খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবাহিনীর সদস্যদের স্বপ্নপূরণ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীর সদস্যদের স্বপ্নপূরণ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ। এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। প্রায় ২ বছর ৯ মাস আগে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণের পর নৌবাহিনীর সদস্যরা অনুরোধ জানিয়েছিলেন একটি মানসম্মত ও আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার। অবশেষে এলো এক কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। আক্ষরিক অর্থেই এক দুর্বোধ্য স্বপ্নের বাস্তবায়ন। চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো। নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য একেকটা ক্ষণ হিরণ্ময়।

স্বপ্নপূরণের স্বাক্ষী হয়েই এদিন নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। স্বভাবতই উচ্ছ্বাস আনন্দের বাতাবরণেই নিজেকে মেলে ধরেছেন। ছিলেন পুরোপুরি ফুরফুরে মেজাজে, প্রাণবন্ত হয়েই। স্বপ্নের সুরভি ছড়িয়েই উচ্চারণ করলেন-‘এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না, এটি ছিল এক দীর্ঘ চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। আমাদের সকলের সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল এটিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে।’

ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূত্রপাত করে তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে নৌ সদস্যরা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। নৌ সদস্যদের এই স্বপ্নের মূল চালিকাশক্তি ছিল বিগত দিনের এক বাস্তব প্রয়োজনীয়তা, যা আমি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে অনুধাবণ করেছি। আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন সমগ্র নৌ পরিবারের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আর এজন্য আমি মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ।’

চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত
চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল কলেজটি উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর নীতিমালা অনুসরণ করে ইতোমধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক শিক্ষার্থী নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্স শুরু হয়েছে।

এই মেডিকেল কলেজটির মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জন্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যারা সমাজের সকল স্তরে সকল পরিস্থিতিতে কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চিকিৎসা সেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে।

  • চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত
  • নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন
  • নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে

প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত শ্রেণিকক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুদক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এই কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে পরিচালিত নেভি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দক্ষ, নৈতিক ও পেশাদার চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে এটি সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং একইসঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা জানি একটি জাতির প্রকৃত শক্তিই তার প্রতিরক্ষা সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে না বরং তা নিহিত থাকে উন্নত শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও মেধাবী প্রজন্ম তৈরির সক্ষমতার ওপর। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মূল দায়িত্ব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং দেশের সমুদ্রসীমা নিশ্চিত করা। তবে এর পাশাপাশি জাতীয় যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সরকারের নির্দেশনায় আমরা যেকোন সেবায় আত্মনিয়োগ করতে এবং যেকোন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে বদ্ধপরিকর। আপনারা দেখেছেন বিগত ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট থেকে শুরু করে অদ্যাবধি নৌ সদস্যরা দেশের প্রয়োজনে আত্মনিয়োগ করেছেন, অসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে চলেছেন।’

সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে নৌবাহিনী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার দীপ্ত স্বাক্ষর রেখে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘সেই সফলতারই এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হলো নেভি মেডিকেল কলেজ চট্টগ্রাম। এই প্রতিষ্ঠান কেবল নৌ সদস্যের সন্তানদের জন্যই নয় বরং দেশের সকল মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণে এক নব দিগন্তের সূচনা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কেবল এই কলেজ থেকে দক্ষ চিকিৎসকই তৈরি হবে না বরং এখান থেকে গড়ে উঠবে একদল মানবিক দায়বদ্ধ পেশাজীবী যারা গভীর জ্ঞান, উন্নত নৈতিক মূল্যবোধ ও অদম্য কর্তব্যপরায়ণতায় আর্তমানবতার সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তেলের বাজারে এখন সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ে আলোচনা বেশি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। খবর : রয়টার্স

মঙ্গলবার (জিএমটি ০০:৪৬) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৯ সেন্ট বা ০.২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের দিন দাম ইরান সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছিল।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধারের ফলে তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মানসিকতা কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অনিশ্চয়তার কারণে বর্তমান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বাজার এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো “কাজ শেষ করবে”। তার এই মন্তব্য নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নৌপরিবহন পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত জুন মাসে দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে, যা এপ্রিল ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ইরান সংঘাতের আগের সময়ের চেয়েও বেশি।

টিম ওয়াটারার বলেন, এখন বাজারের প্রধান নজর থাকবে চীনের চাহিদা পুনরুদ্ধারের ওপর। ইতোমধ্যে সরবরাহ বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরের অনেকটাই দামে প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ নির্ভর করবে প্রকৃত চাহিদা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না।

অন্যদিকে, রাশিয়াসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস (OPEC+) আগস্ট থেকে দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুন ও জুলাই মাসেও একই ধরনের উৎপাদন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছিল।

এছাড়া সৌদি আরব এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য আগস্ট মাসে তাদের প্রধান আরব লাইট ক্রুডের সরকারি বিক্রয়মূল্য (ওএসপি) ওমান/দুবাই গড় মূল্যের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার কমিয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এটি ১ দশমিক ১০ ডলারের হ্রাস, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যছাড়।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টির পর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার এর চেয়েও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে যানজট দেখা দেয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। ফলে অনেক কর্মজীবী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, সকালে বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে অলিগলিতে পানি আর পানি। অনেকে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাসায় পানি ঢুকেছে। মানুষের ভোগান্তি কখন শেষ হবে জানি না।

মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলায় পানি। এখন ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু চলাচলই ব্যাহত হয় না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায়  বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি