খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ইরান ইস্যুতে বিরোধ: জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
ইরান ইস্যুতে বিরোধ: জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার পেন্টাগন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জার্মান নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে

কয়েকদিন আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিব্রত’ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘এমন অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই প্রেসিডেন্ট যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে। জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একই ধরনের তথ্য দিয়েছে সিবিএস নিউজও।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে তারা যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে না। কম সমর্থন দেওয়া দেশগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে গত বুধবার ইঙ্গিত দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পলিটিকো জানায়, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের এমন সিদ্ধান্ত সামরিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। কয়েকজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও কংগ্রেসের এক সহকারীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসকে আক্রমণ করে বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়া উচিত তার। বরং তিনি ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার’ প্রচেষ্টায় হস্তক্ষেপ করছেন।

ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠাতে অনাগ্রহী। যদিও শুরুতে মের্ৎসসহ কিছু নেতা প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে দ্বিধায় ছিলেন যে হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করায় সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে।

এ প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। এর খরচ আমাদের অনেক বেশি বহন করতে হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাত সরাসরি আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।’ সূত্র:

কালের আলো/এসাআর/এএএন 

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছে নিশ্চিত হামে এবং বাকি ৯ জন মারা গেছে হাম সন্দেহে বা হামের উপসর্গ নিয়ে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৩৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৫৫ শিশু।

মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে সারা দেশে ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৬৭ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৭৭২ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬৬ হাজার ২৩ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩৬ জন ও আক্রান্ত ৩৭ হাজার ২২৯ জন।

এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ফের হাসপাতালে নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
ফের হাসপাতালে নেতানিয়াহু

স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ফের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জেরুজালেমের হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় তাকে।

দেশটির হিব্রু গণমাধ্যমগুলোতে নেতানিয়াহুর হাসপাতালে ভর্তি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দাঁতের চিকিৎসার জন্য নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং রাতেই তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য ইসরায়েলি রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখার অভিযোগ উঠে আসে এবং এ নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। এর ফলে ইসরায়েলের অনেকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এরআগে গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সম্প্রতি হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারে প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার) টিউমারের জন্য সফলভাবে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে এই খবর  প্রকাশে বিলম্ব করার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় তা প্রকাশ না হয় এবং ইরান এটিকে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে না পারে।

পোস্টে ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু বলেছেন, বর্ধিত প্রোস্টেটের সফল অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের সময় চিকিৎসকরা একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত করেন। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে ‘সমস্যাটি দূর করা হয়েছে এবং এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই’।

এদিকে নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরই তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কিত একটি অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনে অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র পাঁচটি অস্পষ্ট বিষয় ছিল এবং এটি কোন বছরের প্রতিবেদন সেটিও উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কোনো নথিতেই হাসপাতালের লোগো বা আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বিবৃতির ইঙ্গিত ছিল না।

এরআগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর শরীরে একটি পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়।

নেতানিয়াহুর পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল, তিনি পানিশূন্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারে এক রাত অবস্থান করেছিলেন বলে জানিয়েছিল তার কার্যালয় ও হাসপাতাল। তবে হাসপাতাল জানায়, বাস্তবে তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছিল। এ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

একসপ্তাহ পরে চিকিৎসকরা স্বীকার করেন তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় করা একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষায় তারা কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টানা তিন বিশ্বকাপে ভবিষ্যদ্বাণী ফলেছে তার, এবার কাকে বলছেন চ্যাম্পিয়ন?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
টানা তিন বিশ্বকাপে ভবিষ্যদ্বাণী ফলেছে তার, এবার কাকে বলছেন চ্যাম্পিয়ন?

২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির প্রতিটি ম্যাচের ফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’। তবে এবার সেই জনপ্রিয় ভবিষ্যদ্বক্তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট।

জটিল পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি মডেল ব্যবহার করে তিনি ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এবার তার মডেল বলছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ফাইনালে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস।

ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডস শিরোপা জিততে পারলে এটি হবে তার টানা চতুর্থ সফল ভবিষ্যদ্বাণী। এর আগে তিনি সঠিকভাবে জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়, ফ্রান্সের ২০১৮ শিরোপা এবং আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

তার মডেলে শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, পুরো ৪৮ দলের টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জাপান দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখাবে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে।

এছাড়া ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের কাছে হেরে যাবে বলে ধারণা করছে মডেলটি।

তবে ক্লেমেন্ট নিজেই এই পূর্বাভাসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নিষেধ করেছেন। তার মতে, ফুটবলে সাফল্যনির্ভর করে অনেক অনিশ্চিত বিষয়ের ওপর।

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যা, অর্থনীতি, আবহাওয়া কিংবা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের মতো বিষয় কিছুটা ধারণা দেয় ঠিকই, কিন্তু ম্যাচের অন্তত ৫০ শতাংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।’

তার ভাষায়, ‘একটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড়দের দিনের পারফরম্যান্স কিংবা বল পোস্টে লেগে বাইরে যাওয়া—এসব কিছুই আগে থেকে বলা অসম্ভব।’

বর্তমানে বিনিয়োগ ব্যাংক প্যানমিউর লিবারামের কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করছেন ক্লেমেন্ট। বিশ্বকাপ ঘিরে তার পূর্বাভাস এখন সহকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আমার কয়েকজন সহকর্মী নেদারল্যান্ডসের পক্ষে বাজিও ধরেছে। যদি তারা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে, তাহলে হয়তো পরদিন আমাকে বাসা থেকে কাজ করতে হবে!’

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এম/এএইচ