খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

ছাত্রদল সভাপতি

মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াত ক্ষমা না চেয়ে বয়ান দাঁড় করার চেষ্টা করছে

সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াত ক্ষমা না চেয়ে বয়ান দাঁড় করার চেষ্টা করছে

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে- যার লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বিদায় জানাতে গিয়ে দুই হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে হয়েছে। এরপরও আমরা সেই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার স্বাদ পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। নতুন নতুন বাস্তবতা ও সংকট দেশে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “জাতীয় জীবনে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতার প্রকৃত প্রত্যাশা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে আমরা মনে করি। একটি ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন, সত্যিকারের স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন ছিল, তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ আমরা আবারও নতুন করে শপথ নিতে পারি- নতুন সরকারের অগ্রযাত্রায় আমরা সবাই ভেদাভেদ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে কাজ করব। সেখানে অবশ্যই বিরোধিতা থাকবে, তবে তা হবে যৌক্তিক বিরোধিতা, কোনোভাবেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার মতো বিরোধিতা নয়। এমন কোনো কার্যক্রমে আমরা অংশগ্রহণ করব না, যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট আমরা সবাই ধারণ করব। যখন ফ্যাসিবাদী শক্তি বিদায় নিয়েছে, তখন আমরা কেন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে পারব না? অবশ্যই আমরা পারব- যৌক্তিক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি বিষয় অত্যন্ত পরিতাপের-ইতিহাস বিকৃতি। আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল, যাদের ১৯৭১ সালে ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, তারা আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং বক্তব্য দিচ্ছে। তবে, ২৫শে মার্চের সেই কালরাত্রি নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন- সেসবের পেছনে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ভূমিকা ছিল, যার ইতিহাস আজ বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এই ইতিহাস বিকৃত করে যদি কেউ নতুন করে বয়ান তৈরি করতে চায় এবং মনে করে ১৯৭১ বা ২৬শে মার্চকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করবে- তাহলে আমি মনে করি, তা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, আজ যেমন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে- যার লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। এইভাবে একটি রাষ্ট্র যুগের পর যুগ চলতে পারে না। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন ইতিহাসের প্রতি নিজেদের দায় স্বীকার করে, সত্যকে মেনে নেয়। এরপর তারা রাজনীতি করুক- এতে কোনো সমস্যা নেই।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্যরা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলসহ আমরা বিভিন্ন স্থানে শহীদদের স্মরণ করেছি এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমি বীর শহীদদের প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের অবদান আমরা কখনোই ভুলে যাব না। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী আমরা তাদের এভাবেই স্মরণ করে যাব।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্প্যানিশ ক্লাবের মালিকানা কিনলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
স্প্যানিশ ক্লাবের মালিকানা কিনলেন মেসি

কাতালানিয়ার ঐতিহাসিক ক্লাব ইউই কর্নেল্লার মালিকানা কিনেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্নেল্লা ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বার্সেলোনার সঙ্গে নিজের আজীবন আত্মিক সম্পর্ক এবং স্থানীয় প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেই লিওনেল মেসির এই নতুন উদ্যোগ।

১৯৫১ সালে প্রতি প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি স্প্যানিশ প্রতিভা অন্বেষণের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মজার ব্যাপার হলো বর্তমান ও সাবেক অনেক সতীর্থই এই ক্লাবের একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জর্দি আলবা, জাভি পুয়াদো, ডেভিড রায়া এবং জেরার্ড মার্টিনের মতো তারকা ফুটবলাররা।

ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার আগ্রহ সবসময় ছিল লিওনেল মেসি। গত ডিসেম্বরে মিয়ামিতে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে মেসি কাপ আয়োজন করে তিনি এর প্রমাণও দিয়েছিলেন। এবার সরাসরি একটি ক্লাব কিনে নেওয়ার মাধ্যমে সেই লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার।

মেসির এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্যই হলো স্থায়িত্ব এবং উচ্চাশার সমন্বয়ে শিকড়ের সাথে সংযোগ রেখে ক্লাবটিকে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।

মালিকানায় মেসির আগমনে ইউই কর্নেল্লো তাদের ইতিহাসে এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মেসির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা ক্লাবটির ক্রীড়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাবে।

কালের আলো/এসএকে

চুক্তির সময় আমিও ইসলামাবাদে যেতে পারি: ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চুক্তির সময় আমিও ইসলামাবাদে যেতে পারি: ট্রাম্প 

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা স্বাক্ষরের জন্য ইসলামাবাদে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকাল এ কথা বলেন ট্রাম্প। লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে যেতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তাহলে আমি যেতে পারি।’

চুক্তির বিষয়ে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে তিনি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ফিরে আসেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এই আলোচনা আবার পাকিস্তানেই হতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে নিহত ২

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে নিহত ২

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই এলাকার বাসিন্দা দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত প্রায় ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পরপরই উত্তেজিত এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে পান্নু মিয়া (৩৮) ও মোহাম্মদ রনি (২৪) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাটিপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গণপিটুনির শিকার দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মারধরের পর পানিতে ফেলে রাখা হয়। আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বনপারিল এলাকা থেকে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় স্থানীয়রা কয়েকজনকে গণপিটুনি দিয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে তার মরদেহ ভুট্টাক্ষেতে পাওয়া যায়। পরে সন্দেহভাজন তিনজনকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা, এতে দুইজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন।

কালের আলো/এসআর/এএএন