খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে ‘ডিপ স্টেট’ স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে ‘ডিপ স্টেট’ স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল

অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে, ‘ডিপ স্টেট’ তেমন একটা স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এনসিপি আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‍আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল, আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত. সেটি আপনারা শেষ করুন। আপনারা শেষ করুন আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।

তিনি বলেন, তাদের নির্দষ্ট কিছু শর্ত ছিল, কিছু কিছু জায়গায় তাদেরকে ফ্যাসিলিটেট করা এবং তারা রোড ম্যাপও করে নিয়ে আসছিল যে, বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে, সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। তাদের সাজাগুলো ইয়ে না করে (বাতিল না করে) আদালতের মাধ্যমে এগুলো দীর্ঘ করে, আপনারা তো জানেন সেটা কীভাবে করা যায়, আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। তারেক রহমানের নিজের নামে সাজা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। তারা পুরো স্ট্রাটেজি আমাদেরকে সাজিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় তাদের সঙ্গে এক ধরনের নেগোসিয়েশন সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দিইনি।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় গণতন্ত্রকে সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিগত সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সরকারের মন্ত্রী পদ মর্যাদায় আছেন। যদিও এই সরকারি দলই সেই সময় আমাদের পদত্যাগ চেয়েছিল। তখন নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির এক ধরনের যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু তারাই এখন একই কাজ করল। আগের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন দায়িত্বশীলকে তাদের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিলো।

তিনি আরও বলেন, এটা বোঝা যায়, তারা এই নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ডকে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই মানুষগুলো যাদেরকে তারা এখন পুরস্কৃত করে তাদেরকে ব্যবহার করেছে। এই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলছিলাম। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ন্যারেটিভ তখন আমাদের পক্ষে উৎপাদিত হতো। ডিপ স্টেট এজেন্সি যদি সঙ্গে থাকতো তাহলে তো সবাই বলতে পারতো, সংবিধান অনুযায়ী ২৯ সালে নির্বাচন হওয়া উচিত। তাহলে সরকার থাক ২৯ সাল পর্যন্ত। তা আমরা সমঝোতা করি নাই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে, যাদের সংসদে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে, সমাজে যাদের সুনাম আছে সংরক্ষিত নারী আসনে দল তাদেরই বাছাই করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রায় পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে। আজ শনিবার (১১এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে আমাদের অফিসের কর্মকর্তারা ফরম বিতরণ করছেন। আপনারা জানেন গতকাল শুক্রবার, আজকে শনিবার ও আগামীকাল রোববার এই তিনদিন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। এটা অব্যাহতভাবে চলবে। গতকালও অনেকে জমা দিয়ে গেছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে যে বোর্ড আছে সেখানে আবেদনগুলো যাবে। কী পদ্ধতিতে ও কোন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে সেটি আজ-কালের মধ্যে জানা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিএনপি যে প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের বাছাই করে। একইভাবে এবারও সেই পদ্ধতিটি অবলম্বন করা হবে। অর্থাৎ যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তাদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ করছি। সেটি তারা পূরণ করে যেসব ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে, সেই ডকুমেন্টসহ আমাদের কাছে জমা দেবেন।

তিনি বলেন, এবারের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এই কারণে যে দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর এক ভয়ানক দুর্বিসহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে আজ এই জায়গায় উপনীত হয়েছে। একটা অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। ১৬ বছরের লড়াইয়ের পর গণতান্ত্রিক চর্চার যে পরিবেশটি পাওয়া গেছে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার আমাদের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের যেগুলো রয়েছে, যেমন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে গতকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্যাপক সগরম হয়ে উঠেছে। আজও সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মহিলা আসনের মনোনয়ন বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে।

বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা-অফিসে গিয়ে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে নিজেদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবদানের কথা তুলে ধরতেও দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএকে

নারীবাদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন নোরা ফাতেহি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
নারীবাদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন নোরা ফাতেহি

নারীবাদ সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে- নিজের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে এবার খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ ভাইরাল হওয়ায় সাধারণ মানুষ মূল বিষয়টি বুঝতে ভুল করেছেন।

নোরা বলেন, গত বছর আমি একটি পডকাস্টে নারীবাদ নিয়ে কথা বলেছিলাম। তারপর রিলস ও টিকটকে কিছু ছোট ছোট ক্লিপ বেরিয়ে আসে, আর সেগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা মূল বিষয়টাই বুঝতে পারেননি।

নোরা যোগ করেন, আমি যেটার পক্ষে কথা বলি তা হলো, চরমপন্থা এমন একটা বিষয় যার আমি পুরোপুরি বিরোধী। আমি সিংগেল প্যারেন্টের সন্তান। আমি সেই পরিবারের থেকেও কোনো আর একজন অভিভাবকের অভাব বোধ করিনি। কিন্তু আমি জানি দুজন অভিভাবকের উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমি এই সব বিষয়ের পক্ষে কথা বলেছিলাম।

উল্লেখ্য, এর আগে অন্য এক পডকাস্টে নোরা বলেছিলেন, বর্তমান সময়ের প্রচলিত নারীবাদের ধারণায় বিশ্বাস করেন না যা সমাজকে ধ্বংস করছে। সেই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মূলত তারই প্রেক্ষিতে নতুন এই পডকাস্টে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।

কালের আলো/এসএকে

মার্চে সড়কে ঝরল ৫৩২ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
মার্চে সড়কে ঝরল ৫৩২ প্রাণ

দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে সারা দেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২২১ জন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক ও ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জনের মৃত্যু হলেও মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে।

মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছেন। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মাসজুড়ে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী মিলিয়ে ২০৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এছাড়া বাসের যাত্রী ৪৫ জন, তিন চাকার যানবাহনের (ইজিবাইক-সিএনজি-লেগুনা) যাত্রী ৯৪ জন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস) আরোহী ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি ২৪৪টি।

সড়কপথের পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।

আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে; সেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (২৬৪টি) এবং জাতীয় মহাসড়কে (১৭১টি)। দুর্ঘটনার ধরনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৩১টি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মূলত অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংস্থাটি তাদের বিশ্লেষণে সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কিছু মূল কারণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা অন্যতম।

কালের আলো/এসএকে