খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নির্বাচন নিয়ে তিন বাহিনী প্রধানের স্পষ্ট বার্তা ও অভূতপূর্ব ‘টিমওয়ার্ক’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচন নিয়ে তিন বাহিনী প্রধানের স্পষ্ট বার্তা ও অভূতপূর্ব ‘টিমওয়ার্ক’

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

আর মাত্র ৯ দিন বাদেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশ। উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তবুও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জনমনে শঙ্কা, প্রশ্ন আছেই। রয়েছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জও। জয়-পরাজয় যাই হোক শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রশ্নে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা মুখ্য। প্রধান উপদেষ্টাও বারবার তাদের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা বলেছেন। একাধিকবার সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে বসেছেন। সংকটে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় এবার সশস্ত্র বাহিনীকে ভোটের মাঠে রেখেছে ড.ইউনূস সরকার।

সর্বশেষ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সরকার প্রধানকে আশ্বস্ত করেছিলেন নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করার। তিনি বলেছিলেন, ‘বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। যা সামনের দিনগুলোতে কার্যকর করা গেলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব।’ শুধু কথার কথা বলেননি সেনাপ্রধান। অভ্যুত্থানের আগে-পরে সশস্ত্র বাহিনী দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে দিন-রাত এক করে মাঠে থেকেছে। সরকারপ্রধানকে দেওয়া কথার সঙ্গে কাজের মিল রেখে নির্বাচনের আগ মুহুর্তেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের উৎসাহিত করতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন এরিয়া পরিদর্শন শুরু করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শনের পর ধারাবাহিকভাবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজশাহী ও রংপুর এবং রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্ত-প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জোর দিয়েছেন। অভিন্ন বিষয়ে এবার একসঙ্গে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আলোচনা করেছেন তিন বাহিনী প্রধান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এই সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সাধারণ মানুষ জানে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় ভোটে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি মানেই অপরাধী-দুর্বৃত্ত পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য। রাজনীতিতে এই দাবার চালে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছে সরকার। টুঁটি চেপে ধরেছে কল্পকাহিনীর সিরিজ রটানো মহলবিশেষের। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার ও বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০) সদস্য।

গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানের একত্রিত মতবিনিময় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বড় এক চমক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন তাঁরা একসঙ্গে জাতির সামনে এসেছিলেন। যেখানে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন তিন বাহিনী প্রধান। নিজেদের মধ্যকার সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং টিমওয়ার্ক’র এক অভূতপূর্ব নজির দেখিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গতিপ্রকৃতি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকারও তাঁরা করেছেন অনেকবার। গাজীপুরে তিন বাহিনী প্রধান একই সভায় মিলিত হয়ে অঙ্গীকার পূরণে নিজেদের সদিচ্ছাকে দেশবাসীর সামনে মোটা দাগে তুলে এনেছেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজ নিজ বাহিনীর সর্বোচ্চ আন্তরিকতাকে দেদীপ্যমান করেছেন। গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে সর্বাত্মক সহযোগিতার পরিস্কার নমুনা স্থাপন করেছেন। বাস্তবিক অর্থেই ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভাতৃত্ববোধে দৃঢ় সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষেই শুধুমাত্র এই কঠিনকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা সম্ভব। সম্মিলিত ও যুথবদ্ধ প্রয়াস কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে পথচলাকে করবে মসৃণ।

গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম। নির্বাচন নিয়ে সবাই আগ্রহী। নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু ক্রিমিনাল (অপরাধী) থাকতে পারে। সবাই এ ধরনের অপকর্ম করবে না। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যারা র‌্যাগিং এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। অপরাধ করলে যতটুকু আইনে রয়েছে ততটুকু শাস্তি পাবে।’

সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘দিনে-রাতে বিভিন্ন সময় অপারেশনের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের আটক করা হচ্ছে। সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।’ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিতের কথা জানিয়ে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, কাউকে বসে থাকা যাবে না।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়াও পরিদর্শনকালে তিন বাহিনীর প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’র আওতায় মোতায়েনরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাইদার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে গেছেন।’ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাইদার সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে গেছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযানে সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিন-তারিখ ঘোষণার পর বর্তমান পরিস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক ভালো এবং আসন্ন নির্বাচন হবে গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর।’

কালের আলো/এমএএএমকে

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি