খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছেন, ঠিক সেই সময়ে নিজের হাতে আরও শক্তিশালী ‘সামরিক বিকল্প’ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল সৈন্য বহর পাঠানোর মূল লক্ষ্য হলো তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা।

অতিরিক্ত এই বিশাল বাহিনীকে ঠিক কোথায় বা কোন দেশে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিতের মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তেহরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ আগামী ছয়ই এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে।

ফক্স নিউজের ‘দ্য ফাইভ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সরকার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সাত দিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের ১০ দিন সময় দিয়েছি।’

এই নমনীয়তার কারণ হিসেবে তিনি ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি ‘উপহারের’ কথাও উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার নিদর্শন হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, স্থগিতাদেশটি সোমবার, ৬ এপ্রিল রাত আটটা পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে তিনি পাঁচ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, যা চলতি সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

যদিও ট্রাম্পের দাবি, ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ যাই বলুক না কেন, আলোচনা ‘বেশ ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয় নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত রবার্ট ম্যালি। বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের অর্থ এই নয় যে, ট্রাম্প স্থল অভিযানের নির্দেশ দেবেন না।’

ম্যালির মতে, কোনো বড় চুক্তির চেয়ে বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।

এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে স্থির হলেও, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের এক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় এক ডলার কমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়িক প্রতিবেদক নাটালি শেরম্যান জানিয়েছেন, সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকলেও চাহিদার পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তনের কারণেই এই সামান্য পতন বলে মনে করছেন তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে আলোচনা বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের কথা বললেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান-ইসরায়েল।

তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুক্রবার ‘ব্যাপক হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ।

এছাড়া লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরেও হামলা হয়েছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের মধ্যে নিজ দেশের জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা আরও হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন তিনি।

বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা অ্যান্থনি জার্চার জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন জনজীবনে এর তীব্র প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বেড়ে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গড়ে চার ডলারে পৌঁছেছে।

জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমূল্য সরাসরি আঘাত হেনেছে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার হার বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৪২ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পর সেই ইতিবাচক রেটিং আরও কমে বর্তমানে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যদিও অধিকাংশ আমেরিকান শুরু থেকেই এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছিলেন, তবুও ট্রাম্পের একটি শক্ত সমর্থক গোষ্ঠী তাকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে।

কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক জরিপ অনযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক চরম রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ রিপাবলিকান ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।

কিন্তু সাধারণ নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো; সেখানে সমর্থনের হার মাত্র ৩৯ শতাংশ এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার। সূত্র: বিবিসি বাংলা

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্র

Oplus_131072

দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে এ মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

পর্যালোচনা সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, কার্যকর পাঠদান, শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তারা শিক্ষাক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।’

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

কালের আলো/এসএকে

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: ৩ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: ৩ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ

জ্যাম ফিল্ড ব্রেড ও পুর পিঠাসহ তিনটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএফএসএ’র।

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় জ্যাম ফিল্ড ব্রেড ও পুর পিঠাসহ তিনটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে পণ্যগুলোর উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ভোক্তাদের এসব পণ্য না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রত্যাহারের নির্দেশ পাওয়া পণ্যগুলো হলো ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড’, ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড’ এবং আরবোটিং ফুড কোং লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড’।

বিএফএসএ ভোক্তাদের এসব পণ্য না কিনতে ও গ্রহণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে থাকা পণ্য দ্রুত প্রত্যাহার করে নিরাপদ খাদ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নিরাপদ মজুতের নির্ধারিত মান ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের তুলনায় এই মজুত প্রায় ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন বেশি।

তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫ মেট্রিক টন ধান এবং ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে চটকদার বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, বর্তমান সরকার স্বল্প ব্যয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে দেশের তরুণেরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাতার সরকার বাংলাদেশের চারটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রকে তাদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে বিকল্প ও উদ্ভাবনী উপায়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

নুরুল হক বলেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেককে অবৈধ অভিবাসনের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে এনএসডিএকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক, অ্যাসেসর, প্রশিক্ষণার্থী এবং তরুণ-যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ