খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, একসময় গণভোট হারাম, আবার অন্য সময় অর্ধেক হালাল। আমরা এটি পার্লামেন্টে বলেছি। আপনারা দেখেছেন আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, সুযোগ পাই বা না পাই, আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি। কারণ, জনগণ আমাদের তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেই সেখানে পাঠিয়েছে। মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য নয়, বরং তাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানানোর জন্য পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে যা আমরা স্বেচ্ছায় নেব না। যেগুলো না নিলেই নয়, কেবল সেগুলোই নেব। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না।

জামায়াতের আমির বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। প্রায় ১,৪০০ শহীদের মধ্যে ১,২০০ শহীদের বাড়িতে আমার ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এই শহীদদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তারা কি কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ ও ছাত্র সমাজ। শ্রমিকরা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে; তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জুলাই নেই তো আমরাও নেই। জুলাই আছে বলেই আমরা আছি, জুলাই আছে বলেই সরকার ও বিরোধী দল আছে। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। গণভোটের রায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য প্রয়োজন হলে আবারও জীবন দেব।

তিনি আরও বলেন, গতকাল এই স্থানে জুলাই শহীদ পরিবার এবং যোদ্ধাদের সাথে আমাদের একটি বৈঠক ছিল। সেখানে আমার প্রিয় সহকর্মী ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেছেন, আগামীর আন্দোলনে আমাদের সামনে পাবেন। আমিও কথা দিচ্ছি, আমাদের সামনেই পাবেন ইনশাআল্লাহ। যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা প্রয়োজন, ততদিনই সংসদে থাকব; তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারাও নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদদের রক্তের ওয়াদা এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশবাসী, আপনারা শুধু পাশে থাকবেন। এই আন্দোলন আমার, আপনাদের—সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদের কারো গোলাম বানাতে চাই না। কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে ফ্যাসিজম হিসেবে চলবে—তা আমরা বরদাস্ত করবো না।

রাজনীতির দুষ্টচক্র ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের এক-তৃতীয়াংশ সময় একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় ব্যয় হোক, এটি আর দেখতে বা শুনতে চাই না। প্রশংসা হবে জনগণের। সংসদের ভেতর কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে এবং সেখানেই খোলামেলা সমাধান বের হতে হবে। এগুলো বাদ দিয়ে অন্য কিছুর চর্চা আমরা সংসদের ভেতর চাই না।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখন সংসদে দেখতে পাচ্ছি। ওই সংসদে দাঁড়িয়ে অতীতে যেভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো, আজকে দু-একজন আমাদের লক্ষ্য করে সেই একই ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদের বলি, জিহ্বা সংযত করুন। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম ও দেশ গড়ে উঠেছে, সেই দেশ কারো রক্তচক্ষু পরোয়া করে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাস কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি বাসগুলোতেও ভাড়ার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নির্ধারিত সময়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে যাত্রীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেক যাত্রী আগাম টিকিট না কাটার কারণে শেষ সময়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে চালক ও সুপারভাইজাররা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। আড়ালে-আবডালে কিছু দুর্বৃত্ত সক্রিয় রয়েছে। তবে তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল যাতে সড়কে পশুর হাট না বসে। কিন্তু পশু ও ক্রেতার চাপ বাড়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে হাট সড়কে চলে আসছে। এতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব ট্রাক থামাতে গেলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সবাই নিয়ম মেনে চললে ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলায় জড়িতদের ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলায় জড়িতদের ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) পুলিশ সদর দফতরে কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেখানে পুলিশ-র‍্যাবের ওপর আক্রমণ হয়েছে, সেটা আমরা গভীরভাবে দেখেছি। সেইসঙ্গে এর ওপর আমরা ব্যবস্থাগ্রহণ করছি। আপনাদের সামনে দৃশ্যমান হবে এবং ইতোমধ্যে হচ্ছে; তখন আপনারা দেখতে পাবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে কোনো আইনের শাসন ছিল না। দুর্বৃত্তায়নের একটা মহামারি ছিল, তারা মনে করেছে; রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র করে রেখেছি। এটা এভাবেই চলবে। আমরা চাই সবকিছু নিয়ম-কানুন অনুযায়ী চলবে এবং আইনের শাসন থাকবে।’

কোরবারি পশুর হাট মনিটরিংয়ের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মনিটরিং সেল সবসময় কার্যকর থাকে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার ৭ দিন আগে এবং ৭ দিন পর পর্যন্ত আরো শক্তিশালী থাকে। সেই অনুযায়ী লোকবল থাকে। মহাসড়কগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। পশুর হাটগুলোও মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যেসব জায়গায় এক্সপ্রেসওয়ে আছে, সেসব জায়গায় আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া হচ্ছে। হাইওয়েতে সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি করা হচ্ছে, যেখানে নেই সেখানে বডি অন ক্যামেরা দিয়ে তদারকি করা হচ্ছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘এবারের ঈদে বিগত সময়ের তুলনায় দুর্ঘটনার সংখ্যা কম রয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি, দুর্ঘটনা যেন না ঘটে। যেগুলো হয়েছে, সেগুলো তাদের নিজস্ব গাফিলতির কারণে হয়েছে বলা যায়। গতকাল একটা দুর্ঘটনা হয়েছে, নওগাঁর কিছু লোক লোহা বহনকারী ট্রাকে উঠে যাচ্ছিল, হয়তো তারা ভাড়া সেফ করার জন্য ছাদে বা রডের ওপরে উঠে যাচ্ছিল। সেই ট্রাক দুর্ঘটনায় পতিত হয়, সম্ভবত ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছিল। সেখানে ডেড স্পট অনেকের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। যদি যাত্রীরা সচেতন থাকে তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’

জাল নোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাল নোটের বিষয়ে আমরা সচেতন আছি। জাল নোট ধরতে পশুর হাটে মেশিন দেওয়া হয়েছে। লেনদেন করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে সবাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারবে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

চারদিকে পোড়া গন্ধ। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা টিন, কাঠ, কাপড় আর ভাঙাচোরা ঘরের সামগ্রী। কেউ পোড়া ঘরের ভেতর থেকে খুঁজছেন বেঁচে থাকা কোনো জিনিস, কেউ আবার পোড়া টিন কুড়িয়ে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করছেন। আর একদিন পরই ঈদুল আজহা। যখন সারা দেশে ঈদের প্রস্তুতি, তখন রাজধানীর কালশীর বাউনিয়াবাঁধ বস্তির শত শত মানুষের মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে স্থানীয়রা জানান, বস্তির অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোড়া ঘরের ভেতর থেকে মূল্যবান কিছু খুঁজে পাওয়ার আশায় ঘুরছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বিভিন্ন সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাবার বিতরণ করতেও দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বকুলা বেগম প্রায় সাত বছর ধরে পরিবার নিয়ে এই বস্তিতে থাকেন। আগুনে তার দুটি ঘর পুড়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দুইটা রুমে ৯ জন মানুষ থাকতাম। পুলিশের অভিযানের পর ভাবছিলাম ঈদের পরে এই জায়গা ছাড়মু। আমরা গরিব মানুষ, ঈদের সময় বাসায় বাসায় গিয়ে মাংস টুকাই। ওই মাংস দিয়া দুই দিন ভালোভাবে খাই। এবার তো সব শেষ। মাংস আইনা রান্না করমু কই? মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই। এবারের ঈদ আমাগো আসমানের নিচে।’

আগুন লাগার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিধবা ভাতার টাকা আনছিলাম, খরচও করতে পারি নাই। হঠাৎ আগুন লাগছে। পরনের একটা কাপড় পরে ঘরের সবাই বাইর হইছি।’

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মো. নবাব জানান, তার ১৫টি ঘর ও একটি মুদি দোকান পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, এই শহরে ২০ বছর ধইরা যা কামাইছি, সব এক আগুনে শেষ। দোকানে কয়েক লাখ টাকার মাল ছিল, সব পুড়ে গেছে। কতো কষ্ট কইরা ঘর তুলছিলাম, আজ কিছুই নাই।

ঈদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর কোরবানি দেই। কয়েকজন মিলে আজ গরু আনার কথা ছিল। কিন্তু এখন থাকার জায়গাই নাই। ঈদের দিন রাস্তায় ঘুমাইতে হইবো। আমাদের এবারের ঈদ নেই।

কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা শাহীন আলম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাঁচ বছর ধরে এই বস্তিতে ভাড়া থাকেন। ভাঙারির দোকানে কাজ করে সংসার চালানো শাহীন সমিতি থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে ঈদের পর একটি রিকশা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আগুনে ঘরের মালামালের সঙ্গে তার ৪২ হাজার টাকাও পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম ঈদের পরে একটা রিকশা কিনমু, আর ভাঙারির দোকানে কাজ করমু না। এই জন্য কিস্তি থেকে টাকা তুলছিলাম। কিন্তু আগুনে সব শেষ। সামনে ঈদ, বউ-পোলা লইয়া কোথায় দাঁড়ামু জানি না। মানুষ ঈদ পালন করবো আর আমরা কোথায় থাকমু এই চিন্তায় ঘুমাইতে হইবো।’

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বস্তির বাসিন্দারা পোড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। কেউ পোড়া টিন, কেউ ঘরের ভাঙা সরঞ্জাম বের করছেন। পরে সেগুলো ভাঙারির দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ভ্যান, অটোরিকশা ও মিনি ট্রাককে বস্তিতে ঢুকতে দেখা যায়।

মোহাম্মদ সবুজ নামের এক বাসিন্দা জানান, আগুনে তার ১১টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পোড়া টিন বিক্রি করছেন তিনি। ‘যা পাই, তা দিয়াই আবার শুরু করতে হইবো’, বলেন তিনি।

মোতালেব নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার একটা ভাঙারির দোকান, গোডাউন আর তিনটা ঘর পুড়ে গেছে। আগুন লাগার পর এক কাপড়ে পরিবার নিয়ে বাইর হইছি। আগুনের তাপে কেউ বস্তিতে থাকতে পারে নাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সবাইরে বের হয়ে যেতে বলছিল।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি