আকাশ পথে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
সামরিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কৌশলগত দক্ষতা ও আন্ত:বাহিনীর সমন্বয়ের বহি:প্রকাশ ঘটানো-সবই ছিল তিন ধাপে পরিচালিত মহড়ায়। কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ, লজিস্টিক এক্সারসাইজ ও লাইভ এক্সারসাইজ-রণকৌশল প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দক্ষ বৈমানিক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা। আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুকে মোকাবিলায় সর্বদা সজাগ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমানের মাধ্যমে আক্রমণ, শত্রুবিমান শনাক্তকরণ, আকাশ থেকে শত্রু কবলিত স্থান পর্যবেক্ষণ, রসদ সরবরাহ, সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র স্থানান্তর, বিশেষ অপারেশন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের কার্যক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে সমান তালে ও গতিতে। বছরের সবচেয়ে বড় এই প্রস্তুতি বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়’ এর মাধ্যমে নিজেদের পুরোদমে ঝালাই করে নিতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নির্ভীক সদস্যরা।
বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, র্যাডার স্কোয়াড্রন, মিসাইল ইউনিট এবং আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (ইউএএস) ইউনিটসহ সব যুদ্ধাস্ত্র ও সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলার আকাশে নিজেদের শত্তিমত্তা দেখিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে আকাশ পথে তাঁরা অপ্রতিরোধ্য। সার্বভৌমত্ব ও বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার প্রত্যয়ে দ্বিধাহীন। গত ৫ এপ্রিল থেকে বিমানবাহিনীর সব ঘাঁটি, স্টেশন ও ইউনিট ছাড়াও সিলেট, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হওয়া বার্ষিক মহড়াটি শেষ হয় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)। বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিমানবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার ও ঘাঁটিতে মহড়ার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সংশ্লিষ্টদের।

বার্ষিক এই মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শক্তিমত্তা যাচাই ও বিদ্যমান সমরাস্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে দুর্বল দিকসমূহ নির্ণয় করতে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এ সময়কালে বিমান বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে। সেই সঙ্গে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স কৌশল, সমন্বিত অপারেশন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে, আগেই জানিয়েছিল আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এবারের মহড়ায় যুদ্ধ বিমানের মাধ্যমে এয়ার অ্যাটাক ও ইন্টারসেপশন, আকাশ থেকে শত্রু কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণ, রসদ সরবরাহ, সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র স্থানান্তর, স্পেশাল অপারেশন পরিচালনা, শত্রু দেশের ভূখণ্ডে ইজেক্ট হওয়া বৈমানিককে বিমানবাহিনীর কমান্ডো দলের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান, যা কম্বাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) নামে পরিচিত আকাশ যুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশল অনুশীলন করেন। এছাড়া বিমান বাহিনীর বহরে নতুন যুক্ত হওয়া অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের মাধ্যমে শত্রু ড্রোন মোকাবিলার কৌশল এবং রাতের অন্ধকারে শত্রু দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এয়ারবর্ন ট্রুপস ইনসার্শন অপারেশন অনুশীলন করা হয়।

এই মহড়ায় বিমানবাহিনীর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র্যাডার স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আক্রমণ শনাক্ত করে নিজস্ব যুদ্ধবিমান ও মিসাইল ইউনিটের সহায়তায় তা প্রতিহত করার কৌশল অনুশীলন করা হয়। একইসঙ্গে ঘাঁটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালিত হয়। মহড়াটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসি (এয়ার উইং) অংশগ্রহণ করে। যার মাধ্যমে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হয়। এই মহড়া বিমানবাহিনীর সমরাস্ত্র ও অপারেশনাল সক্ষমতা মূল্যায়নের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array