খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ছুটির শেষ দিনেও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
ছুটির শেষ দিনেও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনেও রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রে।

বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, জেব্রা, ভাল্লুক, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে শিশু থেকে বয়স্ক সবার মধ্যেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ। প্রাণীদের এক ঝলক দেখার জন্য বিভিন্ন খাঁচার সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও দেখা যায় দর্শনার্থীদের।

রোববার (৩১ মে) সরেজমিনে জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশ ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের প্রায় প্রতিটি অংশেই মানুষের ভিড়। ছুটির শেষ দিন হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। শিশুদের হাত ধরে বাবা-মা, দলবেঁধে আসা তরুণ-তরুণী এবং পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো চিড়িয়াখানা।

বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণীটিকে দেখছিলেন মোহাম্মদপুর থেকে আসা তরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাচ্চাদের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল চিড়িয়াখানায় আসার। ঈদের ছুটির শেষ দিন হওয়ায় তাদের নিয়ে চলে এসেছি। বাঘ ও সিংহ দেখেই তারা সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে।

হাতির আবাসস্থলের সামনে দেখা যায় শিশুদের উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি। বাবা-মায়ের কাঁধে চড়ে কিংবা হাত ধরে দাঁড়িয়ে তারা বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখছে। মিরপুর থেকে আসা সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার ছেলে বইয়ে হাতি দেখেছে, টেলিভিশনেও দেখেছে। কিন্তু সামনে থেকে দেখে ওর আনন্দের শেষ নেই।

জিরাফের খাঁচার সামনেও ছিল মানুষের ভিড়। লম্বা গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণীটিকে দেখে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন অনেকেই। গাজীপুর থেকে আসা মাবরুর মুন্তাসির বলেন, জিরাফ সব সময়ই আমার পছন্দের প্রাণী। বাচ্চাদের নিয়েও এখানে এসেছি। ওরাও খুব আনন্দ পাচ্ছে।

চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, সিংহের খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। অনেকেই সিংহের চলাফেরা দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। প্রাণীটি একবার গর্জন করলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়।

পাখির অভয়ারণ্যেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। ময়ূর, টিয়া, কাকাতুয়া ও বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির পাখি দেখতে আগ্রহী ছিলেন অনেকে। রামপুরা থেকে আসা মুনিয়া রহমান বলেন, পাখিগুলো খুব সুন্দর লাগছে। বিশেষ করে ময়ূর দেখার জন্যই আমি এখানে বেশি সময় কাটিয়েছি।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকায় খুব বেশি ঘোরাঘুরির সুযোগ থাকে না। তাই বন্ধুরা মিলে চিড়িয়াখানায় এসেছি। অনেক দিন পর এসে বেশ ভালো লাগছে।

দুপুর ১১টা পর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বিভিন্ন খাঁচার সামনে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে দেখা যায়। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নাজমা বেগম বলেন, এখনকার শিশুরা মোবাইল ফোনে বেশি সময় কাটায়। বাস্তবে পশুপাখি দেখানোর জন্য সন্তানদের এখানে নিয়ে এসেছি। তারা প্রাণীগুলো দেখে অনেক কিছু জানতে পারছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছে। আজ ছুটির শেষ দিনেও মানুষের উপস্থিতি সন্তোষজনক। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল ১ লাখের বেশি দশর্নার্থী এসেছিল, তার আগেরদিন ৮০ হাজার মত, ঈদেরদিন ১৬ হাজার মত। তবে আজ সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর এমপি রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

রাশেদা বেগম হীরা প্রশ্ন করেছিলেন, তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বৃদ্ধি যেমন বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখিয়া ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য আরও বৃদ্ধি করিয়া অধিক সম্পূরক শুল্ক এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করিবেন কিনা?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ি ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার পূর্বের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

চলছে ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাতে চলবে ৪৮ দলের ফুটবল যুদ্ধ। আর বাকি ২ দিন। ফিফা প্রতিদিনের পরিসংখ্যানমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ক্ষণগণনা করছে।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা মনে আছে? সেদিন ফ্রান্স ও ইতালি মুখোমুখি হয়েছিল। ১-১ গোলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়েও স্কোর পাল্টায়নি। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ‘আলোচিত’ কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন জিনেদিন জিদান।

ফ্রান্সের অধিনায়ক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় মার্কো মাতেরাজ্জির উসকানিমূলক মন্তব্যে মেজাজ হারিয়ে তাকে ঢুস মারেন। ১১০ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জিদান। বাকি ১০ মিনিট তো বটেই, তার শূন্যতা টাইব্রেকারে ভালোভাবে টের পেয়েছিল ফ্রান্স। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে হতাশায় ভাসে তারা।

যে মাথা দিয়ে গুঁতো মেরে জিদানে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন, সেই মাথার নৈপুণ্যে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ফ্রান্সকে প্রথম শিরোপা জেতান জিজু!

বিশ্বকাপ ফাইনালে হেড করে দুটি গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় জিদান। প্রথমার্ধে কর্নার থেকে দুইবার জাল কাঁপান তিনি হেডারে। দুই প্রান্ত থেকে কর্নার কিক নিয়েছিলেন এমানুয়েল পেতিত ও ইউরি জোর্কায়েফ। ৩-০ গোলে ম্যাচটি জেতে ফরাসিরা।

স্তাদে দে ফ্রান্সে ২০ মিনিটের ব্যবধানে হেডে একাধিক গোল করেন জিদান, যা পরের তিনটি বিশ্বকাপে দলটির হেড গোলের চেয়ে বেশি। জিজুর পর পরের তিন আসরে কেবল প্যাট্রিক ভিয়েইরা হেড থেকে একমাত্র গোল করেন, ২০০৬ সালে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে।

পায়ের ক্ষিপ্রতার কারণে বিশেষভাবে সুপরিচিত জিদান। কিন্তু হেড থেকেও গোল করতে পারদর্শী। হেড থেকে চেক রিপাবলিক, মাল্টা ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি গোল করেছিলেন। ২০০৬ সালের ফাইনালে গিগি বুফন তার একটা দুর্দান্ত হেড ঠেকিয়ে স্বস্তি ফেরান।

জিদান ছাড়া একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে একাধিক হেড গোল করেছেন পেলে, যদিও দুটি ভিন্ন আসরে: ১৯৫৮ সালে সুইডেন ও ১৯৭০ সালে ইতালির বিপক্ষে। কিন্তু এক ফাইনালে দুটি হেড গোলের কীর্তি কেবলই জিদানের।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিফার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বিটিভি এবার প্রায় বিনা খরচে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে পারবে। মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ফিফা থেকে স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমদিকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।’

তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং এর সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে সম্পৃক্ত করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নীতিমালার আলোকে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ব্যয় হবে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ অর্থের প্রায় পুরোটাই টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে বিজ্ঞাপন ও সম্প্রচার অধিকার বিক্রির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিটিভির নিজস্ব আর্থিক দায় থাকবে না।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনকল্যাণমুখী সেবায় নিয়োজিত রাখা। এ উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ।’

তিনি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সকল জটিলতা কাটিয়ে দেশের কোটি কোটি দর্শক এবার বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ