খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনা: দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ২৫০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনা: দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ২৫০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের এক ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৫০ জনেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। স্বনামধন্য বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় নীতিগত পরিবর্তনের কারণে দেশব্যাপী টিকার যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল, মূলত সেটাই আজকের এই মহামারির আকার ধারণ করেছে।

হাসপাতালগুলোর মর্মান্তিক চিত্র
হামের কারণে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে এখন এক বিশৃঙ্খল ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

গত ৭ এপ্রিল ঢাকা শিশু হাসপাতালে কনিকা আক্তার নামের এক মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। ওইদিনই তার ছয় মাস বয়সী যমজ কন্যা রিসা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বর্তমানে তার আরেক কন্যা রুহি একই আইসিইউ বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

যেখান থেকে বিপর্যয়ের শুরু
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শিশু টিকাদানে ঈর্ষণীয় সাফল্যের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়ে আসছিল। ইউনিসেফ এবং ‘গাভি’ (Gavi)-এর সহায়তায় নিয়মিত হাম-রুবেলার (MR) টিকা দেওয়া হতো। কিন্তু ‘সায়েন্স’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইউনিসেফ সে সময় এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিল যে, এর ফলে টিকাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস জানান, তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে এই পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে টিকার সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশজুড়ে রুটিন টিকাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

পুষ্টিহীনতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এবং খুব দ্রুত তা দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ছড়িয়ে পড়ে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IEDCR) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর জানান, ২০২৪ সাল থেকে দেশে ভিটামিন-এ বিতরণের তিনটি ক্যাম্পেইন বন্ধ ছিল। শিশুদের অপুষ্টি এবং ভিটামিন-এ এর ঘাটতি হামের এই মৃত্যুহারকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জবাবদিহিতা ও আইনি পদক্ষেপ
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও ক্ষোভ বাড়ছে। গত ১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাস দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সায়েদুর রহমান ‘সায়েন্স’কে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় দাবি করেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তারা জরুরি আইনের পরিবর্তে প্রচলিত নিয়মে টিকা কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোথায় ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দীন হায়দার জানিয়েছেন, এপ্রিলে পুনরায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা শুরু হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হাম যে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে এই মহামারি তাৎক্ষণিকভাবে থামানো বেশ কঠিন হবে। আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন এই পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য দ্রুত ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস

ঢাকাসহ দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আরেক বার্তায় সরকারি সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগেই ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান কখনোই পিছু হটবে না: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ইরান কখনোই পিছু হটবে না: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর দেশটির জনগণের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, লড়াইয়ে পিছু হটা হবে না।

জোলঘাদর বলেন, সামরিক ক্ষেত্র, কূটনৈতিক অঙ্গন এবং রাস্তায় নেমে আসা জনগণ তাদের সাহসী প্রতিরোধের মাধ্যমে শত্রুকে নতজানু করেছে।

গত মার্চে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান জোলঘাদর। তিনি নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হন। লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন।

জোলঘাদর এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির মৃত্যুর পর তার নিয়োগ ইরানে আইআরজিসির প্রভাব আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নতুন নিরাপত্তা প্রধান ইরানি জনগণের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্য ও সংহতিও এই সংগ্রামের আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র।

তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো কথা বা কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রিয় ইরানকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশ দুইটির মধ্যে এখনো শান্তি আলোচনা চলছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসআর/এএএন 

আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

আজ পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হওয়ার অপেক্ষায় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

গতকাল থেকেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী খ্যাত মিনায় অবস্থান নেন লাখ লাখ হাজি। তারা সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে।

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। আর পবিত্র হজের তিনটি ফরজের অন্যতম হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সারা বিশ্ব থেকে এবার ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করতে মক্কায় জড়ো হয়েছেন। নানা বর্ণের, নানা ভাষার মুসলিমরা মিশেছেন একই স্রোতে। আল্লাহর মেহমানরা আজ আরাফাতের ময়দানে দিনভর অবস্থান করবেন। এই মরুর ময়দানে ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা দেওয়া হবে। এবার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফির খুতবা দেওয়ার কথা রয়েছে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে এই বিস্তীর্ণ ময়দানে হাজিরা সারা দিন পার করবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা আল্লাহর জিকির-আসগার, তিলাওয়াত, দোয়া-মোনাজাতে নিমগ্ন থাকবেন।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানের দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাজিরা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেলে হাজিরা অত্যন্ত কাতর ও বিনয়ী কণ্ঠে একযোগে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে পার্থিব দুনিয়ার যত অপরাধ, পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে পরিবার-আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী-পরিচিতজন, দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। সব চাওয়া-পাওয়া, মনের আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ–তাআলার কাছে ব্যক্ত করবেন হাজিরা।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ হাজিদের নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। হাদিসে আছে, ‘আরাফাহর দিন আল্লাহ এত বেশি পরিমাণ জাহান্নামিকে অগ্নি থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিবসে দেন না।’ (মুসলিম শরিফ)

হজের অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফাতের ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে আবার মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।

এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিন (ছোট, মেজ ও বড় শয়তান) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন।

পবিত্র কাবা তাওয়াফ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, মিনার জামারায় পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি ইত্যাদি হজের ইবাদত। জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তারা আগামীকাল বুধবার কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাইয়ের স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে অর্থ জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ