খুঁজুন
                               
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

রাত পোহালেই পরীক্ষায় বসছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
রাত পোহালেই পরীক্ষায় বসছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সমাপনীর সবচেয়ে বড় আসর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন। এবারের পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ ‘একগুচ্ছ’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র এবং সহজ বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর মাদরাসার কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির রোববার বলেন, ‘২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষা চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।

বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ জন রয়েছে। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন; কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ জন; যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৯ জন; চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৯ জন; বরিশালে ৮১ হাজার ৮৩১ জন; সিলেটে ৮৯ হাজার ১৯০ জন; দিনাজপুরে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭০১ জন এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৯ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।

সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৪২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জনে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের ৩০ হাজার ৪৫টি থেকে বেড়ে এ বছর ৩০ হাজার ৪২৫টিতে উন্নীত হয়েছে।

বিভাগ ও গ্রুপভিত্তিক পরিসংখ্যান
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন; মানবিক বিভাগে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সাধারণ বিভাগে ২ লাখ ৬২ হাজার ৩২০ জন; বিজ্ঞান বিভাগে ৪১ হাজার ৫২১ জন এবং মুজাব্বিদ বিভাগে ৪৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এসএসসি (ভোকেশনাল)-এ ১ লাখ ৩২ হাজার ১৯৮ জন এবং দাখিল (ভোকেশনাল)-এ ২ হাজার ৪৬২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার রোববার জানান, এবারই প্রথম কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র পরিবহনকারীদের ডিজিটাল ট্র্যাকিং করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘গরমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথ সকাল সাড়ে ৮টায় খুলে দেওয়া হবে, যাতে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে পরীক্ষার্থীরা অবস্থান নিতে পারে। এ ছাড়া কেন্দ্রে সুপেয় পানি, আইপিএস ও জেনারেটরের মতো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।

সূচি অনুযায়ী, পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। আগামী ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে।

আগামী ১৮ জুনের মধ্যে হাতে লেখা নম্বরপত্র, ব্যবহারিক উত্তরপত্র, আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ও স্বাক্ষরলিপি বিভাগ অনুযায়ী রোল নম্বরের ক্রমানুসারে সাজিয়ে হাতে হাতে মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় জমা দিতে হবে।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে কেন্দ্রসচিবদের প্রতি একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সেগুলো হলো-নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এবং অনিয়মিত/মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। বিশেষ বিবেচনায় কোনো পরীক্ষার্থী দেরি করলে তার তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলার ক্ষেত্রে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে সেট কোড নিশ্চিত হয়ে প্যাকেট খুলতে হবে। নির্ধারিত সেট কোড ব্যতিরেকে অন্য সেটে পরীক্ষা নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেন্দ্রে নিতে পারবেন না। কেন্দ্রসচিব কেবল ছবি তোলা যায় না এমন সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে ২ জন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে ১ জন পরীক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক নিয়োজিত থাকবেন।

কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী বা অভিভাবকদের জটলা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে। পরীক্ষার শুরুতেই টয়লেটগুলো তল্লাশি করে কোনো নকলের সামগ্রী থাকলে তা অপসারণ করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনে অবশ্যই পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে এবং ট্রাংক থেকে প্রশ্নপত্র বের করার সময় ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার কেন্দ্রের দৃশ্যমান স্থানে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারো অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চায়। কড়াকড়ি পদক্ষেপগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য।’

তিনি আরও জানান, আসন্ন কোনো পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’-এর সুযোগ থাকছে না। ১৯৬১ সালের নীতিমালার ২৯ নং অনুচ্ছেদ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সবার সাফল্য কামনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসআর/ এএএন

‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী’

Oplus_131072

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন।

শনিবার (৩০ মে) ঢাকার শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি বিএনপি এবং এদেশের সমগ্র গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার যে ঐতিহাসিক উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ। আমরা এই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য তৈরি করে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। আমরা তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শের রাজনীতি করি।

গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে অভিহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম জিয়ার সীমাহীন ত্যাগ ও সংগ্রামের কথাও সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমরা এখানে এসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করেছি এবং দেশ ও জনগণের সেবায় নতুন করে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

কালের আলো/এসএকে

বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আ.লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আ.লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (৩০ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি রাঙ্গুনিয়াবাসীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমরা এই মাজারে নিয়মিত আসছি। আমাদের যেকোনো জাতীয় কর্মসূচি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলেও আমরা এখানকার দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে তা শুরু করি।

বিগত সরকারের আমলে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ তুলে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, কয়েক বছর আগেও যখন আমরা এখানে দোয়া করতে ও ফুল দিতে আসতাম, তখন নানা বাধার সম্মুখীন হতে হতো।

আমাদের অনেক সময় রাতের আঁধারে কিংবা ফজরের সময় এখানে আসতে হয়েছে। সবসময় হামলার আশঙ্কা ছিল।

তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের ওপর হামলা করেছিল, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

পরে শহীদ জিয়ার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Oplus_131072

ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরেজমিন তদারকি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে টকশোসহ জনপরিসরে বিষয়টি নিয়ে মতামত দিচ্ছেন অনেকে। এটিকে যেমন ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আবার অনেকে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পরিদর্শনে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগে, কো রবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঈ দের আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা দেখতে ঈ দের পরদিন তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন।

একইসঙ্গে, স্থানীয় সরকার বিভাগকে দেওয়া আরেক নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীতে কো রবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মাঠে নামেন প্রধানমন্ত্রী। গুলশান থেকে শুরু করে হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, বাসাবো, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, পুরান ঢাকা, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান, মিরপুর রোড, জিগাতলা, মানিক মিয়া এভিনিউ ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বা জার এলাকায় কো রবানির বর্জ্য ও জমে থাকা ময়লা দেখতে পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজিরকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশের পর শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে হাতিরঝিল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঈ দের সময় সেখানে পশুর বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গ ন্ধ ও পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কো রবানির বর্জ্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, নগরবাসীর স্বস্তির জন্য পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা হওয়া উচিত। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সহ সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা সরকারের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। সাময়িক পদক্ষেপের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, কো রবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সময়োপযোগী। বিষয়টি নিয়ে মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

সন্ধানী বার্তা/এসএকে