খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

ইরানে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ছয় বছর আগে করোনা মহামারির পর তেলের দামের এত বড় উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর এই প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল।

রবিবার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ছুঁয়েছে। খবর আল জাজিরার।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন মূল্যবৃদ্ধিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হওয়ার পর স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এমন দামকে সামান্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাববে কেবল বোকা মানুষ।’ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও জ্বালানি দামের সম্ভাব্য বৃদ্ধিকে ‘তুচ্ছ করে’ দেখিয়েছেন। রবিবার সিবিএসের ফেস দ্যা ন্যাশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পেট্রোলের দাম বাড়লেও তা হবে সাময়িক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ওপেকভুক্ত তিন দেশ ইরান, আরব আমিরাত এবং কুয়েত তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের জ্বালানি স্থাপনায় একাধিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।

শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ইরানের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় তেহরান ও আলবোরজ প্রদেশে চারটি তেল সংরক্ষণাগার ও একটি তেল পরিবহন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রবিববার ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘এই খেলা’ চালিয়ে গেলে তারা গোটা অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

আইএমএফ’র হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম যদি স্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

শুক্রবার ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিগগিরই উপসাগরীয় অঞ্চলের সব উৎপাদক দেশ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।

কালের আলো/এসএন/এএএন

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টির পর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার এর চেয়েও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে যানজট দেখা দেয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। ফলে অনেক কর্মজীবী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, সকালে বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে অলিগলিতে পানি আর পানি। অনেকে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাসায় পানি ঢুকেছে। মানুষের ভোগান্তি কখন শেষ হবে জানি না।

মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলায় পানি। এখন ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু চলাচলই ব্যাহত হয় না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায়  বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি