খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জনগণকে উপেক্ষা করে টিকে থাকা সম্ভব নয়, সরকারকে ১১ দল 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
জনগণকে উপেক্ষা করে টিকে থাকা সম্ভব নয়, সরকারকে ১১ দল 

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি এখন ‘সুবিধাবাদের রাজনীতিতে’ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সংসদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে, কিন্তু রাজপথে জনগণই প্রকৃত শক্তি। সেই জনগণকে উপেক্ষা করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা এসব বলেছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন, বিজয়নগর ও কাকরাইল ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আজ আমি সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে, আজ আমি এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি এখন সেই জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করছে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। এটি ছিল পুরাতন ও অকার্যকর ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে একটি নতুন, জনমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত না হতে দেওয়া।

গণভোটের প্রসঙ্গে জামায়াত নায়েবে আমির বলেন, আজকে গণভোটকে অস্বীকার করা মানে শুধু ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়; বরং আবার সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করা। দীর্ঘ ১৬ বছরে আমরা এক ব্যক্তির শাসন দেখেছি, যেখানে ভিন্নমত দমন করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

সরকারকে সতর্ক করে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। সময় থাকতে যদি দেশের কল্যাণ চান, তাহলে গণভোটের রায় মেনে নিন। অন্যথায় এর পরিণতি ভালো হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি এখন ‘সুবিধাবাদের রাজনীতিতে’ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন কিছু অধ্যাদেশ আছে, যা ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে—সেগুলো বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য; কিন্তু জনগণের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলো তারা সমর্থন করে না।

মামুনুল হক বলেন, ‘গণভোটের আগে বিএনপি সুস্পষ্টভাবে কোনো অবস্থান নেয়নি। কিন্তু ভোটের পর তারা জনগণের রায়কে অস্বীকার করছে’। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ মুনাফিকের রাজনীতি পছন্দ করে না। যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়, তাহলে রাজপথেই তার জবাব দেওয়া হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন বৈধ। কিন্তু জনগণের ভোটে সংস্কার হলে তা অবৈধ—এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গঠিত ঐকমত্য কমিশনে সংবিধানের টেকসই সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল।

আখতার অভিযোগ করেন, গণভোটের আগে পর্যন্ত তারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেনি। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন তারা জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস করছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন চেয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে।

সংবিধান প্রসঙ্গে আখতার বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য সংবিধান প্রয়োজন, কিন্তু সেই সংবিধান কোনো দলীয় সংবিধান হতে পারে না। এটি হতে হবে জনগণের সংবিধান। গণভোট বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে এবং একক কর্তৃত্বের সুযোগ কমে যাবে—যা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পছন্দ নয়।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সংসদে আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে, কিন্তু রাজপথে জনগণই প্রকৃত শক্তি। সেই জনগণকে উপেক্ষা করে টিকে থাকা সম্ভব নয়।’ একইসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সংঘাত চাই না, আমরা একটি সুন্দর রাজনৈতিক সমাধান চাই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মোখলেসুর রহমান কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. ওমর ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে তারা সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করেছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়।

তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা চলাকালে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন, অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
‘ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন, অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা’

রাজধানীর আদ দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রবাদ চন্দ্র বিশ্বাস। এ ঘটনায় কোনো অবহেলার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রবাদ চন্দ্র বিশ্বাস।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এখানে ১১ জন মা ছিলেন তার মধ্যে ৬ জন মা তাদের শিশুর সন্তানসহ ছিলেন। যাদের বয়স এক দিন থেকে তিন দিনের ভেতরে ছিল। একজন মা ডেলিভারি এবং বাকি পাঁচজন এনআইসিউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু ভোরবেলায় এই রুমটিতে এসি জটিলতা অথবা যেকোনো কারণেই হোক ওখানে সাফোকেটিভ পরিবেশ পেয়েছি। সেখানে আসলে এসি এমনভাবে ছিল যে এসিটি বন্ধ করলে ওখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে এই শিশুরা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ভোরবেলায় ছয়জন শিশুকে হারিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে এই বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থাপনার কোনো ত্রুটি আছে কিনা এবং এর কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্যে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে একটি উচ্চপদস্থ একটি ইনকোয়ারি কমিটি হয়েছে। আমরা কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল উপপরিচালক একজন এবং আরো একজন স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রবাদ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি রিপোর্ট দেবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কঠিন ব্যবস্থা নেবে এবং এই ব্যাপারে যদি কারো কোনো গাফিলতি এবং সেবার ক্ষেত্রে অথবা যে ওয়ার্ডে যে ব্যবস্থা করা ছিল সেখানে ব্যবস্থাপনায় যদি কারো অবহেলা হয় এবং কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে তবে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবংমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আমরা এই কমিটি গঠন করেছি। ইতোমধ্যে আমরা সরেজমিনে সবকিছু দেখে এসেছি।

কালের আলো/এসআর/এএএন