খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আবেগে তারেক রহমানের চোখে জল স্পর্শ করেছে সবাইকে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
আবেগে তারেক রহমানের চোখে জল স্পর্শ করেছে সবাইকে

কালের আলো রিপোর্ট:

২০০৬ থেকে ২০২৫। মাঝখানে কেটে গেছে ১৯ বছর। দীর্ঘ সময়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবনে ঘটে গেছে অনেক কিছুই। ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে অসহনীয় নির্যাতন, জামিনে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য চলে যাওয়া, সেখান থেকে ভার্চ্যুয়ালি দল পরিচালনা, দলের ঐক্য-বন্ধন টিকিয়ে রাখা, ফ্যাসিস্ট রেজিমে একের পর এক মিথ্যা মামলা, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া, পাতানো সব মামলা থেকে দণ্ড ও সাজামুক্ত হওয়া অত:পর দেশে রাজসিক প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহুর্ত-সব মিলিয়ে রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উতরাই সঙ্গী হয়েছে তাঁর। নিজেকে রূপান্তরের এমন নানা দিক তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়। করে তুলেছে আরও সংযত, ধৈর্য্যশীল ও আদর্শনিষ্ঠ। দীর্ঘ নির্বাসিত প্রবাস জীবনে বাবার কবরের পাশে দাঁড়ানো হয়নি ১৯ বছর।

বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার এক দিন পর শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি গেলেন বাবার কবর জিয়ারত করতে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়েই। এরপর জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে তাদের বিদায় জানিয়ে সেখানে একা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন একজন তারেক রহমান। চশমা খুলে বারবার টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলেন বাবার জন্য চোখের পানি।

তারেক রহমানের এই কান্না স্পর্শ করেছে কাছের থেকে দূরের সবাইকে। আবেগাপ্লুত তারেক রহমান পরে আবারও মোনাজাত করেন। তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশের। এর আগে এদিন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান শহীদ জিয়ার মাজারে পৌঁছান এবং জিয়ারত করেন। এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত
  • তারেক রহমানের এই কান্না স্পর্শ করেছে কাছের থেকে দূরের সবাইকে
  • নিজেকে জনগণের একদম কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন
  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন : মির্জা ফখরুল
  • আজ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন
  • অংশ নেবেন এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রমে

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি’র তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান শেষবার তাঁর বাবার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের কারণে আর আসা সম্ভব হয়নি।

বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ফলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। দুপুরের দিকে গুলশানের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় তার গাড়িবহর। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তার নিজস্ব নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা কবরের মূল বেদিতে সাধারণ নেতাকর্মীদের ঢুকতে দেয়নি।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পর ওই বাসে করেই বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান। আগের দিন যে বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি বিমানবন্দর থেকে এসেছিলেন এদিনও সেই বাসেই শেরেবাংলা নগর ও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান তিনি। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে একাত্তরের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে জিয়া উদ্যান থেকে স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টার মতো। এ সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পরে রাত ১০টার দিকে স্মৃতিসৌধে পৌঁছে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা সেরে রাত ১০টার দিকে ঢাকা উদ্দেশে রওনা হন তিনি। লাল-সবুজ পতাকার রঙে সাজানো বাসের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তারেক রহমান কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। কখনও ইশারায় তাঁর জন্য দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া চাইতেও দেখা যায় তাকে। এই সাধারণ পরিবহনে চড়ে বাবার কবর জিয়ারতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কৌশলী এবং আবেগপ্রবণ। তবে এই যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাজার হাজার নেতাকর্মী বাসের একদম গা ঘেঁষে স্লোগান দিচ্ছিল, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা মানুষের এই স্রোত ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান নিজেকে জনগণের একদম কাছাকাছি নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, যা একজন গণতান্ত্রিক নেতার জন্য কাম্য। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস অত্যন্ত তিক্ত, যেকোনো মুহূর্তে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা অপ্রীতিকর কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কাও অনেকের মাঝে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন : মির্জা ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, এ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এবং এ স্বপ্নের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান। তিনি জনগণের কল্যাণে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন। আর আজ তারেক রহমানের হাত ধরে সেই গণতন্ত্র পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হবে।’

জনমনে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা বা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টতা নিয়ে এসেছে। মানুষ এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

আজ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সূত্রে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা। কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এরপর তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যাবেন বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন আবেদন করবেন তারেক রহমান। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শনিবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় খোলা থাকবে এবং ওইদিনই তারেক রহমান ভোটার হওয়া, ভোটার আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

কালের আলো/জেএন/এমকে

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে ভারতের উজানের মেঘালয় রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

এ অবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বন্যা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায়—৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার।

এছাড়া শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড়ি অঞ্চলের টানা বৃষ্টি সিলেটের নদ-নদী ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উজান থেকে নেমে আসা পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য পাহাড়ি নদীর প্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়,

যা স্বল্প সময়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

সেখানকার আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মে মেঘালয়ের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত এবং ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এছাড়া জেলা ভিত্তিক পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।এদিকে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্যে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮ দশমিক ৬১ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৭ দশমিক ৪৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার।

সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৯০ মিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য মিটার এবং গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ৭ দশমিক ৮৬ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটার।

এছাড়া লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৪২ মিটার এবং ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে ৭ দশমিক ২৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল এবং সিলেটের অভ্যন্তরীণ ভারী বৃষ্টি একসঙ্গে অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

এতে সিলেটের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াও হতে পারে।

এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে। একই সঙ্গে সিলেটেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উজানে বৃষ্টি ও ঢল চলমান থাকলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আকস্মিক বন্যা হলেও তা স্বল্পমেয়াদি হবে এবং পানি দ্রুত নেমে যাবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সন্ধ্যার মধ্যে ভয়াবহ ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সন্ধ্যার মধ্যে ভয়াবহ ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতা

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের সাত জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অনত্র পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। 

বুধবার (২৭ মে) সকালে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যু আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি