খুঁজুন
                               
, ,
           

আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, একসময় গণভোট হারাম, আবার অন্য সময় অর্ধেক হালাল। আমরা এটি পার্লামেন্টে বলেছি। আপনারা দেখেছেন আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, সুযোগ পাই বা না পাই, আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি। কারণ, জনগণ আমাদের তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেই সেখানে পাঠিয়েছে। মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য নয়, বরং তাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানানোর জন্য পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে যা আমরা স্বেচ্ছায় নেব না। যেগুলো না নিলেই নয়, কেবল সেগুলোই নেব। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না।

জামায়াতের আমির বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। প্রায় ১,৪০০ শহীদের মধ্যে ১,২০০ শহীদের বাড়িতে আমার ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এই শহীদদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তারা কি কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ ও ছাত্র সমাজ। শ্রমিকরা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে; তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জুলাই নেই তো আমরাও নেই। জুলাই আছে বলেই আমরা আছি, জুলাই আছে বলেই সরকার ও বিরোধী দল আছে। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। গণভোটের রায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য প্রয়োজন হলে আবারও জীবন দেব।

তিনি আরও বলেন, গতকাল এই স্থানে জুলাই শহীদ পরিবার এবং যোদ্ধাদের সাথে আমাদের একটি বৈঠক ছিল। সেখানে আমার প্রিয় সহকর্মী ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেছেন, আগামীর আন্দোলনে আমাদের সামনে পাবেন। আমিও কথা দিচ্ছি, আমাদের সামনেই পাবেন ইনশাআল্লাহ। যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা প্রয়োজন, ততদিনই সংসদে থাকব; তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারাও নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদদের রক্তের ওয়াদা এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশবাসী, আপনারা শুধু পাশে থাকবেন। এই আন্দোলন আমার, আপনাদের—সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদের কারো গোলাম বানাতে চাই না। কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে ফ্যাসিজম হিসেবে চলবে—তা আমরা বরদাস্ত করবো না।

রাজনীতির দুষ্টচক্র ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের এক-তৃতীয়াংশ সময় একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় ব্যয় হোক, এটি আর দেখতে বা শুনতে চাই না। প্রশংসা হবে জনগণের। সংসদের ভেতর কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে এবং সেখানেই খোলামেলা সমাধান বের হতে হবে। এগুলো বাদ দিয়ে অন্য কিছুর চর্চা আমরা সংসদের ভেতর চাই না।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখন সংসদে দেখতে পাচ্ছি। ওই সংসদে দাঁড়িয়ে অতীতে যেভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো, আজকে দু-একজন আমাদের লক্ষ্য করে সেই একই ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদের বলি, জিহ্বা সংযত করুন। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম ও দেশ গড়ে উঠেছে, সেই দেশ কারো রক্তচক্ষু পরোয়া করে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে

শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, ছুটি ঘোষণা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কারখানার সকল শ্রমিকের জন্য ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনাটি ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা শ্রমিকরা ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

শ্রমিকদের দাবি, একটি ফ্লোরে হঠাৎই একে একে শ্রমিকরা বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন। অনেকেই মেঝেতে পড়ে যান। ঘটনার পর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শাহানাজ বেগম  নামে এক শ্রমিক জানান, কিছুদিন আগে একই ফ্লোরে লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক মারা যান। এবারও ওই ফ্লোরে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অসুস্থ শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, কাজ করার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করে।

এরপর পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার বিভিন্ন প্রাইভেট  হাসপাতাল গুলোতে  চিকিৎসা  দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়  ৮০ থেকে ৯০ জন শ্রমিককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেকেই বাসায় চলে গেছেন।

তবে আরও অসুস্থ শ্রমিক আসছেন। গুরুতর অসুস্থ শ্রমিকরা হলেন- মোমেনা (২৮), মিনু (২৬), সনিয়া (২১), কাকলি (৩০), মারুফা (৩০), রায়তুন নাহার (২৭) ও মামুন (৩২)।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম  বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রথমে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরও অনেকে অসুস্থ হন। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইঞা বলেন, ঘটনার পরপরই অসুস্থ শ্রমিকদের দেখতে হাসপাতালে যাই। অসুস্থ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১৩ জুলাই বরিশাল যাবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
১৩ জুলাই বরিশাল যাবেন প্রধানমন্ত্রী

Oplus_131072

জাতীয় নির্বাচনের পর এই প্রথম আগামী ১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে তিনি গৌরনদীর কসবায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি বিভাগীয় শহর বরিশালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

তিনি বলেন, ১৩ জুলাই সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে রওনা দেবেন তারেক রহমান। গৌরনদীর কসবায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন শেষে তিনি বরিশাল নগরে আসবেন। বরিশালে এসে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বেলসপার্ক, লেক কিংবা গ্র্যান্ড পার্কের আশপাশে এ কর্মসূচি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, দুপুরের পর বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বরিশাল নগর, জেলা দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন গণমাধ্যমকে বলেন, গৌরনদীতে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর বিকেলে কর্মিসভায় জেলা ও মহানগর কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন তারেক রহমান। বৃষ্টির জন্য ইনডোরে শিল্পকলায় সভাটি করা হচ্ছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথাও রয়েছে।

বরিশালবাসীর প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশালে ৬ লেন সড়ক, রেল লাইন, বরিশাল ভোলা সেতু, গ্যাস সরবরাহ, ইপিজেড— এসব দাবির কথা প্রধানমন্ত্রী জানেন। এরপরও বরিশালের জনগণের এসব প্রত্যাশার কথা সুযোগ অনুযায়ী তুলে ধরা হবে।

কালের আলো/এসএকে

ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের ষোলশহর সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় ৮১৬ নম্বর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে প্রবল বৃষ্টির পর রেললাইনের ওপর পানি উঠে গেলে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দেয়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৌশল বিভাগ রেললাইন পরিদর্শন করবে। ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা ও কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে ট্রেনটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই ট্রেনের ভেতরে অপেক্ষা করছেন বলে জানান যাত্রীরা।

পাহাড়তলী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি