ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনকে যেসব নির্দেশনা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর পর ময়মনসিংহে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রথম সভা। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইনসহ সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র ৬ সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো যোগ দিলেন গুরুত্বপূর্ণ এই সভায়। সেখানে আলোচিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলাজনিত বিদ্যমান পরিস্থিতিসহ নানাবিধ বিষয়ে। পরামর্শ এসেছে তাঁর উন্নতি বিধান ও প্রতিকারের। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসনকে।
তিনি জেলায় জুয়া, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হতে বলেছেন জেলা প্রশাসনকে। অবৈধ পার্কিং বন্ধ, অবৈধভাবে দখল করা জায়গা ও দোকান উচ্ছেদ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, ময়মনসিংহ নগরীতে যানজটের মূল কারণ সড়ক সংকট নয় বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রেশনিং করে তেল সরবরাহ করায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়েও গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে প্রথমবার ভোটে নির্বাচিত হয়েই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া বিবিসির এক সময়কার খ্যাতিমান এই তথ্য ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানী। প্রতিমন্ত্রী সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল সরকারের কাছে মজুত আছে। কিন্তু এনিয়ে কিছু গুজব আছে। তবে অনেকেই জ্বালানি মজুত করার চেষ্টা করছে। কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলে তা নজরদারির আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে সরকারের অভিযান অব্যাহত আছে। জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের সকল গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা। সরকার চায় গণমাধ্যম দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরুক। তাই সাংবাদিকদের নিয়ে নতুন করে নীতিমালা করার ক্ষেত্রে সাংবাদিক সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কেউ যদি কোনো ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি পরিচালনা করে, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।’ নিবন্ধনবিহীন বা ভূঁইফোড় সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সাথে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
ক্রিমিনাল ধরেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ থাকবে না
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য এম ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরই করতে হবে, আমরা শুধু সহযোগিতা করতে পারব। আমরা রাজনৈতিক পরিচয়ে পাবলিক এওয়ারনেস করতে পারব। কিন্তু কাজের দায়িত্বটা আপনাদের নিতে হবে। আমি আশা করব আপনারা আজকে থেকেই একটু শক্ত হোন, কঠোর হন। ক্রিমিনাল ধরেন, এতে আমাদের পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ থাকবে না।’

এক মঞ্চে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা
জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা সব সময়ই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একটি জেলার উন্নতি-অগ্রগতি নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারেরও তিন অগ্রাধিকারের একটি আইনশৃঙ্খলা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ শুধু অপরাধ দমনের বিষয় নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনআস্থার প্রশ্নও। দুই ক্ষেত্রেই দ্রুত অগ্রগতি দেখানো জরুরি। ময়মনসিংহ জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রথম সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে কঠিন এই চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে এজন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অনস্বীকার্য।
এবারের প্রথম সভাতেই দুই প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন এবং ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-পাগলা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, স্বতন্ত্র হয়ে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর) আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ১১ দলীয় জোটের মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এমএএএমকে



আপনার মতামত লিখুন
Array