খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ইরানের ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব, পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব, পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে ইরান। লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ রোববার (০৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৯ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পাল্টা হিসেবে ইরান তাদের ১৪ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে। পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি চলছে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায়।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সম্মেলনে বলেন, ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের কাছে একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে ইরান। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাত বজায় রাখবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।’

তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইরান তা নাকচ করে বলেছে, যাবতীয় সমস্যার সমাধান ৩০ দিনের মধ্যেই হতে হবে।

ইরানের দেওয়া এই নতুন শান্তি পরিকল্পনায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ভবিষ্যতে কোনো প্রকার সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সব মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। বিদেশে জব্দ করা ইরানের সব সম্পদ ফেরত দিতে হবে। লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাকে চুক্তির ধারণা জানিয়েছে। এখন তারা এর সুনির্দিষ্ট ভাষা পাঠাবে।’

এছাড়া নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনাটি পাঠিয়েছে, আমি শিগগিরই তা পর্যালোচনা করব। তবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে— এটি গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ গত ৪৭ বছর ধরে মানবতা ও বিশ্বের সঙ্গে তারা যা করেছে, তার জন্য তারা এখনও যথেষ্ট মূল্য চোকায়নি।’

সূত্র: আল জাজিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীর বিভিন্ন পশু হাটে  অতিরিক্ত হাসিল আদায়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর বিভিন্ন পশু হাটে  অতিরিক্ত হাসিল আদায়

রাজশাহীর বিভিন্ন পশুহাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেওয়া রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না। এতে কোরবানির পশু কিনতে আসা সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

রাজশাহীর সিটি হাট থেকে সোমবার ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন গোলাম মোর্তজা। গরুটি কিনতে তাকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। ইজারাদারের লোকজন রশিদ দিলেও সেখানে টাকার অংক লেখা ছিল না। তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এভাবেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

গোলাম মোর্তজা বলেন, “সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত নিলেও তা হাসিলে লেখা থাকে। সিটি হাটে হাসিলে টাকার পরিমাণই লেখা হচ্ছে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সিটি হাট নয়, রাজশাহীর অন্যান্য পশুহাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার নওহাটা পশুহাটেও রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। সেখানে গরুর জন্য এক হাজার টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল-ভেড়ার জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করেছে।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার নওহাটা পশুহাটের ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটি হাটে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হচ্ছে। করপোরেশন গরু ও মহিষের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করে দিয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতেই অনেক রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সিটি হাটের ইজারাদারদের একজন শওকত আলী বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হারের চেয়ে আমরা ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। হাটে গত দুই দিনে প্রায় ২০০ গাড়ি মাটি ফেলতে হয়েছে। দুই ট্রাক বাঁশ-খুঁটিও পুঁতেছি। করপোরেশন এসব কাজ করেনি। আমরা নিজেরা খরচ করেছি। সেই খরচ তুলতেই কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, “রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো মহুরি (আদায়কারী) লিখতে ভুলে যাচ্ছে। কার কাছে এটা হচ্ছে জানতে পারলে তাকে কাজেই রাখা হবে না।”

সিটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, নওহাটা পশুহাটের রশিদে টাকার অংক না লেখার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজশাহীর পাখিপ্রেমী হাসনাত রনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন একটি রশিদের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “খাজনা বা হাসিলের রশিদ পাবেন। রশিদে সব কিছু লেখা থাকবে। শুধু কত টাকা আদায় করা হলো সেটা লেখা থাকবে না। এই টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায়? এ দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন?”

নওহাটা পশুহাটের ইজারাদার আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আকবর আলী নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন বলেন, “নওহাটা পশুহাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবার কোনো হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে দেওয়া হবে না।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মার্কিন হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রুবিও

নতুন করে মার্কিন হামলা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব বলে মনে করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের জয়পুর সফরকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মার্কো রুবিও বলেন, নতুন মার্কিন হামলার পরও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভব হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা চলছিল, তাই দেখা যাক আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারি কি না। আমার মনে হয় প্রাথমিক খসড়া নথির নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে, তাই বিষয়টি শেষ হতে কয়েক দিন লাগবে।’

তিনি আরো জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তির আলোচনার ভাষা চূড়ান্ত করতে ‘আরও কয়েক দিন’ সময় লাগতে পারে।

মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি করতে চান। তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, না হয় কোনো চুক্তিই হবে না।’

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনোভাবেই হোক না কেন, হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা থাকতে হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোতে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। এ সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান, আর মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা করছে।

ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচকেরা কাতারের দোহায় পৌঁছানোর পরই এসব হামলা চালানো হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ