খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

তিনি বলেন, বৈশাখি মেলা, বৈশাখি শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইওএমের সঙ্গে দুই দশকের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার, জাতীয় মানবপাচার বিরোধী প্রচেষ্টা শক্তিশালীকরণ, সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার রোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আইওএম মিশন প্রধান জানান, সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ডিডিজি) উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। তিনি উগোচি ড্যানিয়েলের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে আগামী ০৪ আগস্ট ইউএন হাউজ বাংলাদেশে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ (ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজম্যান্ট) কৌশলের জাতীয় বৈধকরণ কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিশেষ শাখাসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আইওএম-এর অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করা হয়।

তাছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল ভূমিকা এবং আইওএমের কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। আইওএমের পক্ষ থেকে নীতি সহায়তা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. লরা টম-বন্ডেএর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, আইওএম’র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (গভর্মেন্ট) ড. এস এম মোরশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ইলিয়াস আলী গুম-হত্যায় সম্পৃক্ততা: বিমান বাহিনীর হেফাজতে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
ইলিয়াস আলী গুম-হত্যায় সম্পৃক্ততা: বিমান বাহিনীর হেফাজতে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীকে অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সায়ের।

পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে বলপূর্বক অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও খুনের ঘটনায় এই বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমান (তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার) সে সময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ের জামাতা।

বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের বরাতে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবিতে সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবিতে সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাবা ও ছেলের সন্ধান মেলেনি। তারা  নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ দু’জন হলেন- আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়। এই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জানান, রাজশাহীর চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন ৮ জন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নৌকাটি পানিতে তলিয়ে যায়।

নৌকাটি ডুবতে দেখে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমান অন্যান্য নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ৮ যাত্রীর মধ্যে ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল ৪টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে এবং নৌকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপ-পরিচালক মনজিল হক বলেন, নিখোঁজ দু’জনকে উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। দু’জন দু’জন করে তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দু’জনকে উদ্ধার করতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি