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া, পাতানো সব মামলা থেকে দণ্ড ও সাজামুক্ত হওয়া অত:পর দেশে রাজসিক প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহুর্ত-সব মিলিয়ে রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উতরাই সঙ্গী হয়েছে তাঁর। নিজেকে রূপান্তরের এমন নানা দিক তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়। করে তুলেছে আরও সংযত, ধৈর্য্যশীল ও আদর্শনিষ্ঠ। দীর্ঘ নির্বাসিত প্রবাস জীবনে বাবার কবরের পাশে দাঁড়ানো হয়নি ১৯ বছর।

বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার এক দিন পর শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি গেলেন বাবার কবর জিয়ারত করতে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়েই। এরপর জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে তাদের বিদায় জানিয়ে সেখানে একা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন একজন তারেক রহমান। চশমা খুলে বারবার টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলেন বাবার জন্য চোখের পানি।

তারেক রহমানের এই কান্না স্পর্শ করেছে কাছের থেকে দূরের সবাইকে। আবেগাপ্লুত তারেক রহমান পরে আবারও মোনাজাত করেন। তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশের। এর আগে এদিন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান শহীদ জিয়ার মাজারে পৌঁছান এবং জিয়ারত করেন। এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত
  • তারেক রহমানের এই কান্না স্পর্শ করেছে কাছের থেকে দূরের সবাইকে
  • নিজেকে জনগণের একদম কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন
  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন : মির্জা ফখরুল
  • আজ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন
  • অংশ নেবেন এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রমে

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি’র তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান শেষবার তাঁর বাবার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের কারণে আর আসা সম্ভব হয়নি।

বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ফলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। দুপুরের দিকে গুলশানের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় তার গাড়িবহর। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তার নিজস্ব নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা কবরের মূল বেদিতে সাধারণ নেতাকর্মীদের ঢুকতে দেয়নি।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পর ওই বাসে করেই বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান। আগের দিন যে বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি বিমানবন্দর থেকে এসেছিলেন এদিনও সেই বাসেই শেরেবাংলা নগর ও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান তিনি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে একাত্তরের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে জিয়া উদ্যান থেকে স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টার মতো। এ সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পরে রাত ১০টার দিকে স্মৃতিসৌধে পৌঁছে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা সেরে রাত ১০টার দিকে ঢাকা উদ্দেশে রওনা হন তিনি। লাল-সবুজ পতাকার রঙে সাজানো বাসের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তারেক রহমান কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। কখনও ইশারায় তাঁর জন্য দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া চাইতেও দেখা যায় তাকে। এই সাধারণ পরিবহনে চড়ে বাবার কবর জিয়ারতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কৌশলী এবং আবেগপ্রবণ। তবে এই যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাজার হাজার নেতাকর্মী বাসের একদম গা ঘেঁষে স্লোগান দিচ্ছিল, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা মানুষের এই স্রোত ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান নিজেকে জনগণের একদম কাছাকাছি নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, যা একজন গণতান্ত্রিক নেতার জন্য কাম্য। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস অত্যন্ত তিক্ত, যেকোনো মুহূর্তে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা অপ্রীতিকর কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কাও অনেকের মাঝে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন : মির্জা ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, এ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এবং এ স্বপ্নের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান। তিনি জনগণের কল্যাণে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন। আর আজ তারেক রহমানের হাত ধরে সেই গণতন্ত্র পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হবে।’

জনমনে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা বা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টতা নিয়ে এসেছে। মানুষ এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

আজ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সূত্রে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা। কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এরপর তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যাবেন বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন আবেদন করবেন তারেক রহমান। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শনিবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় খোলা থাকবে এবং ওইদিনই তারেক রহমান ভোটার হওয়া, ভোটার আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

কালের আলো/জেএন/এমকে

সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সকাল ৯টার মধ্যে দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে– খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলে অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুন. ১ নম্বর) নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।

এটি বর্তমানে উত্তর ওড়িশা এবং তৎসংলগ্ন বিহার-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে এবং প্রয়োজনে টেন্ডারও বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা শুধু জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধিদলই নয়, একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

পাবনা(বেড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমুখ।

তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এই উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এই নোটিশের আওতায় আছেন, তা অফিসের ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে।

তবে কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি