খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপি একসময় গণভোটের প্রচার চালিয়েছে, এখন অবজ্ঞা করছে: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
বিএনপি একসময় গণভোটের প্রচার চালিয়েছে, এখন অবজ্ঞা করছে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ‘বিএনপি একসময় গণভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও এখন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেটিকে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছে।’

রোববার (১৫ মার্চ) সংসদের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাহিদ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানই বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়া, অন্তর্র্বতী সরকার এবং এই নির্বাচনের মূল ভিত্তি ও বৈধতা। সব বিষয় শুধু সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধীদলীয় এমপি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই কমিশনের কোনো কার্যক্রমকে এখন অসাংবিধানিক বলার সুযোগ নেই। জনগণের রায় সংস্কারের পক্ষে আসার পরও সংসদ সেটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, গণভোট কোনো নতুন বিষয় নয়; অতীতেও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এ ধরনের বিষয় মীমাংসা হয়েছে। বিএনপির অনেক সংসদ সদস্য এবং দলীয় প্রধানও একসময় গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেটিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তিন দলীয় জোটের রূপরেখা ভঙ্গ করায় তৎকালীন সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

অধিবেশন শেষে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। সে সময় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

গণভোট নিয়ে সংসদের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যে গণভোটের আদেশ দিয়েছেন, সেটিকে এখন অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে। অথচ একই প্রক্রিয়ায় হওয়া সংসদীয় নির্বাচনকে সাংবিধানিক বলা হচ্ছে। এটি একটি দ্বিমুখী অবস্থান।

তিনি বলেন, অর্ধেক মানলাম আর অর্ধেক মানলাম না—এ ধরনের ডুয়েল অবস্থান স্পষ্ট নয়। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলীয়ভাবে আলোচনা শেষে এনসিপি তাদের পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

জাপানে ভূমিকম্পে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জাপানে ভূমিকম্পে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

গতকাল মঙ্গলবার জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো জেলা থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা জারি আছে।

মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, “এমনকি এখনও বিভিন্ন ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়া লোকজন উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আমরা আমাদের সমস্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করব।”

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে) জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ঘটেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএমএর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তি বা এপিসেন্টর ছিল কিউশুর কুমামোতো জেলার সাগর উপকূলের ২০ কিলোমিটার গভীরে।

সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্প হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এটির ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা।ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে জেলার ৩৬ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। পুরো জেলায় এমন কোনো সড়ক প্রায় নেই, যেটিতে ফাটল দেখা দেয়নি।

ভূমিকম্পের অল্প সময় পরেই অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয় কুমামোতোর বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপগুলোতে। উদ্ধারকর্মীদের রাতভর প্রচেষ্টায় আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত এই ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর এক এলাকায় একটি শপিং মলে বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটির গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজই বিস্ফোরণের কারণ। মলটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ বছর বয়সী দু’জন তরুণীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ আছেন অনেক মানুষ।

বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর ‘আফটারশক’- এর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে শহরের অনেক বাসিন্দা এখনও ভূমিকম্প আশ্রয়কেন্দ্রে রয়ে গেছেন।

কুমামোতো কিউশুর বৃহত্তম জেলা শহর। প্রায় ৭ লাখ মানুষ বসবাস করেন শহরটিতে।

এদিকে হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এবং তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রিতে পৌঁছানোয় শহরের বাসিন্দারা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র : রয়টার্স

কালের আলো/এম/এএইচ

সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সকাল ৯টার মধ্যে দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে– খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলে অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুন. ১ নম্বর) নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।

এটি বর্তমানে উত্তর ওড়িশা এবং তৎসংলগ্ন বিহার-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে এবং প্রয়োজনে টেন্ডারও বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা শুধু জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধিদলই নয়, একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি