খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নৌবাহিনীর সদস্যদের স্বপ্নপূরণ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীর সদস্যদের স্বপ্নপূরণ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ। এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। প্রায় ২ বছর ৯ মাস আগে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণের পর নৌবাহিনীর সদস্যরা অনুরোধ জানিয়েছিলেন একটি মানসম্মত ও আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার। অবশেষে এলো এক কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। আক্ষরিক অর্থেই এক দুর্বোধ্য স্বপ্নের বাস্তবায়ন। চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো। নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য একেকটা ক্ষণ হিরণ্ময়।

স্বপ্নপূরণের স্বাক্ষী হয়েই এদিন নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। স্বভাবতই উচ্ছ্বাস আনন্দের বাতাবরণেই নিজেকে মেলে ধরেছেন। ছিলেন পুরোপুরি ফুরফুরে মেজাজে, প্রাণবন্ত হয়েই। স্বপ্নের সুরভি ছড়িয়েই উচ্চারণ করলেন-‘এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না, এটি ছিল এক দীর্ঘ চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। আমাদের সকলের সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল এটিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে।’

ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূত্রপাত করে তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে নৌ সদস্যরা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। নৌ সদস্যদের এই স্বপ্নের মূল চালিকাশক্তি ছিল বিগত দিনের এক বাস্তব প্রয়োজনীয়তা, যা আমি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে অনুধাবণ করেছি। আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন সমগ্র নৌ পরিবারের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আর এজন্য আমি মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ।’

চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত
চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল কলেজটি উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর নীতিমালা অনুসরণ করে ইতোমধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক শিক্ষার্থী নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্স শুরু হয়েছে।

এই মেডিকেল কলেজটির মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যারা সমাজের সকল স্তরে সকল পরিস্থিতিতে কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চিকিৎসা সেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।

  • চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত
  • নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন
  • নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে

প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত শ্রেণিকক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুদক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এই কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে পরিচালিত নেভি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষ, নৈতিক ও পেশাদার চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে এটি সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং একইসঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা জানি একটি জাতির প্রকৃত শক্তিই তার প্রতিরক্ষা সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে না বরং তা নিহিত থাকে উন্নত শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও মেধাবী প্রজন্ম তৈরির সক্ষমতার ওপর। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মূল দায়িত্ব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং দেশের সমুদ্রসীমা নিশ্চিত করা। তবে এর পাশাপাশি জাতীয় যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সরকারের নির্দেশনায় আমরা যেকোন সেবায় আত্মনিয়োগ করতে এবং যেকোন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে বদ্ধপরিকর। আপনারা দেখেছেন বিগত ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট থেকে শুরু করে অদ্যাবধি নৌ সদস্যরা দেশের প্রয়োজনে আত্মনিয়োগ করেছেন, অসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে চলেছেন।’

সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘সেই সফলতারই এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হলো নেভি মেডিকেল কলেজ চট্টগ্রাম। এই প্রতিষ্ঠান কেবল নৌ সদস্যের সন্তানদের জন্যই নয় বরং দেশের সকল মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণে এক নব দিগন্তের সূচনা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কেবল এই কলেজ থেকে দক্ষ চিকিৎসকই তৈরি হবে না বরং এখান থেকে গড়ে উঠবে একদল মানবিক দায়বদ্ধ পেশাজীবী যারা গভীর জ্ঞান, উন্নত নৈতিক মূল্যবোধ ও অদম্য কর্তব্যপরায়ণতায় আর্তমানবতার সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বোনের সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পৌনে ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসাদের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এসময় রামিসার বোনের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

দেশে গত ১৬ মাসে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও এক হাজার ৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  এছাড়া এসব শিশুর মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শরীর ছিল প্রতিবেশীর ঘরে খাটের তলায় এবং মাথাটা ছিল বাথরুমে। এমনকি অভিযুক্ত বিকৃত যৌনাচারে আসক্ত স্বামীকে বাঁচাতে সহযোগিতা করেছিলেন স্ত্রী।

গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর গ্রামের মদিনাপাড়ায় আছিয়া আক্তার নামে ১০ বছরে বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ও ধর্ষণের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে বাড়িতে অবস্থানরত ও অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার নামে এক চার বছরের শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৬ মে সকালে সিলেটের সদর উপজেলার জালালাবাদে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি খোটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সাথে খুঁজতে যান আসামী জাকির হোসেন।

এছাড়া প্রতিনিয়ত সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধরণের অসংখ্য শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও ১৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া এসব শিশু ও কিশোরীদের মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। এছাড়া বিচাহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও দুর্বল আইন প্রয়োগ শিশু নির্যাতনের মতো পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

এইচআরএসএস অবিলম্বে এসব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দাবি জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি। এজন্য সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমকে শিশুদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি অপরাধ রোধে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ