খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

কৃষকদের স্বচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করবে ‘কৃষক কার্ড’

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
কৃষকদের স্বচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করবে ‘কৃষক কার্ড’

দেশের কৃষকদের স্বচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করতে কৃষক কার্ড চালু করলো সরকার। ভোটের চিহ্ন মুছে যাওয়ার আগেই সরকার গঠনের দু’মাসের মধ্যেই অন্যতম প্রধান এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নানা রঙের পোশাক পরে এসেছিলেন কৃষক-কৃষানিরা। সবার মাথায় ছিল ‘মাথাল’। গলায় জড়িয়েছিলেন ‘গামছা’। কৃষি উপকরণের অপরিহার্য দু’অঙ্গ শরীরে ধারণ করেই নববর্ষের দিনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্পর্শে আসার বিরল সুযোগের পাশাপাশি সরকারপ্রধানের হাত থেকেই পেয়েছেন সম্মান, স্বীকৃতি ও মর্যাদার প্রতীক ‘কৃষক কার্ড’। যারপরেনাই খুশি তাঁরা।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টাঙ্গাইল সদরের ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ গ্রামের কৃষাণী নাসিমা খানম সুমনা জানান, বছরের পর বছর তিনি কৃষির সঙ্গে যুক্ত। অথচ কখনও কোনো সুযোগ সুবিধা পাননি। আনন্দিত নাসিমা খানম সুমনা বলেন, ‘বিএনপির সরকার আমাদের স্বার্থে কাজ করবে, এটা শুরুতেই ধারনা ছিলো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাবো তা কখনও কল্পনাও করিনি। আজকে আমাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ টাঙ্গাইলের প্রথম কৃষক হিসেবে কৃষক কার্ড পান সদর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবু কায়সার। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে প্রথম কৃষক কার্ড পাওয়া মোহাম্মদ আবু কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। কৃষক কার্ড দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা পাব। এখন আমরা এদেশের একজন গর্বিত কৃষক। কৃষক কার্ড পেয়ে আমি খুবই খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।’ বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে এই কৃষক কার্ড উদ্বোধন করার মাধ্যমে আবারো আমি বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশা সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আবারো দেশ গঠনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি সুলতান সালাউদ্দিন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষককে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা, সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। এরই ভিতরে আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে, যেই ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।’ সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি, আপনি আজকে আমরা যারা এখানে উপস্থিত আছি, মাঠে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই মঞ্চে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, আমি হয়তো সরাসরিভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত নই, কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ আছে, যেই মানুষটি কৃষির সাথে সম্পর্কিত। সরাসরিভাবে এখনো সম্পর্কিত আমাদের আত্মীয় স্বজন পরিবার পরিজনের। অর্থাৎ বাংলাদেশের আমরা যত মানুষ আছি, প্রত্যেকটি পরিবার, ৪ কোটি পরিবার আছে, প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি।’

৫ জন কিষাণ-কিষাণির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রসিকতা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করা মাত্রই টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে যায়। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে কার্ড পৌঁছিয়ে দেবে বলে জানান তিনি। ৫ জন কিষাণ-কিষাণির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘এই যে গাছের চারা দিচ্ছি, তা বড় হলে ফল কিন্তু আমার জন্য পাঠাবেন।’

আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ইনশাআল্লাহ খনন করব
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে কৃষককে সেচ সুবিধার আওতায় এনেছিলেন জানিয়ে দলটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে- আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ইনশাআল্লাহ খনন করব। এর মাধ্যমে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- কৃষকের সেচের জন্য যে পানির কষ্ট, তাদের যে ভুগতে হয়, আমরা এই খাল খননের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের কাছে, কৃষাণি বোনদের কাছে আমরা সেচের পানি পৌঁছে দিতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে আমরা দেখেছিলাম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছিল এবং যেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছিলাম ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে অসংখ্য মারা গেছিল দুর্ভিক্ষে… সেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধুমাত্র খাল খনন করার ফলে কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং এই বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশি খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার যতবার এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকার চেষ্টা করেছে কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনারা বিএনপির উপরে বিগত নির্বাচনে আস্থা রেখেছেন, ইনশাল্লাহ এই সরকার আপনাদের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিবে। আমি বলতে চাই, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াব, একই সাথে আমরা আমাদের দেশের কৃষাণিবোনসহ আমাদের দেশের যে নারী সমাজ আছে.. এই নারীরা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, এই নারী সমাজকে যদি আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারি- তাহলে এই দেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

বিএনপি সরকার জনগণের সরকার
বিএনপি সরকার জনগণের সরকার মন্তব্য করে সরকারপ্রধান তারেক বলেন, ‘এই সরকার—দেশের মা-বোনদের কথা বলুন, মসজিদের ইমাম-খতিব সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরু যারা আছেন, তাদের কথা বলুন, ছাত্রদের কথা বলুন, দল-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন; আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা এই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি, আমরা কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই; যে মানুষই হয়ে থাকি না কেন, যে পেশার মানুষ হয়ে থাকি না কেন, প্রত্যেকের আমাদের একটি আকাঙ্ক্ষা আছে… নিজের দেশটিকে আমরা ভালো দেখতে চাই। নিজের দেশটিকে আমরা সুন্দর দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই- এই দেশের মানুষ নিরাপদে এই দেশে বসবাস করছে। এই দেশের মানুষ এই দেশের সন্তানেরা এদেশেই বড় হচ্ছে,স্বাচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়ে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করে নিরাপদের সাথে, নিরাপত্তার সাথে বড় হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সেটাই।’

পহেলা বৈশাখটি আসলে কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘এই যে পহেলা বৈশাখ আজকের এই অনুষ্ঠানটি, পহেলা বৈশাখ কীভাবে আসল, নিশ্চয়ই অনেকেরই আপনাদের ধারণা আছে। যদিও বর্তমানে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। কিন্তু পহেলা বৈশাখটি আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত।’ তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জন্য ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।’ কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণ ও কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের যেসব অঞ্চল কৃষি নির্ভরশীল এলাকা, সেই সকল অঞ্চলে আমরা যখন কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, কৃষাণি বোনদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, আমরা যেরকম কৃষিকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। একই সাথে আমাদের চেষ্টা থাকবে যে শুধু কৃষি পণ্য উৎপাদন করলেই হলো না, সেই সকল অঞ্চলে কীভাবে কৃষি পণ্যের সাথে সম্পর্কিত যে সকল ফল কারখানা আছে, সেগুলিও যাতে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করেছিল, তখনকার বিরোধী দল বলেছিল— বিএনপিকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না। বর্তমান যারা বিরোধী দলে বসছে, এরাও একই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত, এদের ভেতরেও আসর করে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি সনদে সই করেছিল। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি (কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড) বাস্তবায়নে যারা বাধা দেবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে উপনির্বাচন হয়েছে সেখানের মানুষ শান্তিতে আছে, পরিস্থিতি ঠান্ডা; কিন্তু পরিস্থিতি গরম বায়তুল মোকাররমে। যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, সেটা জনগণের অজানা নয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাজশাহীর বিভিন্ন পশু হাটে  অতিরিক্ত হাসিল আদায়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর বিভিন্ন পশু হাটে  অতিরিক্ত হাসিল আদায়

রাজশাহীর বিভিন্ন পশুহাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেওয়া রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না। এতে কোরবানির পশু কিনতে আসা সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

রাজশাহীর সিটি হাট থেকে সোমবার ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন গোলাম মোর্তজা। গরুটি কিনতে তাকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। ইজারাদারের লোকজন রশিদ দিলেও সেখানে টাকার অংক লেখা ছিল না। তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এভাবেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

গোলাম মোর্তজা বলেন, “সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত নিলেও তা হাসিলে লেখা থাকে। সিটি হাটে হাসিলে টাকার পরিমাণই লেখা হচ্ছে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সিটি হাট নয়, রাজশাহীর অন্যান্য পশুহাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার নওহাটা পশুহাটেও রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। সেখানে গরুর জন্য এক হাজার টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল-ভেড়ার জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করেছে।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার নওহাটা পশুহাটের ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটি হাটে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হচ্ছে। করপোরেশন গরু ও মহিষের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করে দিয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতেই অনেক রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সিটি হাটের ইজারাদারদের একজন শওকত আলী বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হারের চেয়ে আমরা ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। হাটে গত দুই দিনে প্রায় ২০০ গাড়ি মাটি ফেলতে হয়েছে। দুই ট্রাক বাঁশ-খুঁটিও পুঁতেছি। করপোরেশন এসব কাজ করেনি। আমরা নিজেরা খরচ করেছি। সেই খরচ তুলতেই কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, “রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো মহুরি (আদায়কারী) লিখতে ভুলে যাচ্ছে। কার কাছে এটা হচ্ছে জানতে পারলে তাকে কাজেই রাখা হবে না।”

সিটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, নওহাটা পশুহাটের রশিদে টাকার অংক না লেখার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজশাহীর পাখিপ্রেমী হাসনাত রনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন একটি রশিদের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “খাজনা বা হাসিলের রশিদ পাবেন। রশিদে সব কিছু লেখা থাকবে। শুধু কত টাকা আদায় করা হলো সেটা লেখা থাকবে না। এই টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায়? এ দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন?”

নওহাটা পশুহাটের ইজারাদার আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আকবর আলী নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন বলেন, “নওহাটা পশুহাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবার কোনো হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে দেওয়া হবে না।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মার্কিন হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রুবিও

নতুন করে মার্কিন হামলা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব বলে মনে করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের জয়পুর সফরকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মার্কো রুবিও বলেন, নতুন মার্কিন হামলার পরও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভব হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা চলছিল, তাই দেখা যাক আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারি কি না। আমার মনে হয় প্রাথমিক খসড়া নথির নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে, তাই বিষয়টি শেষ হতে কয়েক দিন লাগবে।’

তিনি আরো জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তির আলোচনার ভাষা চূড়ান্ত করতে ‘আরও কয়েক দিন’ সময় লাগতে পারে।

মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি করতে চান। তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, না হয় কোনো চুক্তিই হবে না।’

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনোভাবেই হোক না কেন, হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা থাকতে হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোতে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। এ সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান, আর মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা করছে।

ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচকেরা কাতারের দোহায় পৌঁছানোর পরই এসব হামলা চালানো হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ছুটির দিনে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
ছুটির দিনে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর দিনে চার অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির–উদ–দৌলাকে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীকে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াকে একই মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কালের আলো/এসএকে