খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

কৃষকদের স্বচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করবে ‘কৃষক কার্ড’

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
কৃষকদের স্বচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করবে ‘কৃষক কার্ড’

দেশের কৃষকদের স্বচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল করতে কৃষক কার্ড চালু করলো সরকার। ভোটের চিহ্ন মুছে যাওয়ার আগেই সরকার গঠনের দু’মাসের মধ্যেই অন্যতম প্রধান এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নানা রঙের পোশাক পরে এসেছিলেন কৃষক-কৃষানিরা। সবার মাথায় ছিল ‘মাথাল’। গলায় জড়িয়েছিলেন ‘গামছা’। কৃষি উপকরণের অপরিহার্য দু’অঙ্গ শরীরে ধারণ করেই নববর্ষের দিনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্পর্শে আসার বিরল সুযোগের পাশাপাশি সরকারপ্রধানের হাত থেকেই পেয়েছেন সম্মান, স্বীকৃতি ও মর্যাদার প্রতীক ‘কৃষক কার্ড’। যারপরেনাই খুশি তাঁরা।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টাঙ্গাইল সদরের ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ গ্রামের কৃষাণী নাসিমা খানম সুমনা জানান, বছরের পর বছর তিনি কৃষির সঙ্গে যুক্ত। অথচ কখনও কোনো সুযোগ সুবিধা পাননি। আনন্দিত নাসিমা খানম সুমনা বলেন, ‘বিএনপির সরকার আমাদের স্বার্থে কাজ করবে, এটা শুরুতেই ধারনা ছিলো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাবো তা কখনও কল্পনাও করিনি। আজকে আমাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ টাঙ্গাইলের প্রথম কৃষক হিসেবে কৃষক কার্ড পান সদর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবু কায়সার। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে প্রথম কৃষক কার্ড পাওয়া মোহাম্মদ আবু কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। কৃষক কার্ড দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা পাব। এখন আমরা এদেশের একজন গর্বিত কৃষক। কৃষক কার্ড পেয়ে আমি খুবই খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।’ বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে এই কৃষক কার্ড উদ্বোধন করার মাধ্যমে আবারো আমি বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশা সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আবারো দেশ গঠনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি সুলতান সালাউদ্দিন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষককে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা, সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। এরই ভিতরে আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে, যেই ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।’ সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি, আপনি আজকে আমরা যারা এখানে উপস্থিত আছি, মাঠে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই মঞ্চে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, আমি হয়তো সরাসরিভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত নই, কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ আছে, যেই মানুষটি কৃষির সাথে সম্পর্কিত। সরাসরিভাবে এখনো সম্পর্কিত আমাদের আত্মীয় স্বজন পরিবার পরিজনের। অর্থাৎ বাংলাদেশের আমরা যত মানুষ আছি, প্রত্যেকটি পরিবার, ৪ কোটি পরিবার আছে, প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি।’

৫ জন কিষাণ-কিষাণির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রসিকতা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করা মাত্রই টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে যায়। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে কার্ড পৌঁছিয়ে দেবে বলে জানান তিনি। ৫ জন কিষাণ-কিষাণির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘এই যে গাছের চারা দিচ্ছি, তা বড় হলে ফল কিন্তু আমার জন্য পাঠাবেন।’

আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ইনশাআল্লাহ খনন করব
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে কৃষককে সেচ সুবিধার আওতায় এনেছিলেন জানিয়ে দলটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে- আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ইনশাআল্লাহ খনন করব। এর মাধ্যমে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- কৃষকের সেচের জন্য যে পানির কষ্ট, তাদের যে ভুগতে হয়, আমরা এই খাল খননের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের কাছে, কৃষাণি বোনদের কাছে আমরা সেচের পানি পৌঁছে দিতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে আমরা দেখেছিলাম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছিল এবং যেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছিলাম ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে অসংখ্য মারা গেছিল দুর্ভিক্ষে… সেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধুমাত্র খাল খনন করার ফলে কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং এই বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশি খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার যতবার এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকার চেষ্টা করেছে কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনারা বিএনপির উপরে বিগত নির্বাচনে আস্থা রেখেছেন, ইনশাল্লাহ এই সরকার আপনাদের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিবে। আমি বলতে চাই, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াব, একই সাথে আমরা আমাদের দেশের কৃষাণিবোনসহ আমাদের দেশের যে নারী সমাজ আছে.. এই নারীরা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, এই নারী সমাজকে যদি আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারি- তাহলে এই দেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

বিএনপি সরকার জনগণের সরকার
বিএনপি সরকার জনগণের সরকার মন্তব্য করে সরকারপ্রধান তারেক বলেন, ‘এই সরকার—দেশের মা-বোনদের কথা বলুন, মসজিদের ইমাম-খতিব সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরু যারা আছেন, তাদের কথা বলুন, ছাত্রদের কথা বলুন, দল-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন; আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা এই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি, আমরা কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই; যে মানুষই হয়ে থাকি না কেন, যে পেশার মানুষ হয়ে থাকি না কেন, প্রত্যেকের আমাদের একটি আকাঙ্ক্ষা আছে… নিজের দেশটিকে আমরা ভালো দেখতে চাই। নিজের দেশটিকে আমরা সুন্দর দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই- এই দেশের মানুষ নিরাপদে এই দেশে বসবাস করছে। এই দেশের মানুষ এই দেশের সন্তানেরা এদেশেই বড় হচ্ছে,স্বাচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়ে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করে নিরাপদের সাথে, নিরাপত্তার সাথে বড় হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সেটাই।’

পহেলা বৈশাখটি আসলে কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘এই যে পহেলা বৈশাখ আজকের এই অনুষ্ঠানটি, পহেলা বৈশাখ কীভাবে আসল, নিশ্চয়ই অনেকেরই আপনাদের ধারণা আছে। যদিও বর্তমানে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। কিন্তু পহেলা বৈশাখটি আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত।’ তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জন্য ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।’ কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণ ও কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের যেসব অঞ্চল কৃষি নির্ভরশীল এলাকা, সেই সকল অঞ্চলে আমরা যখন কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, কৃষাণি বোনদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, আমরা যেরকম কৃষিকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। একই সাথে আমাদের চেষ্টা থাকবে যে শুধু কৃষি পণ্য উৎপাদন করলেই হলো না, সেই সকল অঞ্চলে কীভাবে কৃষি পণ্যের সাথে সম্পর্কিত যে সকল ফল কারখানা আছে, সেগুলিও যাতে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করেছিল, তখনকার বিরোধী দল বলেছিল— বিএনপিকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না। বর্তমান যারা বিরোধী দলে বসছে, এরাও একই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত, এদের ভেতরেও আসর করে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি সনদে সই করেছিল। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি (কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড) বাস্তবায়নে যারা বাধা দেবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে উপনির্বাচন হয়েছে সেখানের মানুষ শান্তিতে আছে, পরিস্থিতি ঠান্ডা; কিন্তু পরিস্থিতি গরম বায়তুল মোকাররমে। যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, সেটা জনগণের অজানা নয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি সংস্থাগুলোর সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৩ মে) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চলমান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে শেভরনের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের লা রোজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

শেভরন বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে, যা সারাদেশে বাড়িঘর, শিল্প এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত এক্সেলারেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোসের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারিত এলএনজি ও জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।

এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ করা।

ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ২৫ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতার একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

এদিকে মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিভিন্ন কোম্পানি ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বাজার প্রবেশাধিকার উন্নত করা, বিনিয়োগ বাধা অপসারণ এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে উভয় পক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ‘যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো ভালো হবে’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ‘যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো ভালো হবে’: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও ভালো হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে যখনই কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে, তারা দ্রুত সমাধান করতে পেরেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায় চীনের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংকে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার সঙ্গে থাকতে পারা আমার জন্য সম্মানের, আপনার বন্ধু হতে পারা সম্মানের।’

গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে একসঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং।

পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ভালো হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ভালোই ছিল। যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, আমরা তা সমাধান করেছি। আমি আপনাকে ফোন করতাম, আপনি আমাকে ফোন করতেন। মানুষ এটা জানে না, কিন্তু যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, আমরা খুব দ্রুতই সমাধান করেছি। আমি সবাইকে বলি, আপনি একজন মহান নেতা।’

ট্রাম্প জানান, এই সফরে তিনি বিশ্বের ‘সেরা ব্যবসায়ী নেতাদের’ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘আজ এখানে কেবল শীর্ষ পর্যায়ের মানুষই আছেন, যারা আপনাকে সম্মান জানাতে এসেছে।’

ট্রাম্প আরো বলেন, কেউ কেউ এই বৈঠককে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি আলোচনার জন্য ‘অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে’ অপেক্ষা করছেন।

সূচনা বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ দ্বন্দ্বের চেয়ে বেশি। এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্য সুযোগ তৈরি করে, এবং স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্ব শান্তির জন্যও উপকারী।’

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই সহযোগিতা থেকে লাভবান হয়, আর বিরোধ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া। একে অপরের সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং নতুন যুগে বড় দেশগুলোর সম্পর্কের সঠিক পথ খুঁজে বের করা।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এমআইএসটির ড্রোনে চোখ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বিশেষ গুরুত্ব

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
এমআইএসটির ড্রোনে চোখ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বিশেষ গুরুত্ব

দেশের প্রযুক্তিগত শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশেও রেখেছে অনন্য অবদান। রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী পরিচালিত এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গবেষণামুখী কার্যক্রম এবার সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। বুধবার (১৩ মে) তিনি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন। সামরিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে এমআইএসটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিক্স, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ঘুরে দেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

আমন্ত্রিত শিক্ষক হিসেবে এমআইএসটির নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ বক্তব্য রেখেছেন। যেখানে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পারমাণবিক সুরক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত মাত্রা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এমআইএসটিতে অধ্যয়নরত সশস্ত্র বাহিনীর তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যেও তিনি সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বর্তমান যুগে সামরিক নেতৃত্বকে শুধু অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ হলেই চলবে না; প্রযুক্তি, তথ্য, মনস্তত্ত্ব ও কৌশলগত যোগাযোগেও সমান দক্ষ হওয়ার বিষয়েও জোর দিয়েছেন। দেশের প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার গৌরবময় অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ এমআইএসটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি সশস্ত্র বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র। এমআইএসটির গবেষণাগার, শ্রেণিকক্ষ, প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রমকে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।’

পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত
রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) আমন্ত্রিত শিক্ষক হিসাবে পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এমআইএসটির নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘পারমাণবিক নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আওতায় জাতীয় দায়িত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য দেন।

ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে বাংলাদেশের দায়িত্ব, পারমাণবিক সুরক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং বাংলাদেশে পারমাণবিক সুরক্ষার বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে বিশদ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’ পারমাণবিক সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক স্থাপনা, উপাদান, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সুরক্ষা কেবল কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা এখন পারমাণবিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।’ বাংলাদেশের অঙ্গীকার সম্পর্কে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, নিরাপত্তা সংস্কৃতি, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত নীতিমালা, প্রশিক্ষিত জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার সুরক্ষায় পেশাদারিত্ব, সতর্কতা, প্রযুক্তিগত সচেতনতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতীয় দায়িত্ববোধ, উচ্চমানের প্রস্তুতি এবং আন্তঃসংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে পারমাণবিক সুরক্ষার চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, পারমাণবিক সুরক্ষা এখন বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বাস্তবায়নের অংশ। ভৌত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ হুমকি প্রতিরোধ, জরুরি সাড়া প্রদান, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, জনসচেতনতা এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি এই বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তৃতা শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পারমাণবিক সুরক্ষার প্রায়োগিক, নীতিগত ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে এমআইএসটিতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানসমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গবেষণামুখী কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব একটি পবিত্র জাতীয় অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এমআইএসটিতে অধ্যয়নরত সশস্ত্র বাহিনীর তরুণ কর্মকর্তাদের কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন-‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব কেবল একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি একটি পবিত্র জাতীয় অঙ্গীকার। দেশপ্রেম কোনো আবেগমাত্র নয়; বরং এটি শৃঙ্খলা, সততা, আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রমাণ করার বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংকটময় সময়গুলোতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিরুদ্ধে যেকোন ষড়যন্ত্র, বিশৃঙ্খলা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।’ জনগণের আস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি- যোগ করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

এ সময় এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোঃ হাকিমুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণরত তরুণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্ম কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনার ফল নয়; বরং এটি লাখো মানুষের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার ফসল। ১৯৭১ সালে জাতির ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের মুক্তিকামী মানুষকে দিকনির্দেশনা ও সাহস জুগিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক আহ্বান তরুণদের সংগঠিত করেছিল এবং সশস্ত্র প্রতিরোধের মনোবলকে শক্তিশালী করেছিল।’ তিনি উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সদস্য ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করেছে। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করা তরুণ কর্মকর্তাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সামরিক নেতৃত্বকে প্রযুক্তি ও কৌশলগত যোগাযোগেও সমান দক্ষ হতে হবে
বর্তমান যুগে সামরিক নেতৃত্বকে শুধু অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ হলেই চলবে না; প্রযুক্তি, তথ্য, মনস্তত্ত্ব ও কৌশলগত যোগাযোগেও সমান দক্ষ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধ আর কেবল ট্যাংক, কামান, বিমান বা প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। বর্তমান সময়ে সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, তথ্যযুদ্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। এখন কোন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই তার আর্থিক ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সামরিক যোগাযোগ, জনমত ও তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে আঘাত করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। পারমাণবিক নিরাপত্তা শুধু কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত নিরাপত্তা চিন্তার অংশ। তরুণ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সচেতন, দায়িত্বশীল ও পেশাগতভাবে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। উপদেষ্টা দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্বল্প ব্যয়ের ড্রোন, সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (অও) সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থা, নিরাপদ ট্যাকটিক্যাল কমিউনিকেশন, কমান্ড কন্ট্রোল ও সার্ভেইলেন্স সিস্টেম এবং তথ্য বিভ্রান্তি প্রতিরোধে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকার দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পায়ন ও গবেষণা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে
তিনি বলেন, সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেট থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও দেশীয় গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। সবকিছু বিদেশ থেকে ক্রয় করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোন প্রযুক্তি বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় নকশা, পরীক্ষা, উন্নয়ন, উৎপাদন ও সুরক্ষা করতে পারে, তা চিহ্নিত করতে হবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এই লক্ষ্যে সরকার দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পায়ন ও গবেষণা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

একজন সামরিক কর্মকর্তা কেবল একজন কমান্ডার নন; তিনি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রতীক
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য উপযোগী, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব। তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা কেবল একজন কমান্ডার নন; তিনি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রতীক। সৈনিকরা তাদের কর্মকর্তাদের আচরণ, সিদ্ধান্ত, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম অনুসরণ করে। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে হতে হবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ, নৈতিকভাবে দৃঢ় এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল। দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, যুদ্ধে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকা এবং বিভ্রান্তির সময়ে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন কর্মকর্তার মৌলিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উগ্রবাদ, বিভাজনমূলক প্রচারণা, গুজব, ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বাস, সহনশীলতা, সহাবস্থান ও মধ্যপন্থার দেশ। ধর্ম মানুষের চরিত্র, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সাহসকে শক্তিশালী করে; কিন্তু ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে। তাই তরুণ কর্মকর্তাদের চরমপন্থা, সাম্প্রদায়িকতা, মব মানসিকতা এবং বিভ্রান্তিকর বয়ানের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও প্রশ্ন করা জ্ঞানের অংশ; কিন্তু ইতিহাস বিকৃতি কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের ভিত্তি। জুলাইয়ের জাতীয় চেতনা রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও নবায়নের আহ্বানকে সামনে এনেছে। ১৯৭১ এবং জুলাইকে একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করানো যাবে না। একটি আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি, অন্যটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার পুনর্জাগরণের আহ্বান।

এমআইএসটি থেকে অর্জিত শিক্ষা বাহিনীর কাজে লাগাতে হবে
অর্জিত জ্ঞানকে কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তব প্রয়োগে রূপান্তর করতে হবে বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ইউনিট ও ফরমেশনে ফিরে গিয়ে এমআইএসটি থেকে অর্জিত শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে বাহিনীর কাজে লাগাতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থে জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ তরুণ কর্মকর্তাদের পাঠাভ্যাস, গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিতর্ক, সামরিক ইতিহাস অধ্যয়ন এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়ারও আহ্বান জানান উপদেষ্টা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বড় দায়িত্ব ও প্রকল্পে নিয়োজিত হলে সততা, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পেশাগত জীবন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দুর্নীতি ও অনিয়ম শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এটি গড়ে উঠবে শৃঙ্খলাবদ্ধ চিন্তা, দেশপ্রেম, জ্ঞান, সাহস, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে।’ ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম তরুণ কর্মকর্তাদের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ আদর্শ ধারণ করে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তরুণ কর্মকর্তাদের শিক্ষা যেন শুধু যোগ্যতার সনদে সীমাবদ্ধ না থাকে; তা যেন পেশাগত উৎকর্ষ, সৎ নেতৃত্ব, জাতীয় দায়িত্ববোধ, উদ্ভাবন, শৃঙ্খলা এবং সাহসের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। আল্লাহ যেন সবাইকে প্রিয় বাংলাদেশকে সেবা করার শক্তি, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতা দান করেন, এই প্রার্থনা করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

কালের আলো/এমএএএমকে