খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
‘সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অতিরিক্ত ডিভাইস-আসক্তি থেকে নিরাপদ রাখতে ক্রীড়া চর্চা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

শনিবার (০২ মে) ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশু-কিশোরদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং দলগত ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করবে, যা হবে একটি আদর্শ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের মূলভিত্তি।

তারেক রহমান বলেন, যেসব কিশোর-কিশোরী খেলাধুলায় নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে, তারা যেন ভবিষ্যতে কোনো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় না পড়ে এবং নিশ্চিন্তে খেলাধুলাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, সরকার ইতোমধ্যে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্রীড়াবৃত্তি, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা আজ কেবল নিছক বিনোদন বা অবসরে শরীরচর্চা নয়; বিশ্বজুড়ে এটি একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত। দেশের জনগণের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা ক্রীড়াকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব এবং খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। ইতোমধ্যে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে নতুন ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য একটি টেকসই ও পেশাদার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারাদেশ থেকে অন্বেষিত ক্রীড়া প্রতিভাগুলোকে পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্ফুটিত করা, যাতে অদূর ভবিষ্যতে এই খুদে ক্রীড়া প্রতিভাগুলো থেকেই বিভিন্ন স্পোর্টস ইভেন্টে দেশ সেরা ক্রীড়া তারকা তৈরি হয়। আমাদের পরিকল্পনা সফল হলে এই তারকারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে পারবে, ইনশা আল্লাহ।

‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের যে ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে, তারই অনুপ্রেরণায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এবার সারাদেশ থেকে খুদে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে আনতে বর্তমান সরকারের এই নতুন প্রয়াস।’

তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি টেকসই এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আমি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

নবজাতক বাঁচলেও ফিরলেন না মা, ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
নবজাতক বাঁচলেও ফিরলেন না মা, ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগ

বগুড়ায় সিজারের সময় ভুল রক্ত প্রয়োগ ও চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে অহনা (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।তবে, মায়ের মৃত্যু হলেও নবজাতক বেঁচে আছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য অহনাকে শহরের খান্দার এলাকার সুস্বাস্থ্য নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। তবে, অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়। বারবার জানতে চাইলেও রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ বলে জানানো হয়।

ওই তথ্যের ভিত্তিতেই রক্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অহনাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে পরীক্ষা করে তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা আব্দুস সালাম ও মা অভিযোগ করেন, ভুল রক্ত প্রয়োগ এবং চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের স্বামী মৃদুল ইসলাম বলেন, আমার সুস্থ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ক্লিনিকে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখলেও তার মা আর সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না।

ঘটনাটি ঘিরে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পুরোনো রূপে ফিরছে ঢাকা, বেড়েছে গণপরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
পুরোনো রূপে ফিরছে ঢাকা, বেড়েছে গণপরিবহন

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছু টি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ফলে ঢাকার সড়কে বাড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন। আবারও নিজস্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী।

রোববার (৩১ মে) ঢাকার কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, সড়কে যান চলাচল সীমিত। তবে বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সড়কে যানবাহনে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও বেড়েছে। তবে কোথাও কোনো যানজট ও সিগনালে গাড়ির দীর্ঘ অপেক্ষা চোখে পড়েনি। বাসের জন্য যাত্রীর অপেক্ষার দৃশ্যও সেভাবে চোখে পড়েনি।

বৈশাখী পরিবহনের চালকের সহকারী রশিদ বলেন, ঈ দের ছু টি শুরুর পর থেকে যাত্রী নেই। আজও যাত্রী কম। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে।

সাভার পরিবহনের চালকের সহকারী সবুজ বলেন, মানুষ ঢাকায় ফেরা শুরু করেছে। আজ অধিকাংশ মানুষ চলে আসবে। আশা করি কাল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে।

শুভযাত্রা পরিবহনের চালকের সহকারী মারুফ বলেন, যেসব গাড়ি ঈ দের ছু টির কারণে বসেছিল, আজ অধিকাংশ গাড়িই বের হয়েছে। ঢাকার মধ্যে তো আজও যাত্রী নেই। বেশিরভাগ কোম্পানির গাড়ি আজ লোকাল ভাড়া মারবে। ফাঁকা গাড়ি নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে চলে যাবে, সেখান থেকে ফু ল গাড়ি ভর্তি যাত্রী নিয়ে চলে আসবে। সব গাড়ি ঢাকার মধ্যে চললে কি তে ল খরচ উঠবে। কাল থেকে ঢাকার ভেতরে যাত্রীর চাপ বাড়বে।

কালের আলো/এসএকে/এমএসআইপি 

নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

Oplus_131072

সরকার দেশের নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজিব আহসান বলেন, আমরা যদি লঞ্চঘাটের পন্টুনগুলোর আধুনিকায়ন করতে পারি ও সেই সঙ্গে ড্রেজিং করে নদী পথগুলো সচল রাখতে পারি, তাহলে নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং এর সুফল জনগণই পাবে।

তিনি আরও বলেন, শতবছরের পুরনো স্টিমারগুলো বারবার মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে একটি সচল থাকলেও বাকিগুলো নৌপথে চলাচলের জন্য উপযোগী নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। তবে এসব ঐতিহ্যবাহী স্টিমারকে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে জনসেবায় কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই নৌপথ তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে যাক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার বাহন হিসেবে ফিরে আসুক। সে লক্ষ্যে নৌ মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, সদস্য প্রকৌশল রকিবুল ইসলাম তালুকদার, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে