খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছেন, ঠিক সেই সময়ে নিজের হাতে আরও শক্তিশালী ‘সামরিক বিকল্প’ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল সৈন্য বহর পাঠানোর মূল লক্ষ্য হলো তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা।

অতিরিক্ত এই বিশাল বাহিনীকে ঠিক কোথায় বা কোন দেশে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিতের মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তেহরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ আগামী ছয়ই এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে।

ফক্স নিউজের ‘দ্য ফাইভ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সরকার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সাত দিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের ১০ দিন সময় দিয়েছি।’

এই নমনীয়তার কারণ হিসেবে তিনি ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি ‘উপহারের’ কথাও উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার নিদর্শন হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, স্থগিতাদেশটি সোমবার, ৬ এপ্রিল রাত আটটা পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে তিনি পাঁচ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, যা চলতি সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

যদিও ট্রাম্পের দাবি, ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ যাই বলুক না কেন, আলোচনা ‘বেশ ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয় নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত রবার্ট ম্যালি। বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের অর্থ এই নয় যে, ট্রাম্প স্থল অভিযানের নির্দেশ দেবেন না।’

ম্যালির মতে, কোনো বড় চুক্তির চেয়ে বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।

এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে স্থির হলেও, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের এক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় এক ডলার কমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়িক প্রতিবেদক নাটালি শেরম্যান জানিয়েছেন, সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকলেও চাহিদার পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তনের কারণেই এই সামান্য পতন বলে মনে করছেন তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে আলোচনা বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের কথা বললেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান-ইসরায়েল।

তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুক্রবার ‘ব্যাপক হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ।

এছাড়া লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরেও হামলা হয়েছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের মধ্যে নিজ দেশের জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা আরও হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন তিনি।

বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা অ্যান্থনি জার্চার জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন জনজীবনে এর তীব্র প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বেড়ে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গড়ে চার ডলারে পৌঁছেছে।

জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমূল্য সরাসরি আঘাত হেনেছে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার হার বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৪২ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পর সেই ইতিবাচক রেটিং আরও কমে বর্তমানে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যদিও অধিকাংশ আমেরিকান শুরু থেকেই এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছিলেন, তবুও ট্রাম্পের একটি শক্ত সমর্থক গোষ্ঠী তাকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে।

কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক জরিপ অনযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক চরম রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ রিপাবলিকান ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।

কিন্তু সাধারণ নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো; সেখানে সমর্থনের হার মাত্র ৩৯ শতাংশ এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার। সূত্র: বিবিসি বাংলা

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন