কার্যকর, সরগরম ও প্রাণবন্ত সংসদ
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে সরকার ও বিরোধী দলের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে এবারের সংসদে। এ যেন প্রাণবন্ত এক সংসদ। সংসদকে অধিকতর কার্যকর, জবাবদিহিতামূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। জ্বালানি সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ নেতা সরকারি দল এবং বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটিকে বিরোধী দলের সদস্যরা স্বাগত জানান। দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন। দেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অতীতে কোন সংসদে এমন ঘটনা দেখেনি দেশবাসী। রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাবে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের জন্য ১০ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটি জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এ কমিটির মেয়াদ গঠনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হতে ৩০ দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর দৃষ্টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
এদিনই সরকার বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বক্তব্যে বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে সংসদের পরিবেশ ছিল বেশ সরগরম। এদিনই সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বাতিল করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের উত্থাপিত দুটি বিশেষ অধিকারের নোটিশ কার্যপ্রণালী বিধির আওতায় না থাকায় খারিজ করে দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ তুলে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেছেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা।
- পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
- সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বাতিল
- সংসদ সদস্যের দুই নোটিশ খারিজ করলেন স্পিকার
- জ্বালানি সংকট সমাধানে ১০ সদস্যের কমিটির মেয়াদ ৩০ দিন
- নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবি জামায়াত সংসদ সদস্যের
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছেন। বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের (সবার) কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়।’ একই দিন সংসদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতার কয়েক লাইন উদ্ধৃতি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বিগত আওয়ামী লীগের বিষয়ে বলেছেন, ‘কাঙালের ধন চুরি করতে করতে এমন পর্যায়ে তারা চলে গিয়েছিল, তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। গোটা সংসদ, তথাকথিত মন্ত্রিপরিষদ এমনকি প্রশাসনের কিছু লোকদের নিয়ে.. আঞ্চলিক ভাষায় বলতে হয় তারা ভাগছে, দেশ থেকে পালায় গেছে। এমন পরিণত যাতে আমাদের না হয়। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপয়ে সমর্থন জানান।’
পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্লোর নিয়ে এসব কথা জানান। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ও পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘তেল সংকট’ ও ‘রেশনিং’র বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী ফ্লোর নেন। তারেক রহমান বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে অ্যাড্রেস করেছি।
পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছেু পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এ সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা আর হবে না। এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জ্বালানি তেলের কারণে তারা ঠিকমতো টহল দিতে পারছেন না।

জামায়াত ও এনসিপিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর তোপ
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান। তিনি বলেছেন, ‘গত ১৮ মাসের যে সরকারটি (অন্তর্বর্তী) ছিল তা মূলত আজকের বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ তথা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে কাজ করেছে। সেই সময়ে যারা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকে বিশেষ সুবিধা বা আরামে ছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা না থাকাতেই তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও অস্বস্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিন রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিরোধী জোটের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে রাজীব আহসান বলেন, ‘আগে যারা যখন খুশি প্রধান উপদেষ্টার বেডরুম কিংবা সচিবের রুমে ঢুকে যেতেন, এখন সেই অনৈতিক সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতারা সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা প্রদর্শন করছেন।’ প্রতিমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কীভাবে এক হাজার ২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যেমন ব্যবসা চলেছে, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনও ব্যবসা এই প্রজন্ম সহ্য করবে না। অবিলম্বে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।’ বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে রাজীব আহসান বলেন, ‘সরকারের সমালোচনা বা কার্টুন করায় বাধা নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে অশালীন বক্তব্য ও ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা দুঃখজনক। যারা সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে নোংরা অপপ্রচার চালিয়েছে, বিরোধী দল তাদেরই পুরস্কৃত করে সংসদ সদস্য হিসেবে পাঠিয়েছে।’ বিরোধী দলকে অতীতের আরাম আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে সরকারি দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানান। এরপর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যুক্ত করেছিলেন। এমনকি, শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সুযোগ এবং জামায়াত নেতা গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের সুযোগও তিনিই করে দিয়েছিলেন।’
সংসদে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার
সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের (সবার) কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনের ২১তম দিনে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কীভাবে ১২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদ সদস্য আমাকে কোট করে একটি কথা বলেছেন। বিষয়টি জুলাই শহীদদের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেছেন, শহীদদের সংখ্যা যদি ৮০০ প্লাস হয়, তাহলে আমি ১ হাজার ২০০ বাড়িতে গেলাম কীভাবে? ফ্যামিলিতে গেলাম কীভাবে? ওনাকে এখানে আমি এখন দেখছি না। তিনি থাকলে বলতাম যে, হিসাবটা প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য। সালাউদ্দিন টুকু সাহেব তার বক্তব্যে নিজেই বলেছেন যে, শুধু জাতীয়তাবাদী দল এবং তার অঙ্গসংগঠনের লোকেরাই শহীদ হয়েছে ১ হাজারের ঊর্ধ্বে। আমি যদি তার কথাটাই সমর্থন করি, তাহলে হিসাব এখান থেকেই তিনি পাবেন। আমার কাছে কষ্ট করে আসতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি আনঅথেন্টিক কোনো কথা বলিনি। এই ব্যাপারে আমাদের কাছে একটা কমপ্লিট প্রোফাইল আছে। এখানে উপস্থিত অনেকে আমাদের সেই প্রোফাইল পেয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাভেইলেবল। চেক, ক্রস চেক করে আমরা নিশ্চিত হওয়ার পরেই তালিকাগুলো করেছি। এই ব্যাপারে আমার কথা নয়, এই দেশের কোনো সংস্থার উদ্ধৃতি নয়; জাতিসংঘের মানবাধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বলেছে, এই সংখ্যাটা ১ হাজার ৪৫১। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যখন যাই, কিছু মানুষ আসেন; তারা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর বলেন, আমার বাবাটার কোনো খবর আপনাদের কাছে আছে কি না? ওই যে দুই দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ খুন করে গুম করা হয়েছে, তাদের হিসাব তো কেউ দিচ্ছে না। এ সংখ্যা তো আরও বেশি। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়।
বিরোধী দলকে সতর্ক করলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী
‘খাল কেটে কুমির আনবেন না, এমন কাজ করবেন না, যাতে বাংলাদেশের আবার সে ফ্যাসিস্টরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে’-এমন বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদে বিরোধী দলকে সতর্ক করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি পতিত আওয়ামী লীগের বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করেন।
- আমাদের (সবার) কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়
ডা.শফিকুর রহমান
বিরোধী দলীয় নেতা- সেই সুবিধা না থাকাতেই তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা
মো. রাজীব হাসান
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী- মুখে মধু অন্তরে বিষ রেখে লাভ হবে না
ইয়াসের খান চৌধুরী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
তিনি আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘বলতে হয় তারা ভাগছে, দেশ থেকে পালায় গেছে। এমন পরিণত যাতে আমাদের না হয়। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপয়ে সমর্থন জানান। এ সময় বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেদিকে আপনাদেরও খেয়াল রাখতে হবে। আপনারা তালি দিচ্ছেন, কথাটা শেষ করতে হবে। আপনাদেরও পরিণতি এরকম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণপ্লাজায় স্বাক্ষর করা জুলাই জাতীয় সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা বাস্তবায়ন করে। যে জুলাই সনদ দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি স্বাক্ষর করেছিল তা বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে কোনো ‘ইফস’ বা ‘বাটস’ নাই।
তিনি বলেন, কিন্তু যদি জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর অপচেষ্টা করা হয়, তা হবে আত্মঘাতি। আওয়ামী লীগ যেভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করেছিল, কেউ যদি মনে করে জুলাই সনদ নিজেদের সম্পত্তি, সেটি হবে ভুল এবং আত্মঘাতি। বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা মুখে বলেন একত্রিতভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু মুখে মধু অন্তরে বিষ রেখে লাভ হবে না। আমাদেরকে বাংলাদেশকে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একত্রিতভাবে কাজ না করি, তাহলে খাল কেটে কুমির আনা হবে। তাই তাদের (বিরোধী দল) আহ্বান জানাতে চায়, আমরা যেন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করি। সংসদে বিতর্ক করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে সেখানে আমরা যেন কোন ন্যারেটিভ তৈরি না করি। যেখানে, বিএনপি বা আপনাদের জোটে যে দলগুলো আছে যারা জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। জুলাই শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, একাত্তরের ৩০ লাখ, ৩ লাখ নিয়ে এখনো বিতর্ক হচ্ছে। আমরা জুলাই নিয়ে বিতর্ক করতে চায় না। ৫০ বছর, ১০০ বছর পর জুলাই নিয়ে কোন বিতর্ক রেখে যেতে চাই না।

ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহ’র
‘আবার একটা ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখানে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে লিখতে চাই, আমরা “ব্যাক পেজ” ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু আবার একটা ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজকে আমরা সংসদে সবার কাছে অনেকের সংগ্রামের কথা শুনি, তারা অনেক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকে সংসদে এসেছেন। আসলে আমাদের প্রজন্মের জন্য আপনারা যে কাজগুলো করছেন, যে দায়িত্বটা নিয়েছেন, এই দায়িত্বের ফলভোগী বা সুবিধাভোগী কিন্তু আমরা, আমাদের এই প্রজন্ম। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব আশাহত হই যখন এই সংসদ এতো রক্ত, এতো লড়াই, এতো ত্যাগের পরে গঠিত হয়েছে, কিন্তু এই সংসদ আবার আগের সেই “ভিসিয়াস সাইকেলে” (দুষ্টচক্র) ফিরে যাচ্ছে। বিরোধী মত দমনের নামে মামলার যেই সাইকেল, আমরা সেখানে আবার চলে গিয়েছি। ক্যাম্পাসগুলো আবার অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে।’
বিরোধীদল ও মত দমনের অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বিরোধীদল ও মত দমনের জন্য মামলা করা হচ্ছে। এমনকি ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে লেখার কারণে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে, সমালোচনা করলে তুলে আনা হচ্ছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার বা মকারিকে (উপহাস) প্রমোট করছেন, সেখানে এই সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নয়টি এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মতপ্রকাশের জন্য বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, আওয়ামী লীগের সময় ছিল—তবে সেটা ছিল কেবল “সহমত” প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এই পার্লামেন্টের কাছে কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং ‘দ্বিমত” প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে লিখতে চাই, আমরা “ব্যাক পেজ” ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু আবার একটা ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
হাসনাত বলেন, আমরা দেখলাম সিলেক্টিভ এক ধরনের বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সমাজের যারা পলিটিক্যালি এলিট শ্রেণির নারী, তাদের নিয়ে সমালোচনা করা হলে সেটাকে নারীবিরোধিতা হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু গার্মেন্টকর্মী বা গ্রামগঞ্জের মায়েরা যারা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রাতদিন পরিশ্রম করছে, তাদের যখন গালি দেওয়া হয়, সেটাকে আমরা আমলে নেই না। এ ধরনের সিলেক্টিভ জায়গাগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আবার বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে যাই, তবে কোনো রাজনৈতিক দল নয়; বরং জুলাইয়ে আমরা যাদের পরাজিত করেছি, তারাই লাভবান হবে।’
কালের আলো/আরআই/এমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array