খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

শান্তি আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: বিবিসি ও ডনের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরান। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে প্রায় সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর ইরানও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে গতকাল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হোটেলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা শুরু হয়।

আলোচনায় লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় উঠে আসে। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, দুই পক্ষের দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘সরল সত্য হলো, আমাদের এমন একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার দেখতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো উপায়ও অনুসরণ করবে না, যার মাধ্যমে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা সম্ভব।’

এটিকে ট্রাম্পের ‘মূল লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করা হয়েছে’, তবে ভবিষ্যতে তারা যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করে এ বিষয়ে ‘সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। কিন্তু এ ধরনের অঙ্গীকার আমরা এখনো দেখিনি। তবে আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দেখব।’

যুক্তরাষ্ট্র ‘সদিচ্ছা নিয়েই’ আলোচনায় এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয়তা ও ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে অংশ নিয়েছিল। আমরা একটি খুবই স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এখানে এসেছিলাম, এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’

কালের আলো/এসাআর/এএএন 

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে যাচ্ছেন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে যাচ্ছেন শনিবার

আগামী শনিবার (২৫ মে) ময়মনসিংহ জেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার সকাল ৯ টায় ময়মনসিংহ ত্রিশালের উদ্দেশে যাত্রা (সড়ক পথে) শুরু করবেন। দুপুর ১২টায় ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও খাল খননের উদ্বোধন করবেন।

দুপুর ২টায় ত্রিশাল নজরুল ডাক বাংলোতে বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগদান ও তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা (সড়ক পথে) করবেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষে ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ৯৯ শতাংশ ইসরায়েলি তাকে সমর্থন করে।

বুধবার (২০ মে) মার্কিন কোস্ট গার্ড একাডেমির স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলে নিজের বিপুল জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই কাজ (মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব) শেষ করার পর হয়তো আমি ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। আজ সকালে আমি একটি জনমত জরিপ করেছি। দেশটিতে আমার সমর্থন ৯৯ শতাংশ।’ তবে তিনি কোন জরিপের কথা বলছেন তা স্পষ্ট করেননি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প আধিপত্যের সুরে বলেন, ‘তিনি খুব ভালো মানুষ এবং আমি যা বলব তিনি সেটাই করবেন। তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তি।’

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না অভিযোগ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ভুলে যাবেন না যে তিনি একজন যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হয় না।’

এদিকে ইসরায়েলের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তার এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটিকে ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক রসিকতা হিসেবে দেখা হলেও নেতানিয়াহুর ওপর তার মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রকাশের ধরনটি নিয়ে নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ট্রাম্পের সমর্থকরা এই মন্তব্যকে তার স্বভাবসুলভ কৌতুক ও আত্মবিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কারণে ট্রাম্প আসলেই ইসরায়েলিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সমালোচকরা এটিকে একটি ‘রাজনৈতিক থিয়েটার’ এবং মনোযোগ আকর্ষণের সস্তা কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এখনই হোয়াইট হাউস ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান না কেন?’

এছাড়াও ‘নেতানিয়াহুকে আমি যা বলব তিনি সেটাই করবেন’— ট্রাম্পের এমন মন্তব্যও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান ও গাজা সংকটের মধ্যে এই বক্তব্য ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে একজন স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে উপস্থাপন করায় ইসরায়েলের ভেতরের অনেক ডানপন্থী নেতা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সূত্র: ইউএস টুডে, এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ