সংসদে প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে পুনরায় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য রেখেছেন সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গোটা সংসদে মুহুর্মুহু করতালি। উচ্চারণ করলেন জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি কুড়ানো নয় সঠিক ডিসিশনটিই নিতে হবে। সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি পপুলার নয় বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানাই-বলছিলেন সরকারপ্রধান। তিনি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বজায় রাখতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব এখনো ‘ওপেন’ বা উন্মুক্ত রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দল থেকে আসুক। আমাদের এই সদিচ্ছা এখনো বহাল আছে।’ বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, এই সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের চেয়ারের বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি জায়গা। এই চেয়ারে বসলে আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি যে আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে। তিনি বলেছেন, সরকার প্রধানের এই চেয়ারটি দূর থেকে দেখতে খুব আরামদায়ক মনে হলেও আসলে এটি মোটেও আরামের নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় বা ‘পপুলার’ কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও এই দায়িত্বের চেয়ার তাকে সেই অনুমতি দেয় না। এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তাকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক বা রাইট ডিসিশনটি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা মেটানো এবং সমস্যা সমাধানের গুরুভার এই চেয়ারের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। আমরা যদি পপুলার ডিসিশনের পেছনে ছুটি, তবে হয়তো বাহবা পাব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্যই সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি পপুলার নয় বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানাই। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত
দেশে নারীদের শিক্ষার প্রসারে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরে বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তিনি একটি আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
- বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব এখনো ‘ওপেন’
- স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত
- সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু
- সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব
- কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে
- আমরা ‘এগ্রি টু ডিসএগ্রি’ (ভিন্নমতে একমত) নীতিতে বিশ্বাস কর
- সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর
নিজের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকতে হয়েছে। সে সময় বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও পরিবেশ দেখে মনে প্রশ্ন জেগেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কবে এমন সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সংকল্প আরও দৃঢ় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হয়।
সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু
বক্তৃতার একাংশে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। তিনি বলেন, এসব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে
তারেক রহমান দেশের কৃষি ও পরিবেশগত সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, জলাবদ্ধতা এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরুর লক্ষ্যই হলো মাটির নিচের পানির স্তর রিফিল করা। এই কাজের শুভফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগবে, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব
বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য এক, আর তা হলো বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ দেশ গড়ে তোলা। সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছে। তিনি ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় হয়তো কোনো সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে কিন্তু বুক চিরে কেউ বলতে পারবে না যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ক্ষতির মাসুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে।
বর্তমানে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করার চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলের প্রতি অত্যন্ত উদার মনোভাব পোষণ করে জানান, ডেপুটি স্পিকার পদটি তাদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং তিনি নিজে বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চেয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল্যবান ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ডিবেট দিয়ে কোনো ক্ষুধার্ত মানুষের পেট ভরবে না কিংবা অসুস্থ শিশুর মায়ের মন শান্ত হবে না। মানুষ এখন ডিবেট নয়, তাদের সমস্যার সমাধান চায়।
কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে
তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি। একটি সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইটি শিল্পসহ দেশের প্রতিটি খাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে উভয় পক্ষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

আমরা ‘এগ্রি টু ডিসএগ্রি’ (ভিন্নমতে একমত) নীতিতে বিশ্বাস করি
বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চেয়েছি, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের বাসায়ও গিয়েছি। আমরা ‘এগ্রি টু ডিসএগ্রি’ (ভিন্নমতে একমত) নীতিতে বিশ্বাস করি। যেসব বিষয়ে দ্বিমত আছে, সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’ তিনি আরও জানান, বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার এলাকার সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখার জন্য তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংসদে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া রোধে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত যুগান্তকারী ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আবারও দেশব্যাপী শুরু করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে মাটির নিচ থেকে প্রচুর পানি তোলার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহাবিপদে পড়বে। এই সমস্যা সমাধানে খাল খনন শুরু করেছি আমরা। আজ খাল খনন শুরু করলে এর সুফল পেতে এবং পানির স্তর রিফিল হতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে।’ তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু সেচের পানির জন্যই নয়, বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা দূর করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের ক্ষতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জাতীয় সংসদকে জানান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণে অনেক জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমি আবহাওয়া পূর্বাভাস দেখেই স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণমন্ত্রী দুলু সাহেবকে নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো জনগণের জানমালের দেখভাল করা।’ কৃষকের জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী সমাপনী বক্তব্যের শেষ প্রান্তে এসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাবাহিনীকে তাদেরকে আমরা যদি আমাদের ধন্যবাদের তালিকায় না আনি তাহলে অন্যায় করা হবে। ফ্যাসিবাদের পলায়নের পর মাননীয় স্পিকার এই সশস্ত্র বাহিনী ও সেনাবাহিনী তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছে দেশকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থানের মধ্যে রাখার। দেশে যাতে কোন অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে আমি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যবৃন্দদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই তাদের দায়িত্ব সঠিক ও সুন্দরভাবে পালন করার জন্য। বক্তব্য শেষ করার আগে আবারও আমি বলছি, সকল সংসদ সদস্যের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব, প্রত্যাশা ও আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে পাঠিয়েছে এখানে আসুন আমরা সেই দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ সম্মান আমরা প্রদর্শন করি। যার মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করবে। কারণ দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি। দেশ ও জনগণকে সম্মান না করলে আমাদের রাজনীতি ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেজন্যই আমাদের সবচেয়ে প্রথম এই দেশের জনগণ ও প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।’
কালের আলো/এমএসএকে/এমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array