খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাত্রদল সভাপতি

মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াত ক্ষমা না চেয়ে বয়ান দাঁড় করার চেষ্টা করছে

সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াত ক্ষমা না চেয়ে বয়ান দাঁড় করার চেষ্টা করছে

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে- যার লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বিদায় জানাতে গিয়ে দুই হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে হয়েছে। এরপরও আমরা সেই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার স্বাদ পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। নতুন নতুন বাস্তবতা ও সংকট দেশে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “জাতীয় জীবনে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতার প্রকৃত প্রত্যাশা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে আমরা মনে করি। একটি ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন, সত্যিকারের স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন ছিল, তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ আমরা আবারও নতুন করে শপথ নিতে পারি- নতুন সরকারের অগ্রযাত্রায় আমরা সবাই ভেদাভেদ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে কাজ করব। সেখানে অবশ্যই বিরোধিতা থাকবে, তবে তা হবে যৌক্তিক বিরোধিতা, কোনোভাবেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার মতো বিরোধিতা নয়। এমন কোনো কার্যক্রমে আমরা অংশগ্রহণ করব না, যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট আমরা সবাই ধারণ করব। যখন ফ্যাসিবাদী শক্তি বিদায় নিয়েছে, তখন আমরা কেন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে পারব না? অবশ্যই আমরা পারব- যৌক্তিক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি বিষয় অত্যন্ত পরিতাপের-ইতিহাস বিকৃতি। আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল, যাদের ১৯৭১ সালে ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, তারা আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং বক্তব্য দিচ্ছে। তবে, ২৫শে মার্চের সেই কালরাত্রি নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন- সেসবের পেছনে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ভূমিকা ছিল, যার ইতিহাস আজ বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এই ইতিহাস বিকৃত করে যদি কেউ নতুন করে বয়ান তৈরি করতে চায় এবং মনে করে ১৯৭১ বা ২৬শে মার্চকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করবে- তাহলে আমি মনে করি, তা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, আজ যেমন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে- যার লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। এইভাবে একটি রাষ্ট্র যুগের পর যুগ চলতে পারে না। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন ইতিহাসের প্রতি নিজেদের দায় স্বীকার করে, সত্যকে মেনে নেয়। এরপর তারা রাজনীতি করুক- এতে কোনো সমস্যা নেই।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্যরা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলসহ আমরা বিভিন্ন স্থানে শহীদদের স্মরণ করেছি এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমি বীর শহীদদের প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের অবদান আমরা কখনোই ভুলে যাব না। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী আমরা তাদের এভাবেই স্মরণ করে যাব।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে বিমান রওনা, ঢাকায় পৌঁছাবে রাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে বিমান রওনা, ঢাকায় পৌঁছাবে রাতে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে একটি বিমান ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, বিমানটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহনকারী বিমানটি ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করবে।

রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি দেশে পৌঁছানো নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছিল। জ্বালানি পৌঁছানোর পর প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিমানটি নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানা গেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি তেলের প্রভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলের প্রভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বাজারে সবজি ও ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। বরং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মুরগির দামও।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, তালতলা ও আগারগাঁও বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০, টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে যথাক্রমে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুলার দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৫০ টাকায় নেমেছে।

মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। সোনালি কক কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা এবং ব্রয়লার ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি হাইব্রিড ২৯০, লাল লেয়ার ৩৬০ এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম কমেনি। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মাছের দামে।

বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ ও ডিমও আগের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১৩ কোটি নাম বাদ, ফের ভোটার তালিকায় তোলার উদ্যোগ ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
১৩ কোটি নাম বাদ, ফের ভোটার তালিকায় তোলার উদ্যোগ ভারতের

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সমালোচনার মধ্যে। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের পর কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা শনাক্ত করে আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নতুন ও প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের নামও তালিকায় তোলা হবে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া ভোটার খুঁজবে কর্মকর্তারা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে এসআইআর শেষ হয়েছে, সেখানে আগের ও পরের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। কারা বাদ পড়েছেন, সেই তালিকা তৈরি করে যাচাই করা হবে তাঁদের নাম কেন বাদ গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ডিইও), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে শনাক্ত হলে প্রয়োজনে তার বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআইআরে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ গেছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি এবং অন্যান্য কারণে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ভোটার রয়েছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে।

দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি নিয়ে বিতর্ক

এসআইআর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে ভোটারদের নাম যুক্ত বা বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমনভাবে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

তবে এটি বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ। নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং অযোগ্য বা একই ব্যক্তির একাধিক নামসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করাই এসআইআরের উদ্দেশ্য। জ্ঞানেশ কুমারও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কেন নতুন করে নাম যুক্ত করার উদ্যোগ

এসআইআরের পর বৈধ ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসার পরই নির্বাচন কমিশন এখন বাদ পড়া ভোটারদের শনাক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

কমিশনের নতুন নির্দেশনায় শুধু যেসব ভোটার নিজেরা আবেদন করবেন, তাঁদের ওপর নির্ভর না করে কর্মকর্তাদেরও আগের ও বর্তমান তালিকা মিলিয়ে সম্ভাব্য বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, কারও নাম বাদ পড়লেও তিনি আবেদন না করলে বিষয়টি অদেখা থাকবে না—এমন একটি যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

এসআইআরকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকেও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের কতজনকে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কমিশনের যাচাই ও পরবর্তী হালনাগাদ প্রক্রিয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ