খুঁজুন
                               
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
           

দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে দল ও সরকারের অবস্থান পরিস্কার করলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে দল ও সরকারের অবস্থান পরিস্কার করলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী

এবার দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই বিবিসির এক সময়কার তথ্য প্রযুক্তি বিজ্ঞানী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর একাধিক কর্মযজ্ঞ দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করা ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য নিজ নির্বাচনী এলাকায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন-‘কোন দুর্নীতিবাজ দলে এবং সরকারে ঠাঁই পাবে না। এতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।’ শুধু তাই নয় তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাকে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রতিমন্ত্রী।

আরও উজ্জ্বল হবে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলের চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর এই বার্তা দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্তদের জন্য দূরবর্তী সতর্ক সংকেত। তাঁর এই পরিস্কার অবস্থান দল ও সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শহীদ জিয়া স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, গণতন্ত্র ফিরিয়েছেন বেগম জিয়া
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দেশ আজ যে অবস্থানে অবস্থান করছেন, তা সম্ভব হয়েছে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য। এ কারণে আমরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশে অবস্থান করছি।’ প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বারবার বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। এ কারণে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকার কারণে একটি সুষ্ঠ ও সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকার গঠিত হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পরে নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা একের পর এক বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। এর মধ্যে আছে- ফ্যামেলি কার্ড প্রদান, যা ইতোমধ্যে সারা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি, এটি শহীদ জিয়াউর রহমানের একটি জনপ্রিয় কর্মসূচি ছিল। নির্বাচনের আগে দেওয়া আমাদের খাল খনন কর্মসূচিও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’

নান্দাইলে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা
নিজ নির্বাচনী এলাকা নান্দাইলে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘নান্দাইলে বিভিন্ন খাল খননের প্রয়োজন আছে। ইতোমধ্যে আমরা তালিকা তৈরি করেছি। যাছাই-বাছাই করে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। এছাড়াও সড়কের কাজ যেখান থেকে যেভাবে আনা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এতে সকল পর্যায় থেকে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রযোজন।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান লিটন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. এনামুল কাদির, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুজ্জামান ভূইয়া মনিরসহ বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপজেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউটদলের কুচকাওয়াজ এবং মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। পরে বিজয়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ‘বাড়াবাড়ি’, দ্বিতীয় ধাপে আলোচনার সুযোগ নেই: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ‘বাড়াবাড়ি’, দ্বিতীয় ধাপে আলোচনার সুযোগ নেই: ইরান

সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের শর্তকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তেহরান জানায়, সমঝোতার টেবিল ছাড়ার অযুহাত খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত বাড়াবাড়ি এবং উচ্চাভিলাষী। তারা এমন সব দাবি তুলেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে একমত হতে পারেনি তেহরান।

এদিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ছাড়লেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার দাবি, আলোচনায় নমনীয় থাকার পরও শর্ত মানতে নারাজ তেহরান।

ভ্যান্স বলেন, আমাদের রেড লাইন কোনগুলো সেগুলো আমরা বেশ পরিষ্কার করে জানিয়েছি, কোন কোন বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে মিটমাট করতে ইচ্ছুক আর কোন কোন বিষয়গুলোতে কোনো আপোষ হবে না।

আলোচনায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন ভ্যান্স। এ সময় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভ্যান্স। তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে সে জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।

আল-জাজিরার খবর বলছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি । ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৪৩ দিনে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
৪৩ দিনে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ ব্যাংক

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি যখন দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী, ঠিক সেই সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে সরকার। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকারের মাত্র দেড় মাসেই ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৪০ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা, যা অর্থনীতিতে নতুন করে চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। তবে ৩১ মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের নতুন ঋণ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ৪৯ কোটি টাকা এসেছে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এবং ৩০ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের এই বাড়তি ঋণগ্রহণ বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও বর্তমান ব্যবসা পরিস্থিতি দুর্বল থাকায় তাৎক্ষণিক প্রভাব কম হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে বলছে, চলতি অর্থবছরের নয় মাসেই ব্যাংক ঋণের পরিমাণ পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা, সেখানে মার্চের শেষেই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকায়। পরবর্তীতে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.০৩ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার, খেলাপি ঋণের চাপ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে এই খাতে গতি ফিরছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাই এখনই বড় চাপ নাও পড়তে পারে। তবে সরকার যদি ধারাবাহিকভাবে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট রয়েছে। খেলাপি ঋণসংক্রান্ত কঠোর নীতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ঋণ পাচ্ছেন না। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে থাকায় তারা নতুন বিনিয়োগে যেতে পারছে না।’

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগামী জুন পর্যন্ত সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজস্ব আয়ের বড় ঘাটতি। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ঋণ ফাঁদ এড়ানো। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণ নেওয়া অনিবার্য হলেও রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

অন্যদিকে প্রতিনিয়তই লাগামহীন বাড়ছে দেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রেখে যাওয়া ২০.৬৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ হু-হু করে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার (১১ হাজার ৩৫১ কোটি ডলার), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে মাথাপিছু বিদেশি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৯,৪৬৩ টাকা। যা বর্তমানে দেশের মোট রিজার্ভের তিন গুনেরও বেশি। বিদেশি ঋণের এই অর্থ বাংলাদেশের প্রায় দুইটি বাজেটের সমান।

বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ রয়েছে ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার, যা টাকায় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্রে রয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য দেশীয় উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধেই সরকারের ব্যয়ের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন 

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা পায়নি, আলোচনায় তা চেয়েছে : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা পায়নি, আলোচনায় তা চেয়েছে : ইরান

ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক। কোনো শান্তি বা সমঝোতা চুক্তি ছড়াই ফিরে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়ে ইরানের প্রতিনিধি দল এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ সম্মেলন করেনি। তবে ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদামাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে—হরমুজ প্রণালি, পরমাণু প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মত পার্থক্যের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে বৈঠক।

হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্ত এ বৈঠকের ব্যর্থতার প্রধান কারন। যুদ্ধে তারা যা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে সেসব তারা দখল করতে চেয়েছিল, ফার্স নিউজকে বলেছে ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্র।

উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ