খুঁজুন
                               
, ,
           

পায়ে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন এমবাপে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
পায়ে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন এমবাপে

রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে তার চোট এবং চিকিৎসা নিয়ে ওঠা বিতর্ককে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। স্প্যানিশ ক্লাবটির মেডিক্যাল টিম তার বাঁ হাঁটুর বদলে ডান হাঁটু স্ক্যান করেছে ফরাসি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেছেন, বিষয়টি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

চোটের কারণে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন এমবাপে। সম্প্রতি তিনি দুই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আবার দলে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ২টায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ নিয়ে মুখ খোলেন।

এমবাপে বলেন, যে বলা হচ্ছে ভুল হাঁটু পরীক্ষা করা হয়েছে এটি পুরোপুরি মিথ্যা। এই পরিস্থিতির জন্য হয়তো পরোক্ষভাবে আমিও কিছুটা দায়ী। কারণ, কী ঘটেছে তা পরিষ্কারভাবে না জানালে মানুষ নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর সুযোগ পায়।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, এমবাপের বাঁ হাঁটুতে মচকানো ধরনের চোট লেগেছে। এরপর জানুয়ারি জুড়ে তিনি খেললেও পরে আবার কিছু সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান। সেই সময় নিজের দেশে সফরেও দেখা যায় ফরাসি অধিনায়ককে। তবে এমবাপের দাবি, পুরো সময়জুড়েই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল স্বচ্ছ ও নিয়মিত।

তিনি বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে আমার খুব পরিষ্কার যোগাযোগ রয়েছে।

ফরাসি গণমাধ্যমে সম্প্রতি দাবি করা হয়, রিয়ালের মেডিক্যাল টিম এমবাপের চোট নির্ণয়ে ভুল করেছে। আরএমসি স্পোর্টের জনপ্রিয় ফুটবল অনুষ্ঠান ‘আফটার ফুট’-এ বলা হয়, ক্লাবটি নাকি এমবাপের বাঁ হাঁটুর বদলে ডান হাঁটু স্ক্যান করেছিল। পরবর্তীতে স্পেনের আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এই প্রতিবেদন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম হয়। বিশেষ করে, এমন ভুল যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্লাবের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলতে পারে এমন মন্তব্যও উঠে আসে বিভিন্ন মহলে।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন অভিযোগ ওঠে, রিয়াল মাদ্রিদের চিকিৎসাকর্মীরা নাকি খেলোয়াড়দের সাপ্লিমেন্ট তালিকা তৈরিতে চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহার করেছেন। সাধারণত বিশ্বমানের ফুটবলারদের জন্য পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা শরীরের গঠন, রক্ত পরীক্ষা, পুনরুদ্ধার চাহিদা এবং ম্যাচ ফিটনেস বিবেচনায় খাদ্য ও সাপ্লিমেন্ট পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন।

রিয়ালের সাবেক পুষ্টিবিদ ইতিয়ার গঞ্জালেস দাবি করেন, ক্লাবের স্টাফরা খেলোয়াড়দের জন্য পুষ্টি-সম্পর্কিত নির্দেশনা তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে বরখাস্ত হওয়া গঞ্জালেস এক সাক্ষাৎকারে চিকিৎসা বিভাগের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তার ভাষায়, তারা অজ্ঞ ও অদক্ষ, যারা খেলোয়াড়দের শুধু ক্ষতিই করে।

তিনি আরও বলেন, ক্লাবের উচিত হবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসা ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া। সময়টা ভালো কাটেনি যদিও এমবাপে এখন পরিস্থিতিকে অতীত বলে মনে করছেন, তবে ওই সময়টা যে তার জন্য সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

ফরাসি তারকা বলেন, ওই সময়টায় অনেক হতাশা, রাগ এবং একসময় কিছুটা উদ্বেগও ছিল। এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম, যখন বুঝতেই পারছিলাম না আসলে আমার কী সমস্যা। সময়টা আমি খুব ভালোভাবে কাটাতে পারিনি। আমি তখন খুব সুখী খেলোয়াড় ছিলাম না। তবে এখন আমি খুশি, কারণ সবকিছু এখন অতীত সব ঠিক হয়ে গেছে।

চোট কাটিয়ে ফের মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা এমবাপে এখন ফ্রান্স দলের সঙ্গে নতুন করে ছন্দে ফিরতে চান। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি তাই তার জন্য হতে পারে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

কালের আলো/এসএকে

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি।

বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমি ট্রাইবুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনও ঘটেছে বলে জানা নেই।

তিনি বলেন, আমরা মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুটি ঘটনার ওপর আমরা চার্জ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আনা হয়।

আর এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি চার্জে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি  জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

এছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

তাদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা,খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

আগামী সপ্তাহে কিছুটা ও পরের সপ্তাহে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
আগামী সপ্তাহে কিছুটা ও পরের সপ্তাহে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে: প্রতিমন্ত্রী

একটি বড় দুর্ঘটনার কারণে এলএনজিকে গ্যাসিফাই করে ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই করতে না পারার কারণে গ্যাস সংকট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আগামী সপ্তাহ থেকে সংকট কিছুটা কাটা শুরু করবে ও পরের সপ্তাহ থেকে সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয় নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংকটের কারণ আমাদের সবার জানা, গত সপ্তাহ থেকে সংকট শুরু হয়েছে, দিনের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা হয়তবা তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিতে বলি অথবা পাওয়ার প্লান্টে বলি, আমরা বাসাবাড়িতে যে গ্যাস সাপ্লাইটা দিয়ে থাকি সেটা আমাদের নিজস্ব দেশীয় উৎপাদন। এর সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি রিগ্যাসিফাই করে ন্যাশনাল গ্রিডের মাধ্যমে আমরা সাপ্লাই দিয়ে থাকি।

আমরা এলএনজি এনে থাকি আমদানি করে সেটা দুটি এফএসআরইউর মাধ্যমে…। আমাদের এই মুহূর্তে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা হচ্ছে ৩৮০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট পার ডে।

আমরা সেখানে আমদানি করা এলএনজি ও আমাদের দেশীয় উৎপাদন মিলে প্রায় ২৭০০ পর্যন্ত মিলিয়ন ঘনফুট সাপ্লাই দিয়ে থাকি, অর্থাৎ এরপরও একটা ডেফিসিট থেকে যায়।

‘এর মধ্যে এই যে আমরা যেই ২৭০০ সাপ্লাই করে থাকি, তার মধ্যে অ্যারাউন্ড ১৬০০-১৬৫০ হচ্ছে আমাদের দেশীয় উৎপাদন, অর্থাৎ প্রতিদিন ১৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর আমদানি করা এলএনজির মাধ্যমে আমরা ১০০০ থেকে ১০৫০ অথবা ১১০০ পর্যন্ত আমরা সাপ্লাই দিয়ে থাকি। দেশীয় উৎপাদন ঠিক আছে, কিন্তু আমদানি করা এলএনজি আমরা দুটো বেসরকারি এফএসআরইউর মাধ্যমে রিগ্যাসিফাই করে ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই দিয়ে থাকি।

তার মধ্যে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় গত সপ্তাহে। যার ফলে ওই এফএসআরইউ থেকে আমরা এলএনজিকে আমরা গ্যাসিফাই করতে পারছি না, গ্যাসে রূপান্তর করে আমরা ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই করতে পারছি না। সেক্ষেত্রে আমদানি করা এলএনজির যে সাপ্লাইটি ছিল তার ৫০ শতাংশ এই মুহূর্তে কিন্তু কম্প্রোমাইজড হয়ে গেছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই দুটি এফএসআরইউ অপারেট করে  একটা হচ্ছে এক্সিলারেট, ইউএস কোম্পানি। আরেকটা হচ্ছে সামিট। এটা মূলত এক্সিলারেট এনার্জির, যেটা এফএসআরইউ সেটাতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এরপর থেকে পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে কাজ করছে। প্রথম দিকে তারা মনে করেছিল যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটা তারা রিস্টোর করতে পারবে।

এটার টেকনিক্যাল পিপলও তাদের, অর্থাৎ প্রাইভেট কোম্পানির। পরবর্তীতে যখন তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রবলেমটা সলভ করতে পারেনি তখন আমাদের জ্বালানি বিভাগের অনুরোধে তখন বাইরের থেকে তাদের বিশেষজ্ঞ আনে। তাদের ইউকে থেকে বিশেষজ্ঞ এসেছে, ইউএই থেকে বিশেষজ্ঞ এসেছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই মুহূর্তে পেট্রোবাংলার, আরপিজিসিএল ও আমাদের জ্বালানি বিভাগের টেকনিক্যাল পিপল এবং আমাদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এফএসআরইউ অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জাহাজে অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, আমরা এরপরও রিজিওনাল তাদের যে হেড, ইউএই থেকে, তাদেরকে আমরা ডেকেছি, আগামীকাল উনারা আসবেন। প্রাথমিকভাবে যেটুকু আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে, ইন ডেপথ, আমরা আশা করছি গ্যাস সাপ্লাই সংকটটা আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা কাটা শুরু করবে ইনশাআল্লাহ। তাদের কথার ওপর আমরা শুধু নির্ভর না করে, এখানে আমাদের টেকনিক্যাল লোকজন তাদের টেকনিক্যাল লোকজনদের সঙ্গে কাজ করছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হয়তবা আরও কিছুদিন লাগবে। টোটাল সাপ্লাইটা ওরা অ্যারাউন্ড ৫০০ থেকে ৫৫০ করত, আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে হয়তবা ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট তারা ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই করতে সমর্থ হবে বলে আমরা আশা করছি।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা বুঝতে পারছি যে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, আমরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে আমাদের ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই। যেটা বললাম যে, সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না ব্যাপারটা এরকম কিছু না, যেহেতু জনগণের প্রত্যাশার জায়গায় সরকার রয়েছে, আমরা এই দায়িত্বটা নিয়েই সমাধান করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি আগামী সপ্তাহে যদি তারা ৫০% সাপ্লাই রিস্টোর করতে পারে, তার পরের সপ্তাহে ইনশাআল্লাহ ১০০% তারা রিস্টোর করতে পারবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি